📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত ইদরীস আ.-এর পার্থিব খেলাফত

📄 হযরত ইদরীস আ.-এর পার্থিব খেলাফত


হযরত ইদরীস আ.-কে যখন আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর খলিফা ও অধিপতি বানালেন, তখন তিনি আল্লাহর বান্দাগণকে ইলম ও আমলের প্রেক্ষিতে তিনভাগে বিভক্ত করে দিলেন। জ্যোতিষী, বাদশা ও প্রজা। পর্যায়ক্রমিকভাবে তাদের মর্যাদা নির্ধারণ করে দিলেন। জ্যোতিষীর মর্যাদা সবার ঊর্ধ্বে। কেননা তাকে আল্লাহ পাকের দরবারে নিজেকে ছাড়াও বাদশা ও প্রজাদের ব্যাপারেও জবাবদিহি করতে হবে। দ্বিতীয় মর্যাদাবান হলেন বাদশা। কেননা তাকে নিজেকে এবং রাজত্বসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ের জবাবদিহি করতে হবে। তৃতীয় পর্যায়ে প্রজা। কেননা তাকে শুধু নিজের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু এ পর্যায়ক্রমিক মর্যাদাভেদ কর্তব্যের ভিত্তিতে ছিল। বংশ ও খান্দানের পার্থক্যের ভিত্তিতে নয়। সারকথা, হযরত ইদরীস আ. আল্লাহর কাছে উত্থিত হওয়া পর্যন্ত শরিয়ত ও রাষ্ট্রনীতির এ সমস্ত কানুন প্রচার করতে থাকেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 আল্লাহর নামে কোরবানি

📄 আল্লাহর নামে কোরবানি


হযরত ইদরীস আ. তাঁর অনুসারীদের জন্য আল্লাহ তাআলার আদেশে কয়েকটি ঈদ উৎসবের দিন নির্ধারণ করেন। কয়েকটি নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর নামে কোরবানি করা ফরয করে দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে একটি ঈদ নতুন চাঁদ দেখার পর উদযাপন করা হতো।

আল্লাহর নামে কোরবানি করার জন্য হযরত ইদরীস আ.-এর কাছে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেগুলো হলো- সুগন্ধি বস্তুর ধোঁয়া, জীব কোরবানি করা এবং শরাব।

দার্শনিকদের বিপরীতমুখী এই বর্ণনায় বিস্মিত হতে হয়। তারা একদিকে হযরত ইদরীস আ.-এর শরিয়তে শরাব হারাম বলে উক্তি করেন। অপরদিকে আল্লাহর দরবারে শরাব নিবেদন করাকে গ্রহণযোগ্য বলেন। এটা নিশ্চয়ই বিস্ময়কর! এ ছাড়াও ফল-ফুল থেকে মৌসুমের প্রথমটি আল্লাহর নামে নিবেদন করা একান্ত প্রয়োজনীয় মনে করা হতো। তবে ফলের মধ্যে আপেল, শস্যের মধ্যে গম এবং ফুলের মধ্যে গোলাপের অগ্রাধিকার ছিল।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 পরবর্তী নবীগণ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী

📄 পরবর্তী নবীগণ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী


হযরত ইদরীস আ. তাঁর উম্মতদের বলেছিলেন- মানবজাতির ধর্মীয় ও পার্থিব সংশোধনের জন্য আমার মতো বহু আম্বিয়ায়ে কেরাম আগমন করবেন। তাঁদের প্রকাশ্য বৈশিষ্ট্য হলো- (১) তাঁরা মন্দকাজ হতে পবিত্র থাকবেন। (২) অন্যান্য প্রশংসনীয় গুণাবলিতে পরিপূর্ণ হবেন। (৩) যমিন ও আসমানের অবস্থাবলী এবং যে সমস্ত বিষয়ে বিশ্বের সকল সৃষ্টির জন্য কল্যাণ বা অকল্যাণ রয়েছে, সেসব সম্পর্কে অহির মাধ্যমে এমনভাবে ওয়াকিফহাল থাকবেন, কোনো প্রশ্নকারী অতৃপ্ত থাকবে না। তাঁদের দোয়া কবুল হবে। তাঁদের ধর্মপ্রচারের সারমর্ম হবে বিশ্ববাসীর সংশোধন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত ইদরীস আ.-এর কিছু নসিহত

📄 হযরত ইদরীস আ.-এর কিছু নসিহত


হযরত ইদরীস আ.-এর বহু উপদেশ, নসিহত, চালচলন ও আখলাক সম্বন্ধীয় বাক্যাবলী বিভিন্ন ভাষায় প্রবাদ, রহস্য কথা ও সূক্ষ্মতত্ত্বরূপে প্রচলিত। তন্মধ্যে কয়েকটি বাণী হলো-
(১) আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামতসমূহের শোকর আদায় করা মানব ক্ষমতার বাইরে।
(২) যে ব্যক্তি জ্ঞানে পূর্ণতা ও নেকআমলের আকাঙ্ক্ষা করে, তার জন্য মূর্খতার কারণসমূহ এবং অসৎকাজের কাছেও যাওয়া উচিত নয়। তুমি কি দেখ না, প্রত্যেক দর্জি সেলাই করার ইচ্ছা করলে সুঁই হাতে নেয়; বর্ম হাতে নেয় না। অতএব সব সময় এ বাক্যটির প্রতি যেন লক্ষ থাকে- "আল্লাহকেও পেতে চাইবে আর সেই সঙ্গে দুনিয়ার মোহেও মত্ত থাকবে-এটা কল্পনা ও পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়।"
(৩) দুনিয়ার ধন-সম্পদের পরিণাম আক্ষেপ এবং মন্দকাজের পরিণাম অনুতাপ।
(৪) আল্লাহ পাকের যিকির এবং নেকআমলে খালেছ নিয়ত থাকা শর্ত।
(৫) মিথ্যা শপথ করবে না। আল্লাহ তাআলার পবিত্র নামকে কসমের অনুশীলনের জন্য ব্যবহার করবে না। মিথ্যাবাদীদের কসম খাওয়ার প্রতি প্রণোদিত করবে না। কেননা এরূপ করলে তুমিও তার পাপের অংশীদার হয়ে যাবে।
(৬) হীন পেশা অবলম্বন করবে না। যেমন- শিঙ্গা লাগানো, গরু-ছাগল ইত্যাদির পাল দেখিয়ে বিনিময় গ্রহণ করা ইত্যাদি।
(৭) শরিয়তের বিধান জারি করার জন্য পয়গম্বর কর্তৃক নিয়োজিত বাদশাকে মান্য করবে। নিজের মুরব্বি ও বড়দের সম্মুখে অবনত থাকবে। সব সময় আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা জিহবাকে সজীব রাখবে।
(৮) জ্ঞান আত্মার জীবন।
(৯) অন্যের স্বচ্ছল জীবিকার প্রতি হিংসা পোষণ করবে না। কেননা এ আনন্দময় জীবন-যাপন ক্ষণস্থায়ী।
(১০) যে জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনের অধিক বাসনা করে, সে কখনো তৃপ্ত হয় না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px