📄 হযরত ইউনুস আ.-এর মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইউনুস আ.-এর আলোচনা করে তাঁর মাহাত্ম্য-মর্যাদা বিশেষভাবে প্রকাশ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ ، قَالَ : " لَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ : إِنِّي خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ " زَادَ مُসَدَّদٌ: «ইউনুস ইবনে মাত্তা»
"তোমাদের মধ্য থেকে কেউই এ কথা যেন কখনো না বলে, আমি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইউনুস ইবনে মাত্তা থেকে উত্তম।"
হযরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে: একবার এক ইহুদি কিছু মাল বিক্রয় করছিল। কোনো এক ব্যক্তি কিছু খরিদ করে যেই মূল্য প্রদান করতে চাইল, তা ইহুদির পছন্দ হল না। ইহুদি বলল, সেই খোদার কসম! যিনি মূসা আ.-কে মানবজাতির মধ্যে সর্বোত্তম সৃষ্টি করেছেন, আমি এ মূল্যে কখনো মাল বিক্রয় করব না। একজন আনসারি সাহাবি এ কথা শুনে ক্রোধে ইহুদিকে চপেটাঘাত করলেন। এবং বললেন, তুই এমন কথা বলছিস, অথচ আমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদ্যমান রয়েছেন। ইহুদি তৎক্ষণাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাযির হয়ে ফরিয়াদ করল: আবুল কাসেম! আমি যখন আপনার প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্বের অধীন রয়েছি, তখন এ আনসারি আমার মুখে চপেটাঘাত কেন করল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারি সাহাবিকে কারণ জিজ্ঞাসা করেন। তিনি পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করলেন।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারক ক্রোধে রঙ্গিন বর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেন, তোমরা কখনো আম্বিয়া আ.-এর মধ্য থেকে কাউকেও কারো ওপর অধিক ফযিলত প্রদান করো না। কেননা যখন প্রথমবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন যমিন ও আসমানের মধ্যবর্তীস্থানে যত প্রাণীই আছে, সকলেই বেহুঁশ হয়ে পড়বে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা যাকে মুক্ত রাখেন সে ছাড়া। এরপর দ্বিতীয় বার শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হলে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি হুঁশ প্রাপ্ত হবে, সে ব্যক্তি হব আমি। কিন্তু আমি বেহুঁশ অবস্থা হতে সচেতন হয়েই দেখতে পাব, মূসা আ. আরশে ঠেস দিয়ে দণ্ডায়মান রয়েছেন। এখন আমি বলতে পারি না, তাঁর বেহুঁশ হওয়ার ব্যাপারটি তূর পাহাড়ের ঘটনার মধ্যে ধরা হয়েছে কি-না? যে কারণে আজ তিনি বেহুঁশ হতে রক্ষা পেয়ে গেলেন অথবা আজ তিনি আমার পূর্বেই হুঁশ প্রাপ্ত হয়েছেন। আর আমি বলি না, কোনো নবীই হযরত ইউনুস আ. অপেক্ষা অধিক ফযিলতের অধিকারী। (বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া)
সূরায়ে সাফফাতে ইরশাদ হয়েছে : নিশ্চয় ইউনুস ছিল রাসূলদের একজন। অনুরূপভাবে সূরায়ে নিসা ও আনআমে তাকে আম্বিয়ায়ে কেরামের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের উপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। ইমাম আহমদ রহ. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রেও এরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: 'আর কারো পক্ষেই এরূপ কথা বলা বাঞ্ছনীয় নয়, আমি ইউনুস ইবনে মাত্তার চেয়ে ভালো।' তাবারানীর বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে যে 'আল্লাহর নিকট উত্তম'। বর্ণনাটির সনদ ত্রুটিমুক্ত।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে: 'আমাকে (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) ইউনুস আ. ইবনে মাত্তা থেকে উত্তম মনে করা সমীচীন নয়।'
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'আমাকে অন্যান্য নবীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না, ইউনুস আ.-এর উপরও নয়।'
এটা অবশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনয় প্রকাশের জন্যে বলেছেন। আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর প্রতি ও অন্যান্য নবী-রাসূলগণের প্রতি বর্ষিত হোক!
এ সমস্ত রেওয়ায়েতে বিশেষভাবে হযরত ইউনুস আ.-এর যে ফযিলত বর্ণনা করা হয়েছে, এতে সমস্ত ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত- হযরত ইউনুস আ.-এর ঘটনা পাঠকারীর মনে তাঁর পবিত্র ব্যক্তিত্ব সম্বন্ধে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতির সন্দেহ না জন্মে। সুতরাং সেই পন্থা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শানের মাহাত্ম্যকে এরূপ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করেছেন।