📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ধন-সম্পদ ও পরীক্ষা

📄 ধন-সম্পদ ও পরীক্ষা


তাফসিরকারকগণ বলেছেন, হযরত আইয়ুব আ. ছিলেন সেকালের একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। সকল প্রকার সম্পদের অধিকারী। চতুষ্পদ প্রাণী, গৃহপালিত পশু, দাস-দাসী এবং হাওরান অঞ্চলের বুছায়না এলাকার বিশাল জমির মালিকানা। ইবনে আসাকির রহ. বর্ণনা করেন, হযরত আইয়ুব আ.-এর এ সব সম্পদ ছাড়াও আরো ছিল প্রচুর সন্তান ও পরিবার-পরিজন। পরে এ সব কিছু তাঁর থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নানা প্রকার দৈহিক ব্যাধি দ্বারা তাকে পরীক্ষায় ফেলা হয়। শরীরের সর্বাঙ্গে রোগ ছিল। শুধু জিহবা ও হৃৎপিণ্ড ব্যতীত কোনো একটি স্থানও অক্ষত ছিল না। এ দুই অঙ্গ দ্বারা তিনি আল্লাহর যিকির করতেন। এতসব মুসিবত সত্ত্বেও তিনি ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখান। রাত-দিন আল্লাহর যিকিরে রত থাকেন। রোগ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বন্ধু-বান্ধব, আপনজন তাঁর কাছ থেকে সরে যেতে থাকে। একে একে সবাই তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অবশেষে তাঁকে শহরের বাইরে এক আবর্জনাময় স্থানে ফেলে রাখা হয়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 স্ত্রীর স্বামীভক্তি

📄 স্ত্রীর স্বামীভক্তি


একমাত্র স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ তার খোঁজ-খবর রাখত না। সুতরাং স্বামীর অধিকার, তার পূর্বের ভালোবাসা ও অনুগ্রহের কথা মনে রেখে স্ত্রী তাঁর সেবায় নিয়োজিত থাকেন। স্ত্রী তাঁর অবস্থার প্রতি লক্ষ রাখতেন। পেশাব-পায়খানায় সাহায্য করতেন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা করতেন। এভাবে স্ত্রীও ক্রমশ দুর্বল হতে থাকেন। অর্থাভাব দেখা দেয়। ফলে তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করে সেই পারিশ্রমিক দ্বারা স্বামীর আহার্য ও ঔষধপত্রের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হন। এক সময় স্ত্রীর জন্য সামান্য অর্থও যোগাড় করা কষ্টসাধ্য হয়ে গেল। তবুও তিনি অসীম ধৈর্যের পরিচয় দেন। সম্পদ ও সন্তানাদি হারিয়েছেন, স্বামীর করুণ অবস্থা, অর্থের অভাব, মানুষের সাহায্য-সহানুভূতিও নেই, এ সব প্রতিকূল অবস্থা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে মুকাবিলা করেন। অথচ সম্পদ-ঐশ্বর্য, বন্ধু-বান্ধব ইতোপূর্বে সবই তাঁদের ছিল। সহি হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হয় নবীগণের। তারপর সত্যপন্থী লোকদের। এরপর দীনদারী বা ধার্মিকতার স্তরভেদে পর্যায়ক্রমে এ পরীক্ষা চলে। যদি সে দৃঢ়তার সঙ্গে দীনের আনুগত্য করতে থাকে, তবে তার পরীক্ষাও কঠোরতর হয়।’

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 পরম ধৈর্য

📄 পরম ধৈর্য


উল্লিখিত বিপদ-আপদ হযরত আইয়ুব আ.-এর ক্ষেত্রে যতই বৃদ্ধি পেয়েছে ততই তাঁর ধৈর্যসহ্য এবং আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি তাঁর ধৈর্য ও বিপদাপদ পরবর্তীকালে প্রবাদে পরিণত হয়ে যায়। ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ ও অন্য অনেকে ইসরাঈলী ওলামাদের বরাতে হযরত আইয়ুব আ.-এর সম্পদ ও সন্তানাদি নিঃশেষিত হওয়া ও দেহের রোগ সম্পর্কে দীর্ঘ বর্ণনা দান করেছেন। আল্লাহ পাক সেগুলোর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 রোগব্যাধি

📄 রোগব্যাধি


মুজাহিদ রহ. বলেছেন, পৃথিবীতে হযরত আইয়ুব আ.-এরই সর্বপ্রথম বসন্ত রোগ হয়। তবে ঠিক কতদিন তা স্থায়ী হয়েছিল, এ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। ওহাবের মতে, তা ছিল তিন বছর- এর কম-বেশি নয়। হযরত আনাস রাযি. বলেন, সাত বছর কয়েক মাস পর্যন্ত তাঁর পরীক্ষা চলে। এ সময়ে তাঁকে বনি ইসরাঈলের একটি আবর্জনাময় স্থানে ফেলে রাখা হয়। বিভিন্ন রকম কীট তাঁর দেহের ওপর দিয়ে চলাচল করত। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। এবং বিপুলভাবে তাকে পুরস্কৃত করেন এবং তাঁর প্রশংসাও করেন। আঠার বছরের কথাও বর্ণিত আছে। সুদ্দী রহ. বলেছেন, আইয়ুব আ.-এর দেহ থেকে গোশত খসে খসে পড়ে। এমনকি তাঁর হাড় ও শিরা ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তাঁর স্ত্রী তাঁর দেহের নিচে ছাই বিছিয়ে দিতেন। এ অবস্থা যখন দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকে, তখন একবার স্ত্রী বললেন : হে আইয়ুব! আপনি যদি আপনার প্রতিপালকের কাছে দুআ করতেন, তা হলে তিনি এ বিপদ থেকে আপনাকে উদ্ধার করতেন। তদুত্তরে আইয়ুব আ. বললেন, আমি সত্তর বছর সুস্থ দেহে জীবন যাপন করেছি। এখন তার জন্যে সত্তর বছর সবর করলেও তা নগণ্যই হবে। স্বামীর মুখে এ কথা শুনে স্ত্রী ঘাবড়ে যান। তখন থেকে তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মানুষের কাজকর্ম করে আইয়ুব আ.-এর আহার্য্যের বন্দোবস্ত করতেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px