📄 হযরত ইসমাঈল আ.-এর আওলাদ
ইসমাঈল আ.-এর আওলাদ সম্বন্ধে কুরআন মাজিদে কিংবা নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিসে বিস্তারিত কোনো আলোচনা নেই। অবশ্য তাওরাতে তাঁর আওলাদের নামসমূহ বিস্তারিত বিবরণসহ উল্লেখ আছে। তাওরাতের বর্ণনা অনুসারে ইসমাঈল আ.-এর বারো জন পুত্র ছিলেন। যাঁরা বারো সরদার নামে অভিহিত ও প্রসিদ্ধ ছিলেন। এবং তাঁরা আরবের ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের আদি পুরুষ হয়েছেন। আর হযরত ইসমাঈল আ.-এর একজন কন্যা ছিলেন- বাসমা বা মুহাল্লাত।
এদের মধ্যে নাবেত বা নাবায়ুত ও কিদার নামে বড় দুই পুত্র প্রসিদ্ধ। এ দুজনের উল্লেখ তাওরাতের মধ্যে খুব বেশি দেখা যায়। আরব ঐতিহাসিকগণ তাদের উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করে থাকেন। ইনিই সেই নাবেত বা নাবায়ুত যার বংশধরগণ "আছহাবুল হিজর" নামে অভিহিত ও প্রসিদ্ধ হয়েছিল। আর কিদারের বংশধরগণ "আছহাবুর রাসে" নামে বিখ্যাত হয়েছিল। এই দুজন ব্যতীত বাকি দশভাই ও তাদের বংশের পরিচয় কম পাওয়া যায়।
📄 হযরত ইসমাঈল আ.-এর ইনতেকাল
হযরত ইসমাঈল আ. ১৩৬ বছর বয়সে ইনতেকাল করেন। তখন তাঁর আওলাদ ও বংশধরগণ বহু বিস্তৃতি লাভ করেছিল। হেজায, শাম, ফিলিস্তিন এবং মিসর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। তাওরাতে রয়েছে, হযরত ইসমাঈল আ. ফিলিস্তিনে সমাহিত হয়েছেন। এখানেই তাঁর ইনতেকাল হয়েছিলেন। আরব ঐতিহাসিকগণ বলেন, তিনি এবং তাঁর মাতা হাজেরা বাইতুল্লাহ শরীফের পাশেই সমাহিত রয়েছেন।
প্রসিদ্ধ মতে, হযরত ইসমাঈল আ.-কে হিজর নামক স্থানে মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ১৩৭ বছর। ওমর ইবনে আবদুল আযিয রহ. থেকে বর্ণিত: ইসমাঈল আ. মক্কার প্রচণ্ড গরম সম্পর্কে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। আল্লাহ পাক অহির মাধ্যমে তাঁকে জানান, যেখানে তোমাকে দাফন করা হবে, সে স্থানের দিকে আমি জান্নাত একটি দরজা খুলে দেব। কিয়ামত পর্যন্ত সেখানে জান্নাতের সুশীতল হাওয়া প্রবাহিত থাকবে।