📄 হযরত ইদরীস আ.-এর অন্যান্য শিক্ষা
হযরত ইদরীস আ.-ই সর্বপ্রথম বিজ্ঞান শাস্ত্র ও জ্যোতির্বিদ্যার প্রচলন করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে আসমানসমূহ এবং এদের পাস্পরিক আকর্ষণের গুরুত্ব ও রহস্য শিক্ষা দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁকে গণিত শাস্ত্রে অভিজ্ঞ বানান। বস্তুত আল্লাহ তাআলার এ পয়গম্বর দ্বারা এ সকল শাস্ত্রের বিকাশ না হলে মানুষের স্বভাব-প্রকৃতির পক্ষে সে পর্যন্ত পৌঁছনো দুষ্কর ছিল। তিনি বিভিন্ন দল ও সম্প্রদায়ের জন্য তাদের অবস্থানুযায়ী আইনকানুন ও রীতিনীতি নির্ধারিত করে দিয়েছিলেন। ভূমণ্ডলকে চারভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেক ভাগে একজন করে গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। তারাই ছিল উক্ত ভূখণ্ডের শাসক ও যিম্মাদার। সেই সঙ্গে ওইসব ভূখণ্ডের জন্য এ সমস্ত আইন ও রীতিনীতির ওপর আল্লাহ প্রদত্ত অহির আইনকানুন ও রীতিনীতি অগ্রগণ্য থাকবে বলে চূড়ান্ত করে দেওয়া হয়েছিল।
📄 হযরত ইদরীস আ.-এর শিক্ষাদানের বিষয়বস্তু
হযরত ইদরীস আ. তাঁর অনুসারীদের যে সকল বিষয়ে শিক্ষা দিতেন, সেগুলো হলো-
(১) আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব ও একত্বের ওপর ইমান আনয়ন করা।
(২) একমাত্র বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ পাকের ইবাদত করা।
(৩) পরকালের আযাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নেকআমল করা।
(৪) দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও বিমুখতা।
(৫) যাবতীয় কাজে ইনসাফ ও ন্যায়ের মানদণ্ডকে সমুন্নত রাখা।
(৬) নির্ধারিত নিয়মে আল্লাহর ইবাদত করা।
(৭) আইয়্যামে বীয অর্থাৎ প্রত্যেক (চাঁদ) মাসের ১৪, ১৫, ১৬ তারিখে রোযা রাখা।
(৮) ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা।
(৯) যাকাত দেওয়া ও পাক-পবিত্র থাকা।
(১০) শুয়োর, কুকুর ও সকল প্রকার নেশাকর দ্রব্য হতে দূরে থাকা।
📄 হযরত ইদরীস আ.-এর পার্থিব খেলাফত
হযরত ইদরীস আ.-কে যখন আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর খলিফা ও অধিপতি বানালেন, তখন তিনি আল্লাহর বান্দাগণকে ইলম ও আমলের প্রেক্ষিতে তিনভাগে বিভক্ত করে দিলেন। জ্যোতিষী, বাদশা ও প্রজা। পর্যায়ক্রমিকভাবে তাদের মর্যাদা নির্ধারণ করে দিলেন। জ্যোতিষীর মর্যাদা সবার ঊর্ধ্বে। কেননা তাকে আল্লাহ পাকের দরবারে নিজেকে ছাড়াও বাদশা ও প্রজাদের ব্যাপারেও জবাবদিহি করতে হবে। দ্বিতীয় মর্যাদাবান হলেন বাদশা। কেননা তাকে নিজেকে এবং রাজত্বসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ের জবাবদিহি করতে হবে। তৃতীয় পর্যায়ে প্রজা। কেননা তাকে শুধু নিজের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু এ পর্যায়ক্রমিক মর্যাদাভেদ কর্তব্যের ভিত্তিতে ছিল। বংশ ও খান্দানের পার্থক্যের ভিত্তিতে নয়। সারকথা, হযরত ইদরীস আ. আল্লাহর কাছে উত্থিত হওয়া পর্যন্ত শরিয়ত ও রাষ্ট্রনীতির এ সমস্ত কানুন প্রচার করতে থাকেন।
📄 আল্লাহর নামে কোরবানি
হযরত ইদরীস আ. তাঁর অনুসারীদের জন্য আল্লাহ তাআলার আদেশে কয়েকটি ঈদ উৎসবের দিন নির্ধারণ করেন। কয়েকটি নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর নামে কোরবানি করা ফরয করে দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে একটি ঈদ নতুন চাঁদ দেখার পর উদযাপন করা হতো।
আল্লাহর নামে কোরবানি করার জন্য হযরত ইদরীস আ.-এর কাছে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেগুলো হলো- সুগন্ধি বস্তুর ধোঁয়া, জীব কোরবানি করা এবং শরাব।
দার্শনিকদের বিপরীতমুখী এই বর্ণনায় বিস্মিত হতে হয়। তারা একদিকে হযরত ইদরীস আ.-এর শরিয়তে শরাব হারাম বলে উক্তি করেন। অপরদিকে আল্লাহর দরবারে শরাব নিবেদন করাকে গ্রহণযোগ্য বলেন। এটা নিশ্চয়ই বিস্ময়কর! এ ছাড়াও ফল-ফুল থেকে মৌসুমের প্রথমটি আল্লাহর নামে নিবেদন করা একান্ত প্রয়োজনীয় মনে করা হতো। তবে ফলের মধ্যে আপেল, শস্যের মধ্যে গম এবং ফুলের মধ্যে গোলাপের অগ্রাধিকার ছিল।