📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 নূহ আ.-এর প্লাবনের বিস্তৃতি

📄 নূহ আ.-এর প্লাবনের বিস্তৃতি


নূহ আ.-এর প্লাবন কি সমগ্র পৃথিবীর উপর এসেছিল, না কি পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোনো অংশের উপর এসেছিল- এ সম্বন্ধে প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আলেমদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। ওলামায়ে ইসলামের এক জামাত, ইহুদি-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আলেমগণ এবং জ্যোতির্বিদ ও ভূ-তত্ত্ববিদ জড়জগতের ঐতিহাসিকদের অভিমত হলো, এ প্লাবন সমগ্র পৃথিবীর উপর আসে নি। বরং পৃথিবীর সেই অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে হযরত নূহ আ.-এর কওম বসবাস করত। সেই অঞ্চলটির আয়তন ১ লাখ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। তাঁদের মতে নূহ আ.-এর প্লাবন নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে হওয়ার কারণ হলো, এ প্লাবন ব্যাপক হলে তার চিহ্নসমূহ ভূগোলকের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন পর্বতচূড়ায় পরিলক্ষিত হওয়া উচিত ছিল। অথচ এরূপ হয় নি। তা ছাড়াও সে সময় মানুষের বসতি খুব সীমিত ছিল এবং তা ছিল সেই অঞ্চলেই, যেখানে হযরত নূহ আ. ও তাঁর কওম বাস করত। তখনও হযরত আদম আ.-এর সন্তানদের সংখ্যা সেই অঞ্চলের বসবাসকারীদের চেয়ে অধিক ছিল না। সেখানকার অধিবাসীরা ছিল আদম আ.-এর সমস্ত সন্তান। ওই অঞ্চলের বাইরে কোথাও কোনো মানুষের বসতি ছিল না। সুতরাং সেই অঞ্চলটিই আযাবের উপযোগী ছিল এবং তাদের উপর এই আযাব প্রেরিত হয়েছিল। পৃথিবীর অন্যান্য অংশের সাথে এ আযাবের বা প্লাবনের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

আবার কোনো কোনো ওলামায়ে ইসলাম, বিচক্ষণ ভূতত্ত্ববিদ এবং কোনো কোনো জড়বাদী ঐতিহাসিকদের মতে এ প্লাবন সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠের উপর ব্যাপক ছিল। আর ব্যাপক-প্লাবন শুধু এই একটিই নয় বরং তাঁদের মতে ভূ-পৃষ্ঠের উপর এ ধরনের বহু প্লাবন এসেছিল। তন্মধ্যে এটাও একটি।

পৃথিবীর উচ্চ পর্বতসমূহের উপর এমন প্রাণীসমূহের দেহ এবং হাড়সমূহ পাওয়া গেছে, যার সম্বন্ধে ভূতাত্ত্বিকগণের অভিমত হলো, এগুলো জলজ প্রাণী। শুধু পানিতেই জীবিত থাকতে পারত। পানির বাইরে তাদের এক মুহূর্তও জীবিত থাকা কঠিন। সুতরাং পৃথিবীর সুউচ্চ পর্বতমালার উপর ওসব বস্তুর অস্তিত্বই প্রমাণ করে, কোনোকালে পানির এমন এক বিশাল প্লাবন এসেছিল, যা সে সকল পর্বতসমূহকে নিমজ্জিত করেছিল।

বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে বিশুদ্ধ মতে এ প্লাবন নির্দিষ্ট অঞ্চলে হয়েছিল; ব্যাপক ছিল না। কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলার নীতি অনুযায়ী উপদেশ ও শিক্ষণীয় দিকগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরের কোনো কথা নেই। কোরআন শুধু এতটুকুই বলতে চায়, ইতিহাসের এ ঘটনা জ্ঞানীদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। স্মরণ রাখা উচিত, আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে একটা সম্প্রদায় আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার কারণে তুফান ও জলোচ্ছ্বাসে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল; শুধু হযরত নূহ আ. ও তাঁর কতিপয় অনুসারী ছাড়া।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 আল্লাহ তাআলার প্রশংসায় হযরত নূহ আ.

📄 আল্লাহ তাআলার প্রশংসায় হযরত নূহ আ.


কোরআন মাজিদের আল্লাহ তাআলা হযরত নূহ আ.-এর প্রশংসা করে বলেন: إِنَّهُ كَانَ عَبْدًا شَكُورًا

"নিশ্চয় সে ছিল আমার অত্যন্ত কৃতজ্ঞ বান্দা।” হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি এমন ব্যক্তির প্রতি রয়েছে, যে আহার ও পানাহারের পরে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করে। অনুরূপভাবে মুসলিম, তিরমিযি ও নাসায়ি শরিফেও আবু উসামা রাযি. থেকে এ হাদিসটি বর্ণিত রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে 'কৃতজ্ঞ' সে ব্যক্তিকে বলা হয়, যার অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সর্বদা আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও আনুগত্যে ব্যয় করে থাকে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত নূহ আ.-এর রোযা পালন

📄 হযরত নূহ আ.-এর রোযা পালন


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, হযরত নূহ আ. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ছাড়া সারা বছর রোযা রাখতেন। (ইবনে মাজাহ)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “হযরত নূহ আ. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ছাড়া সারা বছর রোযা রাখতেন। হযরত দাউদ আ. বছরের অর্ধেক সময় রোযা রাখতেন। (অর্থাৎ একদিন পরপর রোযা রাখতেন।) হযরত ইবরাহীম আ. প্রত্যেক মাসে তিন দিন করে রোযা রাখতেন। কখনো রোযা রাখতেন, কখনো রোযা ভাঙতেন। (তাবারানি)"

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত নূহ আ.-এর হজপালন

📄 হযরত নূহ আ.-এর হজপালন


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম "উসফান" উপত্যকা অতিক্রম করছিলেন। এ সময় হযরত আবু বকর রাযি. বললেন, আল্লাহর রাসূল! এটি 'উসফান' উপত্যকা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: এটি এমন এক জায়গা, যেখান থেকে হযরত নূহ আ., হুদ আ. ও ইবরাহীম আ. তাঁদের লাল উটে চড়ে অতিক্রম করেছিলেন। এ উটগুলোর লাগাম ছিল খেজুর পাতার তৈরি। এ সময় তাঁদের পরনে থাকত পশমের তৈরি লম্বা জুব্বা ও চাদর। এ অবস্থায় তাঁরা পবিত্র গৃহের হজপালন করতেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px