📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কওমে আদের ধর্ম

📄 কওমে আদের ধর্ম


আদ সম্প্রদায় ছিল মূর্তিপূজক। তাদের পূর্ববর্তী নূহ আ.-এর কওমের মতো মূর্তিপূজা এবং মূর্তি নির্মাণের কাজে তারা ছিল অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ। প্রাচীন ঐতিহাসিকদের মধ্যে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেন, এদের বাতিল মাবুদগুলোও নূহ আ.-এর কওমের বাতিল মাবুদগুলোর মতো ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগৃছ এবং নাসর-ই ছিল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে একটি রেওয়ায়েত উদ্ধৃত আছে। বর্ণিত আছে, তাদের একটি মূর্তির নাম ছিল ছামুদ এবং অন্য একটি নাম ছিল হাতার।

আদ সম্প্রদায় ছিল মূর্তিপূজক। তাদের পূর্ববর্তী নূহ আ.-এর কওমের মতো মূর্তিপূজা এবং মূর্তি নির্মাণের কাজে তারা ছিল অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ। প্রাচীন ঐতিহাসিকদের মধ্যে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেন, এদের বাতিল মাবুদগুলোও নূহ আ.-এর কওমের বাতিল মাবুদগুলোর মতো ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগৃছ এবং নাসর-ই ছিল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে একটি রেওয়ায়েত উদ্ধৃত আছে। বর্ণিত আছে, তাদের একটি মূর্তির নাম ছিল ছামুদ এবং অন্য একটি নাম ছিল হাতার।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 আদ সম্প্রদায়ের ধ্বংস

📄 আদ সম্প্রদায়ের ধ্বংস


আদ সম্প্রদায়ের ধ্বংসের ব্যাপারে মুফাসসিরিনে কেরাম ও অন্যান্য লেখকগণ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক যাশারের বর্ণিত একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটি হলো, হূদ আ.-এর কওমের লোকেরা ঈমান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে যখন কুফরির ওপর দৃঢ় হয়ে থাকল। তখন আল্লাহ একাধারে তিন বছর পর্যন্ত তাদের ওপর বৃষ্টিপাত বন্ধ রাখেন। ফলে তারা দুর্ভিক্ষে পতিত হয়। ওই সময়ের নিয়ম ছিল যখন দুর্ভিক্ষ দেখা দিত, তখন তারা মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করত এবং তা করা হতো আল্লাহর ঘরের কাছে হারাম শরিফে। সে যুগের মানুষের কাছে এটা ছিল একটি সুবিদিত রেওয়াজ। তখন সেখানে আমালিক জাতি বাস করত। আমালিকরা হলো আমলিক ইবনে লাওজ ইবনে সাম ইবনে নূহ আ.-এর বংশধর। সেকালে তাদের সর্দার ছিল মুআবিয়া ইবনে বকর। মুআবিয়ার মা ছিলেন আদ গোত্রের। তার নাম ছিল জালহাযা বিনতে খায়বরি।

আদ সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রায় ৭০ জনের একটি দলকে বৃষ্টির জন্যে দোয়া করা হারাম শরিফে পাঠায়। তারা মক্কার উপকণ্ঠে মুআবিয়া ইবনে বকরের বাড়িতে গিয়ে উঠে। মুআবিয়াও তাদের মেহমানদারি করে। তারা সেখানে এক মাস অবস্থান করে সেখানে তারা মদ পান করত। আর মুআবিয়ার দুই গায়িকার গান শুনত। নিজেদের দেশ থেকে মুআবিয়ার কাছে যেতে তাদের এক মাস সময় লেগেছিল। এদের দীর্ঘ দিন অবস্থানের ফলে আপন লোকদের দুর্গতির কথা ভেবে মুআবিয়ার মনে করুণা হয় অথচ তাদের ফিরে যাওয়ার ব্যাপারেও তিনি সঙ্কোচ বোধ করেন। তাই তিনি একা কবিতা রচনা করে তাদের দেন এবং গানের মাধ্যমে তা শুনানোর জন্যে গায়িকাদের নির্দেশ দেন। কবিতাটিতে তিনি আদ জাতির খরাজনিত দুরাবস্থার বর্ণনা দিয়ে প্রতিনিধিদলকে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য অভিযুক্ত করেন এবং তাদেরকে তাদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন।

তখন দলের সবাই তাদের আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন হলো। সুতরাং সকলে হারাম শরিফে গিয়ে উপস্থিত হলো এবং গোত্রের লোকেরা দোয়া করতে লাগল। দোয়া পরিচালনা করলেন কায়লা ইবনে আনায। তখন আল্লাহ সাদা, লাল ও কালো তিন ধরনের মেঘ সৃষ্টি করলেন। পরে আকাশ থেকে একটি ঘোষণা শোনা গেল, কায়লা! এ মেঘগুলোর মধ্য থেকে যে কোনো একটি তোমার নিজের এবং তোমার গোত্রের লোকদের জন্য বেছে নাও। কায়লা বলল, আমি কালোটা বেছে নিলাম। কেননা কালো মেঘে বৃষ্টি বেশি হয়। পুনরায় গায়েবি আওয়াজে তাকে জানানো হলো, তুমি ছাই-ভস্ম পছন্দ করেছ; ধ্বংসটাই বাছাই করে নিয়েছ। এ মেঘ আদ গোত্রের কাউকে রেহাই দেবে না; পিতা-পুত্র কাউকে ছাড়বে না। এটা বনু লুদিয়া ছাড়া সবাইকে ধ্বংস করবে।

বনু লুদিয়া আদ গোত্রেরই একটি শাখা। এরা মক্কায় বসবাস করত। তারা এ আযাবের আওতায় পড়ে নি। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, দ্বিতীয় আদ বা ছামূদ জাতি এদেরই বংশধর। তারপর কায়লা ইবনে আনায যে কালো মেঘটি পছন্দ করেছিল, আল্লাহ তা আদ গোত্রের দিকে প্রেরণ করেন। মেঘ মুগিছ নামক উপত্যকায় পৌঁছলে তা লোকদের দৃষ্টিগোচর হয়। মেঘ দেখেই তারা একে অপরকে আনন্দবার্তা পৌঁছাতে থাকে, এই তো মেঘ এসে গেছে! এখনই বৃষ্টি হবে! আল্লাহ তাআলা বলেন: বরং এটা তো তা-ই, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চেয়েছিলে। এতে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তিবাহী এক ঝড়। তার প্রতিপালকের নির্দেশে সে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। (সূরা আহকাফ: ২৪-২৫)

অর্থাৎ যেসব জিনিসকে ধ্বংস করার নির্দেশ আসবে, তা সেসব জিনিসকেই ধ্বংস করবে। এ মেঘ যে আসলে একটা ঝঞ্ঝালস্ এবং তার মধ্যে শাস্তি লুকিয়ে আছে। তা সর্বপ্রথম ফাহদ নাম্নী আদ গোত্রীয় এক মহিলার চোখে ধরা পড়ে। তা স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েই সে চীৎকার করে বেহুশ হয়ে পড়ে। চেতনা ফিরে আসার পর লোকজন বলল, 'ফাহদ! তুমি কী দেখেছিলে?' সে বলল, 'দেখলাম একটা ঝঞ্ঝাবায়ু! তার মধ্যে যেন অগ্নিশিখা জ্বলছে! তার অগ্রভাগে কয়েকজন লোক তা ধরে টেনে আনছে।'

তারপর আল্লাহ তাআলা তাদের উপর সে আযাব একটানা সাত রাত ও আট দিন পর্যন্ত অব্যাহত রাখেন। চিরদিনের জন্য তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের একজন লোকও অবশিষ্ট থাকে নি। হুদ আ. মুমিনদের সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাচীর বেষ্টিত স্থানে চলে যান। এ ঝড়ের আঘাত তাদের স্পর্শ করে নি বরং সে বাতাসের স্পর্শে তাঁদের ত্বক আরো কোমলতা লাভ করে এবং তাঁদের মনে স্ফুর্তি আসে। অথচ ঝঞ্ঝাবায়ু আদ সম্প্রদায়ের ওপরে আসমান-জমিন জুড়ে আঘাত হেনেছিল এবং পাথর নিক্ষেপ করে তাদেরকে বিনাশ করেছিল। ইবনে ইসহাক রহ. এ ঘটনা বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন।

আদ সম্প্রদায়ের ধ্বংসের ব্যাপারে মুফাসসিরিনে কেরাম ও অন্যান্য লেখকগণ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক যাশারের বর্ণিত একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটি হলো, হূদ আ.-এর কওমের লোকেরা ঈমান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে যখন কুফরির ওপর দৃঢ় হয়ে থাকল। তখন আল্লাহ একাধারে তিন বছর পর্যন্ত তাদের ওপর বৃষ্টিপাত বন্ধ রাখেন। ফলে তারা দুর্ভিক্ষে পতিত হয়। ওই সময়ের নিয়ম ছিল যখন দুর্ভিক্ষ দেখা দিত, তখন তারা মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করত এবং তা করা হতো আল্লাহর ঘরের কাছে হারাম শরিফে। সে যুগের মানুষের কাছে এটা ছিল একটি সুবিদিত রেওয়াজ। তখন সেখানে আমালিক জাতি বাস করত। আমালিকরা হলো আমলিক ইবনে লাওজ ইবনে সাম ইবনে নূহ আ.-এর বংশধর। সেকালে তাদের সর্দার ছিল মুআবিয়া ইবনে বকর। মুআবিয়ার মা ছিলেন আদ গোত্রের। তার নাম ছিল জালহাযা বিনতে খায়বরি।

আদ সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রায় ৭০ জনের একটি দলকে বৃষ্টির জন্যে দোয়া করা হারাম শরিফে পাঠায়। তারা মক্কার উপকণ্ঠে মুআবিয়া ইবনে বকরের বাড়িতে গিয়ে উঠে। মুআবিয়াও তাদের মেহমানদারি করে। তারা সেখানে এক মাস অবস্থান করে সেখানে তারা মদ পান করত। আর মুআবিয়ার দুই গায়িকার গান শুনত। নিজেদের দেশ থেকে মুআবিয়ার কাছে যেতে তাদের এক মাস সময় লেগেছিল। এদের দীর্ঘ দিন অবস্থানের ফলে আপন লোকদের দুর্গতির কথা ভেবে মুআবিয়ার মনে করুণা হয় অথচ তাদের ফিরে যাওয়ার ব্যাপারেও তিনি সঙ্কোচ বোধ করেন। তাই তিনি একা কবিতা রচনা করে তাদের দেন এবং গানের মাধ্যমে তা শুনানোর জন্যে গায়িকাদের নির্দেশ দেন। কবিতাটিতে তিনি আদ জাতির খরাজনিত দুরাবস্থার বর্ণনা দিয়ে প্রতিনিধিদলকে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য অভিযুক্ত করেন এবং তাদেরকে তাদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন।

তখন দলের সবাই তাদের আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন হলো। সুতরাং সকলে হারাম শরিফে গিয়ে উপস্থিত হলো এবং গোত্রের লোকেরা দোয়া করতে লাগল। দোয়া পরিচালনা করলেন কায়লা ইবনে আনায। তখন আল্লাহ সাদা, লাল ও কালো তিন ধরনের মেঘ সৃষ্টি করলেন। পরে আকাশ থেকে একটি ঘোষণা শোনা গেল, কায়লা! এ মেঘগুলোর মধ্য থেকে যে কোনো একটি তোমার নিজের এবং তোমার গোত্রের লোকদের জন্য বেছে নাও। কায়লা বলল, আমি কালোটা বেছে নিলাম। কেননা কালো মেঘে বৃষ্টি বেশি হয়। পুনরায় গায়েবি আওয়াজে তাকে জানানো হলো, তুমি ছাই-ভস্ম পছন্দ করেছ; ধ্বংসটাই বাছাই করে নিয়েছ। এ মেঘ আদ গোত্রের কাউকে রেহাই দেবে না; পিতা-পুত্র কাউকে ছাড়বে না। এটা বনু লুদিয়া ছাড়া সবাইকে ধ্বংস করবে।

বনু লুদিয়া আদ গোত্রেরই একটি শাখা। এরা মক্কায় বসবাস করত। তারা এ আযাবের আওতায় পড়ে নি। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, দ্বিতীয় আদ বা ছামূদ জাতি এদেরই বংশধর। তারপর কায়লা ইবনে আনায যে কালো মেঘটি পছন্দ করেছিল, আল্লাহ তা আদ গোত্রের দিকে প্রেরণ করেন। মেঘ মুগিছ নামক উপত্যকায় পৌঁছলে তা লোকদের দৃষ্টিগোচর হয়। মেঘ দেখেই তারা একে অপরকে আনন্দবার্তা পৌঁছাতে থাকে, এই তো মেঘ এসে গেছে! এখনই বৃষ্টি হবে! আল্লাহ তাআলা বলেন: বরং এটা তো তা-ই, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চেয়েছিলে। এতে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তিবাহী এক ঝড়। তার প্রতিপালকের নির্দেশে সে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। (সূরা আহকাফ: ২৪-২৫)

অর্থাৎ যেসব জিনিসকে ধ্বংস করার নির্দেশ আসবে, তা সেসব জিনিসকেই ধ্বংস করবে। এ মেঘ যে আসলে একটা ঝঞ্ঝালস্ এবং তার মধ্যে শাস্তি লুকিয়ে আছে। তা সর্বপ্রথম ফাহদ নাম্নী আদ গোত্রীয় এক মহিলার চোখে ধরা পড়ে। তা স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েই সে চীৎকার করে বেহুশ হয়ে পড়ে। চেতনা ফিরে আসার পর লোকজন বলল, 'ফাহদ! তুমি কী দেখেছিলে?' সে বলল, 'দেখলাম একটা ঝঞ্ঝাবায়ু! তার মধ্যে যেন অগ্নিশিখা জ্বলছে! তার অগ্রভাগে কয়েকজন লোক তা ধরে টেনে আনছে।'

তারপর আল্লাহ তাআলা তাদের উপর সে আযাব একটানা সাত রাত ও আট দিন পর্যন্ত অব্যাহত রাখেন। চিরদিনের জন্য তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের একজন লোকও অবশিষ্ট থাকে নি। হুদ আ. মুমিনদের সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাচীর বেষ্টিত স্থানে চলে যান। এ ঝড়ের আঘাত তাদের স্পর্শ করে নি বরং সে বাতাসের স্পর্শে তাঁদের ত্বক আরো কোমলতা লাভ করে এবং তাঁদের মনে স্ফুর্তি আসে। অথচ ঝঞ্ঝাবায়ু আদ সম্প্রদায়ের ওপরে আসমান-জমিন জুড়ে আঘাত হেনেছিল এবং পাথর নিক্ষেপ করে তাদেরকে বিনাশ করেছিল। ইবনে ইসহাক রহ. এ ঘটনা বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত হুদ আ.-এর ওফাত

📄 হযরত হুদ আ.-এর ওফাত


আরববাসী হযরত হুদ আ.-এর ওফাত এবং তাঁর কবর সম্বন্ধে বিভিন্ন প্রকারের দাবি করে থাকে। হাযরামাউতের অধিবাসীরা দাবি করে, আদ সম্প্রদায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিনি হাযরামাউতের দিকে হিজরত করে চলে আসেন এবং সেখানেই তাঁর ইনতেকাল হয় আর ওয়াদিয়া বারহুতের কাছে হাযরামাউতের পূর্বাংশে 'তারিম' শহরের প্রায় দুই মাইলের মাথায় তাঁকে দাফন করা হয়।

হযরত আলি রাযি. থেকে এক রেওয়ায়েত আছে, তাঁর কবর হাযরামাউতে 'কাসিরে আহম' অর্থাৎ লালটিলার চূড়ায় অবস্থিত এবং তার শিয়রে একটি ঝাউগাছ দণ্ডায়মান। ফিলিস্তিনবাসীরা বলেন, তিনি ফিলিস্তিনে সমাহিত হয়েছেন। তারা সেখানে তাঁর কবর পাকা করে রেখেছে এবং সেখানে বার্ষিক ওরসও করে থাকে। কিন্তু এ রেওয়ায়েতগুলোর মধ্যে হাযরামাউতের রেওয়ায়েতটিই শুদ্ধ বলে ধারণা হয়। কেননা কওমে আদের বস্তিগুলো হাযরামাউতের কাছে ছিল। সুতরাং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে বুঝা যায়, আদ সম্প্রদায়ের ধ্বংসের পর হযরত হূদ আ. কাছের বস্তিগুলোতেই অবস্থান করে থাকবেন এবং সেখানেই ইহকাল ত্যাগ করে থাকবেন। আর তা হাযরামাউত-ই।

আরববাসী হযরত হুদ আ.-এর ওফাত এবং তাঁর কবর সম্বন্ধে বিভিন্ন প্রকারের দাবি করে থাকে। হাযরামাউতের অধিবাসীরা দাবি করে, আদ সম্প্রদায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিনি হাযরামাউতের দিকে হিজরত করে চলে আসেন এবং সেখানেই তাঁর ইনতেকাল হয় আর ওয়াদিয়া বারহুতের কাছে হাযরামাউতের পূর্বাংশে 'তারিম' শহরের প্রায় দুই মাইলের মাথায় তাঁকে দাফন করা হয়।

হযরত আলি রাযি. থেকে এক রেওয়ায়েত আছে, তাঁর কবর হাযরামাউতে 'কাসিরে আহম' অর্থাৎ লালটিলার চূড়ায় অবস্থিত এবং তার শিয়রে একটি ঝাউগাছ দণ্ডায়মান। ফিলিস্তিনবাসীরা বলেন, তিনি ফিলিস্তিনে সমাহিত হয়েছেন। তারা সেখানে তাঁর কবর পাকা করে রেখেছে এবং সেখানে বার্ষিক ওরসও করে থাকে। কিন্তু এ রেওয়ায়েতগুলোর মধ্যে হাযরামাউতের রেওয়ায়েতটিই শুদ্ধ বলে ধারণা হয়। কেননা কওমে আদের বস্তিগুলো হাযরামাউতের কাছে ছিল। সুতরাং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে বুঝা যায়, আদ সম্প্রদায়ের ধ্বংসের পর হযরত হূদ আ. কাছের বস্তিগুলোতেই অবস্থান করে থাকবেন এবং সেখানেই ইহকাল ত্যাগ করে থাকবেন। আর তা হাযরামাউত-ই।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 উপদেশমূলক দৃষ্টান্ত

📄 উপদেশমূলক দৃষ্টান্ত


১। যে ব্যক্তি আদ সম্প্রদায়ের ঘটনা পাঠ করবে, তার চোখের সামনে এমন একটি সত্তার কল্পনা এসে যাবে, যিনি গাম্ভীর্য ও দৃঢ়তার এক মূর্তপ্রতীক এবং যার চেহারা মুবারকে ভদ্রতা সুস্পষ্ট। তিনি যা কিছু বলেন, তা পূর্বেই ওজন করে নেন; পরিণাম ভালো না মন্দ হবে, তা চিন্তা করে নেন এবং কওমের কঠোর ও কর্কশ ব্যবহার ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের জবাব ধৈর্যের সঙ্গে প্রদান করেন। অকপটতা ও নেকনিয়ত তার ললাট হতে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়। অথচ তাঁর কওম তাকে বলল "নিঃসন্দেহে আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখছি এবং নিঃসন্দেহে আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের মধ্যে গণ্য করছি।" কিন্তু হযরত হূদ আ. তাদেরকে ভারি দরদমাখা জবাবই দিলেন: হে আমার কওম! আমি নির্বোধ নই বরং আমি রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে প্রেরিত রাসূল। তোমাদের কাছে আমার রবের পয়গাম পৌঁছে দিচ্ছি এবং আছি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী।

সুতরাং বুঝা যাচ্ছে, আল্লাহ পাকের মনোনীত বান্দা যখন কারো কল্যাণ কামনা করেন এবং বাঁকা পথের পথিকদের সরল পথে আনার জন্য উপদেশ প্রদান করেন, তখন তাঁর অন্তর্দৃষ্টি নির্বোধ লোকদের অর্থহীন উক্তি, ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং হীন প্রতিপন্ন করার কোনো পরোয়া করেন না। অন্তরে ব্যথা ও দুঃখ নিয়ে সত্য প্রচার হতে মুখ ফিরিয়ে নেন না বরং চরিত্র মাধুর্য, নম্রতা এবং দয়ার সঙ্গে আধ্যাত্মিক রোগীদের চিকিৎসায় মগ্ন থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদের এ নসিহত ও কল্যাণ কামনার জন্য কওমের কাছ থেকে কোনো বিনিময়ের প্রত্যাশা করেন না। তাই বলে তাঁর জীবনের এ পরিশ্রম পারিশ্রমিক শূন্য কিংবা বদলা শূন্য নয়। যেমন কোরআনে ঘোষিত হয়েছে: "আর আমি তোমাদের কাছে এই নসিহতের জন্য কোনো বিনিময় চাই না। আমার বিনিময় তো কেবল আল্লাহ পাকের দায়িত্বেই রয়েছে।"

হযরত হূদ আ. বড় মহব্বতের সাথে আপন কওমকে আল্লাহ পাকের একত্ববাদের প্রতি ঈমান আনার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন চিরস্থায়ী নেয়ামতসমূহের কথা এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভবিষ্যতের জন্য; কিন্তু হতভাগ্য কওম কোনো প্রকারেই তাঁর কথা মেনে নিল না।

এর কারণ হলো, তাদের মূর্খতাসুলভ আকিদা অর্থাৎ পূর্বপুরুষদের রসম-রেওয়াজ, তাদের নিজ হাতে গড়া মূর্তিসমূহের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি আওয়াজ তুলবে, সে-ই উক্ত মূর্তিসমূহের অভিশাপে পতিত হবে। এ মূর্খ আকিদা পোষণকারী প্রত্যেক সম্প্রদায়ের ব্যবহারই তাদের কাছে প্রেরিত নবী ও রাসূল আ.-এর সঙ্গে এরূপ হয়েছে।

সকল নবী-রাসূলগণের একটি উত্তম আদর্শ রীতি ছিল, তাবলিগ এবং সত্য প্রচারের পথে যত মন্দ ব্যবহারই আসুক না কেন, তার বদলা সর্বোত্তম ব্যবহার দ্বারা দেওয়া। কর্কশ ও কঠোর কথার উত্তর মধুরবাণী দ্বারা প্রদান। তারা স্বজাতিকে অবিরত পাপাচার ও অবাধ্যতার উপর আল্লাহর বিধান এবং ভবিষ্যতের ভয়াবহ পরিণামের ব্যাপারে সতর্ক করে দিতেন। অনবরত দাওয়াত ও তাবলিগের পরও কোনো সম্প্রদায় যখন চূড়ান্তভাবে অবাধ্যতা ও হঠকারিতা প্রদর্শন করে, তখন তাদের ওপর পতিত হয় আল্লাহর ক্রোধ ও গজব। ধরাপৃষ্ঠ থেকে তাদের অস্তিত্ব মুছে যায়, অন্য কোনো সম্প্রদায়কে তাদের স্থলাভিষিক্ত করে দেয়। যেমন হযরত নূহ আ. ও হযরত হূদ আ.-এর সম্প্রদায়ের ঘটনাই এর বাস্তব এবং উপদেশমূলক দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তার অবাধ্যতার ক্রোধ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

১। যে ব্যক্তি আদ সম্প্রদায়ের ঘটনা পাঠ করবে, তার চোখের সামনে এমন একটি সত্তার কল্পনা এসে যাবে, যিনি গাম্ভীর্য ও দৃঢ়তার এক মূর্তপ্রতীক এবং যার চেহারা মুবারকে ভদ্রতা সুস্পষ্ট। তিনি যা কিছু বলেন, তা পূর্বেই ওজন করে নেন; পরিণাম ভালো না মন্দ হবে, তা চিন্তা করে নেন এবং কওমের কঠোর ও কর্কশ ব্যবহার ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের জবাব ধৈর্যের সঙ্গে প্রদান করেন। অকপটতা ও নেকনিয়ত তার ললাট হতে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়। অথচ তাঁর কওম তাকে বলল "নিঃসন্দেহে আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখছি এবং নিঃসন্দেহে আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের মধ্যে গণ্য করছি।" কিন্তু হযরত হূদ আ. তাদেরকে ভারি দরদমাখা জবাবই দিলেন: হে আমার কওম! আমি নির্বোধ নই বরং আমি রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে প্রেরিত রাসূল। তোমাদের কাছে আমার রবের পয়গাম পৌঁছে দিচ্ছি এবং আছি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী।

সুতরাং বুঝা যাচ্ছে, আল্লাহ পাকের মনোনীত বান্দা যখন কারো কল্যাণ কামনা করেন এবং বাঁকা পথের পথিকদের সরল পথে আনার জন্য উপদেশ প্রদান করেন, তখন তাঁর অন্তর্দৃষ্টি নির্বোধ লোকদের অর্থহীন উক্তি, ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং হীন প্রতিপন্ন করার কোনো পরোয়া করেন না। অন্তরে ব্যথা ও দুঃখ নিয়ে সত্য প্রচার হতে মুখ ফিরিয়ে নেন না বরং চরিত্র মাধুর্য, নম্রতা এবং দয়ার সঙ্গে আধ্যাত্মিক রোগীদের চিকিৎসায় মগ্ন থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদের এ নসিহত ও কল্যাণ কামনার জন্য কওমের কাছ থেকে কোনো বিনিময়ের প্রত্যাশা করেন না। তাই বলে তাঁর জীবনের এ পরিশ্রম পারিশ্রমিক শূন্য কিংবা বদলা শূন্য নয়। যেমন কোরআনে ঘোষিত হয়েছে: "আর আমি তোমাদের কাছে এই নসিহতের জন্য কোনো বিনিময় চাই না। আমার বিনিময় তো কেবল আল্লাহ পাকের দায়িত্বেই রয়েছে।"

হযরত হূদ আ. বড় মহব্বতের সাথে আপন কওমকে আল্লাহ পাকের একত্ববাদের প্রতি ঈমান আনার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন চিরস্থায়ী নেয়ামতসমূহের কথা এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভবিষ্যতের জন্য; কিন্তু হতভাগ্য কওম কোনো প্রকারেই তাঁর কথা মেনে নিল না।

এর কারণ হলো, তাদের মূর্খতাসুলভ আকিদা অর্থাৎ পূর্বপুরুষদের রসম-রেওয়াজ, তাদের নিজ হাতে গড়া মূর্তিসমূহের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি আওয়াজ তুলবে, সে-ই উক্ত মূর্তিসমূহের অভিশাপে পতিত হবে। এ মূর্খ আকিদা পোষণকারী প্রত্যেক সম্প্রদায়ের ব্যবহারই তাদের কাছে প্রেরিত নবী ও রাসূল আ.-এর সঙ্গে এরূপ হয়েছে।

সকল নবী-রাসূলগণের একটি উত্তম আদর্শ রীতি ছিল, তাবলিগ এবং সত্য প্রচারের পথে যত মন্দ ব্যবহারই আসুক না কেন, তার বদলা সর্বোত্তম ব্যবহার দ্বারা দেওয়া। কর্কশ ও কঠোর কথার উত্তর মধুরবাণী দ্বারা প্রদান। তারা স্বজাতিকে অবিরত পাপাচার ও অবাধ্যতার উপর আল্লাহর বিধান এবং ভবিষ্যতের ভয়াবহ পরিণামের ব্যাপারে সতর্ক করে দিতেন। অনবরত দাওয়াত ও তাবলিগের পরও কোনো সম্প্রদায় যখন চূড়ান্তভাবে অবাধ্যতা ও হঠকারিতা প্রদর্শন করে, তখন তাদের ওপর পতিত হয় আল্লাহর ক্রোধ ও গজব। ধরাপৃষ্ঠ থেকে তাদের অস্তিত্ব মুছে যায়, অন্য কোনো সম্প্রদায়কে তাদের স্থলাভিষিক্ত করে দেয়। যেমন হযরত নূহ আ. ও হযরত হূদ আ.-এর সম্প্রদায়ের ঘটনাই এর বাস্তব এবং উপদেশমূলক দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তার অবাধ্যতার ক্রোধ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px