📄 নৌকা তৈরি
আল্লাহ পাক হযরত নূহ আ.-এর দোয়া কবুল করলেন এবং আমলের প্রতিফলের নিয়মানুযায়ী অবাধ্যদের অবাধ্যতার শাস্তি ঘোষণা করে দিলেন। আর মুমিনদের রক্ষার জন্য প্রথমে হযরত নূহ আ. কে নির্দেশ দিলেন, একটি নৌযান তৈরি করুন। যাতে বাহ্যিক কারণ হিসেবে তিনি এবং অনুগত মুমিনগণ সেই শাস্তি হতে সুরক্ষিত থাকে আর তা অবাধ্য ও নাফরমান লোকদের প্রতি অচিরেই নাযিল হবে।
হযরত নূহ আ. আল্লাহ পাকের আদেশ অনুযায়ী নৌকা তৈরি শুরু করলে কাফেররা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে লাগল। যখনই নির্মাণাধীন নৌযানের কাছ দিয়ে যেত, তখন বলত- চমৎকার! আমরা যখন নিমজ্জিত হতে আরম্ভ করব, তখন তুমি ও তোমার অনুসারীরা এই নৌকায় আরোহণ করে সুরক্ষিত থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে। কেমন নির্বোধসুলভ কল্পনা!
হযরত নূহ আ.ও তাদের অপরিণামদর্শিতা এবং আল্লাহ তাআলার নাফরমানির দুঃসাহস দেখে তাদের অনুরূপ জবাব দিতেন। এবং নিজের কাজে মনোযোগী থাকতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রকৃত অবস্থা সম্বন্ধে সতর্ক করে দিয়ে ছিলেন। ওয়াসনাইল ফুলকা বিআইয়ুনিনা ওয়া ওয়াহয়িনা ওয়া লা তুখাতিবনী ফিল্লাজিনা জলামূ ইন্নাহুম মুগরাকূন
"হে নূহ! তুমি আমারই তত্ত্বাবধানে আমার অহি অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করতে থাকো। আর এখন আমাকে সম্বোধন করে জালিমদের ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করবে না। নিঃসন্দেহে তারা নিমজ্জিত হবে।" (সূরা হৃদ: ৩৭)
অবশেষে নূহ আ.-এর নৌযান প্রস্তুত হয়ে গেল। এখন আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুত আযাব নাযিল হওয়ার সময় নিকটবর্তী হলো। নূহ আ. প্রথম আলামত (নিদর্শন) দেখতে পেলেন, যা তাঁকে বলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভূগর্ভ হতে পানি উত্থিত হতে আরম্ভ করল। তখন আল্লাহ পাক আদেশ করলেন- "নিজের বংশধরদেরকে নৌকায় আরোহণের আদেশ দাও। আর সমস্ত প্রাণীকুল হতে প্রত্যেক প্রকারের এক এক জোড়াও নৌকায় উঠিয়ে নাও। (প্রায় ৪০ জনের) সেই ক্ষুদ্র দলটিকেও (যারা তোমার ওপর ঈমান আনয়ন করেছে) নৌকায় আরোহণের আদেশ দাও।"
যখন আল্লাহ পাকের অহি সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী হলো, তখন আসমানের প্রতি আদেশ হলো, পানি বর্ষণ করতে আরম্ভ করো আর যমিনের ফোয়ারাসমূহের প্রতি আদেশ হলো, পূর্ণ মাত্রায় উত্থিত হতে থাকো। আল্লাহ পাকের আদেশে যখন এসব কিছু হতে থাকল, তখন নৌকা তাঁর (আল্লাহ তাআলার) প্রত্যক্ষ হেফাযতে ভাসতে থাকল সে পর্যন্ত, যে পর্যন্ত না সমস্ত অবিশ্বাসী ও অবাধ্য লোকেরা পানিতে ডুবে গেল এবং আল্লাহ তাআলার বিধি-ব্যবস্থা কর্মফল অনুযায়ী নিজেদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করল।
হযরত নূহ আ.-এর সময়কার এ প্লাবনকে দীর্ঘদিন অনেকের কাছে সাজানো কাহিনী বলে অভিহিত ছিল। কিন্তু বর্তমান বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেছেন, সে সময় ভয়াবহ ভারি বর্ষণ ও প্লাবনের মুখে পড়েছিল পৃথিবী। বিজ্ঞানীরা কেউ কেউ নূহ আ.-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানেও ব্যস্ত আছেন। তুরস্কের এক পাহাড়ে গত শতাব্দীর শেষ দিকে হাজার হাজার বছর আগে তৈরি করা বিশালাকারের নৌকার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা মতে এটাই নূহের নৌকা।
আল্লাহ পাক হযরত নূহ আ.-এর দোয়া কবুল করলেন এবং আমলের প্রতিফলের নিয়মানুযায়ী অবাধ্যদের অবাধ্যতার শাস্তি ঘোষণা করে দিলেন। আর মুমিনদের রক্ষার জন্য প্রথমে হযরত নূহ আ. কে নির্দেশ দিলেন, একটি নৌযান তৈরি করুন। যাতে বাহ্যিক কারণ হিসেবে তিনি এবং অনুগত মুমিনগণ সেই শাস্তি হতে সুরক্ষিত থাকে আর তা অবাধ্য ও নাফরমান লোকদের প্রতি অচিরেই নাযিল হবে।
হযরত নূহ আ. আল্লাহ পাকের আদেশ অনুযায়ী নৌকা তৈরি শুরু করলে কাফেররা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে লাগল। যখনই নির্মাণাধীন নৌযানের কাছ দিয়ে যেত, তখন বলত- চমৎকার! আমরা যখন নিমজ্জিত হতে আরম্ভ করব, তখন তুমি ও তোমার অনুসারীরা এই নৌকায় আরোহণ করে সুরক্ষিত থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে। কেমন নির্বোধসুলভ কল্পনা!
হযরত নূহ আ.ও তাদের অপরিণামদর্শিতা এবং আল্লাহ তাআলার নাফরমানির দুঃসাহস দেখে তাদের অনুরূপ জবাব দিতেন। এবং নিজের কাজে মনোযোগী থাকতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রকৃত অবস্থা সম্বন্ধে সতর্ক করে দিয়ে ছিলেন। ওয়াসনাইল ফুলকা বিআইয়ুনিনা ওয়া ওয়াহয়িনা ওয়া লা তুখাতিবনী ফিল্লাজিনা জলামূ ইন্নাহুম মুগরাকূন
"হে নূহ! তুমি আমারই তত্ত্বাবধানে আমার অহি অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করতে থাকো। আর এখন আমাকে সম্বোধন করে জালিমদের ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করবে না। নিঃসন্দেহে তারা নিমজ্জিত হবে।" (সূরা হৃদ: ৩৭)
অবশেষে নূহ আ.-এর নৌযান প্রস্তুত হয়ে গেল। এখন আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুত আযাব নাযিল হওয়ার সময় নিকটবর্তী হলো। নূহ আ. প্রথম আলামত (নিদর্শন) দেখতে পেলেন, যা তাঁকে বলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভূগর্ভ হতে পানি উত্থিত হতে আরম্ভ করল। তখন আল্লাহ পাক আদেশ করলেন- "নিজের বংশধরদেরকে নৌকায় আরোহণের আদেশ দাও। আর সমস্ত প্রাণীকুল হতে প্রত্যেক প্রকারের এক এক জোড়াও নৌকায় উঠিয়ে নাও। (প্রায় ৪০ জনের) সেই ক্ষুদ্র দলটিকেও (যারা তোমার ওপর ঈমান আনয়ন করেছে) নৌকায় আরোহণের আদেশ দাও।"
যখন আল্লাহ পাকের অহি সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী হলো, তখন আসমানের প্রতি আদেশ হলো, পানি বর্ষণ করতে আরম্ভ করো আর যমিনের ফোয়ারাসমূহের প্রতি আদেশ হলো, পূর্ণ মাত্রায় উত্থিত হতে থাকো। আল্লাহ পাকের আদেশে যখন এসব কিছু হতে থাকল, তখন নৌকা তাঁর (আল্লাহ তাআলার) প্রত্যক্ষ হেফাযতে ভাসতে থাকল সে পর্যন্ত, যে পর্যন্ত না সমস্ত অবিশ্বাসী ও অবাধ্য লোকেরা পানিতে ডুবে গেল এবং আল্লাহ তাআলার বিধি-ব্যবস্থা কর্মফল অনুযায়ী নিজেদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করল।
হযরত নূহ আ.-এর সময়কার এ প্লাবনকে দীর্ঘদিন অনেকের কাছে সাজানো কাহিনী বলে অভিহিত ছিল। কিন্তু বর্তমান বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেছেন, সে সময় ভয়াবহ ভারি বর্ষণ ও প্লাবনের মুখে পড়েছিল পৃথিবী। বিজ্ঞানীরা কেউ কেউ নূহ আ.-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানেও ব্যস্ত আছেন। তুরস্কের এক পাহাড়ে গত শতাব্দীর শেষ দিকে হাজার হাজার বছর আগে তৈরি করা বিশালাকারের নৌকার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা মতে এটাই নূহের নৌকা।
📄 নূহ আ.-এর নৌকার বিস্তারিত ঘটনা
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, "হযরত ঈসা আ.-এর অনুসারীগণ তাঁকে বললেন: কতই না ভালো হতো যদি আপনি এমন এক ব্যক্তিকে জীবিত করে দিতেন, যিনি নূহ আ.-এর নৌকার বিস্তারিত কাহিনী আমাদের বলে দিতেন! হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, এরপর হযরত ঈসা আ. তাঁর অনুসারীদেরকে নিয়ে মাটির একটি ডিবির কাছে গেলেন। সে ডিবি (স্তূপে) থেকে এক মুঠো মাটি হাতে নিয়ে অনুসারীদের বললেন: তোমরা কি জান, এ মাটি কার? তাঁরা জবাব দিলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। তখন হযরত ঈসা আ. বললেন, এ মাটি হচ্ছে নূহ আ.-এর পুত্র হামের পায়ের পিঠ!
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন: এরপর হযরত ঈসা আ. সেই মাটির স্তূপের ওপর তাঁর লাঠি দিয়ে আঘাত করে বললেন, 'আল্লাহর নির্দেশে দাঁড়িয়ে যাও।' সাথে সাথে তিনি (হাম) তাঁর (মাথার) সাদা চুল থেকে মাটি ঝাড়তে ঝাড়তে উঠে দাঁড়ালেন। হযরত ঈসা আ. তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি এ (সাদা চুল) অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করেছিলেন? তিনি জবাব দিলেন- না, আমি যুবক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছি। আমি মনে করেছিলাম, কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেছে। এ (কেয়ামতের) ভয়ে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। এরপর হযরত ঈসা আ. তাঁকে বললেন, আমাদেরকে হযরত নূহ আ. নৌকা সম্পর্কে কিছু অবহিত করুন। তিনি বললেন, হযরত নূহ আ.-এর নৌকার দৈর্ঘ্য ছিল বার শ গজ এবং প্রস্থ ছিল ছয় শ গজ। এতে তিনটি তলা (স্তর) ছিল। প্রথম তলা ছিল গৃহপালিত ও জংলী (হিংস্র) জীব-জন্তু। দ্বিতীয় তলায় ছিল মানুষ। আর সর্বশেষে তলায় ছিল পাখ-পাখালী।
নৌকাটিতে যখন জীব-জন্তুর মল-বিষ্ঠা, আবর্জনা ইত্যাদি খুব জমা হয়ে গেল, তখন আল্লাহ তাআলা হযরত নূহ আ.-এর প্রতি অহি প্রেরণ করলেন, আপনি হাতির লেজের স্পর্শ করুন। হযরত নূহ আ. হাতির লেজ স্পর্শ করলে, হাতি থেকে একটি শূকর ও একটি শূকরীর জন্ম হয়। তারা সাথে সাথে জীব-জন্তুর মল-মূত্র খেতে শুরু করে। ইঁদুরগুলো যখন নৌকার কাঠ কাটতে শুরু করে দেয়, তখন আল্লাহ তাআলা নূহ আ. এর প্রতি অহি প্রেরণ করলেন, "তুমি সিংহের নাকের ওপর আঘাত কর"। নূহ আ. আদেশ মোতাবেক আঘাত করলেন। সিংহের নাক থেকে একটি বিড়াল ও একটি বিড়ালী বেরিয়ে আসে। তারা সাথে সাথে ইঁদুরগুলোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ইবনে আহমাদ হযরত ইকরামা রাযি. থেকে এবং ইকরামা হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন : হযরত নূহ আ.-এর সাথে নৌকায় ৮০ জন লোক ছিলেন। প্রত্যেকের সাথে তাদের পরিবার-পরিজনও ছিল। নৌকায় তারা প্রায় ১২৫ দিন থাকেন। আল্লাহ তাআলা নৌকার গতি মক্কা শরিফের দিকে ফিরিয়ে দেন। এরপর এর গতি জুদি পাহাড়ের দিকে ফিরিয়ে দেন। সেখানে পৌঁছে নৌকা থেমে যায়। এরপর হযরত নূহ আ. পৃথিবীর খবর জানার জন্য একটি কাক প্রেরণ করেন। কাক একটি মৃতদেহ দেখে তার উপর দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ফিরে যেতে দেরি করে। এ বিলম্বের কারণে হযরত নূহ আ. কবুতর প্রেরণ করেন। কবুতর পায়ে কাদামাখা অবস্থায় যয়তুন বৃক্ষের একটি পাতা নিয়ে নূহ আ.-এর কাছে আসে। এতে হযরত নূহ আ. বুঝতে পারলেন, ভূপৃষ্ঠ থেকে পানি নেমে গেছে। এরপর হযরত নূহ আ. জুদি পাহাড় থেকে ভূপৃষ্ঠে অবতরণ করে একটি জনপদ গড়ে তোলেন। সে জনপদের নাম রাখেন 'ছামানীন' (আশি)। অর্থাৎ আশি জন লোকের জনপদ। এ সময় হঠাৎ এক সকালবেলা তাদের সকলের মুখের ভাষা পরিবর্তন হয়ে আশিটি ভাষায় পরিণত হয়ে যায়। তার মধ্যে একটি ভাষা ছিল আরবি। কেউ কারো ভাষা বুঝতে পারত না। হযরত নূহ আ. প্রত্যেকের কথা প্রত্যেককে বুঝিয়ে দিতেন।
হযরত কাতাদা রহ. ও অন্যান্যরা বলেন, নূহ আ.-এর সম্প্রদায়ের এই (বিশ্বাসী) দলটি রজব মাসের ১০ তারিখে নৌকায় আরোহণ করে ১২০ দিন তাতে অবস্থান করেন। এ সময়ের মধ্যে তাঁরা একমাস জুদি পাহাড়ের ওপর থাকেন। এরপর মহরম মাসের ১০ তারিখে তাঁরা নৌকা থেকে বাইরে আসেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, "হযরত ঈসা আ.-এর অনুসারীগণ তাঁকে বললেন: কতই না ভালো হতো যদি আপনি এমন এক ব্যক্তিকে জীবিত করে দিতেন, যিনি নূহ আ.-এর নৌকার বিস্তারিত কাহিনী আমাদের বলে দিতেন! হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, এরপর হযরত ঈসা আ. তাঁর অনুসারীদেরকে নিয়ে মাটির একটি ডিবির কাছে গেলেন। সে ডিবি (স্তূপে) থেকে এক মুঠো মাটি হাতে নিয়ে অনুসারীদের বললেন: তোমরা কি জান, এ মাটি কার? তাঁরা জবাব দিলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। তখন হযরত ঈসা আ. বললেন, এ মাটি হচ্ছে নূহ আ.-এর পুত্র হামের পায়ের পিঠ!
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন: এরপর হযরত ঈসা আ. সেই মাটির স্তূপের ওপর তাঁর লাঠি দিয়ে আঘাত করে বললেন, 'আল্লাহর নির্দেশে দাঁড়িয়ে যাও।' সাথে সাথে তিনি (হাম) তাঁর (মাথার) সাদা চুল থেকে মাটি ঝাড়তে ঝাড়তে উঠে দাঁড়ালেন। হযরত ঈসা আ. তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি এ (সাদা চুল) অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করেছিলেন? তিনি জবাব দিলেন- না, আমি যুবক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছি। আমি মনে করেছিলাম, কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেছে। এ (কেয়ামতের) ভয়ে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। এরপর হযরত ঈসা আ. তাঁকে বললেন, আমাদেরকে হযরত নূহ আ. নৌকা সম্পর্কে কিছু অবহিত করুন। তিনি বললেন, হযরত নূহ আ.-এর নৌকার দৈর্ঘ্য ছিল বার শ গজ এবং প্রস্থ ছিল ছয় শ গজ। এতে তিনটি তলা (স্তর) ছিল। প্রথম তলা ছিল গৃহপালিত ও জংলী (হিংস্র) জীব-জন্তু। দ্বিতীয় তলায় ছিল মানুষ। আর সর্বশেষে তলায় ছিল পাখ-পাখালী।
নৌকাটিতে যখন জীব-জন্তুর মল-বিষ্ঠা, আবর্জনা ইত্যাদি খুব জমা হয়ে গেল, তখন আল্লাহ তাআলা হযরত নূহ আ.-এর প্রতি অহি প্রেরণ করলেন, আপনি হাতির লেজের স্পর্শ করুন। হযরত নূহ আ. হাতির লেজ স্পর্শ করলে, হাতি থেকে একটি শূকর ও একটি শূকরীর জন্ম হয়। তারা সাথে সাথে জীব-জন্তুর মল-মূত্র খেতে শুরু করে। ইঁদুরগুলো যখন নৌকার কাঠ কাটতে শুরু করে দেয়, তখন আল্লাহ তাআলা নূহ আ. এর প্রতি অহি প্রেরণ করলেন, "তুমি সিংহের নাকের ওপর আঘাত কর"। নূহ আ. আদেশ মোতাবেক আঘাত করলেন। সিংহের নাক থেকে একটি বিড়াল ও একটি বিড়ালী বেরিয়ে আসে। তারা সাথে সাথে ইঁদুরগুলোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ইবনে আহমাদ হযরত ইকরামা রাযি. থেকে এবং ইকরামা হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন : হযরত নূহ আ.-এর সাথে নৌকায় ৮০ জন লোক ছিলেন। প্রত্যেকের সাথে তাদের পরিবার-পরিজনও ছিল। নৌকায় তারা প্রায় ১২৫ দিন থাকেন। আল্লাহ তাআলা নৌকার গতি মক্কা শরিফের দিকে ফিরিয়ে দেন। এরপর এর গতি জুদি পাহাড়ের দিকে ফিরিয়ে দেন। সেখানে পৌঁছে নৌকা থেমে যায়। এরপর হযরত নূহ আ. পৃথিবীর খবর জানার জন্য একটি কাক প্রেরণ করেন। কাক একটি মৃতদেহ দেখে তার উপর দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ফিরে যেতে দেরি করে। এ বিলম্বের কারণে হযরত নূহ আ. কবুতর প্রেরণ করেন। কবুতর পায়ে কাদামাখা অবস্থায় যয়তুন বৃক্ষের একটি পাতা নিয়ে নূহ আ.-এর কাছে আসে। এতে হযরত নূহ আ. বুঝতে পারলেন, ভূপৃষ্ঠ থেকে পানি নেমে গেছে। এরপর হযরত নূহ আ. জুদি পাহাড় থেকে ভূপৃষ্ঠে অবতরণ করে একটি জনপদ গড়ে তোলেন। সে জনপদের নাম রাখেন 'ছামানীন' (আশি)। অর্থাৎ আশি জন লোকের জনপদ। এ সময় হঠাৎ এক সকালবেলা তাদের সকলের মুখের ভাষা পরিবর্তন হয়ে আশিটি ভাষায় পরিণত হয়ে যায়। তার মধ্যে একটি ভাষা ছিল আরবি। কেউ কারো ভাষা বুঝতে পারত না। হযরত নূহ আ. প্রত্যেকের কথা প্রত্যেককে বুঝিয়ে দিতেন।
হযরত কাতাদা রহ. ও অন্যান্যরা বলেন, নূহ আ.-এর সম্প্রদায়ের এই (বিশ্বাসী) দলটি রজব মাসের ১০ তারিখে নৌকায় আরোহণ করে ১২০ দিন তাতে অবস্থান করেন। এ সময়ের মধ্যে তাঁরা একমাস জুদি পাহাড়ের ওপর থাকেন। এরপর মহরম মাসের ১০ তারিখে তাঁরা নৌকা থেকে বাইরে আসেন।
📄 পুত্রের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে সুপারিশ
হযরত নূহ আ. নিজ পুত্রের ক্ষমা ও মুক্তির জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে আবেদন করেছিলেন : হে পরওয়ারদেগার! আপনি আমার কাছে আমার পরিবার-পরিজনকে (মসিবত থেকে) রক্ষা করার ওয়াদা করেছেন। আর এ পুত্রটিও তো আমার পরিবারের একজন। অথচ সে তো এখন ডুবে যাচ্ছে। আমার কাছে তাই সুস্পষ্ট নয়, এ পুত্রটি কি আমার পরিবারভুক্ত, না আমার থেকে বিচ্ছিন্ন?
জবাবে বলা হয়, সে তাদের অর্থাৎ যাদেরকে আমি রক্ষা করার ওয়াদা করেছি, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ, আমি তোমাকে বলেছিলাম তোমার পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করব; কিন্তু তাকে নয় যার ব্যাপারে পূর্বে আমার শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে (অর্থাৎ কাফেরদের)। সুতরাং তোমার পুত্র কেনান তোমার পরিবারভুক্ত নয়। তার ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, সে নিমজ্জিত হবে এবং কুফরির স্বাদ ভোগ করবে।
হযরত নূহ আ. নিজ পুত্রের ক্ষমা ও মুক্তির জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে আবেদন করেছিলেন : হে পরওয়ারদেগার! আপনি আমার কাছে আমার পরিবার-পরিজনকে (মসিবত থেকে) রক্ষা করার ওয়াদা করেছেন। আর এ পুত্রটিও তো আমার পরিবারের একজন। অথচ সে তো এখন ডুবে যাচ্ছে। আমার কাছে তাই সুস্পষ্ট নয়, এ পুত্রটি কি আমার পরিবারভুক্ত, না আমার থেকে বিচ্ছিন্ন?
জবাবে বলা হয়, সে তাদের অর্থাৎ যাদেরকে আমি রক্ষা করার ওয়াদা করেছি, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ, আমি তোমাকে বলেছিলাম তোমার পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করব; কিন্তু তাকে নয় যার ব্যাপারে পূর্বে আমার শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে (অর্থাৎ কাফেরদের)। সুতরাং তোমার পুত্র কেনান তোমার পরিবারভুক্ত নয়। তার ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, সে নিমজ্জিত হবে এবং কুফরির স্বাদ ভোগ করবে।
📄 হযরত নূহ আ.-এর সন্তানসন্ততি
আল্লাহ তাআলা বলেন: ক্বীলা ইয়া নূহু ইহিবত বি সালামিম মিন্না ওয়া বারাকািতন আলাইকা ওয়া আলা উমামিম মিম মাআক ওয়া উমামুন সানুমাত্তি উহুম ছুম্মা ইয়ামাসসুহুম মিন্না আজাবুন আলীম "বলা হলো, হে নূহ! অবতরণ করো আমার দেওয়া শান্তিসহ এবং তোমার ও তোমার সঙ্গে থাকা উম্মতের প্রতি কল্যাণসহ। আর অপর সম্প্রদায়সমূহকে জীবন উপভোগ করতে দেবো। পরে আমার পক্ষ হতে মর্মন্তুদ শাস্তি তাদের স্পর্শ করবে।" (সূরা হুদ: ৪৮)
অর্থাৎ, তোমার ও তোমার বংশধরদের থেকে যে সকল উম্মত আসবে সবার প্রতিই শান্তি। এখানে নূহ আ.-এর বংশধর বলার কারণ, পৃথিবীর সকল লোক হযরত নূহ আ.-এর বংশধর। আজ পৃথিবীতে যত মানুষ রয়েছে, তারা সকলেই হযরত নূহ আ.- এর তিন পুত্র সাম, হাম ও ইয়াফিসের কারো না কারো সন্তান।
হযরত সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সাম আরবের আদি পিতা, হাম আবিসিনিয়ার আদি পিতা এবং ইয়াফিস রোমের আদি পিতা। অর্থাৎ এ দেশসমূহে লোকদের আদি পিতা।
হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাযি. ও অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। হযরত ইমরান রাযি. বলেন, রোম দ্বারা এখানে প্রথম রোম বুঝানো হয়েছে। যারা ইউনানী বা গ্রিক জাতি। এদের বংশতালিকা রোমী ইবনে সাবতী ইবনে ইউনান ইবনে ইয়াফিস ইবনে নূহ আ.
হযরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নূহ আ.-এর তিন সন্তান ছিল। যাদের নাম সাম, হাম ও ইয়াফিস। সামের থেকে আরব, ইরান (পারস্য) ও রূম দেশীয় লোকেরা জন্মগ্রহণ করেন। এতে ছিল কল্যাণ নিহিত। ইয়াফিস থেকে ইয়াজুজ-মাজুজ, তুর্ক ও সাকালিবাদের জন্ম হয়। এদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নিহিত ছিল না। আর হাম থেকে কিবতী, তাতারী, সুদানীদের জন্ম হয়।
এক বর্ণনা মতে হযরত নূহ আ.-এর তিন পুত্রের জন্ম নূহ আ.-এর প্লাবনের পরে হয়েছিল। আর কিনানের জন্ম হয়েছিল প্লাবনের আগে। প্লাবনের সময় সে (কিনান) নিমজ্জিত হয়। আবের নামে নূহ আ.-এর আরেকটি পুত্র ছিল। সে কিনানের পূর্বে মারা গেছে। তবে সঠিক কথা হল, নূহ আ.-এর তিন পুত্র সাম, হাম ও ইয়াফিস এবং ৮০ জন স্ত্রী সন্তানসন্ততিসহ নৌকায় ছিলেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: ক্বীলা ইয়া নূহু ইহিবত বি সালামিম মিন্না ওয়া বারাকািতন আলাইকা ওয়া আলা উমামিম মিম মাআক ওয়া উমামুন সানুমাত্তি উহুম ছুম্মা ইয়ামাসসুহুম মিন্না আজাবুন আলীম "বলা হলো, হে নূহ! অবতরণ করো আমার দেওয়া শান্তিসহ এবং তোমার ও তোমার সঙ্গে থাকা উম্মতের প্রতি কল্যাণসহ। আর অপর সম্প্রদায়সমূহকে জীবন উপভোগ করতে দেবো। পরে আমার পক্ষ হতে মর্মন্তুদ শাস্তি তাদের স্পর্শ করবে।" (সূরা হুদ: ৪৮)
অর্থাৎ, তোমার ও তোমার বংশধরদের থেকে যে সকল উম্মত আসবে সবার প্রতিই শান্তি। এখানে নূহ আ.-এর বংশধর বলার কারণ, পৃথিবীর সকল লোক হযরত নূহ আ.-এর বংশধর। আজ পৃথিবীতে যত মানুষ রয়েছে, তারা সকলেই হযরত নূহ আ.- এর তিন পুত্র সাম, হাম ও ইয়াফিসের কারো না কারো সন্তান।
হযরত সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সাম আরবের আদি পিতা, হাম আবিসিনিয়ার আদি পিতা এবং ইয়াফিস রোমের আদি পিতা। অর্থাৎ এ দেশসমূহে লোকদের আদি পিতা।
হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাযি. ও অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। হযরত ইমরান রাযি. বলেন, রোম দ্বারা এখানে প্রথম রোম বুঝানো হয়েছে। যারা ইউনানী বা গ্রিক জাতি। এদের বংশতালিকা রোমী ইবনে সাবতী ইবনে ইউনান ইবনে ইয়াফিস ইবনে নূহ আ.
হযরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নূহ আ.-এর তিন সন্তান ছিল। যাদের নাম সাম, হাম ও ইয়াফিস। সামের থেকে আরব, ইরান (পারস্য) ও রূম দেশীয় লোকেরা জন্মগ্রহণ করেন। এতে ছিল কল্যাণ নিহিত। ইয়াফিস থেকে ইয়াজুজ-মাজুজ, তুর্ক ও সাকালিবাদের জন্ম হয়। এদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নিহিত ছিল না। আর হাম থেকে কিবতী, তাতারী, সুদানীদের জন্ম হয়।
এক বর্ণনা মতে হযরত নূহ আ.-এর তিন পুত্রের জন্ম নূহ আ.-এর প্লাবনের পরে হয়েছিল। আর কিনানের জন্ম হয়েছিল প্লাবনের আগে। প্লাবনের সময় সে (কিনান) নিমজ্জিত হয়। আবের নামে নূহ আ.-এর আরেকটি পুত্র ছিল। সে কিনানের পূর্বে মারা গেছে। তবে সঠিক কথা হল, নূহ আ.-এর তিন পুত্র সাম, হাম ও ইয়াফিস এবং ৮০ জন স্ত্রী সন্তানসন্ততিসহ নৌকায় ছিলেন।