📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ইসরাঈল

📄 ইসরাঈল


ইবরানি ভাষায় ইয়াকুব আ.-এর নাম ইসরাঈল। ইসরা শব্দের অর্থ عبد (দাস) এবং ایل অর্থ, আল্লাহ। দুই শব্দের সমন্বয়ে গঠিত ইসরাঈল-এর আরবি অর্থ: আবদুল্লাহ- আল্লাহর বান্দা। হযরত ইবরাহীম আ.-এর পুত্র ইসহাক আ.-এর বংশধরগণ যারা ইয়াকুব আ.-এর বংশোদ্ভূত তাদেরকে তাঁর ইবরানী নামানুসারে বনি ইসরাঈল বলা হয়। আজও ইহুদি-খৃস্টানদের প্রাচীন খান্দান এর সঙ্গেই সম্বন্ধযুক্ত।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত ইয়াকুব আ.-এর আওলাদ

📄 হযরত ইয়াকুব আ.-এর আওলাদ


ইয়াকুব আ.-এর ১২ পুত্র ছিল। বিনইয়ামিন ছাড়া তাঁর সকল পুত্রই 'ফাদ্দানে' জন্মগ্রহণ করেন। শুধু বিনইয়ামিন ফিলিস্তিনে (কেনানে) জন্মগ্রহণ করেন। ইয়াকুব আ.-এর এ পুত্রগণ বিভিন্ন বিবির গর্ভজাত সন্তান। ১। লাইয়া বিনতে লাবান হতে রাতবীন, শামউন, লাওয়া, ইয়াহুদ, দাইসাকার ও যালুবুন = ৬। ২। রাহিল বিনতে লাবান ইউসুফ ও বিনইয়ামিন = ২। ৩। বালহা, রাহিলের খাদেমা দান, নাফতালা = ২। ৪। যুলকা, লাইয়ার খাদেমা যাদ, আশীর = ২। মোট = ১২।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 নবুয়ত লাভ

📄 নবুয়ত লাভ


হযরত ইয়াকুব আ. ছিলেন আল্লাহ তাআলার মনোনীত পয়গম্বর। তিনি কেনানবাসীদের হেদায়তের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। বহু বছর পর্যন্ত তিনি মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন। কোরআন মাজিদে তাঁর আলোচনা হযরত ইউসুফ আ.-এর সঙ্গেও করা হয়েছে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ইনতেকাল

📄 ইনতেকাল


ইবনে ইসহাক রহ. আহলে কিতাবদের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন: হযরত ইয়াকুব আ. মিসরে পুত্র ইউসূফ আ.-এর কাছে ১৭ বছর থাকার পর ইনতেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি ইউসুফ আ.-কে অসিয়ত করেন, তাঁকে যেন তাঁর পিতৃ-পুরুষ ইবরাহীম আ. ও ইসহাক আ.-এর পাশে দাফন করা হয়। সুদ্দী রহ. লিখেছেন, হযরত ইউসুফ আ. এ অসিয়ত পালন করেন। পিতার মৃতদেহ তিনি সিরিয়ায় পাঠিয়ে দেন এবং পিতা ইসহাক আ. ও পিতামহ ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আ.-এর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

আহলে কিতাবদের মতে হযরত ইয়াকুব আ. যখন মিসরে যান, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩০ বছর। তাদের মতে তিনি মিসরে ১৭ বছর জীবিত থাকেন। তা হলে তাঁর বয়স হয় ১৪৭ বছর। কিন্তু তারা হযরত ইয়াকুব আ.-এর বয়স লিখেছে সর্বমোট ১৪০ বছর। নিঃসন্দেহে এটা তাদের কিতাবের লিপিগত ভুল কিংবা তাদের হিসেবের ভুল। অথবা তারা চল্লিশের উপরের খুচরা বছরগুলোকে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু এ রকম করা তাদের নীতি নয়। কেননা অনেক স্থানে তারা খুচরা সংখ্যাসহ উল্লেখ করেছে। এখানে কীভাবে এর ব্যতিক্রম করল, তা বোধগম্য নয়। আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেন: أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْতُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهَا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ তবে কি তোমরা উপস্থিত ছিলে যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বলল: আমার পর তোমরা কার ইবাদত করবে? তারা বলল আমরা আপনার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহের ইবাদত করব। তিনি একক মাবুদ। আর আমরা সবাই তাঁর কাছে আত্মসমর্পণকারী। (সূরা বাকারা: ১৩৩)

হযরত ইয়াকুব আ. আপন সন্তানদেরকে যে খালেস দীনের প্রতি অসিয়ত করেন, তা হল দীন ইসলাম। যে দীনসহ সমস্ত নবীকে তিনি প্রেরণ করেছেন। আহলে কিতাবরা উল্লেখ করে, হযরত ইয়াকুব আ. তাঁর পুত্রদেরকে একজন একজন করে অসিয়ত করেন। এবং তাদের অবস্থা ভবিষ্যতে কেমন হবে, সে সম্পর্কে অবহিত করেন। পুত্র ইয়াহুদাকে তিনি তাঁর বংশ থেকে এক মহান নবীর আগমনের সুসংবাদ দেন, বংশের সবাই যার আনুগত্য করবে। তিনি হলেন সায়্যিদুনা ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

আহলে কিতাবদের বর্ণনা মতে হযরত ইয়াকুব আ.-এর মৃত্যুতে মিসরবাসী সত্তর দিন পর্যন্ত শোক পালন করে। হযরত ইউসুফ আ. চিকিৎসাবিদদেরকে উৎকৃষ্ট সুগন্ধি দ্বারা পিতার মরদেহ অক্ষুণ্ণ রাখতে আদেশ দিলে তারা তাই করে। এভাবে চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়। এরপর হযরত ইউসুফ আ. মিসরের বাদশার কাছে মিসরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি চান, তিনি পিতাকে পিতৃ-পুরুষদের পাশে দাফন করবেন। বাদশা অনুমতি দিলেন। ইউসুফ আ.-এর সাথে মিসরেরর গণ্যমান্য ও প্রভাবশালী লোকদের এক বিরাট দল গমন করে। হিবরূন নামক স্থানে পৌঁছে পিতাকে গুহায় দাফন করেন, যেখানে হযরত ইবরাহীম আ. ইফরূন ইবনে সাখারের কাছ থেকে খরিদ করে নিয়েছিলেন। সাত দিন সেখানে অবস্থান করার পর সকলেই স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। পিতার মৃত্যুতে ইউসুফ আ.-এর ভাইগণ ইউসুফ আ.-কে অত্যধিক সান্ত্বনা দেন ও সম্মান দেখান। ইউসুফ আ.-ও তাদের সম্মানিত করেন এবং প্রত্যাবর্তনের পর উত্তমভাবে তাদেরকে মিসরে থাকার ব্যবস্থা করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px