📄 নিষিদ্ধ বৃক্ষটি কী?
নিষিদ্ধ বৃক্ষটি কী? وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, গাছটি ছিল আঙ্গুরের। ইবনে আব্বাস ও ইবনে মাসউদ রাযি. সহ কয়েকজন সাহাবা থেকে এক বর্ণনায় আছে, ইহুদিদের ধারণা হলো গাছটি ছিল গমের। ইবনে আব্বাস রাযি. হাসান বসরি, ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ, আতিয়া আওফি, আবু মালেক, মুহারি ইবনে দিছার ও আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লা থেকেও এ কথা বর্ণিত আছে।
ওহাব রহ. বলেন, তার দানাগুলো ছিল মাখন অপেক্ষা নরম আর মধু অপেক্ষা মিষ্ট। সাওয়ারি আবু হাসীন ও আবু মালিক রহ. সূত্রে বলেন : فمرت به এ আয়াতে যে বৃক্ষের কথা বলা হয়েছে, তা হলো খেজুর গাছ।
• ইবনে জুরায়জ মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তা হলো ডুমুর গাছ। কাতাদা ও ইবনে জুরায়জও এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
আবুল আলিয়া বলেন: তা এমন একটি গাছ ছিল, যার ফল খেলেই পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু জান্নাতে পবিত্রতা নষ্ট হওয়া অনুচিত। মোটকথা, এ মতভেদগুলো প্রায় কাছাকাছি। তবে লক্ষণীয় হলো, আল্লাহ তাআলা নির্দিষ্ট করে এর নাম উল্লেখ করেন নি। যদি উল্লেখ করার মধ্যে আমাদের কোনো উপকার নিহিত থাকত; তা হলে আল্লাহ তাআলা নির্দিষ্ট করে তা উল্লেখ করে দিতেন। পবিত্র কোরআনের আরো বহু ক্ষেত্রে এরূপ অস্পষ্ট রাখার নজির রয়েছে।
📄 ইবলিসের কুমন্ত্রণা
ইবলিসের কুমন্ত্রণা ইবলিস আদম আ.-কে কুমন্ত্রণা দিয়ে বলেছিল: هَلْ أَدُلُّكَ عَلَى شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَا يَبْلَى (১২০) "হে আদম! আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্ত জীবনপ্রদ বৃক্ষের কথা এবং অক্ষয় রাজ্যের কথা? (সূরা ত্বহা: ১২০) অর্থাৎ, আমি কি তোমাকে এমন বৃক্ষের সন্ধান দিব, যার ফল খেলে তুমি স্থায়ী জীবন লাভ করবে? তুমি এখন যে সুখ-সম্ভোগ ও শান্তিতে আছ, চিরজীবন তা ভোগ করতে পারবে; তুমি লাভ করবে এমন রাজত্ব, যার কখনো বিনাশ ঘটবে না। ইবলিসের এ বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক এবং অবাস্তব। আলোচ্য আয়াতের মর্ম হচ্ছে, এর ফল ভক্ষণ করলে তুমি অনন্ত জীবন লাভ করবে। আবার এখানে সে বৃক্ষও উদ্দেশ্য হতে পারে, নিম্নোক্ত হাদিসে যার উল্লেখ রয়েছে। যেমন-
• ইমাম আহমদ রহ. বর্ণনা করেন, আবু হোরায়রা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে, কোনো আরোহী তার ছায়ায় একশ বছর ভ্রমণ করেও তা অতিক্রম করতে পারবে না। তা হলো 'শাজারাতুল খুলদ'। হাদিসটি অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত আছে এবং ইমাম আবু দাউদ তায়ালিসীও তাঁর মুসনাদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। গুনদার বলেন: আমি শুবাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এটি কি সেই শাজারাতুল খুলদ? তিনি বললেন, না।
পবিত্র কোরআনের অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে فَدَلَّاهُمَا بِغُرُورٍ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِফَانِ عَلَيْهِمَا مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ
"এভাবে সে তাদেরকে প্রবঞ্চনা দ্বারা অধঃপতিত করল। তারপর যখন তারা ঐ বৃক্ষ-ফলের স্বাদ গ্রহণ করল। তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং উদ্যানপত্র দ্বারা তারা তাদেরকে আবৃত করতে লাগল।” (সূরা আরাফ: ২২)
আল্লাহ তাআলা বলেন: فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِফَانِ عَلَيْهِمَا مِنْ وَরَقِ الْجَنَّةِ
"তারপর তারা তা থেকে ভক্ষণ করল; তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল। (সূরা ত্বহা: ১২১)
আদম আ.-এর আগে হাওয়া আ. বৃক্ষ-ফল ভক্ষণ করেছিলেন। এবং তিনিই আদম আ. কে তা খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। বোখারির নিম্নোক্ত হাদিসটি এ অর্থেই নেয়া হয়ে থাকে।
• ইমাম বোখারি রহ. বর্ণনা করেন, আবু হোরায়রা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "বনি ইসরাইলরা না হলে গোশত পচতো না; আর হাওয়া আ. না হলে কোনো নারী তার স্বামীর সঙ্গে খেয়ানত করত না।" (বোখারি, মুসলিম ও আহমাদ)
আহলে কিতাবদের হাতে থাকা তাওরাতে আছে, হাওয়া আ. কে বৃক্ষ-ফল খাওয়ার পথ দেখিয়েছিল একটি সাপ। সাপটি ছিল অত্যন্ত সুদর্শন ও বৃহদাকার। তার কথায় হাওয়া আ.-ও তা খান এবং আদম আ.-কেও খাওয়ান। এ প্রসঙ্গে ইবলিসের উল্লেখ নেই। খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চোখ খুলে যায় এবং তাঁরা দু জনেই অনুভব করেন, তাঁরা দু জনই বিবস্ত্র। ফলে তাঁরা ডুমুরের পাতা গায়ে জড়িয়ে নেন। তাওরাতে আরো আছে, তাঁরা বিবস্ত্রই ছিলেন। ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ. বলেন, হযরত আদম ও হাওয়া আ.-এর পোশাক ছিল তাদের উভয়ের লজ্জাস্থানের উপর একটি জ্যোতির আবরণ।
উল্লেখ্য, আহলে কিতাবদের হাতে রক্ষিত বর্তমান তাওরাতে এ কথাটা ভুল ও বিকৃত এবং আরবি ভাষান্তরের প্রমাদ বিশেষ। কারণ, ভাষান্তর কর্মটি যার-তার পক্ষে সহজসাধ্য নয়। বিশেষ করে আরবি ভাষায় যার কোনো দক্ষতা নেই এবং মূল কিতাবের ভাব উদ্ধারে যিনি পটু নন, তার পক্ষে তো এ কাজটি অত্যন্ত দুরূহ। এ জন্যই আহলে কিতাবদের তাওরাত আরবিকরণে শব্দ ও মর্মগত যথেষ্ট ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে। কোরআনুল কারিমের নিম্নোক্ত বর্ণনার দ্বারা প্রতীয়মান হয়, হযরত আদম ও হাওয়া আ.-এর দেহে বস্ত্র ছিল।
আল্লাহ তাআলা বলেন: يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْآتِهِمَا
"শয়তান তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য বিবস্ত্র করে।" (সূরা আরাফ: ২৭) কোরআনের এ বক্তব্য তো আর অন্য কারো কথায় উড়িয়ে দেওয়া যায় না! অন্যান্য সূত্রে বিশুদ্ধতার সনদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ একটি রেওয়ায়েত রয়েছে।
📄 নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ
নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ এভাবে তার প্রবঞ্চনায় প্রতারিত হয়ে যখন তাঁরা সে বৃক্ষফল আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল। তাঁরা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের ঢাকতে লাগলেন। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করি নি? আমি কি তোমাদের বলি নি, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? তাঁরা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছি! তুমি যদি আমাদের ক্ষমা না কর এবং দয়া না কর, তা হলে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, "তারপর শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিল। বলল, হে আদম! আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্ত জীবন দানকারী গাছের কথা। অক্ষয় রাজ্যের কথা? তারপর তাঁরা তা থেকে ভক্ষণ করল। ফলে তাদের লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের গাছের পাতা নিয়ে নিজেদের আবৃত করতে লাগল। আদম তাঁর প্রতিপালকের হুকুম অমান্য করল। ফলে সে ভ্রমে পতিত হলো। এরপর তাঁর প্রতিপালক তাঁকে মনোনীত করলেন, তাঁর প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হলেন এবং তাঁকে পথ-নির্দেশ করলেন।"
📄 নবীদরে নিষ্পাপ হওয়ার অর্থ
নবীদের নিষ্পাপ হওয়ার অর্থ
বিশ্বজগতের স্রষ্টা দয়াময় আল্লাহ মানুষকে পরস্পর বিরোধী শক্তিসমূহ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাকে পাপ ও পূণ্য উভয় প্রকারের শক্তি প্রদান করেছেন। সে পাপও করতে পারে, পুণ্যও করতে পারে। তার মধ্যে মন্দ কাজের ইচ্ছাশক্তি আছে, ভালো কাজের ইচ্ছাশক্তিও আছে। এটাই তার মানবসূলভ মর্যাদার পার্থক্যের প্রতীক।
এই বিপরীতমুখী শক্তিসমূহের বাহক মানুষের মধ্য হতেই আল্লাহ তাআলা মানুষের হেদায়াত- সৎপথ প্রদর্শন এবং আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর উপায় প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে কোনো কোনো সময় কোনো মানুষকে নির্বাচিত করে তাঁকে নিজের রাসূল, নবী ও পয়গম্বর মনোনীত করেন। এরূপ ব্যক্তিত্বকে যখন আল্লাহ তাআলা নুবয়তের জন্য নির্বাচিত করে নেন, তখন তাঁর জন্য সর্বপ্রকার পাপকাজ নাফরমানি থেকে পবিত্র ও নিষ্কলুষ থাকা কর্তব্য হয়ে যায়। যাতে তিনি আল্লাহ তাআলার পয়গাম পৌঁছানোর ও প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব সুষ্ঠু ও বিশুদ্ধভাবে পালন করতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে
او خویشتن گمراه است کرار هبری کند
"যে নিজেই পথভ্রষ্ট, অপরকে কেমন করে পথ দেখাবে?" এ প্রবাদ বাক্যের প্রয়োগক্ষেত্র না হন।
নবীগণ আর দশজন মানুষের মতোই পানাহার করেন। ঘুমান। পরিবার ও সন্তান-সন্ততির সঙ্গে বসবাস করেন। তাঁরা সর্বপ্রকার ইচ্ছা-কর্ম সংক্রান্ত পাপ হতে পবিত্র থাকেন। তাঁরা নেককাজের প্রতি হেদায়াত ও নসিহতকারী এবং আল্লাহ তাআলার প্রতিনিধি। যদিও তাঁরা অন্যান্য মানুষের মতো বিপরীতমুখী শক্তিসমূহের অধিকারী; কিন্তু কাজে ও ইচ্ছায় তাদের দ্বারা সর্বপ্রকার মন্দকাজ সংঘটিত হওয়া অসম্ভব করে দেওয়া হয়েছে। যাতে তাঁদের প্রতিটি কাজ বিশ্ববাসীর জন্য আদর্শ ও নমুনাস্বরূপ হতে পারে। অবশ্য মানুষ হওয়ার কারণে ভুল-ভ্রান্তি ও ত্রুটি-বিচ্যুতির সম্ভাবনা (অবশিষ্ট) থাকে এবং কদাচিৎ কাজেও পরিণত হয়ে থাকে। কিন্তু তৎক্ষণাৎ তাঁদের সতর্ক করে দেওয়া হয়। তাঁরা সাবধানতা অবলম্বন করে, তা হতে দূরে সরে যান।
আল্লাহ পাকের দরবারে সান্নিধ্যপ্রাপ্ত একজন মহামানব আল্লাহ পাকের মর্জি বুঝার ব্যাপারে এই ত্রুটি-বিচ্যুতির সম্মুখীন হবেন কেন? এ জন্য আল্লাহ তাআলার নীতি হলো, তিনি নবী ও রাসূলগণের এ জাতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতির ওপর যখন তাদের সতর্ক করেন, তখন প্রথমে অতি কঠোরভাবে এবং অপরাধীর আকারে সেই ত্রুটি-বিচ্যুতির উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিষয়টির স্বরূপ বর্ণনা করে দিয়ে নবী ও রাসূলের অনুরূপ কাজকে ত্রুটি-বিচ্যুতির সীমার ভিতরে নিয়ে আসেন। তাদের পক্ষ হতে নিজে ওযর পেশ করে দেন। যাতে মুশরিক ও মুনাফিকরা নবী ও রাসুলগণের প্রতি কোনো বিষয়ে দোষারোপ করতে সাহস না পায়। এই তত্ত্বসমষ্টির নামই 'নবীদের নিষ্পাপতা'। এবং এটি ইসলামী আকিদাসমূহের মধ্যে একটি মৌলিক আকিদা।
আম্বিয়ায়ে কেরামের নিষ্পাপতা সম্পর্কিত উপরোক্ত তত্ত্ব জানার পর এবার হযরত আদম আ. এর ঘটনাটি দেখুন এবং চিন্তা করুন। কোরআন মাজিদের সূরা বাকারার মধ্যে যখন এ ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে, তখন পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, এই ভুল পাপজনিত ছিল না; অবাধ্যতামূলকও ছিল না বরং তা অতি সাধারণ ধরনের বিচ্যুতি ছিল। "শয়তান তাঁদের উভয়ের দ্বারা ত্রুটি করিয়ে দিল। আর একটি চিরন্তন সত্য হলো حَسَنَاتُ الْأَبْرَارِ سَيِّئَاتُ الْمُقَرَّبِينَ "সৎকর্মশীলদের পুণ্যকর্মও নিকটতম প্রিয়জনদের পক্ষে কখনো অপরাধ বলে বিবেচিত হয়।"
এরপর সূরা আরাফে এবং সূরা ত্বহার দু জায়গায় এই ঘটনাটিকে উদ্ধৃত করে ওয়াসওয়াসা শব্দ দ্বারা বর্ণনা করেছেন: فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ "শয়তান তাঁদের ফুসলিয়ে পদস্থলিত করল।"
আর সূরা ত্বহার তৃতীয় স্থানে ত্রুটি ও ফুসলানোর কারণ নিজেই ব্যক্ত করে হযরত আদমকে সর্বপ্রকারের ইচ্ছা-কর্ম সংক্রান্ত গুনাহ থেকে পবিত্র বলে প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর নিষ্পাপতার বিষয়টিকে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও মজবুত করে দিয়েছেন- وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَى آدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا "আর নিঃসন্দেহে, আমি আদম হতে একটি অঙ্গীকার নিয়েছিলাম। এরপর সে তা ভুলে গেল। আর আমি তাকে দৃঢ়তার মধ্যে পাই নি (আমি তাকে অঙ্গীকার পূরণ না করার ব্যাপারে তাঁর ইচ্ছা ও বাসনার অধিকারী দেখতে পাই নি)। (সূরা ত্বহা: ১১৫)
এ আয়াতগুলো থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, হযরত আদম আ. কোনো প্রকার গুনাহ করেন নি। যতটুকু ব্যাপার ঘটেছে, তাতেও তাঁর ইচ্ছাকৃত আদেশ লঙ্ঘনের কোনো দখল নেই বরং সেটা শুধু শয়তানের কুমন্ত্রণায় সংঘটিত ভুলক্রমে বিচ্যুতি ছিল।
• ইমাম বোখারি রহ. বর্ণনা করেন, আবু হোরায়রা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "হযরত মূসা আ. ও হযরত আদম আ.-এর মধ্যে পরস্পর কথোপকথন হয়েছে। হযরত মূসা আ. তাঁকে বললেন, আপনিই তো মানুষকে আপনার অপরাধ দ্বারা জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন এবং তাদেরকে দুর্বিপাকে ফেলেছেন!" আদম আ. বললেন, হে মূসা! আল্লাহ তাআলা তাঁর রিসালাত কালাম দিয়ে আপনাকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। আপনি কি আমাকে এমন একটি কাজের জন্য তিরস্কার করছেন, যা আমাকে সৃষ্টি করার আগেই আল্লাহ আমার নামে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এতে আদম আ. মূসা আ.-এর ওপর বিজয়ী হন。
কোরআনের আয়াতসমূহ থেকে প্রমাণিত হয়েছে, হযরত আদম আ. নবী ছিলেন। আল্লাহ পাকের খাঁটি বন্ধু, মনোনীত বান্দা ও আল্লাহ পাকের প্রতিনিধিরূপে মহান মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তিনি আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত একজন মহামানব ছিলেন। যাকে আল্লাহ পাক নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, নিজ রূহ তাঁর মধ্যে সঞ্চার করেছেন এবং যিনি আল্লাহ পাকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। সুতরাং এই ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং ভুলও তাঁর মর্যাদার বিচারে অত্যন্ত হীন ও অসঙ্গত।