📄 জুদী পাহাড়
আল্লাহ তাআলা কোরআন শরিফে জুদী পাহাড়ের উল্লেখ করেছেন। সে কি বিরাট পাহাড়! দজলার পাশে জাজিরা ইবনে উমরের পূর্ব অংশে এর অবস্থান। মাওসিলের কাছে দক্ষিণ থেকে উত্তরে তার দৈর্ঘ্য হলো, তিন দিনের পথ আর উচ্চতা আধা দিনের পথ। সবুজ বর্ণ। পাহাড়টি ওক জাতীয় গাছে পরিপূর্ণ। তার পাশে আছে একটি গ্রাম। নাম করিআতুস সামানিন (৮০ জনের গ্রাম)। একাধিক মুফাসসিরের মতে তা নূহ আ. এর সাথে মুক্তিপ্রাপ্ত লোকজনের আবাসস্থল ছিল। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
মোটকথা, আল্লাহ পাকের আদেশে আযাব সমাপ্ত হলে নূহ আ.-এর নৌকা জুদী পাহাড়ে গিয়ে থামল। তাওরাত কিতাবে আছে, জুদী আরারাত পর্বত শ্রেণীর অন্যতম। আরারাত হলো দ্বীপের নাম। এটা সেই অঞ্চলের নাম, যা 'দজলা' ও 'ফোরাত নদীদ্বয়ের মধ্যবর্তী 'দিয়ারে বিক্র' হতে বাগদাদ পর্যন্ত বিস্তৃত।
এরপর প্লাবনের পানি আস্তে আস্তে শুকাতে আরম্ভ করল। এবং নৌকার আরোহীরা পুনরায় শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে আল্লাহর যমিনে পা রাখল। এ কারণেই নূহ আ.-কে 'দ্বিতীয় আদম' অর্থাৎ মানব জাতির দ্বিতীয় পিতা বলা হয়। খুব সম্ভব এ হিসেবে তাঁকে হাদিস শরীফে 'প্রথম রাসূল' বলা হয়েছে। যদিও এ পর্যন্ত এসেই নূহ আ.-এর ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা সমাপ্ত হয়ে যায়। তথাপি এ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় যে সমস্ত জ্ঞানগর্ভ ও ঐতিহাসিক প্রশ্নের উদ্ভব হয় কিংবা উত্থাপন করা হয়েছে, তাও আলোচনাযোগ্য।
আল্লাহ তাআলা কোরআন শরিফে জুদী পাহাড়ের উল্লেখ করেছেন। সে কি বিরাট পাহাড়! দজলার পাশে জাজিরা ইবনে উমরের পূর্ব অংশে এর অবস্থান। মাওসিলের কাছে দক্ষিণ থেকে উত্তরে তার দৈর্ঘ্য হলো, তিন দিনের পথ আর উচ্চতা আধা দিনের পথ। সবুজ বর্ণ। পাহাড়টি ওক জাতীয় গাছে পরিপূর্ণ। তার পাশে আছে একটি গ্রাম। নাম করিআতুস সামানিন (৮০ জনের গ্রাম)। একাধিক মুফাসসিরের মতে তা নূহ আ. এর সাথে মুক্তিপ্রাপ্ত লোকজনের আবাসস্থল ছিল। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
মোটকথা, আল্লাহ পাকের আদেশে আযাব সমাপ্ত হলে নূহ আ.-এর নৌকা জুদী পাহাড়ে গিয়ে থামল। তাওরাত কিতাবে আছে, জুদী আরারাত পর্বত শ্রেণীর অন্যতম। আরারাত হলো দ্বীপের নাম। এটা সেই অঞ্চলের নাম, যা 'দজলা' ও 'ফোরাত নদীদ্বয়ের মধ্যবর্তী 'দিয়ারে বিক্র' হতে বাগদাদ পর্যন্ত বিস্তৃত।
এরপর প্লাবনের পানি আস্তে আস্তে শুকাতে আরম্ভ করল। এবং নৌকার আরোহীরা পুনরায় শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে আল্লাহর যমিনে পা রাখল। এ কারণেই নূহ আ.-কে 'দ্বিতীয় আদম' অর্থাৎ মানব জাতির দ্বিতীয় পিতা বলা হয়। খুব সম্ভব এ হিসেবে তাঁকে হাদিস শরীফে 'প্রথম রাসূল' বলা হয়েছে। যদিও এ পর্যন্ত এসেই নূহ আ.-এর ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা সমাপ্ত হয়ে যায়। তথাপি এ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় যে সমস্ত জ্ঞানগর্ভ ও ঐতিহাসিক প্রশ্নের উদ্ভব হয় কিংবা উত্থাপন করা হয়েছে, তাও আলোচনাযোগ্য।
📄 নূহ আ.-এর প্লাবনের বিস্তৃতি
নূহ আ.-এর প্লাবন কি সমগ্র পৃথিবীর উপর এসেছিল, না কি পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোনো অংশের উপর এসেছিল- এ সম্বন্ধে প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আলেমদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। ওলামায়ে ইসলামের এক জামাত, ইহুদি-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আলেমগণ এবং জ্যোতির্বিদ ও ভূ-তত্ত্ববিদ জড়জগতের ঐতিহাসিকদের অভিমত হলো, এ প্লাবন সমগ্র পৃথিবীর উপর আসে নি। বরং পৃথিবীর সেই অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে হযরত নূহ আ.-এর কওম বসবাস করত। সেই অঞ্চলটির আয়তন ১ লাখ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। তাঁদের মতে নূহ আ.-এর প্লাবন নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে হওয়ার কারণ হলো, এ প্লাবন ব্যাপক হলে তার চিহ্নসমূহ ভূগোলকের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন পর্বতচূড়ায় পরিলক্ষিত হওয়া উচিত ছিল। অথচ এরূপ হয় নি। তা ছাড়াও সে সময় মানুষের বসতি খুব সীমিত ছিল এবং তা ছিল সেই অঞ্চলেই, যেখানে হযরত নূহ আ. ও তাঁর কওম বাস করত। তখনও হযরত আদম আ.-এর সন্তানদের সংখ্যা সেই অঞ্চলের বসবাসকারীদের চেয়ে অধিক ছিল না। সেখানকার অধিবাসীরা ছিল আদম আ.-এর সমস্ত সন্তান। ওই অঞ্চলের বাইরে কোথাও কোনো মানুষের বসতি ছিল না। সুতরাং সেই অঞ্চলটিই আযাবের উপযোগী ছিল এবং তাদের উপর এই আযাব প্রেরিত হয়েছিল। পৃথিবীর অন্যান্য অংশের সাথে এ আযাবের বা প্লাবনের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
আবার কোনো কোনো ওলামায়ে ইসলাম, বিচক্ষণ ভূতত্ত্ববিদ এবং কোনো কোনো জড়বাদী ঐতিহাসিকদের মতে এ প্লাবন সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠের উপর ব্যাপক ছিল। আর ব্যাপক-প্লাবন শুধু এই একটিই নয় বরং তাঁদের মতে ভূ-পৃষ্ঠের উপর এ ধরনের বহু প্লাবন এসেছিল। তন্মধ্যে এটাও একটি।
পৃথিবীর উচ্চ পর্বতসমূহের উপর এমন প্রাণীসমূহের দেহ এবং হাড়সমূহ পাওয়া গেছে, যার সম্বন্ধে ভূতাত্ত্বিকগণের অভিমত হলো, এগুলো জলজ প্রাণী। শুধু পানিতেই জীবিত থাকতে পারত। পানির বাইরে তাদের এক মুহূর্তও জীবিত থাকা কঠিন। সুতরাং পৃথিবীর সুউচ্চ পর্বতমালার উপর ওসব বস্তুর অস্তিত্বই প্রমাণ করে, কোনোকালে পানির এমন এক বিশাল প্লাবন এসেছিল, যা সে সকল পর্বতসমূহকে নিমজ্জিত করেছিল।
বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে বিশুদ্ধ মতে এ প্লাবন নির্দিষ্ট অঞ্চলে হয়েছিল; ব্যাপক ছিল না। কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলার নীতি অনুযায়ী উপদেশ ও শিক্ষণীয় দিকগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরের কোনো কথা নেই। কোরআন শুধু এতটুকুই বলতে চায়, ইতিহাসের এ ঘটনা জ্ঞানীদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। স্মরণ রাখা উচিত, আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে একটা সম্প্রদায় আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার কারণে তুফান ও জলোচ্ছ্বাসে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল; শুধু হযরত নূহ আ. ও তাঁর কতিপয় অনুসারী ছাড়া।
📄 আল্লাহ তাআলার প্রশংসায় হযরত নূহ আ.
কোরআন মাজিদের আল্লাহ তাআলা হযরত নূহ আ.-এর প্রশংসা করে বলেন: إِنَّهُ كَانَ عَبْدًا شَكُورًا
"নিশ্চয় সে ছিল আমার অত্যন্ত কৃতজ্ঞ বান্দা।” হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি এমন ব্যক্তির প্রতি রয়েছে, যে আহার ও পানাহারের পরে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করে। অনুরূপভাবে মুসলিম, তিরমিযি ও নাসায়ি শরিফেও আবু উসামা রাযি. থেকে এ হাদিসটি বর্ণিত রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে 'কৃতজ্ঞ' সে ব্যক্তিকে বলা হয়, যার অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সর্বদা আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও আনুগত্যে ব্যয় করে থাকে।
📄 হযরত নূহ আ.-এর রোযা পালন
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, হযরত নূহ আ. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ছাড়া সারা বছর রোযা রাখতেন। (ইবনে মাজাহ)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “হযরত নূহ আ. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ছাড়া সারা বছর রোযা রাখতেন। হযরত দাউদ আ. বছরের অর্ধেক সময় রোযা রাখতেন। (অর্থাৎ একদিন পরপর রোযা রাখতেন।) হযরত ইবরাহীম আ. প্রত্যেক মাসে তিন দিন করে রোযা রাখতেন। কখনো রোযা রাখতেন, কখনো রোযা ভাঙতেন। (তাবারানি)"