📄 পরবর্তী নবীগণ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী
হযরত ইদরীস আ. তাঁর উম্মতদের বলেছিলেন- মানবজাতির ধর্মীয় ও পার্থিব সংশোধনের জন্য আমার মতো বহু আম্বিয়ায়ে কেরাম আগমন করবেন। তাঁদের প্রকাশ্য বৈশিষ্ট্য হলো- (১) তাঁরা মন্দকাজ হতে পবিত্র থাকবেন। (২) অন্যান্য প্রশংসনীয় গুণাবলিতে পরিপূর্ণ হবেন। (৩) যমিন ও আসমানের অবস্থাবলী এবং যে সমস্ত বিষয়ে বিশ্বের সকল সৃষ্টির জন্য কল্যাণ বা অকল্যাণ রয়েছে, সেসব সম্পর্কে অহির মাধ্যমে এমনভাবে ওয়াকিফহাল থাকবেন, কোনো প্রশ্নকারী অতৃপ্ত থাকবে না। তাঁদের দোয়া কবুল হবে। তাঁদের ধর্মপ্রচারের সারমর্ম হবে বিশ্ববাসীর সংশোধন।
📄 হযরত ইদরীস আ.-এর কিছু নসিহত
হযরত ইদরীস আ.-এর বহু উপদেশ, নসিহত, চালচলন ও আখলাক সম্বন্ধীয় বাক্যাবলী বিভিন্ন ভাষায় প্রবাদ, রহস্য কথা ও সূক্ষ্মতত্ত্বরূপে প্রচলিত। তন্মধ্যে কয়েকটি বাণী হলো-
(১) আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামতসমূহের শোকর আদায় করা মানব ক্ষমতার বাইরে।
(২) যে ব্যক্তি জ্ঞানে পূর্ণতা ও নেকআমলের আকাঙ্ক্ষা করে, তার জন্য মূর্খতার কারণসমূহ এবং অসৎকাজের কাছেও যাওয়া উচিত নয়। তুমি কি দেখ না, প্রত্যেক দর্জি সেলাই করার ইচ্ছা করলে সুঁই হাতে নেয়; বর্ম হাতে নেয় না। অতএব সব সময় এ বাক্যটির প্রতি যেন লক্ষ থাকে- "আল্লাহকেও পেতে চাইবে আর সেই সঙ্গে দুনিয়ার মোহেও মত্ত থাকবে-এটা কল্পনা ও পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়।"
(৩) দুনিয়ার ধন-সম্পদের পরিণাম আক্ষেপ এবং মন্দকাজের পরিণাম অনুতাপ।
(৪) আল্লাহ পাকের যিকির এবং নেকআমলে খালেছ নিয়ত থাকা শর্ত।
(৫) মিথ্যা শপথ করবে না। আল্লাহ তাআলার পবিত্র নামকে কসমের অনুশীলনের জন্য ব্যবহার করবে না। মিথ্যাবাদীদের কসম খাওয়ার প্রতি প্রণোদিত করবে না। কেননা এরূপ করলে তুমিও তার পাপের অংশীদার হয়ে যাবে।
(৬) হীন পেশা অবলম্বন করবে না। যেমন- শিঙ্গা লাগানো, গরু-ছাগল ইত্যাদির পাল দেখিয়ে বিনিময় গ্রহণ করা ইত্যাদি।
(৭) শরিয়তের বিধান জারি করার জন্য পয়গম্বর কর্তৃক নিয়োজিত বাদশাকে মান্য করবে। নিজের মুরব্বি ও বড়দের সম্মুখে অবনত থাকবে। সব সময় আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা জিহবাকে সজীব রাখবে।
(৮) জ্ঞান আত্মার জীবন।
(৯) অন্যের স্বচ্ছল জীবিকার প্রতি হিংসা পোষণ করবে না। কেননা এ আনন্দময় জীবন-যাপন ক্ষণস্থায়ী।
(১০) যে জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনের অধিক বাসনা করে, সে কখনো তৃপ্ত হয় না।
📄 বিবিধ প্রসঙ্গ
* সহি ইবনে হিব্বানে বর্ণিত আছে: হযরত ইদরীস আ. সর্বপ্রথম কলম ব্যবহার করেন।
* তারিখুল হুকামায় বর্ণিত আছে। একদল আলেম বলেন : দর্শনশাস্ত্রের পুস্তকগুলিতে যে সমস্ত জ্ঞানগর্ভ আলোচনা এবং নক্ষত্রসমূহের গতিবিধির বিবরণ দেখা যায়, তা সর্বপ্রথম হযরত ইদরীস আ.-এর যবান থেকে বের হয়েছে।
* আল্লাহ তাআলার ইবাদতের জন্য ইবাদতখানা নির্মাণ, চিকিৎসা শাস্ত্রের আবিষ্কার, যমিন ও আসমানের যাবতীয় বস্তু সম্বন্ধে যথোপযুক্ত কবিতার মাধ্যমে মতামত প্রকাশ সর্বপ্রথম তাঁরই অবদান।
* তিনিই সর্বপ্রথম তুফানের সংবাদ প্রদান করে আল্লাহর বান্দাদের ভয় প্রদর্শন করেছিলেন। বলেছিলেন, "আমাকে দেখানো হয়েছে একটি আসমানি বিপদ; যা যমিনকে পানি ও আগুনের মধ্যে জড়িয়ে ধরছে।"
এ ঘটনা দেখে তিনি সমস্ত ইলমের বিনাশ, সমস্ত শিল্প ও পোশাক ধ্বংস হওয়া সম্বন্ধে শঙ্কিত হয়ে পড়লেন। সুতরাং তিনি মিসরে চৌবাচ্চা এবং চারদিক থেকে বন্ধ গুহাসমূহ নির্মাণ করে এতে সকল শিল্প এবং এ সম্পর্কিত নতুন আবিষ্কৃত যন্ত্রপাতিসমূহের চিত্র আঁকলেন। আর সমস্ত ইলম ও শাস্ত্রের তথ্যাবলী ও বিবরণ অঙ্কন করলেন। যাতে এ সমস্ত শিল্প ও বিদ্যা চিরকালের জন্য স্থায়ী থাকে। এবং এগুলো হারিয়ে না যায়।