📄 কোরআন মাজিদে হযরত সালেহ আ.-এর
বিভিন্নমুখী আলোচনার পর এখন এ ঘটনা সম্বন্ধীয় কোরআন মাজিদের আয়াতগুলো পাঠ করুন। যা উপরে বর্ণিত ঘটনাগুলির প্রকৃত উৎস এবং উপদেশ ও নসিহতের অনুপম রসদ সরবরাহ করছে:
১। "আর (এরূপে) আমি সামুদ সম্প্রদায়ের প্রতি তাদেরই ভাইদের মধ্য হতে সালেহকে প্রেরণ করলাম। সে বলল, হে আমার কওম! আল্লাহ পাকের বন্দেগী কর, তিনি ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই। দেখ, তোমাদের প্রতিপালকের তরফ হতে তোমাদের সম্মুখে এক একটি (চরম মীমাংসাকারী) নিদর্শন। অতএব একে স্বাধীনভাবে মুক্ত ছেড়ে দাও। সে খোদার জমিনে যথেচ্ছা বিচরণ করবে। এর কোনো প্রকারের ক্ষতি করো না। তা হলে (এর প্রতিফল স্বরূপ) মারাত্মক প্রাণবিনাশী আযাব এসে তোমাদের পাকড়াও করবে। আর সেই সময়টুকু স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে আদ সম্প্রদায়ের পরে তাদের স্থলবর্তী করেছিলেন এবং এই ভূ-খণ্ডে এমনভাবে বসতি করতে দিয়েছেন, মুক্ত ময়দানেও বাড়ি-ঘর নির্মাণ করেছ এবং পাহাড়সমূহকেও কেটে নিজেদের বাসগৃহ নির্মাণ করেছ, (এটা তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ) অতএব আল্লাহ তাআলার নেয়ামতসমূহ স্মরণ কর এবং দেশে অবাধ্যতার সাথে ফাসাদ বিস্তার করো না। কওমের যে সমস্ত নেতৃস্থানীয় লোকের মধ্যে (নিজেদের ধন-সম্পদ ও শক্তি-সামর্থ্যের) অহঙ্কার ছিল, তারা মুমিনদের বলল, আর এই মুমিনগণ এমন লোক ছিল, যাদেরকে (দারিদ্র্য ও নিরাশ্রয়তার দরুন) দুর্বল ও হীন মনে করা হতো। তোমরা কি সত্যিকারভাবেই জেনে নিয়েছ, সালেহ খোদার প্রেরিত? (অর্থাৎ আমরা তো তাঁর মধ্যে এমন কোনো বিষয় দেখতে পাই না!) তারা বললঃ হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে তিনি যেই সত্যের পয়গামসহ প্রেরিত হয়েছেন, আমরা তার উপর পূর্ণ ঈমান রাখি। এতে অহঙ্কারীরা বলল, তোমরা যে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছ, আমরা তা অবিশ্বাস করি। তারা উটনীটিকে হত্যা করে ফেলল এবং নিজেদের প্রতিপালকের নির্দেশ অমান্য করল ও অবাধ্য হলো। তারা বলল, হে সালেহ! যদি তুমি বাস্তবিকই পয়গম্বরদের মধ্য হতে হও, তবে সেই বিষয়টি আমাদের ওপর এনে দেখাও, যে বিষয়ের তুমি আমাদেরকে ভয় প্রদর্শন করেছিলে। এরপর প্রকম্পিতকারী ভয়াবহ বস্তু এসে তাদেরকে পাকড়াও করল। যখন তাদের উপর সকাল হলো, তখন তারা সবাই (মৃত অবস্থায়) উপুড় হয়ে পড়ে ছিল। এরপর সালেহ আ. তাদের থেকে সরে গেলেন। (এবং মৃতলাশসমূহকে লক্ষ্য করে) বললেন, হে আমার কওম! আমি আমার প্রতিপালকের পয়গাম তোমাদের পৌঁছিয়ে দিয়েছি, কিন্তু তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা নসিহতকারীদের পছন্দ করতে না। (সূরা আরাফ: ৭৩-৭৯)
২। "আর আমি কওমে সামুদের প্রতি তাদের ভাইগণের মধ্য হতে সালেহকে প্রেরণ করলাম। সে (কওমের নিকট গিয়ে) বলল, হে আমার কওম! আল্লাহ তাআলার বন্দেগী করো। তিনি ব্যতীত অন্য কেউই তোমাদের মাবুদ নয়। তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছিলেন এবং এই মাটিতেই তোমাদেরকে বসতি করতে দিয়েছেন। অতএব তোমাদের উচিত তাঁর সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাঁর দিকে রুজু হয়ে থাকা। দৃঢ় বিশ্বাস রাখ, আমার প্রতিপালক (প্রত্যেকের) নিকট রয়েছে এবং (প্রত্যেকের) প্রার্থনাসমূহের জবাব দিতেছেন। সেই লোকেরা বলল, হে সালেহ! পূর্বে তো তুমি এমন একজন লোক ছিলে, আমাদের সকলেরই আশা ভরসা তোমার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তুমি কি আমাদেরকে সেসমস্ত মাবুদের পূজা থেকে বারণ করছ, যাদেরকে আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা পূজা-আরাধনা করে আসছে? (এ কেমন কথা?) এ কথার প্রতি তো আমাদের ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে, যার প্রতি তুমি আমাদের আহ্বান করছ। আমাদের অন্তরে প্রত্যয় হচ্ছে না। সালেহ আ. বললেন: হে আমার কওম! তোমরা কি এটাও ভেবে দেখেছ, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক উজ্জ্বল প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি আর তিনি নিজ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন, তবে এমন কে আছে, যে আল্লাহর (আযাবের) মুকাবিলায় আমাকে সাহায্য করে- যদি আমি তাঁর হুকুমের নাফরমানি করি? তোমরা (নিজেদের বাসনানুযায়ী কাজের প্রতি আহ্বান করে) আমার কোনো উপকার করছ না; ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছ। আর হে আমার কওম! এটা আল্লাহ তাআলার উটনী তোমাদের জন্য একটি মীমাংসাকারী নিদর্শন। অতএব একে ছেড়ে দাও! আল্লাহর জমিনে বিচরণ করুক একে কোনো প্রকার কষ্ট দিও না। অন্যথায় তাৎক্ষণিক আযাব এসে তোমাদের পাকড়াও করবে। কিন্তু লোকেরা (আরো অধিক হঠকারিতা করে) একে হত্যা করে ফেলল। তখন সালেহ আ. বললেন, (এখন তোমাদের জন্য শুধু) তিন দিনের অবকাশ, নিজেদের ঘরে থেকে পানাহার করে নাও। এটা আল্লাহর ওয়াদা, কখনও মিথ্যা হবে না। এরপর যখন আমার নির্ধারিত বিষয়ের সময় আসল, তখন আমি সালেহকে এবং ওই সমস্ত লোককে, যারা সালেহ-এর সাথে ঈমান আনয়ন করেছিলেন, নিজের রহমতে রক্ষা করলাম এবং সেই দিনের অপমান হতে মুক্তি দিলাম। হে পয়গম্বর! আপনার প্রতিপালকই হচ্ছেন যিনি মহাক্ষমতাশালী (এবং) সর্বজয়ী। আর যারা জুলুম (অর্থাৎ কুফর) করেছিল, তাদের এরূপ অবস্থা হলো, একদিন বজ্রধ্বনি এসে তাদেরকে পাকড়াও করল। যখন ভোর হলো, তখন সকলে নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে (মৃত অবস্থায়) পড়ে রইল (তারা হঠাৎ করে এমনভাবে মরে রইল; যেন সে সমস্ত ঘরে তারা কোনো দিন বাসই করে নি)। জেনে রাখ, নিশ্চয় সামুদ জাতি তাদের রবের সঙ্গে কুফরি করেছে। জেনে রাখ, সামুদ জাতির জন্য রয়েছে ধ্বংস। (সূরা হূদ: ৬১-৬৮)
৩। "আর দেখ, হিজরের লোকেরাও রাসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। আমি আমার নিদর্শনসমূহ তাদের দেখালাম। কিন্তু তারা (সত্য হতে) মুখ ফিরাতেই থাকল। তারা পাহাড় কেটে গৃহ নির্মাণ করত। যেন সুরক্ষিত থাকে; কিন্তু (এ সুরক্ষা কোনো কাজ দিলো না।) একদিন ভোরে এক ভয়ঙ্কর ও বিকট ধ্বনি এসে তাদেরকে পাকড়াও করল। (এবং সকলে নিজ গৃহে ধ্বংস হয়ে গেল।) আর তারা নিজেদের চেষ্টা তদবীর দ্বারা যা-কিছু উপার্জন করেছিল, তা তাদের কোনোই কাজে এলো না।" (সূরা হিজর: ৮০-৮৩)
৪। সামুদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। যখন তাদের ভাই সালেহ আ. তাদেরকে বললেন, "তোমরা কি ভয় কর না? আমি তোমাদের প্রতি বিশ্বস্ত পয়গম্বর। অতএব আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মান্য কর। আর আমি এই কাজের জন্য তোমাদের নিকট হতে কোনো পারিশ্রমিক দাবি করছি না। আমার বিনিময় তো রাব্বুল আলামিনের হাতে রয়েছে। তোমাদেরকে কি ইহলোকের এ সমস্ত বস্তুর মধ্যে নিরাপদে ছেড়ে রাখা হবে? উদ্যান ও ঝরণায়, আর ক্ষেত-খামার ও কোমল শীষবিশিষ্ট খেজুর বাগানে? আর তোমরা পাহাড়গুলো কেটে জাঁকজমকপূর্ণ বাসগৃহ নির্মাণ করছ। অতএব আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মানো। আর এই বেপরোয়া লোকদের কথা মান্য কর না, যারা দেশে ফাসাদ বিস্তার করছে এবং সংশোধন করে না। তারা (পয়গম্বরকে) বলল, তোমার উপর তো কেউ যাদু করেছে। তুমিও তো আমাদের মতো একজন মানুষই। অতএব (নিজের নবুয়তের) নিদর্শন আনুয়ন কর। যদি সত্যবাদী হও। (সালেহ আ.) বললেন, এই একটি উটনী। এর জন্য পানি পান করার একটি পালা আর তোমাদের জন্য একটি পালা এক নির্দিষ্ট দিনে। আর একে বিরক্ত কর না অন্যায়ভাবে, অন্যথায় তোমাদেরকে এক কঠিন দিবসের আযাব এসে পাকড়াও করবে। এরপর তারা এর পা কেটে (হত্যা করে) ফেলল, অনন্তর পরের দিন অনুতাপ করতে লাগল। তৎক্ষণাৎ আযাব এসে তাদের পাকড়াও করল। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে। আর তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই ঈমান আনয়ন করে না। আর নিঃসন্দেহ আপনার রবই মহা শক্তিমান (এবং) দয়ালু। (সূরা শুআরা: ১৪১-১৫৯)
৫। আমি সামুদ সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের ভাই সালেহ আ. কে প্রেরণ করলাম (তিনি সেখানে গিয়ে বললেন,) আল্লাহ তাআলার বন্দিগি কর। এরপর তারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে ঝগড়া করতে লাগল। সালেহ আ. বললেন, হে আমার কওম! তোমরা কেন তাড়াতাড়ি কামনা করছ মঙ্গলের পূর্বে অমঙ্গলকে। অপরাধ কেন ক্ষমা করিয়ে নাও না আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে। হয়তো তোমাদের প্রতি রহমত হয়ে যাবে। (কওম) বলল, আমরা তোমার ও তোমার সঙ্গীদের থেকে অশুভ পদক্ষেপ দেখছি। তিনি বললেন, তোমাদের বদ কিসমত (দুর্ভাগ্য) আল্লাহর নিকট রয়েছে। তোমাদের কথা ঠিক নয় বরং তোমাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর সেই শহরে নয়জন লোক ছিল, যারা দেশে ফাসাদ বিস্তার করত; ভালো কাজ করত না। তারা বলাবলি করল, "আল্লাহর নামে কসম কর, অবশ্যই আমরা রাত্রিযোগে তাকে ও তার পরিবারবর্গকে আক্রমণ করব। এরপর তার খুনের বদলা দাবিকারীকে বলব, আমরা দেখি নাই কখন তার পরিবার ধ্বংস হয়েছে এবং আমরা সত্যই বলছি। আর তারা এক গোপন ষড়যন্ত্র করল। আমিও এক গোপন ষড়যন্ত্র করলাম। তারা তা টেরই পেল না। এরপর দেখে নাও, তাদের সেই ষড়যন্ত্রের পরিণাম ফল কেমন হল! আমি ধ্বংস করে দিলাম তাদেকে এবং তাদের কওমের সকলকে। অতএব এই দেখ, তাদের কুফরের দরুন তাদের বাসগৃহসমূহ বিধ্বস্ত অবস্থায় পতিত রয়েছে। অবশ্যই এর মধ্যে সেসমস্ত লোকের জন্য নিদর্শন রয়েছে যারা জ্ঞানী। আর আমি রক্ষা করলাম তাদেরকে, যারা ঈমান এনেছিল এবং (অবাধ্যচারণ থেকে) আত্মরক্ষা করেছিল। (সূরা নামল: ৪৫-৫৩)
৬. "আর সামুদ গোত্রকে আমি পথপ্রদর্শন করলাম। এরপর তারা পথ দেখার চেয়ে অন্ধ থাকাকেই পছন্দ করল। অনন্তর তাদের অর্জিত কর্মের প্রতিফল স্বরূপ অপমানকর শাস্তির বজ্রধ্বনি এসে তাদেরকে পাকড়াও করল। আর যারা ঈমান আনয়ন করেছিল এবং (অপকর্ম থেকে) আত্মরক্ষা করেছিল, আমি তাদেরকে নাজাত দিলাম।" (সূরা হা-মীম সাজদা: ১৭-১৮)
৭। আর নিদর্শন রয়েছে সামুদ সম্প্রদায়ের মধ্যে। যখন তাদেরকে বলা হল, এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উপভোগ করে নাও। এরপর তারা রবের আদেশ লঙ্ঘন করতে লাগল। অনন্তর তাদেরকে বজ্রধ্বনি এসে পাকড়াও করল এবং তারা তা দেখছিল। এরপর দাঁড়াতে বা উঠতে সক্ষম হল না এবং প্রতিশোধ নেওয়ারও ক্ষমতা হল না। (সূরা যারিয়াহ : ৪৩-৪৫)
৮। আর এই যে, তিনি প্রথম আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিলেন এবং সামূদকেও। এরপর (তাদের) কাউকেও অবশিষ্ট রাখলেন না। (সূরা নাজম ৫০-৫১)
৯। সামুদ সম্প্রদায় ভয় প্রদর্শনকারী (রাসূল) দের মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অনন্তর বলল, আমাদেরই মধ্য হতে একজন মাত্র লোক, আমরা সকলে তারই অনুসরণ করব? তা হলে তো আমরা বিভ্রান্তিতে পতিত হলাম এবং আগুনের প্রতি ঝুঁকলাম। আমাদের সকলের মধ্যে কি তারই উপর নসিহত নাযিল হল? (আমাদের মধ্য হতে আর কেউ কি এর উপযুক্ত নেই?) এ ব্যক্তি বড় মিথ্যাবাদী, শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করছে। আগামীকাল তারা জানতে পারবে, কে মিথ্যা গর্ব প্রকাশকারী। আমি তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য উটনী পাঠাচ্ছি। অতএব (হে নবী!) তাদের জন্য অপেক্ষা কর এবং ধৈর্যধারণ করতে থাক। আর তাদেরকে শুনিয়ে দাও, পানি পান করার জন্য তাদের মধ্যে পালা বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ পালাক্রমে পানির নিকট হাজির হবে। অনন্তর তারা নিজেদের (বন্ধু বা সাথী) কে ডাকল। এরপর হাত চালাল এবং (উটনীটিকে) হত্যা করে ফেলল। অনন্তর কেমন হল আমার আযাব ও ভয় প্রদর্শন? আমি তাদের প্রতি প্রেরণ করলাম এক (ভয়ঙ্কর) গর্জন। এরপর তারা পদদলিত (পুরাতন) কাঁটার বেড়ার মতো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে রইল। আর আমি বুঝার জন্য কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি। এরপর আছে কি কেউ চিন্তাশীল (ও উপদেশ গ্রহণকারী)? (সূরা কামার: ২৩-৩২)
১০। সামুদ ও আদ সম্প্রদায় সজোরে আঘাতকারী (কেয়ামত) কে অস্বীকার করেছিল। আর সামুদ সম্প্রদায়, তাদেরকে বিকট শব্দ দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল। (সূরা হাককা: ৪-৫)
১১। সামুদ সম্প্রদায় (নবী ও নবীর মোজেযাকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করল দুষ্কর্মহেতু। যখন তাদের মধ্যকার (সর্বাপেক্ষা অধিক) হতভাগ্য ব্যক্তি (উটনীকে হত্যা করার জন্য) উত্তেজিত হয়ে উঠল, তখন আল্লাহর রাসূল তাদেরকে (সতর্ক করে) বললেন: আল্লাহর উটনীর ব্যাপারে সতর্ক থাক এবং এর পানি পান করার পালা সম্পর্কে। কিন্তু তারা নবীকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করল। তারপর এর পা কেটে ফেলল। এরপর তাদের পাপের দরুন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ধ্বংস করে দিলেন। অনন্তর সকলকে সমান করে দিলেন। আর আল্লাহ পাক বদলা নিতে ভয় করেন না। (সূরা আশ্-শামস: ১১-১৫)
📄 সামুদ জাতির আবাসভূমি দিয়ে রাসূলুল্লাহ-এর গমন
ইমাম আহমাদ হযরত ইবনে ওমর রাযি.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তাবুক অভিযানকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামসহ হিজর উপত্যকায় অবতরণ করেন। যেখানে সামুদ জাতি বসবাস করত। সামুদ সম্প্রদায় যেসব কূপের পানি পান করত, সাহাবায়ে কেরাম সেসব কূপের পানি ব্যবহার করেন। পানি দিয়ে আটার খামির বানিয়ে ডেকচি চুলায় চড়ান। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ আসায় তাঁরা ডেকচির খাদ্য ফেলে দিয়ে খামির উটকে খেতে দেন। তারপর তিনি সেখান থেকে রওনা হয়ে যে কূপ থেকে আল্লাহর উষ্ট্রী পানি পান করত, সে কূপের নিকট অবতরণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনকে সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির বাসস্থানে যেতে নিষেধ করেন। তিনি বললেন, "আমার আশঙ্কা হয় তোমাদের উপর না তাদের মতো আযাব আপতিত হয়। সুতরাং তোমরা তাদের সেস্থানে প্রবেশ করো না।"
ইমাম আহমদ রহ. আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে অন্য এক বর্ণনায় বলেন, হিজরে অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: তোমরা আল্লাহর গযবে ধ্বংস প্রাপ্তদের ওইসব বাসস্থানে কান্নারত অবস্থায় ছাড়া যেয়ো না, যদি একান্তই কান্না না আসে, তা হলে সেখানে আদৌ যেয়ো না। যে আযাব তাদের উপর এসেছিল, সেরূপ আযাব তোমাাদের উপরও না পতিত হয়ে যায়।
বুখারী ও মুসলিম শরিফে একাধিক সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ছামূদ জাতির এলাকা অতিক্রম করেন, তখন মাথা ঢেকে রাখেন। বাহনকে দ্রুত চালান এবং কান্নারত অবস্থায় ব্যতীত কাউকে তাদের বাসস্থানে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। অন্য বর্ণনায় এতটুকু বেশি আছে, 'যদি একান্তই কান্না না আসে, তবে কান্নার ভঙ্গি অবলম্বন কর এই ভয়ে, তাদের ওপর যে আযাব এসেছিল, অনুরূপ আযাব তোমাদের ওপরও না এসে পড়ে।
ইমাম আহমদ রহ. আমের ইবনে সাদ রাযি. থেকে বর্ণনা করেন : তাবুক যুদ্ধে গমনকালে লোকজন দ্রুত অগ্রসর হয়ে হিজরবাসীর বাসস্থানে প্রবেশ করতে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি মধ্যে ঘোষণা করে দেন, الصلاة جامعة অর্থাৎ নামায আদায় করা হবে। আমের রাযি. বলেন, এ সময় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হই। তিনি তখন নিজের উট থামাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন তোমরা কেন ওইসব লোকের বাসস্থানে প্রবেশ করছ, যাদের ওপর আল্লাহ গযব নাযিল করেছেন। এক ব্যক্তি আশ্চর্য হয়ে বলল, আল্লাহর রাসূল! আমরা আশ্চর্যজনক বস্তু হিসেবে এগুলো দেখছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি কি এর চেয়ে অধিক আশ্চর্যের কথা তোমাদের বলব না? তা হল, তোমাদের মধ্যেই এক ব্যক্তি তোমাদেরকে সেসব ঘটনা বলে দেয়, যা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে গেছে এবং সেসব ঘটনার কথাও বলে, যা ভবিষ্যতে ঘটবে। অতএব তোমরা সত্যের উপর অটল-অবিচল থাক। তা না হলে আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দিতে বিন্দুমাত্র পরোয়া করবেন না। শীঘ্রই এমন এক জাতির আবির্ভাব হবে, যারা তাদের উপর আগত শাস্তি থেকে নিজেদের বিন্দুমাত্র রক্ষা করতে পারবে না। এ হাদিসের সনদ 'হাসান' পর্যায়ের। কিন্তু অন্যরা হাদিসটি বর্ণনা করেন নি।
কথিত আছে, সালেহ আ.-এর সম্প্রদায়ের লোকজন দীর্ঘায়ু হত। মাটির ঘর বানিয়ে তারা বাস করত। কিন্তু কারো মৃত্যুর আগে তার ঘর বিনষ্ট হয়ে যেত। এ কারণে তারা পাহাড় কেটে প্রাসাদ নির্মাণ করত। ইতিহাসবিদগণ লিখেছেন, হযরত সালেহ আ.-এর নিকট নিদর্শন দাবি করলে আল্লাহ ওই কওমের জন্যে উটনী প্রেরণ করেন। একটি পাথর থেকে উটনীটি বের হয়ে আসে। এ উটনী ও তার পেটের বাচ্চার সাথে দুর্ব্যবহার করতে তাদেরকে তিনি নিষেধ করেন। দুর্ব্যবহার করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি আসবে বলেও তিনি জানিয়ে দেন। তিনি আরও জানিয়ে দেন, শীঘ্রই এরা উটনীটিকে হত্যা করবে এবং এর কারণেই তারা ধ্বংস হবে। যে ব্যক্তি উটনীটিকে হত্যা করবে, তিনি তার পরিচয়ও তুলে ধরেন। তার গায়ের রং হবে গৌর, চোখের রং নীল এবং তার চুল হবে পিঙ্গল বর্ণের। সম্প্রদায়ের লোকজন এ বৈশিষ্ট্যের কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলে সাথে সাথে তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গোটা জনপদে ধাত্রীদের নিয়োজিত করে। এ অনুসন্ধান দীর্ঘকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এভাবে এক প্রজন্মের পর অন্য প্রজন্মের অবসান ঘটে। তারপর একসময়ে উক্ত সম্প্রদায়ের এক সর্দার ব্যক্তির পুত্রের সাথে আর এক সর্দার ব্যক্তির কন্যার বিবাহ প্রস্তাব দেয়। সেমতে বিবাহও হয়। এ দম্পতির ঘরেই উটনীর হত্যাকারীর জন্ম হয়। শিশুটির নাম রাখা হয় কিদার ইবনে সালিফ। সন্তানের পিতা-মাতা ও বাপ-দাদা সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী হওয়ার কারণে ধাত্রীদের পক্ষে তাকে হত্যা করা সম্ভব হল না। শিশুটি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। অন্য শিশুরা এক মাসে যতটুকু বড় হয়, সে এক সপ্তাহে ততটুকু বড় হয়ে যায়।
এভাবে সে সম্প্রদায়ের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরূপে আত্মপ্রকাশ করে। সবাই তাকে নেতা হিসেবে মেনে চলে। একপর্যায়ে তার মনের মধ্যে উটনী হত্যা করার বাসনার উদ্রেগ হয়। সম্প্রদায়ের আরও আট ব্যক্তি এ ব্যাপারে তাকে অনুসরণ করে। এ নয়জন লোকই হযরত সালেহ আ.কেও হত্যার ষড়যন্ত্র করে। সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় কারো দ্বারা এ ঘটনা ঘটে নি। ওই কয়েকজন অল্প বয়সী যুবক এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
কথিত আছে, তখন সালেহ আ.-এর প্রতিকার হিসাবে উটনীটির বাচ্চাটিকে নিয়ে এসে তার সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দেন। লোকজন বাচ্চাকে ধরে আনার জন্যে অগ্রসর হলে বাচ্চাটি পাহাড়ে উঠে যায়। লোকজনও পিছু পিছু পাহাড়ে উঠল। কিন্তু বাচ্চা আরও উপরে উঠে পাহাড়ের শীর্ষে চলে যায়। যেখানে তারা পৌঁছতে সক্ষম হয় নি। বাচ্চা সেখানে গিয়ে তিনবার ডাক দেয়। তখন সালেহ আ. সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা তিনদিন পর্যন্ত বাড়িতে বসে জীবন উপভোগ কর! এ এমন এক ওয়াদা, যা মিথ্যা হওয়ার নয়। নবী তাদেরকে আরও জানালেন, আগামীকাল তোমাদের চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যাবে পরের দিন রক্তিম এবং তৃতীয় দিন কালো রং ধারণ করবে। চতুর্থ দিনে এক বিকট শব্দ এসে তাদেরকে আঘাত হানে। ফলে তারা নিজ নিজ ঘরে মরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকে। এ বর্ণনার সঙ্গে কোনো কোনো দিক সম্পর্কে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে এবং কোরআনের স্পষ্ট বর্ণনার সাথে সংঘর্ষপূর্ণ। যা ইতোপূর্বে আমরা আলোচনা করে এসেছি। সঠিক তত্ত্ব আল্লাহই জানেন।
📄 কয়েকটি উপদেশমূলক দৃষ্টান্ত
১। 'নাক্বাতুল্লাহ' যদিও সালেহ আ.-এর একটি মোজেযা। অর্থাৎ তাঁর নবুয়তের সত্যতার একটি নিদর্শন ছিল, তবুও কোরআন মাজিদ বলে এটা সামুদ সম্প্রদায়ের জন্য পরীক্ষা ছিল এবং পরিণামে তাদের ধ্বংসের নিদর্শন প্রমাণিত হল। যেমন আল্লাহ পাক বলেন:
"নিঃসন্দেহে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য উটনী পাঠিয়েছি। অতএব হে নবী! এর অপেক্ষায় থাকুন এবং ধৈর্যধারণ করতে থাকুন।" (সূরা আলকামার; ২৭)
২। আল্লাহ পাকের প্রচলিত রীতি হল, যদি তিনি কোনো কওমের হেদায়েতের জন্য তাঁর নবীকে প্রেরণ করেন এবং কওম তাঁর হেদায়েতের প্রতি কর্ণপাত না করে, তবে ওই কওমকে ধ্বংসই করে দেওয়া জরুরি হয়ে যায় না। কিন্তু যেই কওম নিজেদের নবীর নিকট মোজেযা তলব করে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়, যদি তাদের দাবিকৃত মোজেযা প্রকাশিত হয়ে যায়, তবে তারা অবশ্যই ঈমান আনয়ন করবে। এরপর যদি তারা ঈমান আনয়ন না করে, তবে সেই কওমের ধ্বংস সুনিশ্চিত হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা তাদের ক্ষমা করেন না, যদি না তারা তওবা করে এবং আল্লাহর দীন কবুল করে, কিংবা আল্লাহর আযাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে অন্যান্য লোকদের জন্য উপদেশমূলক দৃষ্টান্ত হয়।
৩। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পয়গাম্বরী আল্লাহ তাআলার এ নিয়মের ঊর্ধ্বে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমি আল্লাহ পাকের দরবারে প্রার্থনা করেছি, তিনি যেন আমার (বর্তমান ও ভবিষ্যতের উম্মতদের উপর ব্যাপক আযাব নাযিল না করেন এবং কোরআন মাজিদে আল্লাহ পাক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম.-এর সেই দোয়া এই বলে মনযুর করেছেন :
"হে রাসূল! আপনি তাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকাকালে আল্লাহ তাআলা এ উম্মতের উপর ব্যাপক আযাব নাযিল করবেন না।"
৪। একটি মারাত্মক ভুল এবং নফসের ধোঁকা হলো, মানুষ স্বচ্ছলজীবিকা, আরামের যিন্দেগি এবং দুনিয়াবি মান-মর্যাদাকেই নিরাপত্তা মনে করে। যে সম্প্রদায় বা ব্যক্তির কাছে এ সমস্ত বিদ্যমান রয়েছে, তারা অবশ্যই আল্লাহ তাআলার আশ্রয়ে আছে। এমনকি তাদের স্বচ্ছলতাই প্রমাণ করে আল্লাহ তাআলার সন্তোষ ও সম্মতি তাদের সাথে ছিল। এ ধারণা ভুল এবং ধোঁকা এ জন্য, এই সামুদের ঘটনাটিতে স্থানে স্থানে বর্ণিত আছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি স্বচ্ছলতা ও সুখ-শান্তি অধিকতর আযাব ও ধ্বংসের পূর্বাভাস বলে সাব্যস্ত হয়ে থাকে। যদিও কওমসমূহের জন্য এর মেয়াদ কয়েক মাস কিংবা কয়েক বছর নয় বরং ভীত করে দেওয়ার মতো দীর্ঘকালই হোক না কেন। কিন্তু সর্বপ্রকারের পার্থিব সফলতা এবং আনন্দময় জীবনের সাথে যখন কুফর, অবাধ্যাচরণ এবং অহঙ্কার কোনো কওমের একান্ত অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন মনে করবে, কওমের ধ্বংস হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। মনে রাখবে :
"তোমার রবের ধরা বড় কঠিন।"
অবশ্য যদি এ সমস্ত শান্তি ও আনন্দময় জীবনের সাথে কওমের অধিকাংশ লোক আল্লাহ পাকের শোকর আদায়কারী হয়, তাঁর বান্দাগণের সাথে সদাচারী হয় এবং পরস্পর নেকনিয়ত ও হিতাকাঙ্ক্ষার উপর কাজ করতে থাকে, তবে নিঃসন্দেহ তারা আল্লাহ পাকের দরবারে প্রিয়। তাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। আর তাদের জন্য এই পার্থিব জীবনের অসীম নেয়ামতের ঘোষণা রয়েছে। যেমন আল্লাহ পাক বলেন:
"আল্লাহ পাক ওই সমস্ত লোকের সাথে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছেন, যারা তোমাদের মধ্য হতে ইমান এনেছে এবং নেকআমল করেছে এই মর্মে, তাদেরকে জমিনের প্রতিনিধিত্ব দান করবেন। যেমনি তাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতিনিধি বানিয়েছিলেন। আর তাদের জন্য তাদের দীন ও ঈমান মযবুত করে দিবেন, যেরূপ তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছিলেন। আর তাদের ভয়-ভীতিকে নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করে দেবেন। তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে (কাউকেও কোনো প্রকারেই) শরিক করবে না।" (সূরা নূর: ৫৫)
"আর নিঃসন্দেহ আমি নসিহতের পর যাবুর কিতাবে লিখে দিয়েছি, জমিনের উত্তরাধিকারিত্ব আমার নেককার বান্দাগণ লাভ করবে।" (সূরা আম্বিয়া: ১০৫)
এ আয়াতগুলো স্পষ্টরূপে প্রমাণ করছে, শাসনক্ষমতা ও রাষ্ট্রপরিচালনার অধিকার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রদানের ওয়াদা তাদেরই প্রাপ্য, যারা মুমিনও হয় এবং আল্লাহ পাকের আহকাম অনুযায়ী আমল করে 'সালেহীন' তথা নেককার লোকদের দলভুক্তও হয়। অর্থাৎ যাদের সামগ্রিক জীবন একসঙ্গে এ দুটি গুণে গুণান্বিত, তাদের জন্য নিঃসন্দেহে এ শাসনক্ষমতা ও রাষ্ট্রপরিচালনা ক্ষমতা আল্লাহ পাকের পুরস্কার ও অনুগ্রহ স্বরূপ হবে। আর যদি এ গুণের অধিকারী না হয়, তবে শাসন-ক্ষমতা ও রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য মুমিন ও কাফেরের কোনো বৈশিষ্ট্য নাই। আল্লাহ পাকের প্রজ্ঞা ও কল্যাণকামনার প্রেক্ষিতে এটা পার্থিব উপকরণ হিসেবে সচল ছায়াও বটে। আর এরূপ শাসনক্ষমতা ও রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য এর প্রতি আল্লাহ পাকের সন্তোষ এবং সম্মতি থাকা জরুরি নয়।