📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 পবিত্র কোরআনে হযরত ইসমাঈল আ.

📄 পবিত্র কোরআনে হযরত ইসমাঈল আ.


হযরত ইসমাঈল আ.-এর আলোচনা কোরআন মাজিদে বহুবার হয়েছে। তন্মধ্যে শুধু এক জায়গায় তাঁর গুণাবলী বর্ণিত হয় নি। আয়াতটি তাঁর "যাবীহ” হওয়ার বর্ণনা সম্বলিত আয়াত। দুই জায়গায় সেই সুসংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখ হয়েছে। যাতে ইবরাহীম আ.-কে পুত্র সন্তানের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে। সূরা-মারইয়ামে তাঁর নাম উল্লেখ করে তাঁর উৎকৃষ্ট গুণাবলীর উল্লেখ করা হয়েছে:

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا (٥٤) وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِنْدَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا (٥٥)

"আর স্মরণ করুন, কোরআন মাজিদে ইসমাঈল আ.-এর আলোচনা। তিনি ওয়াদা পালনে সত্যনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি ছিলেন নবী ও রাসুল। তিনি নিজের পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাতের আদেশ করতেন, এবং তিনি স্বীয় পরওয়ারদিগারের নিকট পছন্দনীয় ও প্রিয় ছিলেন।" (সূরা-মারইয়াম : ৫৪-৫৫)

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 শস্যশ্যামলবিহীন প্রান্তর এবং হযরত হাজেরা ও ইসমাঈল আ.

📄 শস্যশ্যামলবিহীন প্রান্তর এবং হযরত হাজেরা ও ইসমাঈল আ.


বোখারি শরিফে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত আছে: ইবরাহীম আ. তাঁর স্ত্রী হাজেরা শিশু সন্তান ইসমাঈলকে নিয়ে চললেন। যেখানে বর্তমান কাবাগৃহ অবস্থিত, সেখানে একটি গাছের নিচে যমযম কূপের বর্তমান স্থানের উপরের অংশে তাঁদেরকে রেখে যান। স্থানটি তখন অনাবাদী ও জনমানবহীন ছিল। পানির নামচিহ্ন পর্যন্ত ছিল না। ইবরাহীম আ. এক মশক পানি ও এক থলি খেজুর তাঁর নিকট রেখে দিলেন। এরপর রওনা হলেন। হযরত হাজেরা ইবরাহীম আ.-এর পেছনে পেছনে এই বলতে বলতে চললেন, আপনি আমাদের উপত্যকা ভূমিতে কোথায় ছেড়ে যাচ্ছেন? যেখানে মানুষও নেই, কোনো সহায় নেই, কোনো দুঃখের সাথীও নেই। হাজেরা অনবরত এরূপ বলে চললেন। ইবরাহীম আ. নীরবে চলছেনই। অবশেষে হাজেরা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার রবই কি আপনাকে এরূপ আদেশ করেছেন। হযরত ইবরাহীম আ. বললেন, "হ্যাঁ, আল্লাহ পাকের আদেশেই।"

হাজেরা এটা শুনে বললেন, যদি এটা আল্লাহর হুকুম হয়ে থাকে, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই, তিনি আমাদেরকে ধ্বংস ও বিনষ্ট করবেন না। এরপর ফিরে আসলেন, ইবরাহীম আ. চলতে চলতে একটি টিলার উপর এমন স্থানে পৌঁছলেন, তাঁর পরিবারবর্গ (হযরত হাজেরা ও ইসমাঈল আ.) দৃষ্টিপথ হতে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তখন বর্তমান কাবা গৃহের তদানীন্তন শূন্য স্থানের দিকে মুখ করে এবং হাত উঠিয়ে এই দুআ করলেন,

رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ

“হে আমাদের পরওয়ারদিগার! (আপনি দেখছেন,) আমি আমার কতক আওলাদকে এমন এক ময়দানে রেখে এসেছি, যেখানে ক্ষেতি-কৃষির নাম চিহ্নও নেই। আপনার সম্মানিত ঘরের নিকটে এনে বসবাস করতে রেখে দিলাম, যেন তারা নামায কায়েম রাখে (যাতে এই সম্মানিত ঘরটি তাওহীদের অনুসারীদের থেকে খালি না থাকে)। অতএব, আপনি (স্বীয় অনুগ্রহ ও দয়ায়) এমন করে দিন যেন লোকদের অন্তর তাদের দিকে আকৃষ্ট হয়ে যায় এবং তাদের জন্য জমিন হতে উৎপন্ন শস্যাদির মাধ্যমে রিযিকের ব্যবস্থা করে দিন, যেন তারা আপনার শোকর আদায়কারী হয়।" (সূরা ইবরাহীম: ৩৭)

হাজেরা কয়েকদিন পর্যন্ত মশক হতে পানি এবং থলি থেকে খেজুর খান। এবং শিশু ইসমাঈলকে দুধ পান করাতে থাকেন। শেষে এমন সময় এসে গেল, পানিও রইল না খেজুরও না। তখন তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন। যেহেতু তিনি তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত হওয়ায় তাঁর বুকের দুধও শুকিয়ে গিয়েছিল। ফলে শিশুটি তৃষ্ণার্ত এবং ক্ষুধার্ত হয়ে গেল। অবস্থা যখন অন্যরকম হতে লাগল এবং শিশু ইসমাঈলও অস্থির হতে লাগল।

হাজেরা তখন নিকটস্থ 'ছাফা' পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। হয়তো কোনো আল্লাহর বান্দাকে দেখতে পাবেন, কিংবা পানি দেখতে পাবেন। কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। এরপর শিশুর মহব্বতে দৌড়ে তার নিকটে আসলেন। এরপর অপরদিকে নিকটস্থ পাহাড় মারওয়ার ওপর আরোহণ করলেন। সেখানেও যখন কিছুই দেখতে পেলেন না, পুনরায় দ্রুত দৌড়িয়ে শিশুর নিকটে ফিরে এলেন। এভাবে সাতবার করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই স্থানে পৌঁছিয়ে বললেন, এটাই সেই “ছাফা ও মারওয়ার মধ্যস্থলের দৌড়" যাহা হজের সময় লোকে করে থাকে।

সর্বশেষবারে যখন হাজেরা মারওয়ার উপর ছিলেন, তখন কানে একটি আওয়ায আসল। তিনি চমকিয়ে উঠলেন এবং মনে মনে ভাবলেন, "কেউ ডাকছে।” কর্ণপাত করলেন, পুনরায় সেই আওয়ায শুনলেন। হাজেরা বললেন, "যদি তুমি কিছু সাহায্য করতে পার, তবে সম্মুখে আস তোমার আওয়ায শুনতে পেয়েছি। এরপর দেখলেন, আল্লাহর ফেরেশতা জিবরাইল আ.। ফেরেশতা নিজের পায়ের গোড়ালি দ্বারা সেই স্থানে আঘাত করলেন, যেখানে বর্তমান যমযম কূপ রয়েছে। তৎক্ষণাৎ সেই স্থান হতে পানি উথলে উঠতে লাগল। হাজেরা পানির চতুর্দিকে বাঁধ দিয়ে দিলেন। কিন্তু পানি উথলাতে থাকল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আল্লাহ তাআলা ইসমাঈলের মাতার উপর রহম করুন, যদি তিনি যমযমকে এরূপে না রুখতেন এবং এর চতুর্দিকে বাঁধ না বাঁধতেন তবে আজ পর্যন্ত উহা মহা শক্তিশালী ঝরণায় পরিণত হত।" হাজেরা পানি পান করলেন এবং এরপর ইসমাঈলকে দুধপান করালেন। ফেরেশতা হাজেরাকে বললেন, ভয় ও চিন্তা করো না, আল্লাহ তোমাকে এবং এই শিশুকে বিনষ্ট করবেন না। এটা বাইতুল্লাহ শরীফের স্থান। যা নির্মাণ করার ভার এই শিশু ও তার পিতা ইবরাহীম আ.-এর জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এ কারণে আল্লাহ এই খান্দানকে ধ্বংস করবেন না। বাইতুল্লাহর সেই স্থানটি কাছেই ছিল। যমযমের স্রোত ডানে ও বাঁয়ে গিয়ে জায়গাটি সমতল করে দিল। সে সময় বনি জুরহামের একটি গোত্র সেই উপত্যকার নিকটে এসে থামল। তারা দেখল, অনতিদূরেই পাখি উড়ছে। জুরহামিরা বলল, এটা পানির লক্ষণ। সেখানে অবশ্যই পানি আছে। তারা এসে হযরত হাজেরার নিকট সেই স্থানে বসবাস করার অনুমতি চাইল। হযরত হাজেরা বললেন, থাকতে পার, কিন্তু পানিতে মালিকানা স্বত্ত্বের অংশীদার হতে পারবে না। জুরহামিরা আনন্দের সাথে তা মেনে নিল এবং সেখানেই বসবাস করতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাজেরা নিজে ও পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সঙ্গ লাভের জন্য চাচ্ছিলেন, কেউ এখানে এসে বসবাস করুক। সুতরাং তিনি আনন্দের সাথে বনি জুরহামকে সেখানে বসবাস করার অনুমতি প্রদান করলেন। জুরহামিরা লোক পাঠিয়ে নিজ নিজ বংশের অবশিষ্ট লোকদেরকে নিয়ে আসল। অনন্তর এখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতে লাগল। তাদের সঙ্গে মিশে ইসমাঈল আ. তাদের ভাষা শিখে নিলেন। তিনি বড় হলে তাঁর চালচলন ও সৌন্দর্য জুরহামিদের খুব পছন্দ হল। তারা আপন বংশের এক মেয়ের সাথে তাঁর বিবাহ করিয়ে দিল। এর কিছুকাল পরেই হযরত হাজেরার ইন্তেকাল হল।

হযরত ইবরাহীম আ. মাঝেমধ্যে পরিবারবর্গকে দেখার জন্য আগমন করতেন। একবার তিনি তাশরিফ আনলে ইসমাঈল আ. ঘরে ছিলেন না। তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, জীবিকার তালাশে বাইরে গিয়েছেন। ইবরাহীম আ. বললেন, তোমাদের দিনাতিপাত কিভাবে চলছে? সে বলল, নিতান্ত মুসিবত ও পেরেশানির মধ্যে চলছে এবং অত্যন্ত দুঃখ ও কষ্টের মধ্যে আছি। ইবরাহীম আ. এটা শ্রবণ করে বললেন, ইসমাঈলকে আমার সালাম দিও, এবং বলো, তার দরজার চৌকাঠ পরিবর্তন করতে। ইসমাঈল আ. ঘরে ফিরে এলে ইবরাহীম আ.-এর নূরে নবুয়তের চিহ্ন ও আভাষ পেয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, কেউ কি এখানে এসেছিল? বিবি সমুদয় ঘটনা বর্ণনা করে শুনালেন এবং তাঁর পয়গামও জানালেন। ইসমাঈল আ. বললেন, তিনি আমার পিতা ইবরাহীম আ. ছিলেন। তাঁর পরামর্শ এই, আমি তোমাকে তালাক প্রদান করি। সুতরাং আমি তোমাকে আমার বিবাহ বন্ধন হতে বিচ্ছিন্ন করে দিলাম। ইসমাঈল আ.-এরপর দ্বিতীয় বিবাহ করলেন।

আরেক দিন ইবরাহীম আ. পুনরায় ইসমাঈল আ.-এর অনুপস্থিতিতে তাশরিফ আনলেন। পূর্বের মতো তাঁর বিবিকে জিজ্ঞাসা করলেন। বিবি বললেন, আল্লাহ তাআলার শোকর, আমাদের দিন ভালোই চলছে। জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কী খাও? ইসমাঈল আ.-এর বিবি বললেন, গোশত। ইবরাহীম আ. জিজ্ঞাসা করলেন, কী পান করো? তিনি বললেন, 'পানি'। হযরত ইবরাহীম আ. দুআ করলেন- আল্লাহ, তাদের গোশত এবং পানিতে বরকত দান করুন। এরপর বিদায়কালে পয়গাম দিয়ে গেলেন, তোমার স্বামী যখন বাড়িতে আসবে, তখন আমার সালাম জানাবে এবং দরজার চৌকাঠ অপরিবর্তিত রাখতে বলবে। ইসমাঈল আ. যখন বাড়িতে আসলেন, তখন স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের নিকট কেউ এসেছিল কি? স্ত্রী বললেন: হ্যাঁ, একজন সুন্দর আকৃতির বৃদ্ধলোক এসেছিলেন। স্ত্রী আগন্তুকের প্রশংসা করলেন। তিনি আপনার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছেন। আমি তাঁকে আপনার সংবাদ জানিয়েছি। তিনি আমাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন। আমি জানিয়েছি, আমরা ভালো আছি।

ইসমাঈল আ. বললেন, তিনি কি তোমাকে আর কোনো উপদেশ দিয়েছেন? স্ত্রী বললেন: হ্যাঁ, তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনার দরজার চৌকাঠ ঠিক রাখতে বলেছেন। ইসমাঈল আ. বললেন, তিনি আমার পিতা। তোমাকে স্ত্রীরূপে বহাল রাখতে আদেশ করেছেন। পুনরায় ইবরাহীম আ. এদের থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত দূরেই থাকলেন। তারপর ইবরাহীম আ. পুনরায় তথায় আসলেন। দেখলেন, ইসমাঈল যমযম কূপের নিকটে বিরাট এক বৃক্ষের নিচে বসে তীর চাঁছছিলেন। পিতাকে দেখে তিনি তাঁর দিকে এগিয়ে আসলেন। এরপর উভয়ে এমনভাবে পরস্পরকে আলিঙ্গন করলেন, যেমন সাধারণত পিতাপুত্রের মধ্যে হয়ে থাকে। ইবরাহীম আ. বললেন: ইসমাঈল, আল্লাহ আমাকে একটি কাজের আদেশ করেছেন। ইসমাঈল আ. বললেন, আল্লাহ যে আদেশ করেছেন তা বাস্তবায়িত করুন। ইবরাহীম আ. বললেন, তুমি আমাকে সাহায্য করবে? ইসমাঈল আ. বললেন: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাহায্য করব। ইবরাহীম আ. পার্শ্বে অবস্থিত উঁচু ঢিবির দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, আল্লাহ আমাকে এ স্থানটি ঘিরে একটি ঘর নির্মাণের আদেশ দিয়েছেন। তখন তাঁরা উভয়ে কাবা ঘরের দেয়াল উঠাতে লেগে গেলেন। ইসমাঈল আ. পাথর আনতেন ও ইবরাহীম আ. গাঁথুনী দিতেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 খতনা

📄 খতনা


তাওরাতপন্থীরা বলেন, আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহীম আ.-কে পুত্র ইসমাঈলসহ সবাইকে খতনার নির্দেশ দেন। তিনি এ নির্দেশ পালন করেন। অন্যদেরও খতনা করান। এ সময় ইবরাহীম আ.-এর বয়স হয়েছিল নিরানব্বই বছর এবং ইসমাঈল আ.-এর বয়স ছিল তের বছর। খতনা করাটা ছিল আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে। এতে প্রতীয়মান হয়, অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হিসেবেই তিনি তা পালন করেন। এ কারণেই ওলামায়ে কেরাম খতনা করা ওয়াজিব বলেছেন। এ মতই সঠিক। বুখারী শরীফে আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ইবরাহীম আ. আশি বছর বয়সে (ছুঁতারের) বাইসের সাহায্যে নিজের খতনা করেন। আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক, আজলান, মুহাম্মদ ইবনে আমর ও ইমাম মুসলিম ভিন্ন ভিন্ন সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। উক্ত বর্ণনায় ব্যবহৃত 'কুদূম' শব্দটির অর্থ, ধারাল অস্ত্র। কেউ কেউ এটি একটি স্থানের নাম বলেছেন। এ সব হাদিসের শব্দের মধ্যে কিছু কিছু পার্থক্য আছে। ইবনে হিব্বান রহ. আবু হোরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ইবরাহীম আ. একশ বিশ বছর বয়সে খতনা করেন। এর পরও আশি বছর জীবিত থাকেন। এসব বর্ণনায় ইসমাঈল আ.-কে 'যাবীহ' বলে উল্লেখ করা হয় নি। এবং এতে ইবরাহীম আ.-এর তিনবার আগমনের কথা বলা হয়েছে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত ইসমাঈল আ.

📄 হযরত ইসমাঈল আ.


ইসমাঈল আ.-ই হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহর প্রথম সন্তান। সুতরাং সর্বাবস্থায় তিনিই ছিলেন একক সন্তান। এ সময়ের মধ্যে অন্য কোনো সন্তানের জন্ম হয় নি। আর তাৎপর্যগত দিক থেকে একক এ হিসেবে, পিতা ইবরাহীম আ. শিশু পুত্র ইসমাঈল আ. ও তার মা হাজেরাকে নিয়ে হিজরত করেন। এবং মক্কার ফারান পর্বতের উপত্যকায় উভয়কে নির্বাসিত করেন। তাঁদেরকে যখন তিনি রেখে আসেন তখন তাঁদের সাথে যৎসামান্য পানি ও রসদ ব্যতীত কিছুই ছিল না। এটা তিনি করেছিলেন আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রেখে। আল্লাহ তাআলা আপন অনুগ্রহ ও করুণার দ্বারা তাঁদেরকে বেষ্টন করে নেন। বস্তুত তিনিই প্রকৃত অনুগ্রহকারী, সাহায্যকারী ও অভিভাবক। অতএব, প্রমাণিত হল, হযরত ইসমাঈল আ.-ই বাহ্যিক ও তাৎপর্যগত উভয় দিক থেকে একক সন্তান। কিন্তু কে বুঝবে এই সূক্ষ্ণ তত্ত্ব এবং কে খুলবে এই শক্ত গিট। আল্লাহ যাকে গভীর তত্ত্বজ্ঞান দান করেছেন, তিনিই কেবল এটা উপলব্ধি করতে সক্ষম। আল্লাহ তাআলা হযরত ইসমাঈল আ.-এর বিভিন্ন গুণাগুণের প্রশংসা করেছেন। যেমন: তিনি ছিলেন ধৈর্যশীল, সহনশীল, ওয়াদা পালনকারী, সালাতের হেফাজতকারী। পরিবারবর্গকে সালাত আদায়ের নির্দেশ দানকারী- যাতে তারা আযাব থেকে রক্ষা পায় এবং মহান প্রভুর ইবাদতের দিকে মানুষকে আহবানকারী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px