📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 অন্তিমকাল

📄 অন্তিমকাল


হযরত ইউসুফ আ. যখন দেখলেন, তাঁর প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ পরিপূর্ণ হয়েছে। তাঁর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়ে গেছে। তখন উপলব্ধি করলেন, এ পৃথিবীতে কোনো কিছুরই স্থায়িত্ব নেই। যা কিছু আছে, সবই ধ্বংস হবে। আর 'পূর্ণতার পরেই আসে ক্ষয়ের পালা'। তখন তিনি আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন। আল্লাহর অনেক অনুগ্রহ ও করুণার কথা স্বীকার করলেন এবং মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দান এবং সৎলোকদের অন্তর্ভুক্ত রাখার জন্য দুআ করলেন। তাঁর এ দুআ ছিল এমন পর্যায়ের, যেমন অন্যান্য সময় দুআর মধ্যে বলা হয়- (আল্লাহুম্মা আহইনা মুসলিমিনা অয়া তাওয়াসানা মুসলিমিন) অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদেরকে মুসলিমরূপে জীবিত রাখুন এবং মুসলিমরূপে মৃত্যু দান করুন! অর্থাৎ, যখন আপনি আমাদের মৃত্যু দেবেন, তখন যেন আমরা মুসলমান থাকি। আবার বলা যায়, তিনি এ দুআ করেছিলেন মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থায়। যেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুশয্যায় দোয়া করেছিলেন তাঁর রূহকে ঊর্ধ্বজগতে উঠিয়ে নিতে এবং নবী-রাসূল ও সালিহীনদের অন্তর্ভুক্ত করতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: (আল্লাহুম্মা ফির রফিকিল আ'লা) এ দুআটি তিনবার বলার পর তিনি ইনতিকাল করেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ওফাত লাভ

📄 ওফাত লাভ


হযরত ইউসুফ আ. তাঁর জীবনের অধিকাংশ বয়সই মিসরে কাটিয়েছেন। তিনি যখন একশ দশ বছর বয়সে পদার্পণ করেন, তখন তাঁর ইনতেকাল হয়। হযরত ইউসুফ আ. ইনতেকালের আগে আপন খান্দানের লোকদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, তারা যেন তাঁকে মিসরের মাটিতে দাফন না করে। বরং আল্লাহ তাআলার ওয়াদা পূর্ণ হয়ে গেলে বনি ইসরাঈলরা যেন পুনরায় ফিলিস্তিনে (বায়তুল মুকাদ্দাসে) পূর্বপুরুষদের দেশে ফিরে যায়। তারা হাড়গুলো যেন সেখানে নিয়ে মাটির নিচে দাফন করে। সুতরাং তদনুযায়ী তাঁরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন। হযরত ইউসুফ আ.-এর ইনতেকাল হলে তাঁকে মমি করে সিন্দুকের মধ্যে রেখে দেয়। যখন মূসা আ.-এর যুগে বনি ইসরাঈলরা মিসর থেকে বের হয়, তখন সেই সিন্দুকটিকেও সঙ্গে নিয়ে যায়। এবং পূর্বপুরুষদের দেশ ফিলিস্তিনের 'নাবলুসের' অন্তর্গত 'বালতা' গ্রামে নিয়ে গিয়ে দাফন করে। এ কবরটি একটি বৃক্ষের নিচে।

আহলে কিতাবদের মতে মৃত্যুকালে হযরত ইউসুফ আ.-এর বয়স হয়েছিল একশ দশ বছর। আহলে কিতাবদের এ লেখাটি আমি দেখেছি। ইবনে জারীর রহ.-ও তা নকল করেছেন। মুবারক ইবনে ফুযালা হাসানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ইউসুফ আ.-কে যখন কূপে নিক্ষেপ করা হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল সতের বছর। পিতার কাছ থেকে অনুপস্থিত ছিলেন আশি বছর এবং পিতার সাথে মিলনের পরে জীবিত ছিলেন তেইশ বছর। সুতরাং সেমতে মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল (১৭+৮০+২৩) একশ বিশ বছর।

তাওরাতে বর্ণিত আছে: ইউসুফ এবং তাঁর পিতার পরিবারবর্গ মিসরে বসবাস করেছেন। ইউসুফ আ. একশ দশ বছর জীবিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর ভাইদের বললেন: আমি মরছি, আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাদেরকে মিসর থেকে সেই স্থানের দিকে নিয়ে যাবেন, যার সম্বন্ধে তিনি ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুব আ.-এর সঙ্গে কসম দিয়ে ওয়াদা করেছেন। ইউসুফ আ. তাদের বললেন, আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাদেরকে স্মরণ করবেন। তোমরা আমার হাড়গুলোকে এখান থেকে আমার হাড়গুলো নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেও।

এরপর ইউসুফ আ. একশ দশ বছর বয়সে পৌঁছে ইনতেকাল করেন। বনি ইসরাঈলগণ মিসরে তাঁর কবরের মধ্যে সুগন্ধিদ্রব্য পূর্ণ করে একটি সিন্দুকের ভিতরে রেখে দেন। মূসা আ. বনি ইসরাঈলকে নিয়ে মিসর থেকে বের হওয়ার সময় ইউসুফ আ.-এর হাড়গুলোকে সঙ্গে নিলেন। কেন না ইউসুফ আ. বনি ইসরাঈলকে কসম দিয়ে বলেছিলেন, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তোমাদের খবর নেবেন। তোমরা এখান থেকে আমার হাড়গুলো নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেও।”

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত ইউসুফ আ.-এর কাহিনী সংক্রান্ত মানচিত্র

📄 হযরত ইউসুফ আ.-এর কাহিনী সংক্রান্ত মানচিত্র


শ্বেত সাগর। শিমইরাও জুশান হীপিও কায়রো। দূতন নিকট বাইতে ম হিবরুন ধীরে গুরা কাফেলার পথ। জর্দান নদী জিলআদ বায়তুল লাহম মৃত সাগর। নীল নদ। উত্তর আয়শা সাইনা উপদ্বীপ সুয়েজ খাল সাহারা উপসাগর আকাবা উপসাগর আরব লোহিত সাগর।

টিকাঃ
১। বাইবেলের মতে এ স্থানেই হযরত ইউসুফ কূপে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। ২। এখানে হযরত ইয়াকুবের পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। বর্তমানে এর নাম নাবলুস। ৩। এখানে হযরত ইয়াকূব বসবাস করতেন। এর আর এক নাম 'আল-খলীল'। ৪। হযরত ইউসুফ এখানে বনী ইসরাঈলদেরকে পূনর্বাসিত করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px