📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কাবা গৃহ নির্মাণ

📄 কাবা গৃহ নির্মাণ


হযরত ইবরাহীম আ. যদিও ফিলিস্তিনে অবস্থান করতেন, কিন্তু সর্বদা ইসমাঈল আ. ও হাজেরাকে দেখবার জন্য মক্কায় আগমন করতেন। এ সময়ের ভেতরে হযরত ইবরাহীম আ.-এর প্রতি আল্লাহ তাআলার আদেশ হল, বাইতুল্লাহ নির্মাণ কর। হযরত ইবরাহীম আ. হযরত ইসমাঈল আ.-এর সাথে আলোচনা করে পিতা-পুত্র মিলে বাইতুল্লাহর নির্মাণ কাজ শুরু করে দিলেন। হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. ফাতহুল বারী কিতাবে (৮/১৩৮) একটি রেওয়ায়েত উদ্ধৃত করেছেন। যাতে প্রকাশ পায়, বাইতুল্লাহ শরীফের সর্বপ্রথম ভিত্তি হযরত আদম আ.-এর হাতে স্থাপিত হয়েছিল। ফেরেশতারা তাঁকে সেই স্থানটি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, যেখানে কাবাগৃহ নির্মিত হওয়ার ছিল। কিন্তু হাজার হাজার বৎসরের ঘটনাবলী বহুকাল পূর্বে তা নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। অবশ্য হযরত ইবরাহীম আ.-এর কালে নিশ্চিহ্ন গৃহটি একটি টিলা কিংবা মাটির ঢিপির আকারে বিদ্যমান ছিল। আল্লাহ পাক অহির মাধ্যমে ইবরাহীম আ.-কে বাইতুল্লাহর স্থান জানিয়ে দিলেন। তিনি হযরত ইসমাঈল আ.-এর সহায়তায় তা খুঁড়তে শুরু করেন। পূর্ব নির্মাণের ভিত্তিমূল দৃষ্ট হতে লাগল। সেই ভিত্তিমূলের ওপরই ইবরাহীম আ. কর্তৃক বাইতুল্লাহ নির্মিত হল। কিন্তু কুরআন মাজিদ বাইতুল্লাহ নির্মাণের ব্যাপারটি হযরত ইবরাহীম আ. হতেই আরম্ভ করেছে এবং এর পূর্ববর্তী অবস্থার কোনো আলোচনা করে নি। কুরআন মাজিদ বলে: (ইন্না আউওয়ালা বাইতিন উদিয়া লিন্নাসি...) অর্থাৎ নিঃসন্দেহ, সর্বপ্রথম ঘরটি যা (আল্লাহ পাকের স্মরণ করার উদ্দেশ্যে) মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে, তা সেই ঘর যা মক্কায় অবস্থিত। এটি আপাদমস্তক বরকতময়। আর দুনিয়াবাসীদের জন্য হেদায়ত।

এবারকার নির্মাণের এই বুযুর্গী রয়েছে, ইবরাহীম আ.-এর ন্যায় আল্লাহর দোস্ত, অতি উচ্চ মর্যাদাশালী পয়গম্বর এর রাজমিস্ত্রী। আর ইসমাঈল আ.-এর ন্যায় নবী এবং আল্লাহর যাবীহ (আল্লাহর নামে কুরবানীর জন্য উৎসর্গিত) এর যোগালদার। পিতা-পুত্র উভয়ে সর্বদা এর নির্মাণ কার্যে রত। যখন এর দেওয়ালগুলো গাঁথতে গাঁথতে উপরে উঠয়া গেল এবং বুযুর্গ পিতার হস্ত উপরে গাঁথতে অক্ষম হয়ে গেল তখন আল্লাহ পাকের নির্দেশ অনুসারে একখণ্ড প্রস্তরকে 'ভারবাহী' বানানো হলো। হযরত ইসমাঈল আ. এটি নিজের হাতে ধরে রাখতেন এবং হযরত ইবরাহীম আ.-এর ওপর আরোহণ করে গেঁথে যেতেন। এই সেই স্মৃতিচিহ্ন যা আজ মাকামে ইবরাহীম নামে পরিচিত। যখন নির্মাণ কার্য এই সীমায় পৌঁছল যেখানে বর্তমানে হাজরে আসওয়াদ (কৃষ্ণপাথর) লাগানো রয়েছে, তখন জিবরাইল আ. হযরত ইবরাহীম আ.-কে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলেন এবং নিকটস্থ একটি পাহাড় হতে হাজরে আসওয়াদকে, যা বেহেশত হতে আনা পাথর বলে কথিত, সুরক্ষিত অবস্থায় বের করে তার সম্মুখে রেখে দিলেন, যেন যথাস্থানে স্থাপন করা যায়।

'বাইতুল্লাহ'- আল্লাহর ঘর যখন নির্মিত হয়ে গেল, তখন আল্লাহ পাক হযরত ইবরাহীম আ.-কে বললেন: এটি ইবরাহীমী ধর্মের কেবলা এবং আমার সম্মুখে মস্তক অবনত করার প্রতীক। সুতরাং একে তাওহিদ তথা একত্ববাদের কেন্দ্র সাব্যস্ত করা হল। তখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল আ. দুআ করলেন, আল্লাহ তাআলা যেন তাদেরকে এবং তাদের সন্তানদেরকে নামায কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করার হেদায়ত দান করেন। এর ওপর দৃঢ়তা ও স্থায়িত্বও দান করেন। আর তাদের জন্য নানাবিধ ফল, মেওয়া ও রিযিকের বরকত দান করেন। আর সমগ্র বিশ্বের দিক দিগন্তের বাসিন্দাগণ হতে হেদায়েতপ্রাপ্তদের দলকে এদিকে আকৃষ্ট করে দেন। যেন তারা দূর-দূরান্ত থেকে এসে হজের আহকাম আদায় করে এবং হেদায়ত ও সৎপথ প্রাপ্তির এই কেন্দ্রস্থলে একত্র হয়ে নিজেদের জীবনের সৌভাগ্য লাভ করে।

কুরআন মাজিদ বাইতুল্লাহ শরীফ নির্মাণকালে হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল আ.-এর মুনাজাত, নামায কায়েম করা ও হজের করণীয় কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ এবং বাইতুল্লাহ তাওহীদের কেন্দ্রস্থল হওয়ার ঘোষণা স্থানে স্থানে উল্লেখ করেছে। এবং নতুন নতুন ভঙ্গীতে এর মহত্ত্ব ও উচ্চ মর্যাদাকে নিম্নোক্ত আয়াতগুলোতে ব্যক্ত করেছে: (ইন্না আউওয়ালা বাইতিন উদিয়া লিন্নাসি লালাল্লাযী বি-বাক্কাতাহ মুবারাকান ওয়া হুদান লিল আলামিন) অর্থাৎ নিঃসন্দেহ, সর্বপ্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য বানানো হয়েছে, তা এটিই যা মক্কায় অবস্থিত, বরকতময় এবং সমস্ত মানুষের জন্য হেদায়তের উৎস। (ফিহি আয়াতুন বাইয়্যিনাতুন মাক্বামু ইবরাহিম...) অর্থাৎ সত্য ধর্মের উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ, তন্মধ্যে মাকামে ইবরাহীম অন্যতম। আর যে কেউ এর সীমায় প্রবেশ করে সে নিরাপত্তা ও হেফাযতের মধ্যে এসে যায়। আর আল্লাহর তরফ হতে মানুষের জন্য এই বিষয়টি অবশ্য কর্তব্য হয়েছে, যদি সেই ঘর পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য প্রাপ্ত হয়, সে যেন হজ করে। এতকিছু সত্ত্বেও যে কেউ (এ সত্যকে) অবিশ্বাস করে, তবে স্মরণ রেখো, আল্লাহ পাকের সত্তা সারা দুনিয়া হতে অমুখাপেক্ষী। (সূরা আলে ইমরান: ৯৬-৯৭)

(ওয়া ইয জাআলনাল বাইতা মাছাবাতাল লিন্নাসি ওয়া আমনান...) অর্থাৎ আর (দেখ,) যখন আমি (মক্কার) সেই ঘরটিকে (কাবাগৃহকে) মানুষের সমবেত হওয়ার কেন্দ্রস্থল ও নিরাপত্তার স্থান সাব্যস্ত করলাম এবং আদেশ করলাম, মাকামে ইবরাহীমকে যেন (চিরকালের) নামাযের স্থান করা হয়। আর আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, আমার নামে যে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে তা তার তাওয়াফকারী, তার মধ্যে ইবাদতকারী এবং রুকু ও সেজদাকারীদের জন্য (সর্বদা) পবিত্র রেখো। আর যখন ইবরাহীম আল্লাহর দরবারে দোয়া করল- পরওয়ারদিগার! এই স্থানটিকে শান্তি ও নিরাপত্তার একটি শহর করে দিন। নিজ দয়া ও অনুগ্রহে এরূপ করে দিন, যেন এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে যারা আপনার ও এবং কেয়ামত দিবসের উপর ঈমান আনয়নকারী হয়, তাদের জীবিকার জন্য সর্বপ্রকারের উৎপন্ন শস্যাদি সংগৃহীত হয়ে যায়। এই দোয়ার জবাবে আল্লাহ পাক বলেছিলেন, (তোমার দোয়া মনযুর করা হল এবং এখানকার অধিবাসীদের মধ্য হতে) যে কুফরি এখতিয়ার করবে, তাদেরও আমি উপভোগ করতে দিব। অবশ্য এই উপভোগ অতি অল্পকালের জন্য হবে। কেননা, পরিশেষে তাকে (কর্মফল ভোগ করার জন্য) বাধ্য হয়ে দোযখে যেতে হবে। আর (দেখ, তা কেমন আযিমুশশান এবং বিপ্লবের সময় ছিল), 'যখন ইবরাহীম আ. কাবাগৃহের বুনিয়াদ উন্নত করছিলেন এবং ইসমাঈল আ. তাঁর সাথে অংশ গ্রহণ করেছিলেন, 'যখন তারা এই দোয়া করেছিলেন: (রব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম) অর্থাৎ হে আমাদের পরওয়ারদিগার! আমাদের এই কাজটি কবুল করে নিন। নিঃসন্দেহ, আপনিই (দুআসমূহ) শ্রবণকারী এবং পরিজ্ঞাত। হে পরওয়ারদিগার! আপনি (নিজ দয়া ও অনুগ্রহে) আমাদেরকে এমন তাওফিক দান করুন, 'যেন আমরা সত্যিকারের মুসলিম (অর্থাৎ আপনার হুকুমের অনুগত) হয়ে যাই। হে খোদা! আমাদেরকে আপনার এবাদতের (সঠিক) পন্থা বলে দিন, আর আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করুন। নিঃসন্দেহ, আপনিই একমাত্র সত্তা, যিনি স্বীয় রহমতে ক্ষমা করে থাকেন। যাঁর 'রাহিম' সুলভ ক্ষমার কোনো সীমা নাই। আর হে আমাদের পরওয়ারদিগার! (নিজ দয়ায় ও অনুগ্রহে) এই জনপদের অধিবাসীদের মধ্যে আপনার এমন একজন রাসূল প্রেরণ করুন, তিনি যেন তাদেরই মধ্য হতে হন, তিনি আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করে লোকদেরকে শুনান, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন, আর নিজের পয়গম্বর সুলভ শিক্ষা ও উপদেশ দ্বারা তাদের অন্তরসমূহকে পরিষ্কার ও মার্জিত করে দেন। হে পরওয়ারদিগার! নিঃসন্দেহ, আপনার সত্তাই হেকমতওয়ালা, সর্বজয়ী।" (সূরা বাকারা: ১২৫-১২৯)

(ওয়া ইয বাউয়ানা লি-ইবরাহিমা মাকানাল বাইতি আন লা তুশরিক বি শাইয়ান...) অর্থাৎ আর (সেই সময়টুকু স্মরণ করুন) যখন আমি ইবরাহীমের জন্য কাবাগৃহের সঠিক স্থান নির্ধারণ করে দিলাম। (এবং আদেশ করলাম) আমার সাথে কোনো বস্তুকে শরীক সাব্যস্ত করো না এবং আমার এই ঘরটিকে ঐ সমস্ত লোকের জন্য পবিত্র রাখ, যারা তাওয়াফকারী হয়, ইবাদতে খুব তৎপর হয়, রুকু ও সেজদায় মস্তক অবনতকারী হয় এবং (আদেশ করলাম), লোকদের মধ্যে হজের ঘোষণা করে দাও, তারা যেন হজ করে। (সূরা-হজ: ২৬-৩৩)

কাবাঘর বায়তুল মামূরের সোজা নিচে যমীনে অবস্থিত। আল্লাহ ইবরাহীম আ.-কে পৃথিবীর অধিবাসীদের জন্যে একটি ঘর নির্মাণ করতে আদেশ দেন, যেমনি আকাশের ফেরেশতাদের জন্যে ইবাদতখানা রয়েছে, আল্লাহ তাঁকে সে স্থান দেখিয়ে দেন। আকাশ ও যমীন সৃষ্টির পর থেকেই এই স্থানটিকে উক্ত ঘরের জন্যে নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছিল। কাবার দেওয়াল যখন ইবরাহীম আ.-এর চেয়ে উঁচু হয়ে যায়, তখন পুত্র ইসমাঈল আ. এ প্রসিদ্ধ পাথরখানা এনে পিতার পায়ের নিচে স্থাপন করেন, যাতে তার উপর দাঁড়িয়ে দেওয়াল উঁচু করতে পারেন। এ পাথরটি সেই প্রাচীনকাল থেকে হযরত ওমর রাযি.-এর খেলাফতকাল পর্যন্ত কাবার দেওয়াল সংলগ্ন ছিল। তিনি এটাকে কাবা ঘর থেকে কিছু পিছিয়ে দেন। ইসলামি যুগ পর্যন্ত ঐ পাথরের উপর হযরত ইবরাহীম আ.-এর পায়ের দাগ অবশিষ্ট ছিল। হযরত ইবরাহীম আ. আল্লাহর কাছে তাদের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করার জন্যে দুআ করেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে রাসূল প্রেরণ করেন। যিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী। সকল নবীর মধ্যে এটা ছিল তাঁর একক বৈশিষ্ট্য। এ কারণে হযরত ইবরাহীম আ. যখন দুনিয়াবাসীর জন্যে কাবা নির্মাণ করেন, তখন তা সম্মান ও মর্যাদায় সপ্তম আকাশের অধিবাসী ফেরেশতাগণের কাবা বায়তুল মামুরের সমমর্যাদা লাভ করে। বায়তুল মামুরে প্রত্যহ সত্তর হাজার ফেরেশতা ইবাদত করে থাকেন। আল্লাহ যখন ইবরাহীম আ. ও ইসমাঈল আ.-কে কাবা নির্মাণের আদেশ করেন, তখন তাঁরা কাবার স্থানটি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। আল্লাহ তখন খাজুজ নামক একটি বায়ু প্রেরণ করেন। সে বায়ু প্রাচীন কাবার স্থানটি আবর্জনামুক্ত করে দেয়। তখন ইবরাহীম আ. ও ইসমাঈল আ. তা অনুসরণ করে কোদাল দ্বারা মাটি খুঁড়ে সেখানে ভিত্তি স্থাপন করেন। হযরত ইবরাহীম আ. ইসমাঈল আ.-কে বললেন, প্রিয় বৎস! এখন তুমি আমার জন্যে ভারতবর্ষ থেকে 'হাজরে আসওয়াদ' নিয়ে এস। মূলত এটা ছিল শুভ্র ইয়াকুত পাথর। হযরত আদম আ. এ পাথরসহ জান্নাত থেকে অবতরণ করেন। মানুষের পাপ স্পর্শে এটা কালো হয়ে যায়। ইসমাঈল আ. একটি পাথর নিয়ে পিতার নিকট এসে উক্ত হাজরে আসওয়াদকে রুকনে কাবার নিকট দেখতে পান। হযরত ইবরাহীম খলীল আ.-এর তৈরি কাবা দীর্ঘকাল যাবত অক্ষত থাকে। পরবর্তীকালে কুরায়েশরা ঘরটি পুনঃনির্মাণ করে। তখন ঘরের উত্তর দিক থেকে যেদিকে শাম দেশ অবস্থিত, হযরত ইবরহীম আ.-এর ভিত্তি থেকে কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়, বর্তমানে সেই অবস্থার উপরেই কাবাঘর আছে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত ইসমাঈল আ.-এর আওলাদ

📄 হযরত ইসমাঈল আ.-এর আওলাদ


ইসমাঈল আ.-এর আওলাদ সম্বন্ধে কুরআন মাজিদে কিংবা নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিসে বিস্তারিত কোনো আলোচনা নেই। অবশ্য তাওরাতে তাঁর আওলাদের নামসমূহ বিস্তারিত বিবরণসহ উল্লেখ আছে। তাওরাতের বর্ণনা অনুসারে ইসমাঈল আ.-এর বারো জন পুত্র ছিলেন। যাঁরা বারো সরদার নামে অভিহিত ও প্রসিদ্ধ ছিলেন। এবং তাঁরা আরবের ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের আদি পুরুষ হয়েছেন। আর হযরত ইসমাঈল আ.-এর একজন কন্যা ছিলেন- বাসমা বা মুহাল্লাত।

এদের মধ্যে নাবেত বা নাবায়ুত ও কিদার নামে বড় দুই পুত্র প্রসিদ্ধ। এ দুজনের উল্লেখ তাওরাতের মধ্যে খুব বেশি দেখা যায়। আরব ঐতিহাসিকগণ তাদের উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করে থাকেন। ইনিই সেই নাবেত বা নাবায়ুত যার বংশধরগণ "আছহাবুল হিজর" নামে অভিহিত ও প্রসিদ্ধ হয়েছিল। আর কিদারের বংশধরগণ "আছহাবুর রাসে" নামে বিখ্যাত হয়েছিল। এই দুজন ব্যতীত বাকি দশভাই ও তাদের বংশের পরিচয় কম পাওয়া যায়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত ইসমাঈল আ.-এর ইনতেকাল

📄 হযরত ইসমাঈল আ.-এর ইনতেকাল


হযরত ইসমাঈল আ. ১৩৬ বছর বয়সে ইনতেকাল করেন। তখন তাঁর আওলাদ ও বংশধরগণ বহু বিস্তৃতি লাভ করেছিল। হেজায, শাম, ফিলিস্তিন এবং মিসর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। তাওরাতে রয়েছে, হযরত ইসমাঈল আ. ফিলিস্তিনে সমাহিত হয়েছেন। এখানেই তাঁর ইনতেকাল হয়েছিলেন। আরব ঐতিহাসিকগণ বলেন, তিনি এবং তাঁর মাতা হাজেরা বাইতুল্লাহ শরীফের পাশেই সমাহিত রয়েছেন।

প্রসিদ্ধ মতে, হযরত ইসমাঈল আ.-কে হিজর নামক স্থানে মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ১৩৭ বছর। ওমর ইবনে আবদুল আযিয রহ. থেকে বর্ণিত: ইসমাঈল আ. মক্কার প্রচণ্ড গরম সম্পর্কে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। আল্লাহ পাক অহির মাধ্যমে তাঁকে জানান, যেখানে তোমাকে দাফন করা হবে, সে স্থানের দিকে আমি জান্নাত একটি দরজা খুলে দেব। কিয়ামত পর্যন্ত সেখানে জান্নাতের সুশীতল হাওয়া প্রবাহিত থাকবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px