📄 দৃষ্টান্তমূলক উপদেশাবলী
১। আল্লাহ পাকের বান্দাগণের মধ্য হতে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে যার যতটুকু সান্নিধ্য আছে, সেই তুলনায়ই তাকে বিপদাপদের ভাট্টিতে দগ্ধ করা হয়। আর যখন তিনি উক্ত দহনের সম্মুখীন হয়ে ধৈর্যসহ্যের সঙ্গে অবিচল থাকেন, তখন সেই বিপদসমূহই তার চরম সান্নিধ্য লাভের কারণ হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— ‘সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হয় আম্বিয়ায়ে কেরামের, এরপর নেককার মুমিনদের, এরপর ধার্মিকতার স্তর ও শ্রেণী অনুযায়ী।’
২। মান-সম্মান, ধনদৌলত, সচ্ছল ও শান্তিময় অবস্থায় আল্লাহ তাআলার শোকরগুযারী এবং অনুগ্রহের মূল্যায়ন তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়। কিন্তু বালা-মুসিবত, দুঃখ-কষ্ট এবং সংকটকালে আল্লাহ তাআলার বিধানের উপর সন্তুষ্ট থেকে অভিযোগের একটি অক্ষরও উচ্চারণ না করা এবং ধৈর্যসহ্যের প্রমাণ দেওয়া অতি কঠিন। সুতরাং যখন আল্লাহর কোনো নেককার বান্দা এরূপ দুরাবস্থায় ধৈর্যসহ্যের আঁচল না ছেড়ে অবিরত সবর ও শোকর প্রকাশ করতে থাকেন, তবে আল্লাহ তাআলার ‘রহমত’ গুণও উদ্বেলিত হয়ে ওঠে এবং এরূপ ব্যক্তির ওপর অনুগ্রহ ও দয়ার বৃষ্টি বর্ষণ করেন। সে আশাতীতরূপে অসীম অনুগ্রহ ও দয়া দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতের সাফল্য লাভ করে। হযরত আইয়ুব আ. এর উজ্জ্বল প্রমাণ।
৩। কোনো অবস্থাতেই মানুষ আল্লাহ তাআলার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত না। কেননা আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ হওয়া কাফেরের অভ্যাস। তদ্রুপ কেউ যেন মনে না করে, বিপদাপদ শুধু গুনাহের সাজাস্বরূপ এসে থাকে। বরং অনেক সময় তা পরীক্ষাস্বরূপও এসে থাকে। আর সবর ও শোকরকারীর জন্য আল্লাহ পাক রহমতের ভাণ্ডার খুলে দেন। হাদিসে কুদসিতে আছে: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাগণকে সম্বোধন করে বলেন, ‘বান্দা তার মনে আমার সম্বন্ধে যেরূপ ধারণা পোষণ করে, আমি তার ধারণা পূর্ণ করে দেই।’
৪। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কসমূহের মধ্যে খেদমত ও ধৈর্য সর্বাপেক্ষা অধিক প্রিয় ব্যাপার। এক হাদিসে বর্ণিত আছে: শয়তানের কুমন্ত্রণাসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ও ইবলিসের খুবই প্রিয় হল, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কুধারণা, মনোমালিন্য, শত্রুতা ও ঘৃণার বীজ বপন করা। তাই সহি হাদিসে ওই স্ত্রীলোককে বেহেশতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে, যে স্ত্রীলোক নিজের স্বামীর জন্য নেককার ও খেদমতকারিণী সাব্যস্ত হয়।
৫। আনন্দ ও শান্তির সময় বিনয় ও শোকর এবং দুঃখ-কষ্ট ও বিপদের সময় আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সবর এমন দুটি অমূল্য নেয়ামত, যার কপালে এটি জোটে সে দুনিয়া ও আখেরাতে কখনো বিফল হতে পারে না। আল্লাহ তাআলার সম্মতি ও সন্তোষ সর্বাবস্থায় তার সাথী হয়ে থাকে।