📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 প্রথম রাসূল হযরত নূহ আ.

📄 প্রথম রাসূল হযরত নূহ আ.


হযরত আদম আ.-এর পর হযরত নূহ আ.-কে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে সর্বপ্রথম রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন। বোখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস দ্বারা তা সুস্পষ্ট প্রমাণিত। মুসলিম শরিফের শাফায়াতের অধ্যায়ে হযরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে একটি দীর্ঘ রেওয়ায়েত বর্ণিত আছে- ইয়া নূহু আনতা আওওয়ালুর রুসুলি ইলাল আরদ "হে নূহ! তোমাকে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম রাসূল বানানো হয়েছে।"

আল্লাহ তাআলা হযরত নূহ আ.-কে পৃথিবীতে রাসূল হিসেবে প্রেরণের পর, তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও তাওহিদের দাওয়াত দেন। অনুরূপভাবে অন্যান্য পয়গম্বরগণও তাওহিদ ও অন্যান্য বিষয়ের দাওয়াত দিয়েছেন। তাঁরা সকলে তাঁরই বংশধর ছিলেন। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- ওয়া জাআলনা যুররিয়্যাতাহূ হুমুল বাক্বীন "তাঁর (নূহ আ.-এর) বংশধরকেই আমি বিদ্যমান রেখেছি বংশ পরম্পরায়।" (সূরা সাফ্ফাত: ৭৭) ওয়া জাআলনা ফী যুররিয়্যাতিহিন নুবুওয়াতা ওয়াল কিতাব "আমি তাঁদের (নূহ ও ইবরাহীম আ.-এর) বংশধরদের জন্য স্থির করেছিলাম নবুয়ত ও কিতাব।” (সূরা হাদিদ: ২৬)

হযরত নূহ আ.-এর পরে আগত সকল নবী ও রাসূলই তাঁর বংশধর ছিলেন। তেমনিভাবে তাঁর বংশধর ছিলেন হযরত ইবরাহীম আ.ও। আর তাঁর মাধ্যমে তাঁর পরবর্তীকালের সকল নবী-রাসূলই হযরত নূহ আ.-এর বংশধর।

হযরত আদম আ.-এর পর হযরত নূহ আ.-কে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে সর্বপ্রথম রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন। বোখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস দ্বারা তা সুস্পষ্ট প্রমাণিত। মুসলিম শরিফের শাফায়াতের অধ্যায়ে হযরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে একটি দীর্ঘ রেওয়ায়েত বর্ণিত আছে- ইয়া নূহু আনতা আওওয়ালুর রুসুলি ইলাল আরদ "হে নূহ! তোমাকে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম রাসূল বানানো হয়েছে।"

আল্লাহ তাআলা হযরত নূহ আ.-কে পৃথিবীতে রাসূল হিসেবে প্রেরণের পর, তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও তাওহিদের দাওয়াত দেন। অনুরূপভাবে অন্যান্য পয়গম্বরগণও তাওহিদ ও অন্যান্য বিষয়ের দাওয়াত দিয়েছেন। তাঁরা সকলে তাঁরই বংশধর ছিলেন। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- ওয়া জাআলনা যুররিয়্যাতাহূ হুমুল বাক্বীন "তাঁর (নূহ আ.-এর) বংশধরকেই আমি বিদ্যমান রেখেছি বংশ পরম্পরায়।" (সূরা সাফ্ফাত: ৭৭) ওয়া জাআলনা ফী যুররিয়্যাতিহিন নুবুওয়াতা ওয়াল কিতাব "আমি তাঁদের (নূহ ও ইবরাহীম আ.-এর) বংশধরদের জন্য স্থির করেছিলাম নবুয়ত ও কিতাব।” (সূরা হাদিদ: ২৬)

হযরত নূহ আ.-এর পরে আগত সকল নবী ও রাসূলই তাঁর বংশধর ছিলেন। তেমনিভাবে তাঁর বংশধর ছিলেন হযরত ইবরাহীম আ.ও। আর তাঁর মাধ্যমে তাঁর পরবর্তীকালের সকল নবী-রাসূলই হযরত নূহ আ.-এর বংশধর।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত নূহ আ.-এর একত্ববাদের দাওয়াত

📄 হযরত নূহ আ.-এর একত্ববাদের দাওয়াত


পৃথিবীতে আগমনকারী সকল নবী-রাসূলগণের প্রতি তাওহিদের দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন-

ওয়া লাকদ বাআছনা ফী কুল্লি উম্মাতিন রসূলান আনিবুদুল্লাহা ওয়াজতাবিনুত ত্বাগূত
(১) “আল্লাহর ইবাদত করার ও তাগুতকে বর্জন করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি।” (সূরা নাহল : ৩৬)

ওয়াসআল মান আরসালনা মিন ক্ববলিকা মির রুসুলিনা আজাআলনা মিন দুনির রহমানি আলিহাতান ইউবাদূন
(২) “আপনার পূর্বে যে সকল রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, তাদের আপনি জিজ্ঞাসা করুন! আমি কি দয়াময় আল্লাহ ছাড়া কোনো দেবতা স্থির করেছিলাম, যার ইবাদত করা যায়?” (সূরা যুখরুফ: ৪৫)

এমনিভাবে হযরত নূহ আ.-এর ওপরও ছিল সেই নির্দেশ। কাজেই তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন:

ইয়া কওমিউবুদুল্লাহা মা লাকুম মিন ইলাহিন গইরুহু ইন্নী আখাফু আলাইকুম আজাবা ইয়াওমিন আজীম "হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো ইলাহ নেই। আমি তোমাদের জন্য মহা দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি।” (সূরা আরাফ : ৫৯)

তিনি আরো বলেছিলেন-

আল্লা তাআবুদূ ইল্লাল্লাহা ইন্নী আখাফু আলাইকুম আজাবা ইয়াওমিন আলীম "তোমরা আল্লাহ ছাড়া অপর কিছুর ইবাদত কর না। আমি তোমাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক দিবসের শাস্তির আশঙ্কা করছি।" (সূরা হুদ: ২৬)

তিনি আরো বলেছিলেন-

কলা ইয়া কওমি ইন্নী লাকুম নাযীরুম মুবীন (২) আনিবুদুল্লাহা ওয়াত্তাকূহু ওয়া আতীউন "হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী এ বিষয়ে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁকে ভয় করো আর আমার আনুগত্য করো।" (সূরা মুমিনূন: ২৩)

তবে সূরা নূহে সবিশেষ স্বজাতির প্রতি তাঁর দাওয়াতের বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। তিনি রাত-দিন গোপনে ও প্রাকশ্যে লোকদের দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি কখনো উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে আবার কখনো ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে লোকদেরকে বুঝিয়েছেন।

কিন্তু আক্ষেপ তাদের ওপর! সম্প্রদায়ের লোকেরা কোনো অবস্থাতেই তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিল না। বরং অধিকাংশ লোক হযরত নূহ আ.-এর প্রকাশ্যে বিরোধিতা শুরু করল। তারা গোমরাহীতে আরো নিমজ্জিত হয়ে হযরত নূহ আ.-এর বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লাগল। তারা হযরত নূহ আ.-এর অনুসারীদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে লাগল। তাঁদেরকে মেরে ফেলার এবং দেশ থেকে বিতাড়িত করার ভয় দেখাতে থাকল। শুধু তা-ই নয়; বরং তাঁদের উপর চালাল বিভিন্নভাবে নির্যাতন। কোরআন মাজিদে এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে-

কলাল মালাউ মিন কওমিহী ইন্না লানারাকা ফী দলািলন মুবীন (১০) কলা ইয়া কওমি লাইসা বী দলালাতুন ওয়া লাকিন্নী রসূলুম মির রব্বিল আলামীন (৬১) উবাল্লিগুকুম রিসালাতি রব্বী ওয়া আনসাহু লাকুম ওয়া আলামু মিনাল্লাহি মা লা তালামুন

"তার সম্প্রদায় প্রধানগণ বলেছিল, আমরা তো তোমাকে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে দেখছি। (নূহ আ.) বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোনো ভ্রান্তি নেই। আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূল। আমার প্রতিপালকের বাণী আমি তোমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছি ও তোমাদের হিতোপদেশ দিচ্ছি এবং তোমরা যা জানো না, আমি তা আল্লাহর পক্ষ থেকে জানি।"

হযরত নূহ আ.-এর অনুসারীদেরকে কাফেররা কটাক্ষ করত; ওরা অধম ও নীচ বলে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:

ফাকলাল মালাউল্লাজিনা কাফারূ মিন কওমিহী মা নারাকা ইল্লা বাশারাম মিছলানা ওয়া মা নারাকাত্তাবাআকা ইল্লাল্লাজিনা হুম আরাযিলুনা বাদিয়ার রাি ওয়া মা নারা লাকুম আলাইনা মিন ফাদলিন বাল নাজুননুকুম কাযিবীন

"তার সম্প্রদায়ের কাফের নেতৃবৃন্দ বলল, আমরা তো তোমাকে আমাদের মতোই মানুষ দেখছি। আমরা তো দেখছি, যারা বুঝে না, তারাই তোমার অনুসরণ করছে। যারা আমাদের মধ্যে অধম এবং আমরা আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব দেখছি না বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি।" (সূরা হুদ: ২৭)

নূহ আ.-এর সম্প্রদায়ের লোকেরা বিস্মিত হলো। একজন মানুষ কীভাবে রাসূল হতে পারে। তদুপরি তারা তাঁর অনুসারীদের নানা দোষে অভিযুক্ত করত। অথচ তাঁর অনুসারীরা অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও দুর্বল ছিল বলেই বর্ণিত আছে। তাঁরা নূহ আ.-এর দাওয়াত শুনেই তা কবুল করে নিয়েছিল। তাই কাফেররা তাদেরকে 'বিবেচনাহীন' বলে মন্তব্য করেছিল।

উপরে উল্লিখিত আয়াত (সূরা হুদ: ২৯) দ্বারা এ কথা প্রতীয়মান হয়, সম্পদশালী ও প্রভাবশালী কাফেররা হযরত নূহ আ.-এর কাছে তাঁর অসহায় ও দুর্বল আনসারী ব্যক্তিদের তাড়িয়ে দিলে আমরা তোমার কথা শুনতে পারি বলে দাবি করেছিল। যেমনিভাবে কোরাইশদের অহঙ্কারী কাফেররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিল: আপনার দরবার হতে হযরত আম্মার, সুহাইব, বেলাল, খাব্বাব রাযি. প্রমুখ গরীব, দুর্বল ও অসহায়দের তাড়িয়ে দিন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে এরূপ কাজ থেকে বিরত থাকার এবং মুমিনগণের দিকেই নিবিষ্ট থাকতে নির্দেশ দেন।

হযরত নূহ আ. বলেন- মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেওয়া আমার কাজ নয়। আমি তো কেবল একজন স্পষ্ট সতর্ককারী। তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিলেন পঞ্চাশ কম হাজার [৯৫০] বছর। এরপর প্লাবন তাদের গ্রাস করে। কারণ, তারা ছিল জালিম।

এভাবে হযরত নূহ আ. তাঁর সম্প্রদায়কে দীনের দাওয়াত দিতেন এবং একত্ববাদের প্রতি আহ্বান করতেন। কিন্তু তাঁর সম্প্রদায় তাঁকে বরাবরই মিথ্যা প্রতিপন্ন করত এবং তাঁর অনুসারীগণকে উপহাস করত। কাফেররা এতটাই ভ্রান্তির মধ্যে ছিল, হযরত নূহ আ. এত দীর্ঘকালের দাওয়াতি পরিশ্রমের পর কিছুসংখ্যক লোক হযরত নূহ আ.-এর আনিত দীনের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল।

পৃথিবীতে আগমনকারী সকল নবী-রাসূলগণের প্রতি তাওহিদের দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন-

ওয়া লাকদ বাআছনা ফী কুল্লি উম্মাতিন রসূলান আনিবুদুল্লাহা ওয়াজতাবিনুত ত্বাগূত
(১) “আল্লাহর ইবাদত করার ও তাগুতকে বর্জন করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি।” (সূরা নাহল : ৩৬)

ওয়াসআল মান আরসালনা মিন ক্ববলিকা মির রুসুলিনা আজাআলনা মিন দুনির রহমানি আলিহাতান ইউবাদূন
(২) “আপনার পূর্বে যে সকল রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, তাদের আপনি জিজ্ঞাসা করুন! আমি কি দয়াময় আল্লাহ ছাড়া কোনো দেবতা স্থির করেছিলাম, যার ইবাদত করা যায়?” (সূরা যুখরুফ: ৪৫)

এমনিভাবে হযরত নূহ আ.-এর ওপরও ছিল সেই নির্দেশ। কাজেই তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন:

ইয়া কওমিউবুদুল্লাহা মা লাকুম মিন ইলাহিন গইরুহু ইন্নী আখাফু আলাইকুম আজাবা ইয়াওমিন আজীম "হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো ইলাহ নেই। আমি তোমাদের জন্য মহা দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি।” (সূরা আরাফ : ৫৯)

তিনি আরো বলেছিলেন-

আল্লা তাআবুদূ ইল্লাল্লাহা ইন্নী আখাফু আলাইকুম আজাবা ইয়াওমিন আলীম "তোমরা আল্লাহ ছাড়া অপর কিছুর ইবাদত কর না। আমি তোমাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক দিবসের শাস্তির আশঙ্কা করছি।" (সূরা হুদ: ২৬)

তিনি আরো বলেছিলেন-

কলা ইয়া কওমি ইন্নী লাকুম নাযীরুম মুবীন (২) আনিবুদুল্লাহা ওয়াত্তাকূহু ওয়া আতীউন "হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী এ বিষয়ে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁকে ভয় করো আর আমার আনুগত্য করো।" (সূরা মুমিনূন: ২৩)

তবে সূরা নূহে সবিশেষ স্বজাতির প্রতি তাঁর দাওয়াতের বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। তিনি রাত-দিন গোপনে ও প্রাকশ্যে লোকদের দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি কখনো উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে আবার কখনো ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে লোকদেরকে বুঝিয়েছেন।

কিন্তু আক্ষেপ তাদের ওপর! সম্প্রদায়ের লোকেরা কোনো অবস্থাতেই তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিল না। বরং অধিকাংশ লোক হযরত নূহ আ.-এর প্রকাশ্যে বিরোধিতা শুরু করল। তারা গোমরাহীতে আরো নিমজ্জিত হয়ে হযরত নূহ আ.-এর বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লাগল। তারা হযরত নূহ আ.-এর অনুসারীদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে লাগল। তাঁদেরকে মেরে ফেলার এবং দেশ থেকে বিতাড়িত করার ভয় দেখাতে থাকল। শুধু তা-ই নয়; বরং তাঁদের উপর চালাল বিভিন্নভাবে নির্যাতন। কোরআন মাজিদে এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে-

কলাল মালাউ মিন কওমিহী ইন্না লানারাকা ফী দলািলন মুবীন (১০) কলা ইয়া কওমি লাইসা বী দলালাতুন ওয়া লাকিন্নী রসূলুম মির রব্বিল আলামীন (৬১) উবাল্লিগুকুম রিসালাতি রব্বী ওয়া আনসাহু লাকুম ওয়া আলামু মিনাল্লাহি মা লা তালামুন

"তার সম্প্রদায় প্রধানগণ বলেছিল, আমরা তো তোমাকে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে দেখছি। (নূহ আ.) বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোনো ভ্রান্তি নেই। আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূল। আমার প্রতিপালকের বাণী আমি তোমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছি ও তোমাদের হিতোপদেশ দিচ্ছি এবং তোমরা যা জানো না, আমি তা আল্লাহর পক্ষ থেকে জানি।"

হযরত নূহ আ.-এর অনুসারীদেরকে কাফেররা কটাক্ষ করত; ওরা অধম ও নীচ বলে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:

ফাকলাল মালাউল্লাজিনা কাফারূ মিন কওমিহী মা নারাকা ইল্লা বাশারাম মিছলানা ওয়া মা নারাকাত্তাবাআকা ইল্লাল্লাজিনা হুম আরাযিলুনা বাদিয়ার রাি ওয়া মা নারা লাকুম আলাইনা মিন ফাদলিন বাল নাজুননুকুম কাযিবীন

"তার সম্প্রদায়ের কাফের নেতৃবৃন্দ বলল, আমরা তো তোমাকে আমাদের মতোই মানুষ দেখছি। আমরা তো দেখছি, যারা বুঝে না, তারাই তোমার অনুসরণ করছে। যারা আমাদের মধ্যে অধম এবং আমরা আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব দেখছি না বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি।" (সূরা হুদ: ২৭)

নূহ আ.-এর সম্প্রদায়ের লোকেরা বিস্মিত হলো। একজন মানুষ কীভাবে রাসূল হতে পারে। তদুপরি তারা তাঁর অনুসারীদের নানা দোষে অভিযুক্ত করত। অথচ তাঁর অনুসারীরা অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও দুর্বল ছিল বলেই বর্ণিত আছে। তাঁরা নূহ আ.-এর দাওয়াত শুনেই তা কবুল করে নিয়েছিল। তাই কাফেররা তাদেরকে 'বিবেচনাহীন' বলে মন্তব্য করেছিল।

উপরে উল্লিখিত আয়াত (সূরা হুদ: ২৯) দ্বারা এ কথা প্রতীয়মান হয়, সম্পদশালী ও প্রভাবশালী কাফেররা হযরত নূহ আ.-এর কাছে তাঁর অসহায় ও দুর্বল আনসারী ব্যক্তিদের তাড়িয়ে দিলে আমরা তোমার কথা শুনতে পারি বলে দাবি করেছিল। যেমনিভাবে কোরাইশদের অহঙ্কারী কাফেররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিল: আপনার দরবার হতে হযরত আম্মার, সুহাইব, বেলাল, খাব্বাব রাযি. প্রমুখ গরীব, দুর্বল ও অসহায়দের তাড়িয়ে দিন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে এরূপ কাজ থেকে বিরত থাকার এবং মুমিনগণের দিকেই নিবিষ্ট থাকতে নির্দেশ দেন।

হযরত নূহ আ. বলেন- মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেওয়া আমার কাজ নয়। আমি তো কেবল একজন স্পষ্ট সতর্ককারী। তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিলেন পঞ্চাশ কম হাজার [৯৫০] বছর। এরপর প্লাবন তাদের গ্রাস করে। কারণ, তারা ছিল জালিম।

এভাবে হযরত নূহ আ. তাঁর সম্প্রদায়কে দীনের দাওয়াত দিতেন এবং একত্ববাদের প্রতি আহ্বান করতেন। কিন্তু তাঁর সম্প্রদায় তাঁকে বরাবরই মিথ্যা প্রতিপন্ন করত এবং তাঁর অনুসারীগণকে উপহাস করত। কাফেররা এতটাই ভ্রান্তির মধ্যে ছিল, হযরত নূহ আ. এত দীর্ঘকালের দাওয়াতি পরিশ্রমের পর কিছুসংখ্যক লোক হযরত নূহ আ.-এর আনিত দীনের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কওমে নূহ আ.-এর কওমের নাফরমানি

📄 কওমে নূহ আ.-এর কওমের নাফরমানি


হযরত নূহ আ.-এর কওম তাঁর দাওয়াত কবুল করল না। তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে এবং তার সকল আহ্বান ঘৃণা ও অবজ্ঞার সাথে প্রত্যাখ্যান করল। হযরত নূহ আ. তাঁর কওমের জন্য দিবা-রাত্রি পরিশ্রম করতেন। কিন্তু তারা তাঁকে অপমান ও হেয় করার যাবতীয় পন্থাই গ্রহণ করত। বিস্ময় প্রকাশ করে বলত, যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ ও স্বচ্ছলতায় আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়, মান-মর্যাদায় ফেরেশতাদের চেয়ে উচ্চ নয়, আমাদের নেতা ও পরিচালক হওয়ার কী অধিকার আছে তার? তারা হযরত নূহ আ.-এর অনুসারীদের দেখলে তাচ্ছিল্যের সাথে বলত- আমরা এদের মতো নই, তোমার আদেশানুগত হয়ে যাব; তোমাকে নিজেদের অনুসরণীয় নেতা হিসেবে মেনে নেব। মনে করত, এই দুর্বল ও নীচ শ্রেণী তো নূহ আ.-এর অন্ধ অনুসারী। কদাচই তারা হযরত নূহ আ.-এর কথার প্রতি মনোযোগ দিত। তথাপি তাঁর কাছে জেদ করত, আগে এ সমস্ত হীন ও গরীব লোকদের তোমার কাছ থেকে বিতাড়িত কর! তবেই আমরা তোমার কথা শুনব। কেননা তাদেরকে দেখলে আমাদের ঘৃণা হয়। তারা এবং আমরা এক স্থানে বসতে পারি না।

হযরত নূহ আ.-এর বলতেন, এটা কখনো হতে পারে না। কেননা তারা আল্লাহর খাঁটি বান্দা। হযরত নূহ আ. সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেন, যাতে হতভাগা কওম বুঝতে পারে এবং আল্লাহ পাকের রহমত লাভের উপযোগী হয়ে যায়। কিন্তু কওম তাঁর হেদায়েত মানল না। বরং তাঁর পক্ষ থেকে যে পরিমাণ হেদায়েত ও সত্যের দাওয়াত হতো, কওমের পক্ষ থেকে সে পরিমাণ শত্রুতা ও বিরোধিতা হতো। এবং হযরত নূহ আ.-কে দুঃখ প্রদানের সর্বপ্রকার উপায় অবলম্বন করত। তাদের সর্দার প্রধানরা সাধারণ লোকদের পরিষ্কার বলে দিত, তোমরা কোনো প্রকারেই ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক ও নাসর মূর্তিগুলোর পূজা ত্যাগ করবে না। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সূরা নূহ: ২৩ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বৃত্তান্ত দিয়েছেন। শুরুর দিকে আমরা তা উদ্ধৃত করেছি।

এমনকি পরিশেষে তারা বিরক্ত হয়ে বলতে লাগল, হে নূহ! আর আমাদের সঙ্গে ঝগড়া-কলহ করো না। এবং আমাদের এ অমান্য করার দরুন তোমার খোদাকে বলে যে আযাব আনতে পার, নিয়ে এসো! (সূরা হুদ: ৩২)

যখন কওমের সকল অপচেষ্টা ও হঠকারিতা প্রকাশ হয়ে গেল এবং কোরআন পাকের স্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী সাড়ে নয় শ বছর অক্লান্ত ও অবিরাম হেদায়েত এবং তাবলিগ করায় তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখলেন না, তখন তিনি নিতান্ত ব্যথিত হলেন। আল্লাহ তাআলা তখন তাঁকে সান্ত্বনা দিলেন: আন্নাহূ লাই ইউমিনা মিন কওমিকা ইল্লা মান কদ আমানা ফালা তাবতািস বিমা কানূ ইয়ামালূন

"যারা ঈমান আনার ছিল, এনেছে। তারা ছাড়া অন্যরা কেউই ঈমান আনবে না। অতএব তাদের কার্যকলাপের জন্য দুঃখ করবে না।” (সূরা হৃদ: ৩৬)

হযরত নূহ আ. বুঝতে পারলেন, তাঁর সত্য প্রচারে ত্রুটি হয় নি। এরা ঘোর অমান্যকারী নাফরমান। তখন তিনি তাদের কার্যকলাপ ও জঘন্যাচারে ব্যথিত হয়ে আল্লাহ পাকের দরবারে দোয়া করলেন: রব্বি লা তাযার আলাল আরদি মিনাল কাফিরীনা দাইয়্যারা (২৬) ইন্নাকা ইন তাযারহুম ইউদিল্লু ইবাদাকা ওয়া লা ইয়ালিদূ ইল্লা ফাজিরান কাফফারা

"হে আমার প্রতিপালক! আপনি কাফেরদের কাউকে যমিনের ওপর অবশিষ্ট রাখবেন না। যদি আপনি তাদের এভাবেই ছেড়ে দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদের গোমরাহ করে ফেলবে আর তাদের বংশধরও তাদেরই মতো পাপিষ্ঠ ও নাফরমান পয়দা হবে।" (সূরা নূহ: ২৬-২৭)

হযরত নূহ আ.-এর কওম তাঁর দাওয়াত কবুল করল না। তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে এবং তার সকল আহ্বান ঘৃণা ও অবজ্ঞার সাথে প্রত্যাখ্যান করল। হযরত নূহ আ. তাঁর কওমের জন্য দিবা-রাত্রি পরিশ্রম করতেন। কিন্তু তারা তাঁকে অপমান ও হেয় করার যাবতীয় পন্থাই গ্রহণ করত। বিস্ময় প্রকাশ করে বলত, যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ ও স্বচ্ছলতায় আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়, মান-মর্যাদায় ফেরেশতাদের চেয়ে উচ্চ নয়, আমাদের নেতা ও পরিচালক হওয়ার কী অধিকার আছে তার? তারা হযরত নূহ আ.-এর অনুসারীদের দেখলে তাচ্ছিল্যের সাথে বলত- আমরা এদের মতো নই, তোমার আদেশানুগত হয়ে যাব; তোমাকে নিজেদের অনুসরণীয় নেতা হিসেবে মেনে নেব। মনে করত, এই দুর্বল ও নীচ শ্রেণী তো নূহ আ.-এর অন্ধ অনুসারী। কদাচই তারা হযরত নূহ আ.-এর কথার প্রতি মনোযোগ দিত। তথাপি তাঁর কাছে জেদ করত, আগে এ সমস্ত হীন ও গরীব লোকদের তোমার কাছ থেকে বিতাড়িত কর! তবেই আমরা তোমার কথা শুনব। কেননা তাদেরকে দেখলে আমাদের ঘৃণা হয়। তারা এবং আমরা এক স্থানে বসতে পারি না।

হযরত নূহ আ.-এর বলতেন, এটা কখনো হতে পারে না। কেননা তারা আল্লাহর খাঁটি বান্দা। হযরত নূহ আ. সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেন, যাতে হতভাগা কওম বুঝতে পারে এবং আল্লাহ পাকের রহমত লাভের উপযোগী হয়ে যায়। কিন্তু কওম তাঁর হেদায়েত মানল না। বরং তাঁর পক্ষ থেকে যে পরিমাণ হেদায়েত ও সত্যের দাওয়াত হতো, কওমের পক্ষ থেকে সে পরিমাণ শত্রুতা ও বিরোধিতা হতো। এবং হযরত নূহ আ.-কে দুঃখ প্রদানের সর্বপ্রকার উপায় অবলম্বন করত। তাদের সর্দার প্রধানরা সাধারণ লোকদের পরিষ্কার বলে দিত, তোমরা কোনো প্রকারেই ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক ও নাসর মূর্তিগুলোর পূজা ত্যাগ করবে না। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সূরা নূহ: ২৩ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বৃত্তান্ত দিয়েছেন। শুরুর দিকে আমরা তা উদ্ধৃত করেছি।

এমনকি পরিশেষে তারা বিরক্ত হয়ে বলতে লাগল, হে নূহ! আর আমাদের সঙ্গে ঝগড়া-কলহ করো না। এবং আমাদের এ অমান্য করার দরুন তোমার খোদাকে বলে যে আযাব আনতে পার, নিয়ে এসো! (সূরা হুদ: ৩২)

যখন কওমের সকল অপচেষ্টা ও হঠকারিতা প্রকাশ হয়ে গেল এবং কোরআন পাকের স্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী সাড়ে নয় শ বছর অক্লান্ত ও অবিরাম হেদায়েত এবং তাবলিগ করায় তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখলেন না, তখন তিনি নিতান্ত ব্যথিত হলেন। আল্লাহ তাআলা তখন তাঁকে সান্ত্বনা দিলেন: আন্নাহূ লাই ইউমিনা মিন কওমিকা ইল্লা মান কদ আমানা ফালা তাবতািস বিমা কানূ ইয়ামালূন

"যারা ঈমান আনার ছিল, এনেছে। তারা ছাড়া অন্যরা কেউই ঈমান আনবে না। অতএব তাদের কার্যকলাপের জন্য দুঃখ করবে না।” (সূরা হৃদ: ৩৬)

হযরত নূহ আ. বুঝতে পারলেন, তাঁর সত্য প্রচারে ত্রুটি হয় নি। এরা ঘোর অমান্যকারী নাফরমান। তখন তিনি তাদের কার্যকলাপ ও জঘন্যাচারে ব্যথিত হয়ে আল্লাহ পাকের দরবারে দোয়া করলেন: রব্বি লা তাযার আলাল আরদি মিনাল কাফিরীনা দাইয়্যারা (২৬) ইন্নাকা ইন তাযারহুম ইউদিল্লু ইবাদাকা ওয়া লা ইয়ালিদূ ইল্লা ফাজিরান কাফফারা

"হে আমার প্রতিপালক! আপনি কাফেরদের কাউকে যমিনের ওপর অবশিষ্ট রাখবেন না। যদি আপনি তাদের এভাবেই ছেড়ে দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদের গোমরাহ করে ফেলবে আর তাদের বংশধরও তাদেরই মতো পাপিষ্ঠ ও নাফরমান পয়দা হবে।" (সূরা নূহ: ২৬-২৭)

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 নৌকা তৈরি

📄 নৌকা তৈরি


আল্লাহ পাক হযরত নূহ আ.-এর দোয়া কবুল করলেন এবং আমলের প্রতিফলের নিয়মানুযায়ী অবাধ্যদের অবাধ্যতার শাস্তি ঘোষণা করে দিলেন। আর মুমিনদের রক্ষার জন্য প্রথমে হযরত নূহ আ. কে নির্দেশ দিলেন, একটি নৌযান তৈরি করুন। যাতে বাহ্যিক কারণ হিসেবে তিনি এবং অনুগত মুমিনগণ সেই শাস্তি হতে সুরক্ষিত থাকে আর তা অবাধ্য ও নাফরমান লোকদের প্রতি অচিরেই নাযিল হবে।

হযরত নূহ আ. আল্লাহ পাকের আদেশ অনুযায়ী নৌকা তৈরি শুরু করলে কাফেররা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে লাগল। যখনই নির্মাণাধীন নৌযানের কাছ দিয়ে যেত, তখন বলত- চমৎকার! আমরা যখন নিমজ্জিত হতে আরম্ভ করব, তখন তুমি ও তোমার অনুসারীরা এই নৌকায় আরোহণ করে সুরক্ষিত থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে। কেমন নির্বোধসুলভ কল্পনা!

হযরত নূহ আ.ও তাদের অপরিণামদর্শিতা এবং আল্লাহ তাআলার নাফরমানির দুঃসাহস দেখে তাদের অনুরূপ জবাব দিতেন। এবং নিজের কাজে মনোযোগী থাকতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রকৃত অবস্থা সম্বন্ধে সতর্ক করে দিয়ে ছিলেন। ওয়াসনাইল ফুলকা বিআইয়ুনিনা ওয়া ওয়াহয়িনা ওয়া লা তুখাতিবনী ফিল্লাজিনা জলামূ ইন্নাহুম মুগরাকূন

"হে নূহ! তুমি আমারই তত্ত্বাবধানে আমার অহি অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করতে থাকো। আর এখন আমাকে সম্বোধন করে জালিমদের ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করবে না। নিঃসন্দেহে তারা নিমজ্জিত হবে।" (সূরা হৃদ: ৩৭)

অবশেষে নূহ আ.-এর নৌযান প্রস্তুত হয়ে গেল। এখন আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুত আযাব নাযিল হওয়ার সময় নিকটবর্তী হলো। নূহ আ. প্রথম আলামত (নিদর্শন) দেখতে পেলেন, যা তাঁকে বলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভূগর্ভ হতে পানি উত্থিত হতে আরম্ভ করল। তখন আল্লাহ পাক আদেশ করলেন- "নিজের বংশধরদেরকে নৌকায় আরোহণের আদেশ দাও। আর সমস্ত প্রাণীকুল হতে প্রত্যেক প্রকারের এক এক জোড়াও নৌকায় উঠিয়ে নাও। (প্রায় ৪০ জনের) সেই ক্ষুদ্র দলটিকেও (যারা তোমার ওপর ঈমান আনয়ন করেছে) নৌকায় আরোহণের আদেশ দাও।"

যখন আল্লাহ পাকের অহি সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী হলো, তখন আসমানের প্রতি আদেশ হলো, পানি বর্ষণ করতে আরম্ভ করো আর যমিনের ফোয়ারাসমূহের প্রতি আদেশ হলো, পূর্ণ মাত্রায় উত্থিত হতে থাকো। আল্লাহ পাকের আদেশে যখন এসব কিছু হতে থাকল, তখন নৌকা তাঁর (আল্লাহ তাআলার) প্রত্যক্ষ হেফাযতে ভাসতে থাকল সে পর্যন্ত, যে পর্যন্ত না সমস্ত অবিশ্বাসী ও অবাধ্য লোকেরা পানিতে ডুবে গেল এবং আল্লাহ তাআলার বিধি-ব্যবস্থা কর্মফল অনুযায়ী নিজেদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করল।

হযরত নূহ আ.-এর সময়কার এ প্লাবনকে দীর্ঘদিন অনেকের কাছে সাজানো কাহিনী বলে অভিহিত ছিল। কিন্তু বর্তমান বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেছেন, সে সময় ভয়াবহ ভারি বর্ষণ ও প্লাবনের মুখে পড়েছিল পৃথিবী। বিজ্ঞানীরা কেউ কেউ নূহ আ.-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানেও ব্যস্ত আছেন। তুরস্কের এক পাহাড়ে গত শতাব্দীর শেষ দিকে হাজার হাজার বছর আগে তৈরি করা বিশালাকারের নৌকার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা মতে এটাই নূহের নৌকা।

আল্লাহ পাক হযরত নূহ আ.-এর দোয়া কবুল করলেন এবং আমলের প্রতিফলের নিয়মানুযায়ী অবাধ্যদের অবাধ্যতার শাস্তি ঘোষণা করে দিলেন। আর মুমিনদের রক্ষার জন্য প্রথমে হযরত নূহ আ. কে নির্দেশ দিলেন, একটি নৌযান তৈরি করুন। যাতে বাহ্যিক কারণ হিসেবে তিনি এবং অনুগত মুমিনগণ সেই শাস্তি হতে সুরক্ষিত থাকে আর তা অবাধ্য ও নাফরমান লোকদের প্রতি অচিরেই নাযিল হবে।

হযরত নূহ আ. আল্লাহ পাকের আদেশ অনুযায়ী নৌকা তৈরি শুরু করলে কাফেররা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে লাগল। যখনই নির্মাণাধীন নৌযানের কাছ দিয়ে যেত, তখন বলত- চমৎকার! আমরা যখন নিমজ্জিত হতে আরম্ভ করব, তখন তুমি ও তোমার অনুসারীরা এই নৌকায় আরোহণ করে সুরক্ষিত থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে। কেমন নির্বোধসুলভ কল্পনা!

হযরত নূহ আ.ও তাদের অপরিণামদর্শিতা এবং আল্লাহ তাআলার নাফরমানির দুঃসাহস দেখে তাদের অনুরূপ জবাব দিতেন। এবং নিজের কাজে মনোযোগী থাকতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রকৃত অবস্থা সম্বন্ধে সতর্ক করে দিয়ে ছিলেন। ওয়াসনাইল ফুলকা বিআইয়ুনিনা ওয়া ওয়াহয়িনা ওয়া লা তুখাতিবনী ফিল্লাজিনা জলামূ ইন্নাহুম মুগরাকূন

"হে নূহ! তুমি আমারই তত্ত্বাবধানে আমার অহি অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করতে থাকো। আর এখন আমাকে সম্বোধন করে জালিমদের ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করবে না। নিঃসন্দেহে তারা নিমজ্জিত হবে।" (সূরা হৃদ: ৩৭)

অবশেষে নূহ আ.-এর নৌযান প্রস্তুত হয়ে গেল। এখন আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুত আযাব নাযিল হওয়ার সময় নিকটবর্তী হলো। নূহ আ. প্রথম আলামত (নিদর্শন) দেখতে পেলেন, যা তাঁকে বলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভূগর্ভ হতে পানি উত্থিত হতে আরম্ভ করল। তখন আল্লাহ পাক আদেশ করলেন- "নিজের বংশধরদেরকে নৌকায় আরোহণের আদেশ দাও। আর সমস্ত প্রাণীকুল হতে প্রত্যেক প্রকারের এক এক জোড়াও নৌকায় উঠিয়ে নাও। (প্রায় ৪০ জনের) সেই ক্ষুদ্র দলটিকেও (যারা তোমার ওপর ঈমান আনয়ন করেছে) নৌকায় আরোহণের আদেশ দাও।"

যখন আল্লাহ পাকের অহি সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী হলো, তখন আসমানের প্রতি আদেশ হলো, পানি বর্ষণ করতে আরম্ভ করো আর যমিনের ফোয়ারাসমূহের প্রতি আদেশ হলো, পূর্ণ মাত্রায় উত্থিত হতে থাকো। আল্লাহ পাকের আদেশে যখন এসব কিছু হতে থাকল, তখন নৌকা তাঁর (আল্লাহ তাআলার) প্রত্যক্ষ হেফাযতে ভাসতে থাকল সে পর্যন্ত, যে পর্যন্ত না সমস্ত অবিশ্বাসী ও অবাধ্য লোকেরা পানিতে ডুবে গেল এবং আল্লাহ তাআলার বিধি-ব্যবস্থা কর্মফল অনুযায়ী নিজেদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করল।

হযরত নূহ আ.-এর সময়কার এ প্লাবনকে দীর্ঘদিন অনেকের কাছে সাজানো কাহিনী বলে অভিহিত ছিল। কিন্তু বর্তমান বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেছেন, সে সময় ভয়াবহ ভারি বর্ষণ ও প্লাবনের মুখে পড়েছিল পৃথিবী। বিজ্ঞানীরা কেউ কেউ নূহ আ.-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানেও ব্যস্ত আছেন। তুরস্কের এক পাহাড়ে গত শতাব্দীর শেষ দিকে হাজার হাজার বছর আগে তৈরি করা বিশালাকারের নৌকার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা মতে এটাই নূহের নৌকা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px