📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ফেরাউন ও তার বাহিনী ধ্বংসের বিবরণ

📄 ফেরাউন ও তার বাহিনী ধ্বংসের বিবরণ


বাদশা ফেরাউনের আনুগত্য স্বীকার এবং আল্লাহর নবী মূসা ইবনে ইমরান আ.-এর বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়ে মিসরের কিবতিরা যখন তাদের কুফরি, অবাধ্যতা ও সত্য বিমুখতায় অবস্থান দীর্ঘায়িত হতে লাগল; আল্লাহ তাআলা তখন মিসরবাসীর কাছে বিস্ময়কর ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদি পেশ করেন এবং তাদেরকে এমন সব অলৌকিক ঘটনা দেখান যাতে চোখ ঝলসে যায় এবং মানুষ হতবিহবল হয়ে পড়ে। এতদসত্ত্বেও তাদের কিছু সংখ্যক ছাড়া কেউ বিশ্বাস স্থাপন করে নি; অন্যায় থেকে প্রত্যাবর্তন করে নি; জোর-জুলুম-অত্যাচার থেকে বিরত থাকে নি। কেউ কেউ বলেন, তাদের মধ্যে মাত্র তিন ব্যক্তি ঈমান এনেছিলেন। একজন হচ্ছেন ফেরাউনের স্ত্রী। কিবতীরা তাঁর সম্বন্ধে মোটেও অবহিত ছিল না। দ্বিতীয়জন হচ্ছেন ফেরাউনের সম্প্রদায়ের মুমিন ব্যক্তিটি, যার নসিহত প্রদান, পরামর্শ দান ও তাদের বিরুদ্ধে দলিলাদি পেশ করার বিষয়টি সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে। তৃতীয়জন হচ্ছেন, শহরের দূর প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ব্যক্তি, যিনি মূসা আ.-কে তাঁর বিরুদ্ধে সাজানো ষড়যন্ত্র সম্বন্ধে অবহিত করেছিলেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর অভিমত হল, এ তিনজন হচ্ছেন জাদুকরদের বাইরে। কেননা জাদুকররাও কিবতিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আবার কেউ কেউ বলেন, ফেরাউনের সম্প্রদায় কিবতিদের থেকে একটি দল ঈমান এনেছিল। জাদুকরদের সকলে এবং বনি ইসরাঈলদের সকল গোত্রই ঈমান এনেছিল। কুরআন মাজিদে নিম্নোক্ত আয়াতে এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়:

ফَمَا آمَنَ لِمُوسَى إِلَّا ذُرِّيَّةٌ مِنْ قَوْمِهِ عَلَى خَوْفٍ مِنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِمْ أَنْ يَفْتِنَهُمْ وَإِنَّ فِرْعَوْنَ لعَالٍ فِي الْأَرْضِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الْمُسْرِفِينَ

"ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গ নির্যাতন করবে এ আশঙ্কায় তার সম্প্রদায়ের একদল ছাড়া আর কেউই তার প্রতি ঈমান আনে নি। যমিনে তো ফেরাউন পরাক্রমশালী ছিল এবং সে অবশ্যই সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।" (সূরা ইউনুস: ৮৩)

মোটকথা, তারা ঈমান এনেছিল গোপনে। কেননা তারা ফেরাউন ও তার প্রতিপত্তি এবং তার সম্প্রদায়ের অত্যাচার, অবিচার ও নিষ্ঠুরতাকে ভয় করত। তারা আরো ভয় করত, যদি ফেরাউনের লোকেরা তাদের ঈমানের কথা জানতে পারে, তা হলে তারা তাদেরকে ধর্মচ্যুত করে ফেলবে। তদুপরি সে তার প্রতিটি কাজে, আচরণে ও ব্যবহারে ছিল সীমালঙ্ঘনকারী।

এক কথায় সে ছিল এমন একটি মারাত্মক জীবাণু, যার ধ্বংস ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। সে ছিল এমন এক নিকৃষ্ট ফল, যার কাটার সময় ছিল অত্যাসন্ন। সে ছিল এমন অভিশপ্ত অগ্নিশিখা, যার নির্বাপন ছিল সুনিশ্চিত।

মূসা আ. যখন তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা, আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করার জন্যে হুকুম দিলেন, তাঁরা তা মান্য করলেন। তাই আল্লাহ তাআলাও তাদেরকে তাদের বিপদাপদ থেকে উদ্ধার করলেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى وَأَخِيهِ أَنْ تَبَوَّأَ لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُيُوتًا وَاجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قِبْلَةً وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ

"আমি মূসা আ. ও তার ভাইয়ের নিকট প্রত্যাদেশ করলাম, মিসরে তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য গৃহ স্থাপন কর। তোমাদের গৃহগুলোকে ইবাদত গৃহ কর, সালাত কায়েম কর এবং মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও।" (সূরা ইউনুস: ৮৭)

অন্য কথায় আল্লাহ তাআলা মূসা আ. ও তাঁর ভ্রাতা হারুন আ.-কে ওহি মারফত নির্দেশ দিলেন, তারা যেন তাদের সম্প্রদায়ের জন্যে কিবতিদের থেকে আলাদা ধরনের গৃহ নির্মাণ করেন। যাতে তারা নির্দেশ পাওয়া মাত্রই ভ্রমণের জন্যে তৈরি হতে পারে এবং একে অন্যের ঘর সহজে চিনতে পারে ও প্রয়োজনে বের হয়ে পড়ার জন্যে সংবাদ দিতে পারে। এ ছাড়া তারা যেসব অসুবিধা, ক্লেশ, কষ্ট ও সঙ্কীর্ণতায় ভুগছে, তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যে অধিকহারে নামায আদায় করে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন:

وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ -" ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর।" (সূরা বাকারা: ৪৫) হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো কঠিন বিষয়ের সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি নামায আদায় করতেন।

কেউ কেউ বলেন, ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের অত্যাচারের ভয়ে মসজিদ বা মজলিসে প্রকাশ্য ইবাদত কষ্টসাধ্য হওয়ায় ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে তাদেরকে সালাত আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

তাফসিরকারকগণ বলেছেন, বনি ইসরাঈল তাদের ঈদের উৎসব পালনের উদ্দেশ্যে শহরের বাইরে যাওয়ার জন্যে ফেরাউনের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলে ফেরাউন অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদেরকে অনুমতি প্রদান করল। তারা বের হওয়ার জন্যে প্রস্তুতি নিতে লাগল এবং পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেল। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের সাথে বনি ইসরাঈলের একটি চালাকি মাত্র। যাতে তারা ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের অত্যাচার-অবিচার থেকে মুক্তি পেতে পারে।

তাফসিরকারকগণ বলেন, আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে কিবতিদের থেকে স্বর্ণালংকার নেওয়ার জন্যে হুকুম দিয়েছিলেন; তাই তারা কিবতিদের থেকে বহু অলঙ্কার করয-ধার নিয়েছিল। এরপর রাতের অন্ধকারে তারা বের হয়ে পড়ল ও বিরামহীনভাবে অতি দ্রুত পথ অতিক্রম করতে লাগল। যাতে তারা অনতিবিলম্বে সিরিয়ার অঞ্চলে পৌঁছতে পারে। ফেরাউন যখন তাদের মিসর ত্যাগের কথা জানতে পারল, তখন সে তাদের প্রতি চরম ক্রুদ্ধ হল। সে তার সেনাবাহিনীকে প্ররোচিত করল এবং বনি ইসরাঈলকে পাকড়াও করার ও তাদের সমূলে ধ্বংস করার জন্যে তাদের সমবেত করল।

তাফসিরকারকগণ বলেন, ফেরাউন যখন বনি ইসরাঈলকে পিছু ধাওয়ার জন্যে সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বের হল, তখন তার সাথে ছিল একটি বিরাট সৈন্যদল। ওই সৈন্যদলের ব্যবহৃত ঘোড়ার মধ্যে ছিল এক লাখ উন্নতমানের কালো ঘোড়া আর সৈন্য সংখ্যা ছিল ষোল লাখের ঊর্ধ্বে। প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলাই সম্যক জ্ঞাত।

কেউ কেউ বলেন, শিশুদের সংখ্যা বাদ দিয়ে বনি ইসরাঈলের মধ্যেই ছিল প্রায় ছয় লাখ যোদ্ধা। মূসা আ.-এর-সাথে বনি ইসরাঈলের মিসর ত্যাগ ও তাদের আদি পিতা ইয়াকুব আ.-এর সঙ্গে মিসর প্রবেশের মধ্যে ছিল চারশ ছাব্বিশ সৌর বছরের ব্যবধান।

ফেরাউন সৈন্যসামন্ত নিয়ে বনি ইসরাঈলকে ধরার জন্যে অগ্রসর হল এবং সূর্যোদয়ের সময়ে তারা পরস্পরের দেখা পেল। তখন সামনাসামনি যুদ্ধ ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। এ সময়ই মূসা আ.-এর অনুসারীগণ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বলতে লাগল, 'আমরা তা হলে ধরা পড়েই গেলাম!! তাদের ভীত হওয়ার কারণ হল, তাদের সম্মুখে ছিল উত্তাল সাগর। সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়া ছাড়া তাদের আর কোনো পথ বা গত্যন্তর ছিল না। আবার সাগর পাড়ি দেওয়ার শক্তিও ছিল না। তাদের বাঁ পাশে ও ডান পাশে ছিল সুউচ্চ খাঁড়া পাহাড়। ফেরাউন তাদেরকে একেবারে আটকে ফেলেছিল। মূসা আ.-এর অনুসারীরা ফেরাউনকে তার দলবল ও বিশাল সৈন্যসামন্তসহ অবলোকন করছিল। তারা ফেরাউনের ভয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ছিল। কেননা তারা ফেরাউনের রাজ্যে ফেরাউন কর্তৃক লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছিল। সুতরাং তারা আল্লাহর নবী মূসা আ.-এর কাছে তাদের অবস্থা সম্পর্কে অভিযোগ করল।

তখন আল্লাহর নবী মূসা আ. তাদেরকে অভয় দিয়ে বললেন : كَلَّا إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ - "কখনো নয়; নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার প্রতিপালক রয়েছেন, তিনি আমাকে পরিত্রাণের সঠিক পথ-নির্দেশ করবেন।" মূসা আ. ছিলেন তাঁর অনুসারীদের পশ্চাৎভাগে। তিনি অগ্রসর হয়ে সকলের সম্মুখে গেলেন এবং সাগরের দিকে তাকালেন। তখন সাগরে ছিল উত্তাল তরঙ্গ। তিনি বললেন আমাকে এখানেই আসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর ভাই হারুন আ. ও ইউশা ইবনে নূন। যিনি বনি ইসরাঈলের বিশিষ্ট নেতা, আলেম ও আবেদ। মূসা আ. ও হারুন আ.-এর পরে আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে ওহি প্রেরণ করেন এব তাঁকে নবুয়ত দান করেন।

মূসা আ. ও তাঁর দলবলের সঙ্গে ফেরাউন সম্প্রদায়ের মুমিন বান্দাটিও ছিলেন। তারা থমকে দাঁড়িয়েছিলেন আর গোটা বনি ইসরাঈল গোত্র তাদের ঘিরে দাঁড়িয়েছিল। কথিত আছে, ফেরাউন সম্প্রদায়ের মুমিন লোকটি ঘোড়া নিয়ে কয়েকবার সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু তার পক্ষে তা সম্ভব হয়ে উঠল না। তাই তিনি মূসা আ.-কে জিজ্ঞাস করেন, হে আল্লাহর নবী! আমাদেরকে কি এখানেই আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? মূসা আ. বললেন, 'হ্যাঁ'। যখন ব্যাপারটি তুঙ্গে উঠল, অবস্থা জটিল হয়ে দাঁড়াল, ভারি ভয়াবহ আকার ধারণ করল; ফেরাউন ও তার গোষ্ঠী সশস্ত্র সৈন্য-সামন্ত নিয়ে ক্রোধভরে অতি সন্নিকটে এসে পৌঁছাল; অবস্থা বেগতিক হয়ে দাঁড়াল; চক্ষু স্থির হয়ে গেল এবং প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠল, তখন ধৈর্যশীল মহান শক্তিমান, আরশের মহান অধিপতি, প্রতিপালক আল্লাহ তাআলা মূসা কালিমুল্লাহ আ.-এর কাছে ওহি প্রেরণ করলেন : أَنِ اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْبَحْرَ অর্থাৎ নিজ লাঠি দ্বারা সাগরে আঘাত কর! যখন তিনি সাগরে আঘাত করলেন- কথিত আছে, তিনি সাগরকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন : 'আল্লাহর হুকুমে বিভক্ত হয়ে যাও।'

কথিত আছে, সমুদ্রটি বারটি খণ্ডে বা রাস্তায় বিভক্ত হয়েছিল। প্রতিটি গোত্রের জন্যে একটি করে রাস্তা হয়ে গেল। যাতে তারা নিজ নিজ নির্ধারিত রাস্তায় সহজে পথ চলতে পারে। এ রাস্তাগুলোর মধ্যে জানালা ছিল বলেও কেউ কেউ মত প্রকাশ করেন। যাতে তারা একদল অন্যদলকে অনায়াসে চলার পথে দেখতে পায়। কিন্তু এ অভিমতটি শুদ্ধ নয়। কেননা পানি যেহেতু স্বচ্ছ পদার্থ, তাই তার পিছনে আলো থাকলে দৃষ্টি বাধাপ্রাপ্ত হয় না। সুতরাং একদল অন্যদলকে দেখার জন্যে জানালা থাকার প্রয়োজন হয় না। যে সত্তা কোনো বস্তুকে সৃষ্টি করতে 'হয়ে যাও' বললে সাথে সাথে তা হয়ে যায়, সেই সত্তার মহান কুদরতের কারণেই সমুদ্রের পানি ছিল পর্বতের মতো দণ্ডায়মান। এরপর আল্লাহ তাআলা সমুদ্রে বিশেষ ধরনের বায়ু প্রেরণ করেন, যার ধাক্কায় পানি সরে রাস্তাগুলো শুকিয়ে যায়, যাতে ঘোড়া ও অন্যান্য প্রাণীর খুর না আটকে যায়।

সমুদ্রের স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরাউন সমুদ্রের তীরে গিয়ে পৌঁছল। সবকিছু দেখল এবং সমুদ্রের আশ্চর্যজনক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করল। আর পুরোপুরি বুঝতে পারল যেমন পূর্বেও বুঝত, এটা মহা সম্মানিত আরশের মহান মালিক প্রতিপালকেরই কুদরতের লীলাখেলা। সে থমকে দাঁড়াল। সম্মুখে অগ্রসর হল না। বনি ইসরাঈল ও মূসা আ.-কে পিছু ধাওয়া করার জন্যে মনে মনে অনুতপ্ত হল। তবে এ অবস্থায় অনুতাপ যে তার কোনো উপকারে আসবে না, সে তা ভালো করে বুঝতে পারল। তা সত্ত্বেও সে তার সেনাবাহিনীর কাছে তার অটুট মনোবলের কথা ও আক্রমণাত্মক ভাব প্রকাশ করল। ওই সম্প্রদায়কে সে হতবুদ্ধি করে দিয়েছিল। ফলে তারা তার আনুগত্য স্বীকার করেছিল। তারা তাকে বাতিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও অনুসরণ করেছিল। নিজ কুফরিতে লিপ্ত ফাসেক ও ফাজের নফসের প্ররোচনায় তাদেরকে উদ্দেশ্য করে সে বলল, 'তোমরা একটু লক্ষ করে দেখ! সমুদ্র আমার জন্যে সরে গিয়ে কী রূপে পথ করে দিয়েছে; যাতে আমি আমার ওইসব পলাতক দাসদেরকে ধরতে পারি, যারা আমার প্রভুত্ব স্বীকার না করে আমার রাজত্ব থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। মুখে এরূপ উচ্চবাচ্য করলেও অন্তরে সে দ্বিধাদ্বন্দের মধ্যে ছিল, সে কি তাদের পিছু ধাওয়া করবে, নাকি আত্মরক্ষার্থে পিছু হটে যাবে? হায়! তার হটে যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না। সে এক কদম সামনে অগ্রসর হলে কয়েক কদম পিছু হটার চেষ্টা করেছিল।

তাফসিরকারকগণ বলেন, এরূপ অবস্থায় জিবরাঈল আ. একটি আকর্ষণীয় ঘোটকীর উপর সওয়ার হয়ে আত্মপ্রকাশ করলেন। এবং ফেরাউন যে ঘোড়ার ওপর সওয়ার ছিল তার সম্মুখ দিয়ে সমুদ্রের দিকে ঘোটকীটি অগ্রসর হল। তার ঘোড়াটি ঘোটকীর প্রতি আকৃষ্ট হল এবং ঘোড়াটি ঘোটকীর পিছু পিছু ছুটতে লাগল। জিবরাঈল আ. দ্রুত তার সামনে গেলেন এবং সমুদ্রে ঝাঁপ দিলেন। ঘোড়া ও মাদী ঘোড়াটি ছুটতে লাগল। ঘোড়াটি সামনের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে লাগল। ঘোড়ার ওপর ফেরাউনের আর নিয়ন্ত্রণ রইল না। ফেরাউন তার ভালো-মন্দ কিছুই চিন্তা করতে সক্ষম হল না। সেনাবাহিনী যখন ফেরাউনকে দ্রুত সামনের দিকে অগ্রসর হতে দেখল, তারাও অতি দ্রুত তার পিছনে সমুদ্রে ঝাঁপ দিল। যখন তারা সকলেই পরিপূর্ণভাবে সমুদ্রে ঢুকে গেল এবং সেনাবাহিনীর প্রথম ভাগ সমুদ্র থেকে বের হওয়ার উপক্রম হল, আল্লাহ তাআলা মূসা আ.-কে আদেশ করলেন- তিনি যেন তাঁর লাঠি দিয়ে পুনরায় সমুদ্রে আঘাত করেন। তিনি সমুদ্রে আঘাত করলেন। তখন সমুদ্র পূর্বের আকার ধারণ করে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনীর মাথার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হল। ফলে তাদের কেউই আর রক্ষা পেল না, সকলেই ডুবে মরল।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ফেরাউনের ধ্বংসের পর বনি ইসরাঈলের অবস্থা

📄 ফেরাউনের ধ্বংসের পর বনি ইসরাঈলের অবস্থা


আল্লাহ তাআলা ফেরাউন ও তার গোষ্ঠীর সকলকে ধ্বংস করে দিলেন। দুনিয়ায় বিরাজমান তাদের সম্মান ঐতিহ্য তিনি বিনষ্ট করে দিলেন। তাদের রাজা, আমীর-উমারা ও সৈন্য-সামন্ত ধ্বংস হয়ে গেল। মিসর দেশে সাধারণ প্রজাবর্গ ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট রইল না।

ইবনে আবদুল হাকাম 'মিসরের ইতিহাস" গ্রন্থে লিখেছেন, সেদিন থেকে মিসরের স্ত্রী লোকেরা পুরুষদের উপর প্রাধান্য লাভ করেছিল। কেননা আমীর-উমারাদের স্ত্রীরা তাদের চেয়ে নিম্নশ্রেণীর সাধারণ লোকদেরকে বিয়ে করতে হয়েছিল। তাই তাদের স্বামীদের ওপর স্বভাবতই তাদের প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রথা মিসরে আজ পর্যন্ত চলে আসছে।

মূসা আ. মিসর ত্যাগ করে বায়তুল মুকাদ্দাস পৌঁছলেন। তখন সেখানে হায়সানি, ফাযারি, ও কানআনি ইত্যাদি গোত্র সম্বলিত এক দুর্দান্ত জাতিকে বসবাসরত দেখতে পান। মূসা আ. তখন বনি ইসরাঈলকে শহরে প্রবেশ করার এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদেরকে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে বিতাড়িত করতে হুকুম দিলেন। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ইবরাহীম আ. কিংবা মূসা আ.-এর মাধ্যমে এ শহরটি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা মূসা আ.-এর নির্দেশ মানতে অস্বীকার করল এবং যুদ্ধ থেকে বিরত রইল। তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ভীতিগ্রস্ত করলেন এবং তীহ প্রান্তরে নিক্ষেপ করেন। সেখানে তারা সুদীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবত উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাফেরা করতে থাকে।

বনি ইসরাঈলের সর্দাররা জিহাদ হতে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিল। এর ফলে বিরাট বিপর্যয় ঘটে গেল। কথিত আছে, ইউশা আ. ও কালিব আ. যখন তাদের এরূপ উক্তি শুনতে পেলেন (তখনকার নিয়ম অনুযায়ী) তারা তাদের কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন এবং মূসা আ. ও হারূন আ. এ অশ্রাব্য কথার জন্য আল্লাহ তাআলার গযব থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে বনি ইসরাঈলের প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমত কামনা করে সিজদায় পড়ে গেলেন। ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, হযরত মূসা আ. বললেন: رَبِّ إِنِّي لَا أَمْلِكُ إِلَّا نَفْسِي وَأَخِي فَافْرُقْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ অর্থাৎ আমার ও তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন।

এরপর আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জিহাদ থেকে বিরত থাকার দরুন শাস্তিস্বরূপ চল্লিশ বছর যাবত দিন-রাত সকাল-সন্ধ্যা তীহ ময়দানে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে ভবঘুরে জীবন যাপন চূড়ান্ত করে দিলেন। কথিত আছে, তাদের যারা তীহ ময়দানে প্রবেশ করেছিল তাদের কেউ বের হতে পারে নি। তাদের সকলেই এ চল্লিশ বছরে সেখানে মৃত্যুবরণ করেছিল। কেবল তাদের ছেলে-মেয়েরা এবং ইউশা আ. ও কালিব আ. বেঁচে ছিলেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 তীহ ময়দান ও অত্যাশ্চর্য ঘটনাবলী

📄 তীহ ময়দান ও অত্যাশ্চর্য ঘটনাবলী


আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে দুটো সুস্বাদু খাবার বিনা কষ্টে ও পরিশ্রমে সহজলভ্য করে দিয়েছিলেন। প্রতিদিন ভোরে আল্লাহ তাআলা তাদের জন্যে মান্না অবতীর্ণ করতেন এবং সন্ধ্যার সময় সালওয়া নামক পাখি প্রেরণ করতেন। মূসা আ.-এর লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করার ফলে তাদের জন্যে আল্লাহ তাআলা পানি প্রবাহিত করে দিয়েছিলেন। তারা এ পাথরটিকে তাদের সাথে লাঠি সহকারে বহন করত। এ পাথর থেকে বারটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হত; প্রতিটি গোত্রের জন্যে একটি প্রস্রবণ নির্ধারিত ছিল। এ প্রসবণগুলো পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত করত। তারা নিজেদারা পান করত ও তাদের প্রাণীদেরকে পানি পান করাত এবং তারা প্রয়োজনীয় পানি জমাও করে রাখত। উত্তাপ থেকে বাঁচার জন্যে মেঘ দ্বারা তাদেরকে আল্লাহ তাআলা ছায়া দান করেছিলেন। আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে তাদের জন্যে ছিল এগুলো বড় বড় নিয়ামত ও দান। কিন্তু তারা এগুলোর পূর্ণ মর্যাদা অনুধাবন করে নি। এগুলোর জন্যে যথাযোগ্য কতৃজ্ঞতা জ্ঞাপন করে নি। আর যথাযথভাবে ইবাদতও তারা আঞ্জাম দেয় নি। এরপর তাদের অনেকেই এসব নিয়ায়তের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করল। এগুলোর প্রতি অধৈর্য হয়ে উঠল এগুলোর পরিবর্তন কামনা করল। চাইল এমন সব বস্তু ২, যা ভূমি উৎপন্ন করে। যেমন: শাক, সবজি, ফাঁকুড়, গম, মসুর ও পিঁয়াজ ইত্যাদি। এ কথার জন্যে মূসা আ. তাদেরকে ভর্ৎসনা করলেন এবং ধমক দিলেন। তাদের সতর্ক করে বললেন:

ছোট-বড় নির্বিশেষে সকল শহরের অধিবাসীর জন্য অর্জিত উৎকৃষ্ট নিয়ামতসমূহের পরিবর্তে কি তোমরা নিকৃষ্টতর বস্তু চাও? তা হলে তোমরা যেসব বস্তু ও মর্যাদার উপযুক্ত নও, তার থেকে অবতরণ করে তোমরা যে ধরনের নিকৃষ্ট মানের খাদ্য খাবার চাও, তা তোমরা অর্জন করতে পারবে। তবে আমি তোমাদের আবদারের প্রতি সাড়া দিচ্ছি না এবং তোমরা যে ধরনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছ, তাও আল্লাহ তাআলার দরবারে আপাতত পৌঁছাচ্ছি না। তাদের আচরণ দেখে বোঝা যায়, মূসা আ. তাদেরকে যেসব কাজ থেকে বিরত রাখতে ইচ্ছে করেছিলেন, তা থেকে তারা বিরত থাকে নি।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 আল্লাহর দীদার লাভ

📄 আল্লাহর দীদার লাভ


পূর্ববর্তী যুগের ওলামায়ে কেরাম বিশেষত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, এখানে ত্রিশ রাত্রের অর্থ হচ্ছে যিলকাদ মাসের পূর্ণটা এবং যিলহজ মাসের প্রথম দশ রাত, মোট চল্লিশ রাত। এ হিসেবে মূসা আ.-এর জন্যে আল্লাহ তাআলার বাক্যালাপের দিন হচ্ছে কুরবানীর ঈদের দিন।

মূলত মূসা আ. যখন তাঁর নির্ধারিত মেয়াদ পরিপূর্ণ করলেন, তখন তিনি ছিলেন রোযাদার। কথিত আছে, তিনি কোনো প্রকার খাবার চান নি। এরপর যখন মাস সমাপ্ত হল তিনি একপ্রকার বৃক্ষের ছাল হাতে নিলেন এবং মুখে সুগন্ধি আনয়ন করার জন্যে তা একটু চিবিয়ে নিলেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে আরো দশদিন রোযা রাখতে আদেশ দিলেন। তাতে চল্লিশ দিন পুরা হল।

মূসা আ. যখন তার নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করার জন্যে পাহাড়ের দিকে রওনা হলেন। তখন ভাই হারুন আ.-কে বনি ইসরাঈলের কাছে নিজ প্রতিনিধিরূপে রেখে গেলেন। হারুন আ. ছিলেন মূসা আ.-এর সহোদর ভাই। অতি নিষ্ঠাবান দায়িত্বশীল ও জনপ্রিয় ব্যক্তি। আল্লাহ তাআলার মনোনীত ধর্মের প্রতি আহবানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মূসা আ.-এর সাহায্যকারী। মূসা আ. তাঁকে প্রয়োজনীয় কাজের আদেশ দিলেন। নবুয়তের ক্ষেত্রে তাঁর বিশিষ্ট মর্যাদা থাকায় মূসা আ.-এর নবুয়তের মর্যাদার কোনো ব্যাঘাত ঘটে নি। আল্লাহ তাআলা তাকে আপন কথা শুনালেন; মূসা আ.-কে আহবান করলেন, সঙ্গোপনে তাঁর সাথে কথা বললেন এবং নিকটবর্তী করে নিলেন। এটা উচ্চ একটি সম্মানিত স্থান, দুর্ভেদ্য দুর্গ, সম্মানিত পদমর্যাদা ও অতি উচ্চ অবস্থান। তাঁর ওপর আল্লাহ তাআলার অবিরাম সালাম বা শান্তি বর্ষিত হোক। যখন তাঁকে উচ্চ মর্যাদা ও মহা সম্মান দান করা হল এবং তিনি আল্লাহ তাআলার কালাম শুনলেন, তখন তিনি পর্দা সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেন এবং এমন মহান সত্তার উদ্দেশ্যে যাঁকে দুনিয়ার চোখ দেখতে পায় না, তাঁর উদ্দেশ্যে বললেন:

رَبِّ أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْكَ لَنْ تَرَانِي হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নির্দেশ দাও! আমি তোমাকে দেখব। আল্লাহ উত্তরে বলেন: لَنْ تَرَانِي তুমি আমাকে কখনই দেখতে পাবে না। অর্থাৎ মূসা আ. আল্লাহ তাআলার প্রকাশের সময় স্থির থাকতে পারলেন না। কেননা পাহাড় যা মানুষের তুলনায় অধিকতর স্থির ও কাঠামোগতভাবে অধিক শক্তিশালী। পাহাড়ই যখন আল্লাহ তাআলার জ্যোতি প্রকাশের সময় স্থির থাকতে পারে না, তখন মানুষ কেমন করে পারবে? এ জন্যই আল্লাহ তাআলা বলেন: তুমি বরং পাহাড়ের প্রতি লক্ষ কর! তা স্বস্থানে স্থির থাকলে তবে তুমি আমাকে দেখতে পারবে।

প্রাচীণ যুগের কিতাবগুলোতে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ তাআলা মূসা আ.-কে বললেন, “হে মূসা, কোনো জীবিত ব্যক্তি আমাকে দেখলে মারা পড়বে এবং কোনো শুষ্ক দ্রব্য আমাকে দেখলে উলট-পালট হয়ে গড়িয়ে পড়বে। বুখারী ও মুসলিম শরীফে আবু মূসা রাযি. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ তাআলার পর্দা হচ্ছে নূর বা জ্যোতির। অন্য এক বর্ণনা মতে আগুন। যদি তিনি পর্দা সরান তা হলে তাঁর চেহারার ঔজ্জ্বল্যের দরুন যতদূর তাঁর দৃষ্টি পৌঁছে সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করল। আর মূসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ল। যখন সে জ্ঞান ফিরে পেল, তখন সে বলে উঠল: "মহিমান্বিত তুমি, আমি অনুতপ্ত হয়ে তোমার কাছেই প্রত্যাবর্তন করলাম এবং মুমিনদের মধ্যে আমিই প্রথম।”

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, হে মূসা! আমি তোমাকে আমার রিসালাত এবং বাক্যালাপ দ্বারা তোমাকে মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। অর্থাৎ সমসাময়িক যুগের লোকদের ওপর, পূর্ববর্তীদের ওপর নয়। কেননা ইবরাহীম আ. মূসা আ. থেকে উত্তম ছিলেন। যা ইবরাহীম আ.-এর কাহিনীর মধ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। আবার তার পরবর্তীদের ওপরও নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের উভয় থেকেই উত্তম ছিলেন। যেমন মিরাজের রাতে সকল নবী-রাসূলের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমি এমন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হব যার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টিকুলের সকলেই করবে, এমনকি ইবরাহীম আ.-ও।

আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি যে রিসালাত তোমাকে দান করেছি তা শক্তভাবে গ্রহণ কর, তার চাইতে বেশি প্রার্থনা কর না এবং কতৃজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও।

ফন্ট সাইজ
15px
17px