📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত হুদ আ.-এর ওফাত

📄 হযরত হুদ আ.-এর ওফাত


আরববাসী হযরত হুদ আ.-এর ওফাত এবং তাঁর কবর সম্বন্ধে বিভিন্ন প্রকারের দাবি করে থাকে। হাযরামাউতের অধিবাসীরা দাবি করে, আদ সম্প্রদায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিনি হাযরামাউতের দিকে হিজরত করে চলে আসেন এবং সেখানেই তাঁর ইনতেকাল হয় আর ওয়াদিয়া বারহুতের কাছে হাযরামাউতের পূর্বাংশে 'তারিম' শহরের প্রায় দুই মাইলের মাথায় তাঁকে দাফন করা হয়।

হযরত আলি রাযি. থেকে এক রেওয়ায়েত আছে, তাঁর কবর হাযরামাউতে 'কাসিরে আহম' অর্থাৎ লালটিলার চূড়ায় অবস্থিত এবং তার শিয়রে একটি ঝাউগাছ দণ্ডায়মান। ফিলিস্তিনবাসীরা বলেন, তিনি ফিলিস্তিনে সমাহিত হয়েছেন। তারা সেখানে তাঁর কবর পাকা করে রেখেছে এবং সেখানে বার্ষিক ওরসও করে থাকে। কিন্তু এ রেওয়ায়েতগুলোর মধ্যে হাযরামাউতের রেওয়ায়েতটিই শুদ্ধ বলে ধারণা হয়। কেননা কওমে আদের বস্তিগুলো হাযরামাউতের কাছে ছিল। সুতরাং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে বুঝা যায়, আদ সম্প্রদায়ের ধ্বংসের পর হযরত হূদ আ. কাছের বস্তিগুলোতেই অবস্থান করে থাকবেন এবং সেখানেই ইহকাল ত্যাগ করে থাকবেন। আর তা হাযরামাউত-ই।

আরববাসী হযরত হুদ আ.-এর ওফাত এবং তাঁর কবর সম্বন্ধে বিভিন্ন প্রকারের দাবি করে থাকে। হাযরামাউতের অধিবাসীরা দাবি করে, আদ সম্প্রদায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিনি হাযরামাউতের দিকে হিজরত করে চলে আসেন এবং সেখানেই তাঁর ইনতেকাল হয় আর ওয়াদিয়া বারহুতের কাছে হাযরামাউতের পূর্বাংশে 'তারিম' শহরের প্রায় দুই মাইলের মাথায় তাঁকে দাফন করা হয়।

হযরত আলি রাযি. থেকে এক রেওয়ায়েত আছে, তাঁর কবর হাযরামাউতে 'কাসিরে আহম' অর্থাৎ লালটিলার চূড়ায় অবস্থিত এবং তার শিয়রে একটি ঝাউগাছ দণ্ডায়মান। ফিলিস্তিনবাসীরা বলেন, তিনি ফিলিস্তিনে সমাহিত হয়েছেন। তারা সেখানে তাঁর কবর পাকা করে রেখেছে এবং সেখানে বার্ষিক ওরসও করে থাকে। কিন্তু এ রেওয়ায়েতগুলোর মধ্যে হাযরামাউতের রেওয়ায়েতটিই শুদ্ধ বলে ধারণা হয়। কেননা কওমে আদের বস্তিগুলো হাযরামাউতের কাছে ছিল। সুতরাং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে বুঝা যায়, আদ সম্প্রদায়ের ধ্বংসের পর হযরত হূদ আ. কাছের বস্তিগুলোতেই অবস্থান করে থাকবেন এবং সেখানেই ইহকাল ত্যাগ করে থাকবেন। আর তা হাযরামাউত-ই।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 উপদেশমূলক দৃষ্টান্ত

📄 উপদেশমূলক দৃষ্টান্ত


১। যে ব্যক্তি আদ সম্প্রদায়ের ঘটনা পাঠ করবে, তার চোখের সামনে এমন একটি সত্তার কল্পনা এসে যাবে, যিনি গাম্ভীর্য ও দৃঢ়তার এক মূর্তপ্রতীক এবং যার চেহারা মুবারকে ভদ্রতা সুস্পষ্ট। তিনি যা কিছু বলেন, তা পূর্বেই ওজন করে নেন; পরিণাম ভালো না মন্দ হবে, তা চিন্তা করে নেন এবং কওমের কঠোর ও কর্কশ ব্যবহার ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের জবাব ধৈর্যের সঙ্গে প্রদান করেন। অকপটতা ও নেকনিয়ত তার ললাট হতে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়। অথচ তাঁর কওম তাকে বলল "নিঃসন্দেহে আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখছি এবং নিঃসন্দেহে আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের মধ্যে গণ্য করছি।" কিন্তু হযরত হূদ আ. তাদেরকে ভারি দরদমাখা জবাবই দিলেন: হে আমার কওম! আমি নির্বোধ নই বরং আমি রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে প্রেরিত রাসূল। তোমাদের কাছে আমার রবের পয়গাম পৌঁছে দিচ্ছি এবং আছি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী।

সুতরাং বুঝা যাচ্ছে, আল্লাহ পাকের মনোনীত বান্দা যখন কারো কল্যাণ কামনা করেন এবং বাঁকা পথের পথিকদের সরল পথে আনার জন্য উপদেশ প্রদান করেন, তখন তাঁর অন্তর্দৃষ্টি নির্বোধ লোকদের অর্থহীন উক্তি, ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং হীন প্রতিপন্ন করার কোনো পরোয়া করেন না। অন্তরে ব্যথা ও দুঃখ নিয়ে সত্য প্রচার হতে মুখ ফিরিয়ে নেন না বরং চরিত্র মাধুর্য, নম্রতা এবং দয়ার সঙ্গে আধ্যাত্মিক রোগীদের চিকিৎসায় মগ্ন থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদের এ নসিহত ও কল্যাণ কামনার জন্য কওমের কাছ থেকে কোনো বিনিময়ের প্রত্যাশা করেন না। তাই বলে তাঁর জীবনের এ পরিশ্রম পারিশ্রমিক শূন্য কিংবা বদলা শূন্য নয়। যেমন কোরআনে ঘোষিত হয়েছে: "আর আমি তোমাদের কাছে এই নসিহতের জন্য কোনো বিনিময় চাই না। আমার বিনিময় তো কেবল আল্লাহ পাকের দায়িত্বেই রয়েছে।"

হযরত হূদ আ. বড় মহব্বতের সাথে আপন কওমকে আল্লাহ পাকের একত্ববাদের প্রতি ঈমান আনার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন চিরস্থায়ী নেয়ামতসমূহের কথা এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভবিষ্যতের জন্য; কিন্তু হতভাগ্য কওম কোনো প্রকারেই তাঁর কথা মেনে নিল না।

এর কারণ হলো, তাদের মূর্খতাসুলভ আকিদা অর্থাৎ পূর্বপুরুষদের রসম-রেওয়াজ, তাদের নিজ হাতে গড়া মূর্তিসমূহের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি আওয়াজ তুলবে, সে-ই উক্ত মূর্তিসমূহের অভিশাপে পতিত হবে। এ মূর্খ আকিদা পোষণকারী প্রত্যেক সম্প্রদায়ের ব্যবহারই তাদের কাছে প্রেরিত নবী ও রাসূল আ.-এর সঙ্গে এরূপ হয়েছে।

সকল নবী-রাসূলগণের একটি উত্তম আদর্শ রীতি ছিল, তাবলিগ এবং সত্য প্রচারের পথে যত মন্দ ব্যবহারই আসুক না কেন, তার বদলা সর্বোত্তম ব্যবহার দ্বারা দেওয়া। কর্কশ ও কঠোর কথার উত্তর মধুরবাণী দ্বারা প্রদান। তারা স্বজাতিকে অবিরত পাপাচার ও অবাধ্যতার উপর আল্লাহর বিধান এবং ভবিষ্যতের ভয়াবহ পরিণামের ব্যাপারে সতর্ক করে দিতেন। অনবরত দাওয়াত ও তাবলিগের পরও কোনো সম্প্রদায় যখন চূড়ান্তভাবে অবাধ্যতা ও হঠকারিতা প্রদর্শন করে, তখন তাদের ওপর পতিত হয় আল্লাহর ক্রোধ ও গজব। ধরাপৃষ্ঠ থেকে তাদের অস্তিত্ব মুছে যায়, অন্য কোনো সম্প্রদায়কে তাদের স্থলাভিষিক্ত করে দেয়। যেমন হযরত নূহ আ. ও হযরত হূদ আ.-এর সম্প্রদায়ের ঘটনাই এর বাস্তব এবং উপদেশমূলক দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তার অবাধ্যতার ক্রোধ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

১। যে ব্যক্তি আদ সম্প্রদায়ের ঘটনা পাঠ করবে, তার চোখের সামনে এমন একটি সত্তার কল্পনা এসে যাবে, যিনি গাম্ভীর্য ও দৃঢ়তার এক মূর্তপ্রতীক এবং যার চেহারা মুবারকে ভদ্রতা সুস্পষ্ট। তিনি যা কিছু বলেন, তা পূর্বেই ওজন করে নেন; পরিণাম ভালো না মন্দ হবে, তা চিন্তা করে নেন এবং কওমের কঠোর ও কর্কশ ব্যবহার ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের জবাব ধৈর্যের সঙ্গে প্রদান করেন। অকপটতা ও নেকনিয়ত তার ললাট হতে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়। অথচ তাঁর কওম তাকে বলল "নিঃসন্দেহে আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখছি এবং নিঃসন্দেহে আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের মধ্যে গণ্য করছি।" কিন্তু হযরত হূদ আ. তাদেরকে ভারি দরদমাখা জবাবই দিলেন: হে আমার কওম! আমি নির্বোধ নই বরং আমি রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে প্রেরিত রাসূল। তোমাদের কাছে আমার রবের পয়গাম পৌঁছে দিচ্ছি এবং আছি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী।

সুতরাং বুঝা যাচ্ছে, আল্লাহ পাকের মনোনীত বান্দা যখন কারো কল্যাণ কামনা করেন এবং বাঁকা পথের পথিকদের সরল পথে আনার জন্য উপদেশ প্রদান করেন, তখন তাঁর অন্তর্দৃষ্টি নির্বোধ লোকদের অর্থহীন উক্তি, ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং হীন প্রতিপন্ন করার কোনো পরোয়া করেন না। অন্তরে ব্যথা ও দুঃখ নিয়ে সত্য প্রচার হতে মুখ ফিরিয়ে নেন না বরং চরিত্র মাধুর্য, নম্রতা এবং দয়ার সঙ্গে আধ্যাত্মিক রোগীদের চিকিৎসায় মগ্ন থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদের এ নসিহত ও কল্যাণ কামনার জন্য কওমের কাছ থেকে কোনো বিনিময়ের প্রত্যাশা করেন না। তাই বলে তাঁর জীবনের এ পরিশ্রম পারিশ্রমিক শূন্য কিংবা বদলা শূন্য নয়। যেমন কোরআনে ঘোষিত হয়েছে: "আর আমি তোমাদের কাছে এই নসিহতের জন্য কোনো বিনিময় চাই না। আমার বিনিময় তো কেবল আল্লাহ পাকের দায়িত্বেই রয়েছে।"

হযরত হূদ আ. বড় মহব্বতের সাথে আপন কওমকে আল্লাহ পাকের একত্ববাদের প্রতি ঈমান আনার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন চিরস্থায়ী নেয়ামতসমূহের কথা এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভবিষ্যতের জন্য; কিন্তু হতভাগ্য কওম কোনো প্রকারেই তাঁর কথা মেনে নিল না।

এর কারণ হলো, তাদের মূর্খতাসুলভ আকিদা অর্থাৎ পূর্বপুরুষদের রসম-রেওয়াজ, তাদের নিজ হাতে গড়া মূর্তিসমূহের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি আওয়াজ তুলবে, সে-ই উক্ত মূর্তিসমূহের অভিশাপে পতিত হবে। এ মূর্খ আকিদা পোষণকারী প্রত্যেক সম্প্রদায়ের ব্যবহারই তাদের কাছে প্রেরিত নবী ও রাসূল আ.-এর সঙ্গে এরূপ হয়েছে।

সকল নবী-রাসূলগণের একটি উত্তম আদর্শ রীতি ছিল, তাবলিগ এবং সত্য প্রচারের পথে যত মন্দ ব্যবহারই আসুক না কেন, তার বদলা সর্বোত্তম ব্যবহার দ্বারা দেওয়া। কর্কশ ও কঠোর কথার উত্তর মধুরবাণী দ্বারা প্রদান। তারা স্বজাতিকে অবিরত পাপাচার ও অবাধ্যতার উপর আল্লাহর বিধান এবং ভবিষ্যতের ভয়াবহ পরিণামের ব্যাপারে সতর্ক করে দিতেন। অনবরত দাওয়াত ও তাবলিগের পরও কোনো সম্প্রদায় যখন চূড়ান্তভাবে অবাধ্যতা ও হঠকারিতা প্রদর্শন করে, তখন তাদের ওপর পতিত হয় আল্লাহর ক্রোধ ও গজব। ধরাপৃষ্ঠ থেকে তাদের অস্তিত্ব মুছে যায়, অন্য কোনো সম্প্রদায়কে তাদের স্থলাভিষিক্ত করে দেয়। যেমন হযরত নূহ আ. ও হযরত হূদ আ.-এর সম্প্রদায়ের ঘটনাই এর বাস্তব এবং উপদেশমূলক দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তার অবাধ্যতার ক্রোধ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত হুদ আ. সম্পর্কে কিছু তথ্য

📄 হযরত হুদ আ. সম্পর্কে কিছু তথ্য


• হযরত হূদ আ. আজ থেকে ৬ হাজার বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর জন্মস্থানের বর্তমান নাম আহকাব বা উবার নগরী।
• হযরত হূদ আ. আদ জাতির সর্বাপেক্ষা সম্মানিত শাখা 'খুলদ'-এর একজন ছিলেন।
• তিনি সাদা-লাল বর্ণের এবং গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন। তাঁর দাড়ি সুদীর্ঘ ছিল।
• তাঁর কবর হাযরামাউতের কাসিরে আহমার অর্থাৎ লাল টিলার চূড়ায় অবস্থিত।
• তিনি নূহ আ.-এর পুত্র শামের বংশধর বনি আদ গোত্রকে আল্লাহর পথে দীনের দাওয়াত দেন।
• আদ জাতির রাজধানী ছিল ইয়ামেন।
• বনি আদ গোত্রকে আমালিকা সম্প্রদায়ও বলা হয়।
• আদ শব্দের অর্থ উচ্চ।
• সময়ের স্বৈরাচারী বাদশা শাদ্দাদকে তিনি দীনের দাওয়াত দিয়েছিলেন।
• এ জালিম বাদশা শাদ্দাদই ইয়ামান প্রদেশে বেহেশত তৈরি করেছিল।

• হযরত হূদ আ. আজ থেকে ৬ হাজার বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর জন্মস্থানের বর্তমান নাম আহকাব বা উবার নগরী।
• হযরত হূদ আ. আদ জাতির সর্বাপেক্ষা সম্মানিত শাখা 'খুলদ'-এর একজন ছিলেন।
• তিনি সাদা-লাল বর্ণের এবং গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন। তাঁর দাড়ি সুদীর্ঘ ছিল।
• তাঁর কবর হাযরামাউতের কাসিরে আহমার অর্থাৎ লাল টিলার চূড়ায় অবস্থিত।
• তিনি নূহ আ.-এর পুত্র শামের বংশধর বনি আদ গোত্রকে আল্লাহর পথে দীনের দাওয়াত দেন।
• আদ জাতির রাজধানী ছিল ইয়ামেন।
• বনি আদ গোত্রকে আমালিকা সম্প্রদায়ও বলা হয়।
• আদ শব্দের অর্থ উচ্চ।
• সময়ের স্বৈরাচারী বাদশা শাদ্দাদকে তিনি দীনের দাওয়াত দিয়েছিলেন।
• এ জালিম বাদশা শাদ্দাদই ইয়ামান প্রদেশে বেহেশত তৈরি করেছিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px