📄 বনি কাতুরা
হযরত ইবরাহীম আ. হযরত সারাহ ও হযরত হাজেরা ছাড়াও অন্য এক বিবাহ করেছিলেন। সেই বিবির নাম ছিল কাতুরা। তাঁর গর্ভ হতে হযরত ইবরাহীম আ.-এর ছয় পুত্র জন্মগ্রহণ করেছিল।
"আর ইবরাহীম আ. আরেকটি বিবাহ করেছিলেন। তাঁর নাম কাতুরা। তাঁর গর্ভ হতে যামরান, ইয়াকসান, মাদ্দান, মাদইয়ান, ইয়াশবাক এবং শাওহা জন্মগ্রহণ করেন। ইয়াকসানের ঔরসে দুই পুত্র ছাবা ও দুওয়া জন্মগ্রহণ করেন। তাদের সন্তান ছিল আসূরী, লাতুসী ও লুওয়াই। আর মাদায়েনের সন্তান ছিল আইফা, গাফার, খায়ুক, আবীদা ও দাআ। এরা ছিলেন বনি কাতুরা বংশের।" (তাওরাত)
হযরত ইবরাহীম আ. হযরত সারাহ ও হযরত হাজেরা ছাড়াও অন্য এক বিবাহ করেছিলেন। সেই বিবির নাম ছিল কাতুরা। তাঁর গর্ভ হতে হযরত ইবরাহীম আ.-এর ছয় পুত্র জন্মগ্রহণ করেছিল।
"আর ইবরাহীম আ. আরেকটি বিবাহ করেছিলেন। তাঁর নাম কাতুরা। তাঁর গর্ভ হতে যামরান, ইয়াকসান, মাদ্দান, মাদইয়ান, ইয়াশবাক এবং শাওহা জন্মগ্রহণ করেন। ইয়াকসানের ঔরসে দুই পুত্র ছাবা ও দুওয়া জন্মগ্রহণ করেন। তাদের সন্তান ছিল আসূরী, লাতুসী ও লুওয়াই। আর মাদায়েনের সন্তান ছিল আইফা, গাফার, খায়ুক, আবীদা ও দাআ। এরা ছিলেন বনি কাতুরা বংশের।" (তাওরাত)
📄 হযরত ইবরাহীম আ.-এর প্রশংসা
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ
"স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম আ.-কে তাঁর প্রতিপালক কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন এবং সেগুলো সে পূর্ণ করেছিল। আল্লাহ বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করছি। সে বলল, আমার বংশধরগণের মধ্য হতেও? আল্লাহ বললেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের প্রতি প্রযোজ্য নয়।" (সূরা বাকারা: ১২৪)
আল্লাহ হযরত ইবরাহীম আ.-কে যেসব কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। তিনি সেসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ তাঁকে মানব নেতৃত্ব দান করেন। যাতে তারা তাঁর অনুকরণ ও অনুসরণ করতে পারে। ইবরাহীম আ. এ নিয়ামত তাঁর পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে অব্যাহত রাখার জন্যে আল্লাহর নিকট দোয়া করেন। আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা শোনেন এবং জানিয়ে দেন, তাঁকে যে নেতৃত্ব দেওয়া হল, তা জালিমরা লাভ করতে পারবে না। এটা কেবল তাঁর সন্তানদের মধ্যে আলিম ও সৎকর্মশীলদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ وَآتَيْنَاهُ أَجْرَهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ
আমি ইবরাহীমকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব এবং তার বংশধরদের জন্যে স্থির করলাম নবুয়ত ও কিতাব, আমি তাকে দুনিয়ায় পুরস্কৃত করেছিলাম। আখিরাতেও সে নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের অন্যতম হবে। (সূরা আন-কাবুত: ২৭)
আল্লাহর বাণী:
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ كَلَّا هَدَيْنَا وَنُوحًا هَدَيْنَا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيَّতِهِ دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ وَأَيُّوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسَى وَهَارُونَ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ (٨٤) وَزَكَرِيَّا وَيَحْيَى وَعِيسَى وَإِلْيَاسَ كُلٌّ مِنَ الصَّالِحِينَ (٨٥) وَإِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُসَ وَلُوطًا وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ (٨٦) وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (৮৭)
এবং তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুব- তাদের প্রত্যেককে সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম; পূর্বে নূহকেও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম এবং তার বংশধর দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা ও হারূনকেও। আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি এবং যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা এবং ইলয়াসকেও; আর এভাবেই সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম, এরা সকলেই ছিলেন নেককার। আরও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম ইসমাঈল, আলইয়াসাআ, ইউনুস ও লূতকে এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম বিশ্বজগতের ওপর প্রত্যেককে এবং এদের পিতৃপুরুষ, বংশধর এবং ভ্রাতৃবৃন্দের কতককে, তাদেরকে মনোনীত করেছিলাম এবং সরল পথে পরিচালিত করেছিলাম। (সূরা আনআম: ৮৪-৮৭)
প্রসিদ্ধ মতে (وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ) (তাঁর বংশধরদের) বলতে এখানে হযরত ইবরাহীম আ.-কে বুঝান হয়েছে। হযরত লূত আ. যদিও হযরত ইবরাহীম আ.-এর ভাতিজা তবুও অন্যদের প্রাধান্য হেতু তাঁকেও বংশধর হিসাবে বলা হয়েছে। অপর একদল আলিমের মতে 'তাঁর' বলতে হযরত নূহ আ.-কে বুঝান হয়েছে। পূর্বে আমরা নূহ আ.-এর আলোচনায় এ বিষয়ের উল্লেখ করেছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আল্লাহর বাণী: وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا وَإِبْرَاهِيمَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّতِهِمَا النُّবُوَّةَ وَالْكِتَابَ فَمِنْهُمْ مُهْتَدٍ وَكَথিরুন مِنْهُمْ فَاسِقُونَ
আমি নূহ এবং ইবরাহীমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদের বংশধরগণের জন্যে স্থির করেছিলাম নবুওয়াত ও কিতাব। (সূরা হাদিদ: ২৬)
হযরত ইবরাহীম আ.-এর পরে আসমান থেকে যত কিতাব যত নবীর ওপর নাযিল হয়েছে, তাঁরা সকলেই নিশ্চিতভাবে তাঁর বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত। এটা এমন একটা সম্মান, যার কোনো তুলনা হয় না। এমন একটা সুমহান মর্যাদা যার তুল্য আর কিছুই নেই। কারণ, হযরত ইবরাহীম আ.-এর ঔরসে দুই মহান পুত্র-সন্তানের জন্ম হয়। হাজেরার গর্ভে ইসমাঈল আ. এবং সারাহর গর্ভে ইসহাক আ.। ইসহাক আ.-এর পুত্র ইয়াকুব আ.। তাঁর অপর নাম ছিল ইসরাঈল। পরবর্তী বংশে এত বিপুল সংখ্যক নবীর আগমন ঘটে, যাদের সঠিক সংখ্যা তাঁদেরকে প্রেরণকারী আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই জানেন না।
অব্যাহতভাবে এ বংশেই নবী-রাসূলগণ আসতে থাকেন এবং হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. পর্যন্ত পৌঁছে সে ধারার সমাপ্তি ঘটে। অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. ইসরাঈল বংশের শেষ নবী। অপরদিকে হযরত ইসমাঈল আ.-এর সন্তানগণ আরবের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়ে আরবভূমিতেই বসবাস করতে থাকেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে সর্বশেষ নবী খাতামুল আম্বিয়া, বনী আদমের শ্রেষ্ঠ সন্তান, দুনিয়া ও আখিরাতের গৌরব নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম আল কুরায়শী আল মক্কী ওয়াল মাদানী ছাড়া অন্য কোনো নবীর আগমন ঘটে নি। তিনিই হলেন সেই মহামানব যাঁর দ্বারা সমগ্র মানবজাতি গৌরবান্বিত। আদি-অন্ত সকল মানুষের ঈর্ষার পাত্র। সহি মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: سَأَقُومُ مَقَامًا يَرْغَبُ إِلَيَّ الْخَلْقُ كُلُّهُمْ ، حَتَّى إِبْرَاهِيمُ
"আমি এমন এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত হব, আমার কাছে পৌঁছার জন্যে প্রত্যেকেই লালায়িত হবে; এমনকি ইবরাহীম আ.-ও।"
এ বাক্যের দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকারান্তরে হযরত ইবরাহীম আ.-এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে অন্য সব মানুষের মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতে হযরত ইবরাহীম আ.-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ ও সম্মানিত পুরুষ।
ইমাম বোখারি রহ. হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান রাযি.-কে কোলে নিয়ে বলতেন: আমি তোমাদের দুই ভাইয়ের জন্যে সেরূপ আশ্রয় চাই, যেরূপ আশ্রয় চেয়েছিলেন তোমাদের আদি পিতা ইবরাহীম আ. ইসমাঈল ও ইসহাকের জন্যে। আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম দ্বারা প্রত্যেক শয়তান ও বিষাক্ত সরীসৃপ থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর চোখের দৃষ্টি থেকে। সুনান হাদিসের গ্রন্থকারগণও মানসূর রহ. সূত্রে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ
"স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম আ.-কে তাঁর প্রতিপালক কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন এবং সেগুলো সে পূর্ণ করেছিল। আল্লাহ বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করছি। সে বলল, আমার বংশধরগণের মধ্য হতেও? আল্লাহ বললেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের প্রতি প্রযোজ্য নয়।" (সূরা বাকারা: ১২৪)
আল্লাহ হযরত ইবরাহীম আ.-কে যেসব কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। তিনি সেসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ তাঁকে মানব নেতৃত্ব দান করেন। যাতে তারা তাঁর অনুকরণ ও অনুসরণ করতে পারে। ইবরাহীম আ. এ নিয়ামত তাঁর পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে অব্যাহত রাখার জন্যে আল্লাহর নিকট দোয়া করেন। আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা শোনেন এবং জানিয়ে দেন, তাঁকে যে নেতৃত্ব দেওয়া হল, তা জালিমরা লাভ করতে পারবে না। এটা কেবল তাঁর সন্তানদের মধ্যে আলিম ও সৎকর্মশীলদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ وَآتَيْنَاهُ أَجْرَهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ
আমি ইবরাহীমকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব এবং তার বংশধরদের জন্যে স্থির করলাম নবুয়ত ও কিতাব, আমি তাকে দুনিয়ায় পুরস্কৃত করেছিলাম। আখিরাতেও সে নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের অন্যতম হবে। (সূরা আন-কাবুত: ২৭)
আল্লাহর বাণী:
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ كَلَّا هَدَيْنَا وَنُوحًا هَدَيْنَا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيَّতِهِ دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ وَأَيُّوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسَى وَهَارُونَ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ (٨٤) وَزَكَرِيَّا وَيَحْيَى وَعِيسَى وَإِلْيَاسَ كُلٌّ مِنَ الصَّالِحِينَ (٨٥) وَإِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُসَ وَلُوطًا وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ (٨٦) وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (৮৭)
এবং তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুব- তাদের প্রত্যেককে সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম; পূর্বে নূহকেও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম এবং তার বংশধর দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা ও হারূনকেও। আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি এবং যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা এবং ইলয়াসকেও; আর এভাবেই সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম, এরা সকলেই ছিলেন নেককার। আরও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম ইসমাঈল, আলইয়াসাআ, ইউনুস ও লূতকে এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম বিশ্বজগতের ওপর প্রত্যেককে এবং এদের পিতৃপুরুষ, বংশধর এবং ভ্রাতৃবৃন্দের কতককে, তাদেরকে মনোনীত করেছিলাম এবং সরল পথে পরিচালিত করেছিলাম। (সূরা আনআম: ৮৪-৮৭)
প্রসিদ্ধ মতে (وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ) (তাঁর বংশধরদের) বলতে এখানে হযরত ইবরাহীম আ.-কে বুঝান হয়েছে। হযরত লূত আ. যদিও হযরত ইবরাহীম আ.-এর ভাতিজা তবুও অন্যদের প্রাধান্য হেতু তাঁকেও বংশধর হিসাবে বলা হয়েছে। অপর একদল আলিমের মতে 'তাঁর' বলতে হযরত নূহ আ.-কে বুঝান হয়েছে। পূর্বে আমরা নূহ আ.-এর আলোচনায় এ বিষয়ের উল্লেখ করেছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আল্লাহর বাণী: وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا وَإِبْرَاهِيمَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّতِهِمَا النُّবُوَّةَ وَالْكِتَابَ فَمِنْهُمْ مُهْتَدٍ وَكَথিরুন مِنْهُمْ فَاسِقُونَ
আমি নূহ এবং ইবরাহীমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদের বংশধরগণের জন্যে স্থির করেছিলাম নবুওয়াত ও কিতাব। (সূরা হাদিদ: ২৬)
হযরত ইবরাহীম আ.-এর পরে আসমান থেকে যত কিতাব যত নবীর ওপর নাযিল হয়েছে, তাঁরা সকলেই নিশ্চিতভাবে তাঁর বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত। এটা এমন একটা সম্মান, যার কোনো তুলনা হয় না। এমন একটা সুমহান মর্যাদা যার তুল্য আর কিছুই নেই। কারণ, হযরত ইবরাহীম আ.-এর ঔরসে দুই মহান পুত্র-সন্তানের জন্ম হয়। হাজেরার গর্ভে ইসমাঈল আ. এবং সারাহর গর্ভে ইসহাক আ.। ইসহাক আ.-এর পুত্র ইয়াকুব আ.। তাঁর অপর নাম ছিল ইসরাঈল। পরবর্তী বংশে এত বিপুল সংখ্যক নবীর আগমন ঘটে, যাদের সঠিক সংখ্যা তাঁদেরকে প্রেরণকারী আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই জানেন না।
অব্যাহতভাবে এ বংশেই নবী-রাসূলগণ আসতে থাকেন এবং হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. পর্যন্ত পৌঁছে সে ধারার সমাপ্তি ঘটে। অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. ইসরাঈল বংশের শেষ নবী। অপরদিকে হযরত ইসমাঈল আ.-এর সন্তানগণ আরবের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়ে আরবভূমিতেই বসবাস করতে থাকেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে সর্বশেষ নবী খাতামুল আম্বিয়া, বনী আদমের শ্রেষ্ঠ সন্তান, দুনিয়া ও আখিরাতের গৌরব নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম আল কুরায়শী আল মক্কী ওয়াল মাদানী ছাড়া অন্য কোনো নবীর আগমন ঘটে নি। তিনিই হলেন সেই মহামানব যাঁর দ্বারা সমগ্র মানবজাতি গৌরবান্বিত। আদি-অন্ত সকল মানুষের ঈর্ষার পাত্র। সহি মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: سَأَقُومُ مَقَامًا يَرْغَبُ إِلَيَّ الْخَلْقُ كُلُّهُمْ ، حَتَّى إِبْرَاهِيمُ
"আমি এমন এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত হব, আমার কাছে পৌঁছার জন্যে প্রত্যেকেই লালায়িত হবে; এমনকি ইবরাহীম আ.-ও।"
এ বাক্যের দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকারান্তরে হযরত ইবরাহীম আ.-এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে অন্য সব মানুষের মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতে হযরত ইবরাহীম আ.-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ ও সম্মানিত পুরুষ।
ইমাম বোখারি রহ. হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান রাযি.-কে কোলে নিয়ে বলতেন: আমি তোমাদের দুই ভাইয়ের জন্যে সেরূপ আশ্রয় চাই, যেরূপ আশ্রয় চেয়েছিলেন তোমাদের আদি পিতা ইবরাহীম আ. ইসমাঈল ও ইসহাকের জন্যে। আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম দ্বারা প্রত্যেক শয়তান ও বিষাক্ত সরীসৃপ থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর চোখের দৃষ্টি থেকে। সুনান হাদিসের গ্রন্থকারগণও মানসূর রহ. সূত্রে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
📄 জান্নাতে হযরত ইবরাহীম আ.-এর প্রাসাদ
হাফেজ আবু বকর আল বাযযার রহ. আবু হোরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জান্নতের মধ্যে মণি-মুক্তা দ্বারা নির্মিত একটি অতি মনোরম প্রাসাদ রয়েছে। কোনো ফাটল তাতে নেই। আল্লাহ তাঁর খলীলের জন্যে এটি তৈরি করেছেন। আল্লাহর মেহমান হিসেবে তিনি তাতে থাকবেন। এরপর বাযযার রহ. বলেন, এ হাদীসের বর্ণনাকারী হাম্মাদ ইবনে সালামা থেকে কেবল ইয়াযীদ ইবনে হারুন ও নযর ইবনে শুমায়লী মারফু হিসেবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ওই দুজন বাদে অন্য সবাই মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ত্রুটি না থাকলে হাদীসটি 'সহি'-এর শর্তে উত্তীর্ণ হত, কিন্তু ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. এটি বর্ণনা করেন নি।
হাফেজ আবু বকর আল বাযযার রহ. আবু হোরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জান্নতের মধ্যে মণি-মুক্তা দ্বারা নির্মিত একটি অতি মনোরম প্রাসাদ রয়েছে। কোনো ফাটল তাতে নেই। আল্লাহ তাঁর খলীলের জন্যে এটি তৈরি করেছেন। আল্লাহর মেহমান হিসেবে তিনি তাতে থাকবেন। এরপর বাযযার রহ. বলেন, এ হাদীসের বর্ণনাকারী হাম্মাদ ইবনে সালামা থেকে কেবল ইয়াযীদ ইবনে হারুন ও নযর ইবনে শুমায়লী মারফু হিসেবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ওই দুজন বাদে অন্য সবাই মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ত্রুটি না থাকলে হাদীসটি 'সহি'-এর শর্তে উত্তীর্ণ হত, কিন্তু ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. এটি বর্ণনা করেন নি।
📄 ইবরাহীম আ.-এর গঠনাকৃতি
ইমাম আহমদ রহ. জাবের রাযি.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার সম্মুখে পয়গম্বরগণকে পেশ করা হয়। তন্মধ্যে মূসা আ.-কে শানুয়া গোত্রের লোকদের অনুরূপ দেখতে পাই। ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে অনেকটা উরওয়া ইবনে মাসউদের মতো এবং ইবরাহীম আ.-কে অনেকটা দাহইয়া কালবীর মতো দেখতে পাই। এ সনদে ও এ পাঠে ইমাম আহমদ রহ একাই এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমদ রহ. আসওয়াদ ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমি ঈসা ইবনে মারইয়াম, মূসা ও ইবরাহীম আ.-কে দেখেছি। তন্মধ্যে ঈসা আ. ছিলেন গৌরবর্ণ, চুল ঘন কালো, বক্ষদেশ প্রশস্ত। সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের সাথীর দিকে তাকাও অর্থাৎ তাঁর নিজের দিকে ইঙ্গিত করেন।
ইমাম বুখারী মুজাহিদ সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে শুনেছেন, লোকজন তাঁর সম্মুখে দাজ্জালের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করছিল এবং বলছিল, দাজ্জালের চক্ষুদ্বয়ের মধ্যখানে লিখিত থাকবে কাফির। ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এ কথা শুনি নি। বরং তিনি বলেছেন- ইবরাহীম আ.-কে যদি দেখতে চাও, তবে তোমাদের সাথীর প্রতি তাকাও।
আর মূসা আ. হলেন, ধূসর বর্ণের। ঘন চুল বিশিষ্ট। তিনি একটি লাল উটের ওপর উপবিষ্ট- যার নাকের রশি খেজুর গাছের ছালের তৈরি। আমি যেন দেখতে পাচ্ছি, তিনি এ অবস্থায় উপত্যকার দিকে নেমে আসছেন। বুখারী ও মুসলিম রহ. এ হাদীসটি ভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী রহ. 'কিতাবুল হজ' ও 'কিতাবুল লিবাস'-এ এবং মুসলিম রহ. ও আবদুল্লাহ ইবনে আওন সূত্রে এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
ইমাম আহমদ রহ. জাবের রাযি.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার সম্মুখে পয়গম্বরগণকে পেশ করা হয়। তন্মধ্যে মূসা আ.-কে শানুয়া গোত্রের লোকদের অনুরূপ দেখতে পাই। ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে অনেকটা উরওয়া ইবনে মাসউদের মতো এবং ইবরাহীম আ.-কে অনেকটা দাহইয়া কালবীর মতো দেখতে পাই। এ সনদে ও এ পাঠে ইমাম আহমদ রহ একাই এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমদ রহ. আসওয়াদ ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমি ঈসা ইবনে মারইয়াম, মূসা ও ইবরাহীম আ.-কে দেখেছি। তন্মধ্যে ঈসা আ. ছিলেন গৌরবর্ণ, চুল ঘন কালো, বক্ষদেশ প্রশস্ত। সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের সাথীর দিকে তাকাও অর্থাৎ তাঁর নিজের দিকে ইঙ্গিত করেন।
ইমাম বুখারী মুজাহিদ সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে শুনেছেন, লোকজন তাঁর সম্মুখে দাজ্জালের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করছিল এবং বলছিল, দাজ্জালের চক্ষুদ্বয়ের মধ্যখানে লিখিত থাকবে কাফির। ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এ কথা শুনি নি। বরং তিনি বলেছেন- ইবরাহীম আ.-কে যদি দেখতে চাও, তবে তোমাদের সাথীর প্রতি তাকাও।
আর মূসা আ. হলেন, ধূসর বর্ণের। ঘন চুল বিশিষ্ট। তিনি একটি লাল উটের ওপর উপবিষ্ট- যার নাকের রশি খেজুর গাছের ছালের তৈরি। আমি যেন দেখতে পাচ্ছি, তিনি এ অবস্থায় উপত্যকার দিকে নেমে আসছেন। বুখারী ও মুসলিম রহ. এ হাদীসটি ভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী রহ. 'কিতাবুল হজ' ও 'কিতাবুল লিবাস'-এ এবং মুসলিম রহ. ও আবদুল্লাহ ইবনে আওন সূত্রে এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।