📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত নূহ আ.-এর রোযা পালন

📄 হযরত নূহ আ.-এর রোযা পালন


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, হযরত নূহ আ. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ছাড়া সারা বছর রোযা রাখতেন। (ইবনে মাজাহ)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “হযরত নূহ আ. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ছাড়া সারা বছর রোযা রাখতেন। হযরত দাউদ আ. বছরের অর্ধেক সময় রোযা রাখতেন। (অর্থাৎ একদিন পরপর রোযা রাখতেন।) হযরত ইবরাহীম আ. প্রত্যেক মাসে তিন দিন করে রোযা রাখতেন। কখনো রোযা রাখতেন, কখনো রোযা ভাঙতেন। (তাবারানি)"

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত নূহ আ.-এর হজপালন

📄 হযরত নূহ আ.-এর হজপালন


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম "উসফান" উপত্যকা অতিক্রম করছিলেন। এ সময় হযরত আবু বকর রাযি. বললেন, আল্লাহর রাসূল! এটি 'উসফান' উপত্যকা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: এটি এমন এক জায়গা, যেখান থেকে হযরত নূহ আ., হুদ আ. ও ইবরাহীম আ. তাঁদের লাল উটে চড়ে অতিক্রম করেছিলেন। এ উটগুলোর লাগাম ছিল খেজুর পাতার তৈরি। এ সময় তাঁদের পরনে থাকত পশমের তৈরি লম্বা জুব্বা ও চাদর। এ অবস্থায় তাঁরা পবিত্র গৃহের হজপালন করতেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ছেলের প্রতি হযরত নূহ আ.-এর অসিয়ত

📄 ছেলের প্রতি হযরত নূহ আ.-এর অসিয়ত


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. বলেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে বসা ছিলাম। এ সময় এক বেদুঈন এসে সেখানে উপস্থিত হলো। তার পরনে ছিল ইবাদতকারীদের একটি জুব্বা। কিন্তু সে জুব্বাটি ছিল রেশমী কাপড়ের নকশাযুক্ত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা কি জানো, তোমাদের এ সাথীটি অশ্বারোহীর পুত্র?

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বেদুঈন লোকটির জুব্বার আঁচল ধরে বললেন, হে বেদুঈন! আমি তোমার পরনে নির্বোধদের পোশাক দেখছি। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর নবী নূহ আ. ওফাতের পূর্বে তাঁর নিজ পুত্রকে বলেছিলেন, "আমি তোমাকে দুটি কাজ করার জন্য এবং দুটি কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য অসিয়ত করছি। আমি তোমাকে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর (তাসবিহ পাঠ করার জন্য) আদেশ করছি। জেনে রেখো, যদি সাত আসমান ও সাত জমিন এক পাল্লায় রেখে অপর পাল্লায় কালিমা রাখা হয়, তবে কালিমা (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এর পাল্লাটি অবশ্যই ভারি হবে। আর যদি সাত আসমান ও সাত জমিন একটি লোহার গোলাকার ধনুকও হয়ে যায়, তবুও কালিমা (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ) তার উপর ভারি হয়ে যাবে। আর দ্বিতীয়ত আদেশ করছি 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী' বলতে। সব কিছু পাওয়ার জন্য এ তাসবিহই যথেষ্ট এবং এর উসিলায়ই গোটা সৃষ্টিজীব রিযিক লাভ করে থাকে। আর আমি তোমাকে দুটি বিষয় থেকে বিরত থাকার জন্য আদেশ করছি। একটি হচ্ছে শিরক। দ্বিতীয়টি হচ্ছে অহঙ্কার।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, বা অন্য কেউ বলল, আল্লাহর রাসূল, শিরক সম্পর্কে তো আমাদের জানা আছে; কিন্তু অহঙ্কার কাকে বলে? আমাদের কারো কাছে সুন্দর জুতা এবং এর উপর সুন্দর চামড়ার ফিতা রয়েছে, এগুলো কি অহঙ্কার? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, না। (এরপর আরয করা হলো,) তবে কি আমাদের কারো কাছে যে সুন্দর পোশাক রয়েছে, যেগুলো তারা পরিধান করে থাকে, সেটা কি অহঙ্কার?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, না। এরপর আরজ করা হল, তবে কি কারো অনেক বন্ধু-বান্ধব ও সঙ্গী-সাথী হওয়া, যারা তার কাছে এসে বসে, সেটা কি অহঙ্কার? (অর্থাৎ নেতা হওয়ার কারণে তার চারপাশে বহু লোকের সমাগম হওয়াটা কি অহঙ্কার?) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, না। এরপর আরয করা হলো, আল্লাহর রাসূল, অহঙ্কার জিনিসটা কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছ করা।"

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত নূহ আ.-এর বয়স

📄 হযরত নূহ আ.-এর বয়স


হযরত নূহ আ.-এর বয়স সম্পর্কে আহলে কিতাবগণ বলেন: তিনি যখন নৌকায় আরোহণ করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৬ শ বছর। হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকেও এরূপ একটি বর্ণনা রয়েছে। তবে সেসঙ্গে অতিরিক্ত আছে, নৌকা থেকে অবতরণের পর তিনি ৩ শ বছর বেঁচে ছিলেন। কিন্তু এ বক্তব্যটি যদি কোরআনের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্য বিধান করা না যায়, তবে অবশ্যই তা ভ্রান্ত। কোরআন বলে: فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا "তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিলেন পঞ্চাশ কম হাজার বছর। (সূরা আনকাবুত: ১৪)

কিন্তু নৌকা থেকে অবতরণের পর হযরত নূহ আ. কত বছর বেঁচে ছিলেন, তা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। অবশ্য হযরত ইবনে আব্বাস রাযি.-এর বর্ণনাটি গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকলে হযরত নূহ আ. ১২৮০ বছর বয়সে নবুয়ত প্রাপ্ত হন এবং প্লাবনের পর তিনি ৩ শ পঞ্চাশ বছর বেঁচে থাকেন। তখন এ হিসাব মতে তাঁর বয়স ১৭৮০ বছর। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px