📄 পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ
হযরত ইউশা আ. বনি ইসরাঈলকে আল্লাহ তাআলার পয়গাম শুনিয়ে দিলেন। তারা সকলে সানা প্রান্তর থেকে বের হয়ে কেনান ভূমির সর্বপ্রথম শহর ইয়ারীছ বা আরীহার দিকে অগ্রসর হয়ে শত্রুপক্ষকে যুদ্ধে আহবান করল। শত্রুরাও বের হয়ে ভীষণভাবে মোকাবিলা করল, পরিশেষে পরাজিত হয়ে সেখানেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হল। আর বনি ইসরাঈলগণ যুদ্ধ করতে করতে সমগ্র 'পবিত্র ভূমি অধিকার করে নিল। আর অত্যাচারী মুশরিকদের হতে উক্ত ভূমিকে পবিত্র করে পুনরায় নিজেদের পূর্বপুরুষদের জন্মভূমির মালিক হয়ে গেল।
তাওরাতে বর্ণিত আছে: যখন বনি ইসরাঈলরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হল, তখন আল্লাহ তাআলার আআদেশে প্রতিশ্রুত 'তাবুতে সাকীনা' নামক সিন্দুকটি অদৃশ্য জগৎ হতে আবির্ভূত হয়ে তাদের সঙ্গী হল। তাতে ছিল মূসা আ.-এর লাঠি, হারুন আ.-এর পিরহান, 'মান্না'র পাত্র। এতদ্ব্যতীত্য অন্যান্য মুবারক দ্রব্যাদিও ছিল।
আল্লামা ইবনে আসীর রহ. বলেন, হযরত মূসা আ. জীবিতকালেই পবিত্র ভূমিতে অত্যাচারী মুশরিক কওমগুলির সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য হযরত ইউশা আ.-কে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন এবং বনি ইসরাঈলদেরকে গোত্রে গোত্রে বিভক্ত করে প্রত্যেক গোত্রের সেনাপতির নাম ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। সুতরাং হযরত ইউশা আ.-এর এ ব্যাপারটি হুবহু হযরত উসামা রাযি.-এর ব্যাপারে অনুরূপ ছিল। কারণ, সেনাবাহিনী যাত্রা করার পূর্বেই হযরত মূসা আ.-এর ওফাত হয়ে গেল। আর এখন আল্লাহ তাআলা হযরত ইউশা আ.-কে নবুয়তের সম্মানেও ভূষিত করলেন এবং তাঁরই হাতে অবশেষে পবিত্র ভূমি অত্যাচারী মুশরিক শক্তিগুলি হতে পবিত্র হয়ে গেল। আরীহার সাফল্য সমগ্র পবিত্র ভূমির বিজিত ও অধিকৃত হওয়ার সূচনা বলে সাব্যস্ত হল।
হযরত ইউশা আ. সর্বপ্রথম কোন শহরটি অধিকার করেছেন, কুরআন মাজিদ এর নাম উল্লেখ করে নি। বরং 'জনপদ' বলে অস্পষ্ট রেখে দিয়েছে। হাফেয ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসীর বলেন: প্রবল মত হল, এটা বাইতুল মুকাদ্দাসে (জেরুজালেম)। 'আরীহা' বলা ঠিক নয়। কিন্তু বনি ইসরাঈলরা সর্বপ্রথম আরীহাতে আমালেকা সম্প্রদায়কে পরাজিত করেছেন। এরপর কেনান ভূমি জয় করতে করতে ফিলিস্তিন ভূমিতে গিয়ে পৌঁছলেন এবং বাইতুল মুকাদ্দাসও জয় করলেন।
📄 বনি ইসরাইলের না-শোকরি
কুরআন মাজিদে উল্লেখ আছে, যখন আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে সফলকাম করে দিলেন এবং শহরে তাদের বিজয়সূচক প্রবেশ হতে লাগল, তখন তিনি আদেশ করলেন, গর্বিত এবং অহংকৃত লোকদের মতো প্রবেশ করো না। বরং আল্লাহর শোকরগুযার বান্দাদের মতো আল্লাহ পাকের দরবারে বিনয়ের সাথে অবনমিত হয়ে এবং তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে প্রবেশ করো! কিন্তু বিজয় লাভের পর বনি ইসরাঈলদের জাতিগত স্বভাব মাথা-চাড়া দিয়ে উঠল এবং আল্লাহ পাকের আদেশের বিরোধিতা করে অহংকারী ও অবাধ্য মানুষের মতো শহরে প্রবেশ করল। তারা সদর্পে পদক্ষেপ করতে করতে মাথা উঁচু করে বুক ফুলিয়ে চলছিল। আর ক্ষমা প্রার্থনা ও বিনয়ের পরিবর্তে ধৃষ্টতামূলক শব্দ উচ্চারণ করতে করতে যেন আল্লাহ পাকের আদেশের সাথে বিদ্রুপ প্রকাশ করতে করতে প্রবেশ করছিল। অবশেষে আল্লাহ তাআলার ক্রোধ উথলে উঠল এবং আল্লাহ তাআলার কর্মফল নীতি আযাবের আকারে এসে তাদেরকে পাকড়াও করল। যেমন এ সম্পর্কে সূরা বাকারায় ইরশাদ হচ্ছে: وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُوا هَذِهِ الْقَرْيَةَ فَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ রগাদান ওয়া আদখুলুল বাবা সুজ্জাদান। অনন্তর সেই জালিমরা, ওই বাক্যটিকে, যা তাদেরকে উচ্চারণ করতে বলা হয়েছিল, অন্য একটি (মনগড়া) উক্তিতে পরিবর্তিত করে দিয়েছিল। কাজেই আমি সেই জালিমদের উপর তাদের নাফরমানীর কারণে আসমান হতে কঠিন আযাব প্রেরণ করলাম।
সুরা আরাফেও আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: وَإِذْ قِيلَ لَهُمُ اسْكُنُوا هَذِهِ الْقَرْيَةَ... এরপর সেই যালিমরা উক্ত বাক্যটিকে, যা তাদেরকে উচ্চারণ করতে বলা হয়েছিল, তা অন্য এক (মনগড়া) উক্তিতে পরিবর্তিত করে দিল। সুতরাং আমি তাদের উপর আসমান হতে আযাব নাযিল করে দিল তাদের যালিম হওয়ার কারণে।