📄 কওমে আদ
কওমে আদ সম্পর্কে আলোচনা করার আগে জানা জরুরি, পবিত্র কোরআন মাজিদ কোনো ইতিহাস গ্রন্থ বা তাওরাত গ্রন্থ কওমে আদ সম্বন্ধে আলোকপাত করে নি। সুতরাং এ কওমের আলোচনা কেবল কোরআন মাজিদ দ্বারা করা সম্ভব। কোরআন মাজিদ যেহেতু নিশ্চিত সত্য, তাই তাতে বর্ণিত তথ্যাবলীও নিঃসন্দেহে সত্য। এ ছাড়া অনেক গ্রন্থতত্ত্ববিদ অনুমান নির্ভর তথ্য পরিবেশন করেছেন, যা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।
কওমে আদ আরব দেশের প্রাচীন গোত্র কিংবা 'সামের' সঙ্গে সম্পর্কিত সম্প্রদায় হতে বিশেষ শক্তি ও পরাক্রমশালী একটি দলের নাম। প্রাচীন ইতিহাসের কোনো কোনো ইউরোপীয় ঐতিহাসিক আদকে একটি কাল্পনিক কাহিনি বলে মনে করে। তাদের এ বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভুল এবং অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। কেননা নতুন গবেষণায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এরূপ, আরবের আদি অধিবাসীরা সংখ্যাধিক্য এবং বহুগোষ্ঠী হিসাবে এক মহৎ ও জাঁকালো দলরূপে বিদ্যমান ছিল। এরা আরব দেশ হতে বের হয়ে সিরিয়া, মিশর ও বাবেলের দিকে অগ্রসর হয়ে সেখানে শক্তিশালী রাজত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। পার্থক্য শুধু এতটুকু, আরবরা এ সমস্ত অধিবাসীগণকে 'উমামে বায়েদাহ' বা ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায় কিংবা 'আরবে আরেবাহ' বা খাঁটি আরব বলত। আর এদের বিভিন্ন গোত্র বা দলকে আদ, সামুদ, তাসাম এবং জাদিস নামে আখ্যায়িত করত। কোরআন মাজিদে এদের বলা হয়েছে প্রথম আদ। যা দ্বারা একথা পরিষ্কার হয়ে যায়, আরবের প্রাচীন অধিবাসীরা 'সামের বংশধর এবং প্রথম আদ'। এটা একই মূল বস্তুর দুটি নাম।
কওমে আদ সম্পর্কে আলোচনা করার আগে জানা জরুরি, পবিত্র কোরআন মাজিদ কোনো ইতিহাস গ্রন্থ বা তাওরাত গ্রন্থ কওমে আদ সম্বন্ধে আলোকপাত করে নি। সুতরাং এ কওমের আলোচনা কেবল কোরআন মাজিদ দ্বারা করা সম্ভব। কোরআন মাজিদ যেহেতু নিশ্চিত সত্য, তাই তাতে বর্ণিত তথ্যাবলীও নিঃসন্দেহে সত্য। এ ছাড়া অনেক গ্রন্থতত্ত্ববিদ অনুমান নির্ভর তথ্য পরিবেশন করেছেন, যা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।
কওমে আদ আরব দেশের প্রাচীন গোত্র কিংবা 'সামের' সঙ্গে সম্পর্কিত সম্প্রদায় হতে বিশেষ শক্তি ও পরাক্রমশালী একটি দলের নাম। প্রাচীন ইতিহাসের কোনো কোনো ইউরোপীয় ঐতিহাসিক আদকে একটি কাল্পনিক কাহিনি বলে মনে করে। তাদের এ বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভুল এবং অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। কেননা নতুন গবেষণায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এরূপ, আরবের আদি অধিবাসীরা সংখ্যাধিক্য এবং বহুগোষ্ঠী হিসাবে এক মহৎ ও জাঁকালো দলরূপে বিদ্যমান ছিল। এরা আরব দেশ হতে বের হয়ে সিরিয়া, মিশর ও বাবেলের দিকে অগ্রসর হয়ে সেখানে শক্তিশালী রাজত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। পার্থক্য শুধু এতটুকু, আরবরা এ সমস্ত অধিবাসীগণকে 'উমামে বায়েদাহ' বা ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায় কিংবা 'আরবে আরেবাহ' বা খাঁটি আরব বলত। আর এদের বিভিন্ন গোত্র বা দলকে আদ, সামুদ, তাসাম এবং জাদিস নামে আখ্যায়িত করত। কোরআন মাজিদে এদের বলা হয়েছে প্রথম আদ। যা দ্বারা একথা পরিষ্কার হয়ে যায়, আরবের প্রাচীন অধিবাসীরা 'সামের বংশধর এবং প্রথম আদ'। এটা একই মূল বস্তুর দুটি নাম।
📄 আদ সম্প্রদায়ের যামানা
অনুমান করা হয়, আদ সম্প্রদায়ের যুগ ছিল হযরত ঈসা আ.-এর প্রায় দুই হাজার বছর আগে। আর কোরআন মাজিদে আদ সম্প্রদায়কে ‘নূহের সম্প্রদায়ের পরে’ বলে উল্লেখ করা হয়। তাই আদ সম্প্রদায়কে নূহ আ.-এর পরবর্তী সম্প্রদায়গুলোর অন্যতম গণ্য করা হয়েছে। এ হতেও প্রমাণিত হয়, সিরিয়া অঞ্চলে দ্বিতীয়বার আবাদ হওয়ার পরে ‘উমামে সামিয়ার’ তথা সামের বংশধরদের উন্নতি আদ সম্প্রদায় হতেই আরম্ভ হয়।
অনুমান করা হয়, আদ সম্প্রদায়ের যুগ ছিল হযরত ঈসা আ.-এর প্রায় দুই হাজার বছর আগে। আর কোরআন মাজিদে আদ সম্প্রদায়কে ‘নূহের সম্প্রদায়ের পরে’ বলে উল্লেখ করা হয়। তাই আদ সম্প্রদায়কে নূহ আ.-এর পরবর্তী সম্প্রদায়গুলোর অন্যতম গণ্য করা হয়েছে। এ হতেও প্রমাণিত হয়, সিরিয়া অঞ্চলে দ্বিতীয়বার আবাদ হওয়ার পরে ‘উমামে সামিয়ার’ তথা সামের বংশধরদের উন্নতি আদ সম্প্রদায় হতেই আরম্ভ হয়।
📄 আদ সম্প্রদায়ের বাসস্থান
আদ সম্প্রদায়ের কেন্দ্রস্থল ‘আহকাফ’ অঞ্চল। এ অঞ্চলটি হাযরামাউতের উত্তরে অবস্থিত। বর্তমানে এখানে বালুকাস্তূপ ছাড়া আর কিছু নেই। আর কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেন, তাদের বসতি আরবের সর্বোৎকৃষ্ট অংশ হাযরামাউত ও ইয়ামানে পারস্য সাগরের তীরে ইরাকের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ইয়ামান ছিল তাদের রাজধানী।
আদ সম্প্রদায়ের কেন্দ্রস্থল ‘আহকাফ’ অঞ্চল। এ অঞ্চলটি হাযরামাউতের উত্তরে অবস্থিত। বর্তমানে এখানে বালুকাস্তূপ ছাড়া আর কিছু নেই। আর কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেন, তাদের বসতি আরবের সর্বোৎকৃষ্ট অংশ হাযরামাউত ও ইয়ামানে পারস্য সাগরের তীরে ইরাকের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ইয়ামান ছিল তাদের রাজধানী।
📄 কওমে আদের ধর্ম
আদ সম্প্রদায় ছিল মূর্তিপূজক। তাদের পূর্ববর্তী নূহ আ.-এর কওমের মতো মূর্তিপূজা এবং মূর্তি নির্মাণের কাজে তারা ছিল অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ। প্রাচীন ঐতিহাসিকদের মধ্যে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেন, এদের বাতিল মাবুদগুলোও নূহ আ.-এর কওমের বাতিল মাবুদগুলোর মতো ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগৃছ এবং নাসর-ই ছিল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে একটি রেওয়ায়েত উদ্ধৃত আছে। বর্ণিত আছে, তাদের একটি মূর্তির নাম ছিল ছামুদ এবং অন্য একটি নাম ছিল হাতার।
আদ সম্প্রদায় ছিল মূর্তিপূজক। তাদের পূর্ববর্তী নূহ আ.-এর কওমের মতো মূর্তিপূজা এবং মূর্তি নির্মাণের কাজে তারা ছিল অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ। প্রাচীন ঐতিহাসিকদের মধ্যে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেন, এদের বাতিল মাবুদগুলোও নূহ আ.-এর কওমের বাতিল মাবুদগুলোর মতো ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগৃছ এবং নাসর-ই ছিল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে একটি রেওয়ায়েত উদ্ধৃত আছে। বর্ণিত আছে, তাদের একটি মূর্তির নাম ছিল ছামুদ এবং অন্য একটি নাম ছিল হাতার।