📄 গো-বাছুর পূজার ঘটনা
হযরত মূসা আ. যখন তাওরাত আনয়নের জন্য তূর পর্বতের দিকে তাশরিফ নিয়ে গেলেন, তখন বনি ইসরাঈলকে বললেন: “তূর পর্বতে আমার এতেকাফের মুদ্দত একমাস। সময় শেষ হওয়ার পর তৎক্ষণাৎ আমি তোমাদের নিকট ফিরে আসব। হারুন আ. তোমাদের নিকট রইলেন। তিনি তোমাদের যাবতীয় অবস্থার তত্ত্বাবধান করবেন।” কিন্তু তূর পর্বতে পৌঁছে সেই একমাসের মুদ্দত চল্লিশ দিন হয়ে গেল। এ সময় সামেরী নামক এক ব্যক্তি সুযোগ গ্রহণ করল। সে বনি ইসরাঈলকে বলল, যদি তোমরা নিজেদের সে সমস্ত অলংকারাদি আমার নিকট নিয়ে আস, যা তোমরা মিসরীয়দের নিকট হতে ধার করে এনেছিলে, তা হলে আমি তা দ্বারা তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক একটি কাজ করে দিব।
যখন বনি ইসরাঈলরা সমস্ত অলংকার তার নিকট এনে দিল, তখন সে অলংকারগুলিকে আগুনের ভাট্টিতে দিয়ে গলিয়ে ফেলল। এর দ্বারা গো-বাছুরের দেহ প্রস্তুত করল। এরপর নিজের থলি হতে এক মুষ্টি মাটি বের করে সেই দেহের ভিতরে রাখল। এতে বাছুরটির মধ্যে প্রাণের লক্ষণ দেখা গেল। সেটি গো-বাছুরের মতো হাম্বা হাম্বা ডাকতে লাগল। সামেরী বনি ইসরাঈলকে বলল মূসা আ.-এর ভুল হয়েছে। তিনি খোদার অন্বেষণে তূর পাহাড়ে গিয়েছেন। তোমাদের মাবুদ তো এখানেই বিদ্যমান। বনি ইসরাঈলরা সহজেই এ প্রস্তাবটি কবুল করে নিল। হযরত হারুন আ. এ দেখে বনি ইসরাঈলকে খুব বুঝালেন, এরূপ করো না। কিন্তু তারা হারূন আ.-এর কথা মান্য করতে অস্বীকার করল।
অপরদিকে আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা আ.-কে এ সম্বন্ধে অবহিত করে দেন। হযরত মূসা আ. অত্যন্ত দুঃখ, ক্রোধ ও লজ্জার সঙ্গে কওমের দিকে ফিরে আসলেন এবং কওমকে সম্বোধন করে বললেন, তোমরা এ কী করলে!? তারা বলল, আমাদের কোনো দোষ নেই। সামেরী অলংকার চেয়ে নিয়ে এই 'সঙ' বানিয়ে দিয়েছে এবং আমাদেরকে গোমরাহ করেছে। মূসা আ. অত্যন্ত উষ্ণ মেজাজের লোক ছিলেন। তিনি তাঁর ভাই হারুন আ.-এর ঘাড় ধরে ফেললেন এবং দাড়ির দিকেও হাত বাড়ালেন। তখন হযরত হারুন আ. বললেন, হে আমার মাতৃনন্দন! আমার কোনোই দোষ নেই। আমি তাদেরকে যতই বুঝালাম, তারা কোনো প্রকারেই মানল না বরং তারা আমাকে দুর্বল পেয়ে আমাকে হত্যা করার সংকল্প করেছিল। আমি এ অবস্থা দেখে মনে করলাম, এখন যদি এদের সাথে লড়াই বাঁধিয়ে দিই, তবে পাছে না আমার উপর এ দোষারোপ হয়, আমার অনুপস্থিতিতে তুমি কওমের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দিয়েছ।
হারুন আ.-এর এ যুক্তিযুক্ত প্রমাণ শুনে তাঁর দিক হতে হযরত মূসা আ.-এর ক্রোধ প্রশমিত হয়ে গেল। এখন সামেরীকে লক্ষ্য করে বলতে লাগলেন, সামেরী! তুমি এটা কেমন সঙ বানালে? সামেরী উত্তর করল: "আমি এমন একটি বিষয় দেখতে পেয়েছি, যা এ বনি ইসরাঈলদের মধ্যে কেউই দেখতে পায় নি।” অর্থাৎ ফেরাউনের নিমজ্জিত হওয়ার সময় হযরত জিবরাইল আ. অশ্বরোহী অবস্থায় ছিলেন। আমি দেখতে পেলাম, তাঁর অশ্বের ক্ষুরের মাটিতে প্রাণের লক্ষণ সৃষ্টি হয়ে যায়। তখন আমি সেই মাটি হতে এক মুষ্টি নিয়ে নিজের নিকট রাখলাম এবং সেই মাটি এই বাছুরের ভিতরে নিক্ষেপ করলাম। হযরত মূসা আ. বললেন, আচ্ছা! তোমার জন্য পৃথিবীতে এ শাস্তির ব্যবস্থা করা হল, তুমি উম্মাদের মতো লক্ষ্যহীনভাবে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াবে এবং কোনো মানুষকে তোমার নিকটবর্তী হতে দেখলেই বলবে : দেখো, আমাকে যেন স্পর্শ না কর! এরপর তিনি বাছুরটি আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিলেন এবং সেই ছাই নদীতে ভাসিয়ে দিলেন।