📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কতিপয় শিক্ষণীয় বিষয়

📄 কতিপয় শিক্ষণীয় বিষয়


১। প্রত্যেক মানুষকে নিজের কার্যকলাপ ও আমলের জন্য নিজেকেই আল্লাহ পাকের দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। সুতরাং পিতার বুযুর্গী ও উচ্চ মর্যাদা দ্বারা পুত্রের পাপের প্রতিকার হতে পারে না এবং পুত্রের নেকআমল ও পারলৌকিক সৌভাগ্য পিতার অবাধ্যতাচরণের বিনিময় বা বদলাও হতে পারে না। হযরত নূহ আ.-এর নবুয়ত ও পয়গম্বরী পুত্র কেনানের কুফরের শাস্তি প্রতিরোধ করতে পারে নি এবং হযরত ইবরাহীম আ.-এর পয়গম্বরী ও উচ্চ মর্যাদা পিতা আযরের শিরকের জন্য মুক্তির কারণ হতে পারে না।

২। খারাপ সম্পর্ক বিষের চেয়েও মারাত্মক। এর প্রতিফল ও পরিণতি কেবলই অপমান, লাঞ্ছনা ও ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষের জন্য নেকআমল যেমনি অত্যন্ত জরুরি, তদপেক্ষা অধিক জরুরি নেককারদের সংশ্রব। পক্ষান্তরে মন্দকার্য থেকে আত্মরক্ষা করা মানুষের জীবনের উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য। তার চেয়ে অধিক প্রয়োজনীয় অসৎ সঙ্গ হতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।
* নূহের পুত্র পাপাচারীদের সাথে উঠাবসা করত। ফলে সে নবীবংশের মর্যাদা হারিয়ে ফেলে। (নবী বংশে জন্মলাভ তার কোনো কাজে আসে নি।)
* আসহাবে কাহাফের কুকুর কিছুদিন নেককারদের সংশ্রব লাভ করে মানব (এর মতো মর্যাদাশালী) হয়ে গেছে।
* নেককারের সংশ্রব তোমাকে নেককার বানিয়ে দেবে। বদকারের সঙ্গ তোমাকে বদকার বানিয়ে ছাড়বে।

৩। আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ নির্ভর ও ভরসা রাখার সাথে বাহ্যিক উপকরণের ব্যবহার তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়। বরং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের জন্য সঠিক কর্মপন্থা। সে কারণেই প্লাবন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নূহ আ.-এর নৌকার প্রয়োজন হয়েছিল।

৪। আল্লাহ তাআলার পয়গম্বর নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও মানবীয় স্বভাবসুলভ কারণে আম্বিয়া আলাইহিস সালামগণের পদস্খলন বা ত্রুটি-বিচ্যুতি সংঘটিত হতে পারে। কিন্তু তারা সেই ত্রুটি-বিচ্যুতির উপর স্থায়ী থাকেননা। বরং আল্লাহ পাকের তরফ হতে তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এবং সেই ত্রুটি হতে তাঁদেরকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়। হযরত আদম আ. ও হযরত নূহ আ.-এর ঘটনাগুলো এর সঠিক সাক্ষ্য। এতদ্ভিন্ন তাঁরা গায়েব সম্পর্কীয় জ্ঞানের অধিকারী নন। যেমন এ ঘটনায় নূহ আ.-কে আল্লাহ বলেছেন: "আমার নিকট এমন বিষয়ের সুপারিশ করো না, যা সম্বন্ধে তুমি অবহিত নও।" এতে পরিষ্কারভাবে উপর্যুক্ত কথাটি বুঝা যায়।

৫। 'কর্মফল' সম্বন্ধীয় আল্লাহ পাকের কানুন যদিও প্রত্যেক ক্ষেত্রেই নিজের কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু প্রত্যেক অপরাধের শাস্তি কিংবা প্রত্যেক নেককাজের বিনিময় দুনিয়াতেই পাওয়া যাওয়া জরুরি নয়। কেননা এ বিশ্বজগৎ কর্মক্ষেত্র। আর কর্মফলের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে পরকালকে। তথাপি জুলুম ও অহঙ্কার এ দুটি মন্দকর্মের শাস্তি কোনো না কোনো প্রকারে দুনিয়াতেও পাওয়া যায়।

ইমাম আবু হানিফা রহ. বলতেন, "জালিম ও অহঙ্কারী লোকেরা মৃত্যুর আগেই নিজেদের জুলুম ও অহঙ্কারের কিছু-না-কিছু শাস্তি পেয়ে থাকে এবং অপমান ও ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়। যেমন আল্লাহ পাকের সত্য পয়গম্বরগণকে কষ্ট প্রদানকারী সম্প্রদায়সমূহের এবং ইতিহাসে উল্লিখিত জালিম ও অহঙ্কারীদের উপদেশমূলক ধ্বংসলীলার ঘটনাসমূহ এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 নূহ আ.-এর কওমের এলাকা ও জুদী পাহাড়

📄 নূহ আ.-এর কওমের এলাকা ও জুদী পাহাড়


সাগর
আর্মেনিয়া
বাকর অঞ্চল
মারেদীন
জুদী পাহাড়
কুর্দিস্তান
মসূল
নিনুয়া
ফুরাত নদী
সামাররা
বাগদাদ
কুফা
বেবিলন
সিরিয়া
পারস্য উপসাগর
আরব

নূহ আ.-এর কওমের এলাকা ও জুদী পাহাড়

ফন্ট সাইজ
15px
17px