📄 সূরা আল আ'রাফে উল্লেখিত জাতিসমূহের এলাকা
উত্তর, পারস্য, দজলা নদী, নূহ জাতির এলাকা, ফোরাত নদী, পারস্য উপসাগর, সামুদ জাতির এলাকা, হিজর, মদীনা, মক্কা, তায়েফ, আদ জাতির এলাকা, লোহিত সাগর, মাদইয়ান, শ্বেত সাগর, লুত জাতির এলাকা, আফ্রিকা, এডেন উপসাগর, আরব সাগর।
📄 হযরত মূসা আ. পরবর্তী ফিলিস্তিন
হযরত মুসা আ.-এর পর বনী-ইসরাঈলীয় ফিলিস্তিনের সমগ্র অঞ্চল জয় করে লয় বটে! কিন্তু তারা ঐক্য ও স্থায়িত্বের সঙ্গে নিজেদের কোনো একটি সুসংবদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় নাই। তারা এই গোটা অঞ্চলটিকে বিভিন্ন বনী ইসরাঈল গোষ্ঠীর লোকদের মধ্যে বিভক্ত ও বণ্টন করে লয়। ফলে তারা নিজেদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা কঠিন বোধ করে। তবে চিত্রে দেখানো হয়েছে যে, ফিলিস্তিনের সর্ববৃহৎ অঞ্চলটি বনী ইসরাঈলের বনু ইয়াহুদা, বনু শামউন, বনু দান, বনু বিনইয়ামিন, বনু এফরাইম, বনু রুবন, বনু জাদ, বনু মানাসা, বনু আশার, বনু যাবূলুন, বনু নাফতালী ও বনু আশার—এ গোত্রসমূহের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
এ কারণে প্রত্যেকটি রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে থাকল। ফলে তারা ক্রমাগত ফিলিস্তিনের লক্ষ্য অংশের সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রেখে গেল। আর সেই লক্ষ্য ছিল এই অঞ্চলের অধিবাসী গিয়াফির জাতির সম্পূর্ণ মূলোৎপাটন ও বহিষ্কার। ইসরাঈলী গোত্রসমূহের অধীনে এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানিক কেনানী জাতিসমূহের কতগুলি নর-নারী তখনও বসতি স্থাপন করে ছিল। বাইবেল পাঠে জানতে পাওয়া যায় যে, তালুত-এর শাসন আমল পর্যন্ত সাইদুন, সুর, দয়্যার ও মুজাম্মু, বাইতশীন, জারা, জেরুজালেম প্রভৃতি শহরগুলি তখনও গিয়াফির জাতির অধিকারের অধীনে ছিল। আর বনী ইসরাঈলদের উপর এসব শহরে অবস্থিত জাতিদের প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও বিশাল ছিল।
উপরন্তু ইসরাঈলী গোত্রগুলোর অবস্থানের সীমানাও এলাকায় ফালিয়া, রাম্মাহ, মুয়াব ও আম্মানীসহ অন্য অঞ্চলের প্রতিবেশী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। আর তারা পরস্পরের ওপর উপর্যুপরি আক্রমণ চালায়। বনী ইসরাঈলের এ অঞ্চলে পুনরায় ঐক্য স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকে।