📄 হযরত ইবরাহীম আ.-এর প্রশংসা
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ
"স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম আ.-কে তাঁর প্রতিপালক কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন এবং সেগুলো সে পূর্ণ করেছিল। আল্লাহ বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করছি। সে বলল, আমার বংশধরগণের মধ্য হতেও? আল্লাহ বললেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের প্রতি প্রযোজ্য নয়।" (সূরা বাকারা: ১২৪)
আল্লাহ হযরত ইবরাহীম আ.-কে যেসব কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। তিনি সেসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ তাঁকে মানব নেতৃত্ব দান করেন। যাতে তারা তাঁর অনুকরণ ও অনুসরণ করতে পারে। ইবরাহীম আ. এ নিয়ামত তাঁর পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে অব্যাহত রাখার জন্যে আল্লাহর নিকট দোয়া করেন। আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা শোনেন এবং জানিয়ে দেন, তাঁকে যে নেতৃত্ব দেওয়া হল, তা জালিমরা লাভ করতে পারবে না। এটা কেবল তাঁর সন্তানদের মধ্যে আলিম ও সৎকর্মশীলদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ وَآتَيْنَاهُ أَجْرَهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ
আমি ইবরাহীমকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব এবং তার বংশধরদের জন্যে স্থির করলাম নবুয়ত ও কিতাব, আমি তাকে দুনিয়ায় পুরস্কৃত করেছিলাম। আখিরাতেও সে নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের অন্যতম হবে। (সূরা আন-কাবুত: ২৭)
আল্লাহর বাণী:
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ كَلَّا هَدَيْنَا وَنُوحًا هَدَيْنَا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيَّতِهِ دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ وَأَيُّوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسَى وَهَارُونَ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ (٨٤) وَزَكَرِيَّا وَيَحْيَى وَعِيسَى وَإِلْيَاسَ كُلٌّ مِنَ الصَّالِحِينَ (٨٥) وَإِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُসَ وَلُوطًا وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ (٨٦) وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (৮৭)
এবং তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুব- তাদের প্রত্যেককে সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম; পূর্বে নূহকেও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম এবং তার বংশধর দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা ও হারূনকেও। আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি এবং যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা এবং ইলয়াসকেও; আর এভাবেই সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম, এরা সকলেই ছিলেন নেককার। আরও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম ইসমাঈল, আলইয়াসাআ, ইউনুস ও লূতকে এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম বিশ্বজগতের ওপর প্রত্যেককে এবং এদের পিতৃপুরুষ, বংশধর এবং ভ্রাতৃবৃন্দের কতককে, তাদেরকে মনোনীত করেছিলাম এবং সরল পথে পরিচালিত করেছিলাম। (সূরা আনআম: ৮৪-৮৭)
প্রসিদ্ধ মতে (وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ) (তাঁর বংশধরদের) বলতে এখানে হযরত ইবরাহীম আ.-কে বুঝান হয়েছে। হযরত লূত আ. যদিও হযরত ইবরাহীম আ.-এর ভাতিজা তবুও অন্যদের প্রাধান্য হেতু তাঁকেও বংশধর হিসাবে বলা হয়েছে। অপর একদল আলিমের মতে 'তাঁর' বলতে হযরত নূহ আ.-কে বুঝান হয়েছে। পূর্বে আমরা নূহ আ.-এর আলোচনায় এ বিষয়ের উল্লেখ করেছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আল্লাহর বাণী: وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا وَإِبْرَاهِيمَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّতِهِمَا النُّবُوَّةَ وَالْكِتَابَ فَمِنْهُمْ مُهْتَدٍ وَكَথিরুন مِنْهُمْ فَاسِقُونَ
আমি নূহ এবং ইবরাহীমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদের বংশধরগণের জন্যে স্থির করেছিলাম নবুওয়াত ও কিতাব। (সূরা হাদিদ: ২৬)
হযরত ইবরাহীম আ.-এর পরে আসমান থেকে যত কিতাব যত নবীর ওপর নাযিল হয়েছে, তাঁরা সকলেই নিশ্চিতভাবে তাঁর বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত। এটা এমন একটা সম্মান, যার কোনো তুলনা হয় না। এমন একটা সুমহান মর্যাদা যার তুল্য আর কিছুই নেই। কারণ, হযরত ইবরাহীম আ.-এর ঔরসে দুই মহান পুত্র-সন্তানের জন্ম হয়। হাজেরার গর্ভে ইসমাঈল আ. এবং সারাহর গর্ভে ইসহাক আ.। ইসহাক আ.-এর পুত্র ইয়াকুব আ.। তাঁর অপর নাম ছিল ইসরাঈল। পরবর্তী বংশে এত বিপুল সংখ্যক নবীর আগমন ঘটে, যাদের সঠিক সংখ্যা তাঁদেরকে প্রেরণকারী আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই জানেন না।
অব্যাহতভাবে এ বংশেই নবী-রাসূলগণ আসতে থাকেন এবং হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. পর্যন্ত পৌঁছে সে ধারার সমাপ্তি ঘটে। অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. ইসরাঈল বংশের শেষ নবী। অপরদিকে হযরত ইসমাঈল আ.-এর সন্তানগণ আরবের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়ে আরবভূমিতেই বসবাস করতে থাকেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে সর্বশেষ নবী খাতামুল আম্বিয়া, বনী আদমের শ্রেষ্ঠ সন্তান, দুনিয়া ও আখিরাতের গৌরব নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম আল কুরায়শী আল মক্কী ওয়াল মাদানী ছাড়া অন্য কোনো নবীর আগমন ঘটে নি। তিনিই হলেন সেই মহামানব যাঁর দ্বারা সমগ্র মানবজাতি গৌরবান্বিত। আদি-অন্ত সকল মানুষের ঈর্ষার পাত্র। সহি মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: سَأَقُومُ مَقَامًا يَرْغَبُ إِلَيَّ الْخَلْقُ كُلُّهُمْ ، حَتَّى إِبْرَاهِيمُ
"আমি এমন এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত হব, আমার কাছে পৌঁছার জন্যে প্রত্যেকেই লালায়িত হবে; এমনকি ইবরাহীম আ.-ও।"
এ বাক্যের দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকারান্তরে হযরত ইবরাহীম আ.-এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে অন্য সব মানুষের মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতে হযরত ইবরাহীম আ.-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ ও সম্মানিত পুরুষ।
ইমাম বোখারি রহ. হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান রাযি.-কে কোলে নিয়ে বলতেন: আমি তোমাদের দুই ভাইয়ের জন্যে সেরূপ আশ্রয় চাই, যেরূপ আশ্রয় চেয়েছিলেন তোমাদের আদি পিতা ইবরাহীম আ. ইসমাঈল ও ইসহাকের জন্যে। আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম দ্বারা প্রত্যেক শয়তান ও বিষাক্ত সরীসৃপ থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর চোখের দৃষ্টি থেকে। সুনান হাদিসের গ্রন্থকারগণও মানসূর রহ. সূত্রে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ
"স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম আ.-কে তাঁর প্রতিপালক কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন এবং সেগুলো সে পূর্ণ করেছিল। আল্লাহ বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করছি। সে বলল, আমার বংশধরগণের মধ্য হতেও? আল্লাহ বললেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের প্রতি প্রযোজ্য নয়।" (সূরা বাকারা: ১২৪)
আল্লাহ হযরত ইবরাহীম আ.-কে যেসব কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। তিনি সেসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ তাঁকে মানব নেতৃত্ব দান করেন। যাতে তারা তাঁর অনুকরণ ও অনুসরণ করতে পারে। ইবরাহীম আ. এ নিয়ামত তাঁর পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে অব্যাহত রাখার জন্যে আল্লাহর নিকট দোয়া করেন। আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা শোনেন এবং জানিয়ে দেন, তাঁকে যে নেতৃত্ব দেওয়া হল, তা জালিমরা লাভ করতে পারবে না। এটা কেবল তাঁর সন্তানদের মধ্যে আলিম ও সৎকর্মশীলদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ وَآتَيْنَاهُ أَجْرَهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ
আমি ইবরাহীমকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব এবং তার বংশধরদের জন্যে স্থির করলাম নবুয়ত ও কিতাব, আমি তাকে দুনিয়ায় পুরস্কৃত করেছিলাম। আখিরাতেও সে নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের অন্যতম হবে। (সূরা আন-কাবুত: ২৭)
আল্লাহর বাণী:
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ كَلَّا هَدَيْنَا وَنُوحًا هَدَيْنَا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيَّতِهِ دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ وَأَيُّوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسَى وَهَارُونَ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ (٨٤) وَزَكَرِيَّا وَيَحْيَى وَعِيسَى وَإِلْيَاسَ كُلٌّ مِنَ الصَّالِحِينَ (٨٥) وَإِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُসَ وَلُوطًا وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ (٨٦) وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (৮৭)
এবং তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুব- তাদের প্রত্যেককে সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম; পূর্বে নূহকেও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম এবং তার বংশধর দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা ও হারূনকেও। আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি এবং যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা এবং ইলয়াসকেও; আর এভাবেই সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম, এরা সকলেই ছিলেন নেককার। আরও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম ইসমাঈল, আলইয়াসাআ, ইউনুস ও লূতকে এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম বিশ্বজগতের ওপর প্রত্যেককে এবং এদের পিতৃপুরুষ, বংশধর এবং ভ্রাতৃবৃন্দের কতককে, তাদেরকে মনোনীত করেছিলাম এবং সরল পথে পরিচালিত করেছিলাম। (সূরা আনআম: ৮৪-৮৭)
প্রসিদ্ধ মতে (وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ) (তাঁর বংশধরদের) বলতে এখানে হযরত ইবরাহীম আ.-কে বুঝান হয়েছে। হযরত লূত আ. যদিও হযরত ইবরাহীম আ.-এর ভাতিজা তবুও অন্যদের প্রাধান্য হেতু তাঁকেও বংশধর হিসাবে বলা হয়েছে। অপর একদল আলিমের মতে 'তাঁর' বলতে হযরত নূহ আ.-কে বুঝান হয়েছে। পূর্বে আমরা নূহ আ.-এর আলোচনায় এ বিষয়ের উল্লেখ করেছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আল্লাহর বাণী: وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا وَإِبْرَاهِيمَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّতِهِمَا النُّবُوَّةَ وَالْكِتَابَ فَمِنْهُمْ مُهْتَدٍ وَكَথিরুন مِنْهُمْ فَاسِقُونَ
আমি নূহ এবং ইবরাহীমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদের বংশধরগণের জন্যে স্থির করেছিলাম নবুওয়াত ও কিতাব। (সূরা হাদিদ: ২৬)
হযরত ইবরাহীম আ.-এর পরে আসমান থেকে যত কিতাব যত নবীর ওপর নাযিল হয়েছে, তাঁরা সকলেই নিশ্চিতভাবে তাঁর বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত। এটা এমন একটা সম্মান, যার কোনো তুলনা হয় না। এমন একটা সুমহান মর্যাদা যার তুল্য আর কিছুই নেই। কারণ, হযরত ইবরাহীম আ.-এর ঔরসে দুই মহান পুত্র-সন্তানের জন্ম হয়। হাজেরার গর্ভে ইসমাঈল আ. এবং সারাহর গর্ভে ইসহাক আ.। ইসহাক আ.-এর পুত্র ইয়াকুব আ.। তাঁর অপর নাম ছিল ইসরাঈল। পরবর্তী বংশে এত বিপুল সংখ্যক নবীর আগমন ঘটে, যাদের সঠিক সংখ্যা তাঁদেরকে প্রেরণকারী আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই জানেন না।
অব্যাহতভাবে এ বংশেই নবী-রাসূলগণ আসতে থাকেন এবং হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. পর্যন্ত পৌঁছে সে ধারার সমাপ্তি ঘটে। অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. ইসরাঈল বংশের শেষ নবী। অপরদিকে হযরত ইসমাঈল আ.-এর সন্তানগণ আরবের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়ে আরবভূমিতেই বসবাস করতে থাকেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে সর্বশেষ নবী খাতামুল আম্বিয়া, বনী আদমের শ্রেষ্ঠ সন্তান, দুনিয়া ও আখিরাতের গৌরব নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম আল কুরায়শী আল মক্কী ওয়াল মাদানী ছাড়া অন্য কোনো নবীর আগমন ঘটে নি। তিনিই হলেন সেই মহামানব যাঁর দ্বারা সমগ্র মানবজাতি গৌরবান্বিত। আদি-অন্ত সকল মানুষের ঈর্ষার পাত্র। সহি মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: سَأَقُومُ مَقَامًا يَرْغَبُ إِلَيَّ الْخَلْقُ كُلُّهُمْ ، حَتَّى إِبْرَاهِيمُ
"আমি এমন এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত হব, আমার কাছে পৌঁছার জন্যে প্রত্যেকেই লালায়িত হবে; এমনকি ইবরাহীম আ.-ও।"
এ বাক্যের দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকারান্তরে হযরত ইবরাহীম আ.-এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে অন্য সব মানুষের মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতে হযরত ইবরাহীম আ.-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ ও সম্মানিত পুরুষ।
ইমাম বোখারি রহ. হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান রাযি.-কে কোলে নিয়ে বলতেন: আমি তোমাদের দুই ভাইয়ের জন্যে সেরূপ আশ্রয় চাই, যেরূপ আশ্রয় চেয়েছিলেন তোমাদের আদি পিতা ইবরাহীম আ. ইসমাঈল ও ইসহাকের জন্যে। আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম দ্বারা প্রত্যেক শয়তান ও বিষাক্ত সরীসৃপ থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর চোখের দৃষ্টি থেকে। সুনান হাদিসের গ্রন্থকারগণও মানসূর রহ. সূত্রে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
📄 জান্নাতে হযরত ইবরাহীম আ.-এর প্রাসাদ
হাফেজ আবু বকর আল বাযযার রহ. আবু হোরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জান্নতের মধ্যে মণি-মুক্তা দ্বারা নির্মিত একটি অতি মনোরম প্রাসাদ রয়েছে। কোনো ফাটল তাতে নেই। আল্লাহ তাঁর খলীলের জন্যে এটি তৈরি করেছেন। আল্লাহর মেহমান হিসেবে তিনি তাতে থাকবেন। এরপর বাযযার রহ. বলেন, এ হাদীসের বর্ণনাকারী হাম্মাদ ইবনে সালামা থেকে কেবল ইয়াযীদ ইবনে হারুন ও নযর ইবনে শুমায়লী মারফু হিসেবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ওই দুজন বাদে অন্য সবাই মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ত্রুটি না থাকলে হাদীসটি 'সহি'-এর শর্তে উত্তীর্ণ হত, কিন্তু ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. এটি বর্ণনা করেন নি।
হাফেজ আবু বকর আল বাযযার রহ. আবু হোরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জান্নতের মধ্যে মণি-মুক্তা দ্বারা নির্মিত একটি অতি মনোরম প্রাসাদ রয়েছে। কোনো ফাটল তাতে নেই। আল্লাহ তাঁর খলীলের জন্যে এটি তৈরি করেছেন। আল্লাহর মেহমান হিসেবে তিনি তাতে থাকবেন। এরপর বাযযার রহ. বলেন, এ হাদীসের বর্ণনাকারী হাম্মাদ ইবনে সালামা থেকে কেবল ইয়াযীদ ইবনে হারুন ও নযর ইবনে শুমায়লী মারফু হিসেবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ওই দুজন বাদে অন্য সবাই মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ত্রুটি না থাকলে হাদীসটি 'সহি'-এর শর্তে উত্তীর্ণ হত, কিন্তু ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. এটি বর্ণনা করেন নি।
📄 ইবরাহীম আ.-এর গঠনাকৃতি
ইমাম আহমদ রহ. জাবের রাযি.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার সম্মুখে পয়গম্বরগণকে পেশ করা হয়। তন্মধ্যে মূসা আ.-কে শানুয়া গোত্রের লোকদের অনুরূপ দেখতে পাই। ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে অনেকটা উরওয়া ইবনে মাসউদের মতো এবং ইবরাহীম আ.-কে অনেকটা দাহইয়া কালবীর মতো দেখতে পাই। এ সনদে ও এ পাঠে ইমাম আহমদ রহ একাই এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমদ রহ. আসওয়াদ ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমি ঈসা ইবনে মারইয়াম, মূসা ও ইবরাহীম আ.-কে দেখেছি। তন্মধ্যে ঈসা আ. ছিলেন গৌরবর্ণ, চুল ঘন কালো, বক্ষদেশ প্রশস্ত। সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের সাথীর দিকে তাকাও অর্থাৎ তাঁর নিজের দিকে ইঙ্গিত করেন।
ইমাম বুখারী মুজাহিদ সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে শুনেছেন, লোকজন তাঁর সম্মুখে দাজ্জালের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করছিল এবং বলছিল, দাজ্জালের চক্ষুদ্বয়ের মধ্যখানে লিখিত থাকবে কাফির। ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এ কথা শুনি নি। বরং তিনি বলেছেন- ইবরাহীম আ.-কে যদি দেখতে চাও, তবে তোমাদের সাথীর প্রতি তাকাও।
আর মূসা আ. হলেন, ধূসর বর্ণের। ঘন চুল বিশিষ্ট। তিনি একটি লাল উটের ওপর উপবিষ্ট- যার নাকের রশি খেজুর গাছের ছালের তৈরি। আমি যেন দেখতে পাচ্ছি, তিনি এ অবস্থায় উপত্যকার দিকে নেমে আসছেন। বুখারী ও মুসলিম রহ. এ হাদীসটি ভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী রহ. 'কিতাবুল হজ' ও 'কিতাবুল লিবাস'-এ এবং মুসলিম রহ. ও আবদুল্লাহ ইবনে আওন সূত্রে এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
ইমাম আহমদ রহ. জাবের রাযি.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার সম্মুখে পয়গম্বরগণকে পেশ করা হয়। তন্মধ্যে মূসা আ.-কে শানুয়া গোত্রের লোকদের অনুরূপ দেখতে পাই। ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে অনেকটা উরওয়া ইবনে মাসউদের মতো এবং ইবরাহীম আ.-কে অনেকটা দাহইয়া কালবীর মতো দেখতে পাই। এ সনদে ও এ পাঠে ইমাম আহমদ রহ একাই এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমদ রহ. আসওয়াদ ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমি ঈসা ইবনে মারইয়াম, মূসা ও ইবরাহীম আ.-কে দেখেছি। তন্মধ্যে ঈসা আ. ছিলেন গৌরবর্ণ, চুল ঘন কালো, বক্ষদেশ প্রশস্ত। সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের সাথীর দিকে তাকাও অর্থাৎ তাঁর নিজের দিকে ইঙ্গিত করেন।
ইমাম বুখারী মুজাহিদ সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে শুনেছেন, লোকজন তাঁর সম্মুখে দাজ্জালের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করছিল এবং বলছিল, দাজ্জালের চক্ষুদ্বয়ের মধ্যখানে লিখিত থাকবে কাফির। ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এ কথা শুনি নি। বরং তিনি বলেছেন- ইবরাহীম আ.-কে যদি দেখতে চাও, তবে তোমাদের সাথীর প্রতি তাকাও।
আর মূসা আ. হলেন, ধূসর বর্ণের। ঘন চুল বিশিষ্ট। তিনি একটি লাল উটের ওপর উপবিষ্ট- যার নাকের রশি খেজুর গাছের ছালের তৈরি। আমি যেন দেখতে পাচ্ছি, তিনি এ অবস্থায় উপত্যকার দিকে নেমে আসছেন। বুখারী ও মুসলিম রহ. এ হাদীসটি ভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী রহ. 'কিতাবুল হজ' ও 'কিতাবুল লিবাস'-এ এবং মুসলিম রহ. ও আবদুল্লাহ ইবনে আওন সূত্রে এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
📄 হযরত ইবরাহীম আ. সম্পর্কে আরো কিছু
ইবনে জারীর রহ. তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে লিখেছেন, হযরত ইবরাহীম আ. নমরূদ (ইবনে কিনআন) এর যুগে জন্মগ্রহণ করেন। কথিত আছে, এ নমরূদ ছিল প্রসিদ্ধ বাদশা যাহ্হাক। সে দীর্ঘ এক হাজার বছর যাবত বাদশাহী করেছিল বলে মনে করা হয়ে থাকে। তার শাসনামল ছিল জুলুম-অত্যাচারে পূর্ণ। কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে এ নমরূদ ছিল বনু রাসিব গোত্রের লোক। এ গোত্রেই হযরত নূহ আ. প্রেরিত হয়েছিলেন। নমরূদ সে সময় সমগ্র দুনিয়ার বাদশা ছিল। ইতিহাসবিদগণ উল্লেখ করেছে, একবার আকাশে একটি নক্ষত্র উদিত হয়। তার জ্যোতির সম্মুখে সূর্য ও চন্দ্র আলো হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় লোকজন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। নমরূদ বিচলিত হয়ে দেশের সব গণক ও জ্যোতির্বিদদের একত্র করে এর কারণ জিজ্ঞেস করে। তারা জানাল, আপনার রাজত্বের মধ্যে এমন এক শিশুর জন্ম হবে, যার হাতে আপনার বাদশাহীর পতন ঘটবে। নমরূদ তখন রাজ্যব্যাপী ঘোষণা দিল, এখন থেকে কোনো পুরুষ স্ত্রীর কাছে যেতে পারবে না এবং এখন থেকে কোন শিশুর জন্ম হলে তাকে হত্যা করা হবে। এ সময়ই হযরত ইবরাহীম আ. জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করেন ও পাপিষ্ঠদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেন। তিনি তাঁকে উত্তমভাবে লালন-পালনের ব্যবস্থা করেন।
হযরত ইবরাহীম আ.-এর জন্মভূমি ছিল 'সূস'। কারও মতে 'বাবেল', কারও মতে 'কুছায়'র পার্শ্ববর্তী 'সাওয়াদ' নামক গ্রামে। ইতোপূর্বে হযরত ইবনে আব্বাস রাযি.-এর একটি বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হযরত ইবরাহীম আ. দামেশকের পূর্ব পার্শ্বে বারযাহ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
আল্লাহ তাঁকে হযরত ইবরাহীম আ.-এর হাতে নমরূদের পতন ঘটানোর পর তিনি প্রথমে হারান এবং পরে সেখান থেকে শাম দেশে হিজরত করেন এবং সেখান থেকে ঈলিয়ায় গিয়ে বসবাস করেন। অতঃপর ইসমাঈল আ. ও ইসহাক আ.-এর জন্ম হয়। তারপর কিনআনের অন্তর্গত হিবরূন নামক স্থানে সারাহর ইনতিকাল হয়।
আহলে কিতাবরা উল্লেখ করেছে, মৃত্যুকালে সারাহর বয়স হয়েছিল একশ' সাতাশ বছর। ইবরাহীম আ. সারাহর মৃত্যুকালে অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। বনূ হায়ছ গোত্রের আফরূন ইবনে সাখার নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে চারশ' মিছকালের বিনিময়ে তিনি একটি জায়গা ক্রয় করেন এবং সারাহকে সেখানে দাফন করেন। এরপর ইবরাহীম আ.-এর পুত্র ইসহাককে রুফাকা বিনতে বাতুঈল ইবনে নাতুর ইবনে তারাহ-এর সাথে বিবাহ করান। পুত্রবধূকে আনার জন্যে তিনি নিজের ভৃত্যকে পাঠিয়ে দেন। সে রুফাকা ও তার দুধমা ও দাসীদেরকে উটের ওপর সওয়ার করে নিয়ে আসে।
আহলে কিতাবদের বর্ণনা: হযরত ইবরাহীম আ.-এরপর কাতুরা নামে এক মহিলাকে বিবাহ করেন। তাঁর গর্ভে যামরান, ইয়াকশান, মাদান, মাদইয়ান, শায়াক ও শূহ-এর জন্ম হয়। এদের প্রত্যেকের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কেও বিবরণ রয়েছে।
ইবনে আসাকির বিভিন্ন প্রাচীন পণ্ডিতদের বরাতে ইবরাহীম আ.-এর কাছে মালাকুল মওতের আগমন সম্পর্কে আহলে কিতাবদের উপাখ্যানসমূহ বর্ণনা করেছেন। সঠিক অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন। কেউ কেউ বলেছেন, হযরত দাউদ আ. ও হযরত সুলাইমান আ.-এর মতো হযরত ইবরাহীম আ.-ও আকস্মিকভাবে ইনতেকাল করেন। কিন্তু আহলে কিতাব ও অন্যদের বর্ণনা এর বিপরীত।
তারা বলে, ইবরাহীম আ. পীড়িত হয়ে এক শ পঁচাত্তর বছর মতান্তরে একশ নব্বই বছর বয়সে ইনতেকাল করেন। এবং তাঁর সহধর্মিনী সারাহর কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়। ইসমাঈল আ. ও ইসহাক আ. উভয়ে দাফনকার্য সম্পাদন করেন।
ইবনুল কালবী বলেছেন, ইবরাহীম আ. দুইশ বছর বয়সে ইনতেকাল করেন। আবু হাতেম ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহি' গ্রন্থে মুফাযযল... আবু হোরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন। হযরত ইবরাহীম আ. বাটালীর সাহায্যে খতনা করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল একশ বিশ বছর। এরপর তিনি আশি বছর জীবিত থাকেন। হাফেজ ইবনে আসাকির রহ. আবু হোরায়রা রাযি.-এর সূত্রে এ হাদিসখানা মওকূফরূপে বর্ণনা করেছেন। তারপর ইবনে হিব্বান রহ. এ হাদীস যারা মারফুভাবে বর্ণনা করেছেন, তাদের বর্ণনাকে বাতিল বলে অভিহিত করেছেন। যেমন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ. আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইবরাহীম আ. যখন একশ বিশ বছর বয়সে উপনীত হন, তখন খতনা করান। এরপর আশি বছর জীবিত থাকেন। আর তিনি কাদূম (ছুঁতারের বাইস) দ্বারা খতনা করিয়েছিলেন।
হাফেজ ইবনে আসাকির রহ. আবু হোরায়রা রাযি.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ইবরাহীম আ. যখন খতনা করান, তখন তাঁর বয়স ছিল আশি বছর।
ইবনে হিব্বান আবদুর রাযযাক থেকে বর্ণনা করেছেন, কাদূম একটা গ্রামের নাম। আমার জানা মতে 'সহি' গ্রন্থে যা এসেছে, তা হল ইবরাহীম আ. যখন খতনা করেন, তখন তিনি আশি বছর বয়সে পৌঁছেন। অন্য বর্ণনায় তাঁর বয়স ছিল আশি বছর।
মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল 'তাফসিরে ওকি'র মধ্যে 'যিয়াদাত' থেকে উদ্ধৃত করেছেন, আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে- তিনি বলেছেন: ইবরাহীম আ. সর্বপ্রথম পায়জামা পরিধান করেন। সর্বপ্রথম মাথায় চুলে সিঁথি কাটেন। সর্বপ্রথম ক্ষৌরকর্ম করেন। সর্বপ্রথম খতনা করান কাদূমের সাহায্যে। তখন তাঁর বয়স ছিল একশ বিশ বছর। এবং তারপর আশি বছর জীবিত থাকেন। তিনিই সর্বপ্রথম অতিথিকে আহার করান, সর্বপ্রথম প্রৌঢ়ত্বে উপনীত হন। এ মওকূফ হাদীসটি মারফু' হাদীসের অনুরূপ। ইবনে হিব্বান রহ. এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেন।
ইমাম মালিক রহ. সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব রহ. থেকে বর্ণনা করেন। ইবরাহীম আ. প্রথম ব্যক্তি, যিনি অতিথিকে আহার করান এবং প্রথম মানুষ, যিনি খতনা করান। সর্বপ্রথম তিনিই গোঁফ ছাটেন। সর্বপ্রথম তিনিই পৌঢ়ত্বের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করেন। ইবরাহীম আ. বললেন, হে আমার প্রতিপালক! এটা কী? আল্লাহ বললেন, এ হল মর্যদা। ইবরাহীম আ. বললেন, হে প্রতিপালক! তা হলে আমার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করে দিন।
ইয়াহইয়া ও সাঈদ ব্যতীত অন্য সবাই আরো কিছু বাড়িয়ে বলেছেন। যেমন: তিনিই সর্বপ্রথম লোক, যিনি গোঁফ ছোট করেন, সর্বপ্রথম ক্ষৌরকর্ম করেন, সর্বপ্রথম পায়জামা পরিধান করেন। হযরত ইবরাহীম আ.-এর কবর, তাঁর পুত্র ইসহাক আ.-এর কবর ও তাঁর পৌত্র ইয়াকুব আ.-এর কবর 'মুরাব্বা' নামক গোরস্তানে। যা হযরত সুলাইমান ইবনে দাউদ আ. হিবরূন শহরে তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে এর নাম 'বালাদুল খলীল' (খলীলের শহর) বনী ইসরাঈলের যুগ থেকে আমাদের এ যুগ পর্যন্ত বংশ ও জাতি পরম্পরায় ধারাবাহিকভাবে এ কথাই চলে আসছে, হযরত ইবরাহীম আ.-এর কবর মুরাব্বাতে অবস্থিত। সুতরাং কথাটা যে সঠিক, তা নিশ্চিতভাবে বলা চলে। তবে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তাঁর কবর কোনটি তা নির্ণিত হয় নি। সুতরাং ওই স্থানটির যত্ন করা এবং তার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সকলের কর্তব্য। এ স্থানটি পদদলিত করা উচিত নয়। কেননা হতে পারে যে স্থানটি পদদলিত করা হচ্ছে, তারই নিচে হযরত ইবরাহীম খলীল আ. বা তাঁর কোনো পুত্রের কবর রয়েছে।
ইবনে আসাকির ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ.-এর সূত্রে বলেছেন: হযরত ইবরাহীম আ.-এর কবরের কাছে একটি প্রাচীন শিলা পাওয়া গেছে। যার ওপর এ কবিতাটি লেখা ছিল:
إلهِي جَهُولا أَمَلُهُ - يَمُوتُ مَنْ جَاءَ أَجَلُهُ
وَمَنْ دَنَا مِنْ حَتْفِهِ لَمْ تُغْنِ عَنْهُ حِيَلُهُ
وَكَيْفَ يَبْقَى آخِرُ - مَنْ مَاتَ عَنْهُ أَوَّلُهُ
وَالْمَرْءُ لَا يَصْحَبُهُ فِي الْقَبْرِ إِلَّا عَمَلُهُ
অর্থ: হে আল্লাহ! যে ব্যক্তির নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসে, তার সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা জলাঞ্জলি দিয়ে মৃত্যুর কাছে সে আত্মসমর্পণ করে। মৃত্যু যার দুয়ারে এসে যায়, তাকে কোনো কলাকৌশল আর বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। পূর্বের লোকই যখন গত হয়ে গেছে, তখন আর শেষের লোকটিকে কোন উপায়ে রাখা যাবে? মানুষ তার কবরের সাথী নিজের আমল ভিন্ন কাউকেই পাবে না।
ইবনে জারীর রহ. তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে লিখেছেন, হযরত ইবরাহীম আ. নমরূদ (ইবনে কিনআন) এর যুগে জন্মগ্রহণ করেন। কথিত আছে, এ নমরূদ ছিল প্রসিদ্ধ বাদশা যাহ্হাক। সে দীর্ঘ এক হাজার বছর যাবত বাদশাহী করেছিল বলে মনে করা হয়ে থাকে। তার শাসনামল ছিল জুলুম-অত্যাচারে পূর্ণ। কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে এ নমরূদ ছিল বনু রাসিব গোত্রের লোক। এ গোত্রেই হযরত নূহ আ. প্রেরিত হয়েছিলেন। নমরূদ সে সময় সমগ্র দুনিয়ার বাদশা ছিল। ইতিহাসবিদগণ উল্লেখ করেছে, একবার আকাশে একটি নক্ষত্র উদিত হয়। তার জ্যোতির সম্মুখে সূর্য ও চন্দ্র আলো হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় লোকজন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। নমরূদ বিচলিত হয়ে দেশের সব গণক ও জ্যোতির্বিদদের একত্র করে এর কারণ জিজ্ঞেস করে। তারা জানাল, আপনার রাজত্বের মধ্যে এমন এক শিশুর জন্ম হবে, যার হাতে আপনার বাদশাহীর পতন ঘটবে। নমরূদ তখন রাজ্যব্যাপী ঘোষণা দিল, এখন থেকে কোনো পুরুষ স্ত্রীর কাছে যেতে পারবে না এবং এখন থেকে কোন শিশুর জন্ম হলে তাকে হত্যা করা হবে। এ সময়ই হযরত ইবরাহীম আ. জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করেন ও পাপিষ্ঠদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেন। তিনি তাঁকে উত্তমভাবে লালন-পালনের ব্যবস্থা করেন।
হযরত ইবরাহীম আ.-এর জন্মভূমি ছিল 'সূস'। কারও মতে 'বাবেল', কারও মতে 'কুছায়'র পার্শ্ববর্তী 'সাওয়াদ' নামক গ্রামে। ইতোপূর্বে হযরত ইবনে আব্বাস রাযি.-এর একটি বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হযরত ইবরাহীম আ. দামেশকের পূর্ব পার্শ্বে বারযাহ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
আল্লাহ তাঁকে হযরত ইবরাহীম আ.-এর হাতে নমরূদের পতন ঘটানোর পর তিনি প্রথমে হারান এবং পরে সেখান থেকে শাম দেশে হিজরত করেন এবং সেখান থেকে ঈলিয়ায় গিয়ে বসবাস করেন। অতঃপর ইসমাঈল আ. ও ইসহাক আ.-এর জন্ম হয়। তারপর কিনআনের অন্তর্গত হিবরূন নামক স্থানে সারাহর ইনতিকাল হয়।
আহলে কিতাবরা উল্লেখ করেছে, মৃত্যুকালে সারাহর বয়স হয়েছিল একশ' সাতাশ বছর। ইবরাহীম আ. সারাহর মৃত্যুকালে অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। বনূ হায়ছ গোত্রের আফরূন ইবনে সাখার নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে চারশ' মিছকালের বিনিময়ে তিনি একটি জায়গা ক্রয় করেন এবং সারাহকে সেখানে দাফন করেন। এরপর ইবরাহীম আ.-এর পুত্র ইসহাককে রুফাকা বিনতে বাতুঈল ইবনে নাতুর ইবনে তারাহ-এর সাথে বিবাহ করান। পুত্রবধূকে আনার জন্যে তিনি নিজের ভৃত্যকে পাঠিয়ে দেন। সে রুফাকা ও তার দুধমা ও দাসীদেরকে উটের ওপর সওয়ার করে নিয়ে আসে।
আহলে কিতাবদের বর্ণনা: হযরত ইবরাহীম আ.-এরপর কাতুরা নামে এক মহিলাকে বিবাহ করেন। তাঁর গর্ভে যামরান, ইয়াকশান, মাদান, মাদইয়ান, শায়াক ও শূহ-এর জন্ম হয়। এদের প্রত্যেকের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কেও বিবরণ রয়েছে।
ইবনে আসাকির বিভিন্ন প্রাচীন পণ্ডিতদের বরাতে ইবরাহীম আ.-এর কাছে মালাকুল মওতের আগমন সম্পর্কে আহলে কিতাবদের উপাখ্যানসমূহ বর্ণনা করেছেন। সঠিক অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন। কেউ কেউ বলেছেন, হযরত দাউদ আ. ও হযরত সুলাইমান আ.-এর মতো হযরত ইবরাহীম আ.-ও আকস্মিকভাবে ইনতেকাল করেন। কিন্তু আহলে কিতাব ও অন্যদের বর্ণনা এর বিপরীত।
তারা বলে, ইবরাহীম আ. পীড়িত হয়ে এক শ পঁচাত্তর বছর মতান্তরে একশ নব্বই বছর বয়সে ইনতেকাল করেন। এবং তাঁর সহধর্মিনী সারাহর কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়। ইসমাঈল আ. ও ইসহাক আ. উভয়ে দাফনকার্য সম্পাদন করেন।
ইবনুল কালবী বলেছেন, ইবরাহীম আ. দুইশ বছর বয়সে ইনতেকাল করেন। আবু হাতেম ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহি' গ্রন্থে মুফাযযল... আবু হোরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন। হযরত ইবরাহীম আ. বাটালীর সাহায্যে খতনা করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল একশ বিশ বছর। এরপর তিনি আশি বছর জীবিত থাকেন। হাফেজ ইবনে আসাকির রহ. আবু হোরায়রা রাযি.-এর সূত্রে এ হাদিসখানা মওকূফরূপে বর্ণনা করেছেন। তারপর ইবনে হিব্বান রহ. এ হাদীস যারা মারফুভাবে বর্ণনা করেছেন, তাদের বর্ণনাকে বাতিল বলে অভিহিত করেছেন। যেমন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ. আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইবরাহীম আ. যখন একশ বিশ বছর বয়সে উপনীত হন, তখন খতনা করান। এরপর আশি বছর জীবিত থাকেন। আর তিনি কাদূম (ছুঁতারের বাইস) দ্বারা খতনা করিয়েছিলেন।
হাফেজ ইবনে আসাকির রহ. আবু হোরায়রা রাযি.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ইবরাহীম আ. যখন খতনা করান, তখন তাঁর বয়স ছিল আশি বছর।
ইবনে হিব্বান আবদুর রাযযাক থেকে বর্ণনা করেছেন, কাদূম একটা গ্রামের নাম। আমার জানা মতে 'সহি' গ্রন্থে যা এসেছে, তা হল ইবরাহীম আ. যখন খতনা করেন, তখন তিনি আশি বছর বয়সে পৌঁছেন। অন্য বর্ণনায় তাঁর বয়স ছিল আশি বছর।
মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল 'তাফসিরে ওকি'র মধ্যে 'যিয়াদাত' থেকে উদ্ধৃত করেছেন, আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে- তিনি বলেছেন: ইবরাহীম আ. সর্বপ্রথম পায়জামা পরিধান করেন। সর্বপ্রথম মাথায় চুলে সিঁথি কাটেন। সর্বপ্রথম ক্ষৌরকর্ম করেন। সর্বপ্রথম খতনা করান কাদূমের সাহায্যে। তখন তাঁর বয়স ছিল একশ বিশ বছর। এবং তারপর আশি বছর জীবিত থাকেন। তিনিই সর্বপ্রথম অতিথিকে আহার করান, সর্বপ্রথম প্রৌঢ়ত্বে উপনীত হন। এ মওকূফ হাদীসটি মারফু' হাদীসের অনুরূপ। ইবনে হিব্বান রহ. এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেন।
ইমাম মালিক রহ. সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব রহ. থেকে বর্ণনা করেন। ইবরাহীম আ. প্রথম ব্যক্তি, যিনি অতিথিকে আহার করান এবং প্রথম মানুষ, যিনি খতনা করান। সর্বপ্রথম তিনিই গোঁফ ছাটেন। সর্বপ্রথম তিনিই পৌঢ়ত্বের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করেন। ইবরাহীম আ. বললেন, হে আমার প্রতিপালক! এটা কী? আল্লাহ বললেন, এ হল মর্যদা। ইবরাহীম আ. বললেন, হে প্রতিপালক! তা হলে আমার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করে দিন।
ইয়াহইয়া ও সাঈদ ব্যতীত অন্য সবাই আরো কিছু বাড়িয়ে বলেছেন। যেমন: তিনিই সর্বপ্রথম লোক, যিনি গোঁফ ছোট করেন, সর্বপ্রথম ক্ষৌরকর্ম করেন, সর্বপ্রথম পায়জামা পরিধান করেন। হযরত ইবরাহীম আ.-এর কবর, তাঁর পুত্র ইসহাক আ.-এর কবর ও তাঁর পৌত্র ইয়াকুব আ.-এর কবর 'মুরাব্বা' নামক গোরস্তানে। যা হযরত সুলাইমান ইবনে দাউদ আ. হিবরূন শহরে তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে এর নাম 'বালাদুল খলীল' (খলীলের শহর) বনী ইসরাঈলের যুগ থেকে আমাদের এ যুগ পর্যন্ত বংশ ও জাতি পরম্পরায় ধারাবাহিকভাবে এ কথাই চলে আসছে, হযরত ইবরাহীম আ.-এর কবর মুরাব্বাতে অবস্থিত। সুতরাং কথাটা যে সঠিক, তা নিশ্চিতভাবে বলা চলে। তবে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তাঁর কবর কোনটি তা নির্ণিত হয় নি। সুতরাং ওই স্থানটির যত্ন করা এবং তার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সকলের কর্তব্য। এ স্থানটি পদদলিত করা উচিত নয়। কেননা হতে পারে যে স্থানটি পদদলিত করা হচ্ছে, তারই নিচে হযরত ইবরাহীম খলীল আ. বা তাঁর কোনো পুত্রের কবর রয়েছে।
ইবনে আসাকির ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ.-এর সূত্রে বলেছেন: হযরত ইবরাহীম আ.-এর কবরের কাছে একটি প্রাচীন শিলা পাওয়া গেছে। যার ওপর এ কবিতাটি লেখা ছিল:
إلهِي جَهُولا أَمَلُهُ - يَمُوتُ مَنْ جَاءَ أَجَلُهُ
وَمَنْ دَنَا مِنْ حَتْفِهِ لَمْ تُغْنِ عَنْهُ حِيَلُهُ
وَكَيْفَ يَبْقَى آخِرُ - مَنْ مَاتَ عَنْهُ أَوَّلُهُ
وَالْمَرْءُ لَا يَصْحَبُهُ فِي الْقَبْرِ إِلَّا عَمَلُهُ
অর্থ: হে আল্লাহ! যে ব্যক্তির নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসে, তার সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা জলাঞ্জলি দিয়ে মৃত্যুর কাছে সে আত্মসমর্পণ করে। মৃত্যু যার দুয়ারে এসে যায়, তাকে কোনো কলাকৌশল আর বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। পূর্বের লোকই যখন গত হয়ে গেছে, তখন আর শেষের লোকটিকে কোন উপায়ে রাখা যাবে? মানুষ তার কবরের সাথী নিজের আমল ভিন্ন কাউকেই পাবে না।