📄 আদম আ.-কে শিক্ষাদান
তারপর আল্লাহ তাআলা ইলমের ক্ষেত্রে ফেরেশতাগণের উপর আদমের শ্রেষ্ঠত্বের কথা ব্যক্ত করে বলেন:
وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا "এবং তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন।"
• ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, "তা হলো সেসব নাম, যদ্বারা মানুষ পরিচিতি লাভ করে থাকে। যেমন: মানুষ, জীব, ভূমি, স্থলভাগ ও জলভাগ, পাহাড়-পর্বত, উট-গাধা ইত্যাদি।"
• অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে ডেগ-ডেকচি, থালা-বাসন থেকে আরম্ভ করে বায়ু নির্গমনের নাম পর্যন্ত শিক্ষা দেন।
• মুজাহিদ রহ. বলেন: "আল্লাহ তাঁকে সকল জীব-জন্তু, পশু-পাখি ও সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন।" সাঈদ ইবনে যুবায়ের রহ. এবং কাতাদা রহ. সহ প্রমুখ এরূপ বলেছেন। রাবী বলেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁকে ফেরেশতাগণের নামসমূহ শিক্ষা দেন। আবদুর রহমান ইবনে যায়েদ রহ. বলেন: "আল্লাহ তাঁকে তাঁর সন্তানদের নাম শিক্ষা দিয়েছেন।" সঠিক কথা হলো, আল্লাহ তাআলা আদম আ.-কে ছোট-বড় সকল বস্তু ও তার গুণাগুণ বা বৈশিষ্ট্যের নাম শিক্ষা দেন। ইবনে আব্বাস রাযি. এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
• ইমাম বোখারি রহ. ও মুসলিম রহ. এ প্রসঙ্গে আনাস ইবনে মালিক রাযি., কাতাদা এবং সাঈদ ও হিশামের সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "কেয়ামতের দিন মুমিনগণ সমবেত হয়ে বলবে, আল্লাহর নিকট সুপারিশ করার জন্য আমরা যদি কারো কাছে আবেদন করতাম! এই বলে তারা আদম আ.-এর কাছে এসে বলবে, আপনি মানব জাতির পিতা। আল্লাহ আপনাকে নিজ কুদরতি হাতে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণকে আপনার সামনে সিজদাবনত করেছেন ও আপনাকে যাবতীয় বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন ...।
ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ "তারপর সেগুলো ফেরেশতাগণের সম্মুখে পেশ করলেন এবং বললেন, তোমরা আমাকে এ সবের নাম বলে দাও যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।" (সূরা বাকারা: ৩১)
• হাসান বসরি রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা আদম আ. কে সৃষ্টি করতে চাইলে ফেরেশতারা বললেন: আমাদের রব যাকেই সৃষ্টি করুন না কেন আমরাই তাঁর চাইতে বেশি জ্ঞানী প্রতিপন্ন হবো। তাই এভাবে তাদেরকে পরীক্ষা করা হয়। 'যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক' বলে এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন মুফাসসির বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন।
قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ (۳۲) "তারা (ফেরেশতারা) বলল, আপনি পবিত্র। আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন, তা ছাড়া আমাদের তো কোনো জ্ঞান নেই। বস্তুত আপনি জ্ঞানময় ও প্রজ্ঞাময়।" (সূরা বাকারা: ৩২) অপর এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ "তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না।" (সূরা বাকারা: ২৫৫)
قَالَ يَا آدَمُ أَنْبِتُهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ فَلَمَّا أَنْبَأَهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ (۳۳) "আল্লাহ বলেন, হে আদম! তাদেরকে এগুলোর নাম বলে দাও। যখন সে এ সকল নাম বলে দিল, তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে বলি নি, আকাশসমূহ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বস্তু সম্বন্ধে আমি নিশ্চিতভাবে অবহিত এবং তোমরা যা ব্যক্ত কর বা গোপন রাখ, আমি তাও জানি?” (সূরা বাকারা: ৩৩)
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা গোপন বিষয় তেমনিভাবেই জানেন, যেভাবে জানেন প্রকাশ্য বিষয়। কারো মতে "প্রকাশ্য বিষয়” অবহিত দ্বারা এখানে ফেরেশতাদের কথা বুঝানো হয়েছে। যা তারা (ফেরেশতাগণ) আল্লাহ তাআলার আদম আ.-কে সৃষ্টির ঘোষণা শুনে বলেছিলেন। তারা বলেছিলেন:
أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا "আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে সেখানে অশান্তি ঘটাবে?" (সূরা বাকারা: ৩০)
আর "গোপন বিষয়” অবহিত হওয়ার দ্বারা ইবলিসের অন্তরে যে অহঙ্কার ও বড়ত্ব গোপন ছিল, তাকে বুঝানো হয়েছে। হযরত সাঈদ ইবনে যোবায়ের, মুজাহিদ, সুররী, যিহাক, সাওরি ও ইবনে জারির রহ. তাঁরা সকলেই এ অভিমত সমর্থন করেছেন।
আবুল আলীয়া, রবী, হাসান ও কাতাদা রহ. বলেন: وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ "(যা তোমরা গোপন রাখ)" এর দ্বারা ফেরেশতাদের সে কথাকে বুঝানো হয়েছে, আমাদের প্রতিপালক, আমাদের চাইতে জ্ঞানবান ও মর্যাদাবান কাউকে সৃষ্টি করবেন না।"
📄 সিজদার আদেশ দান এবং ইবলিসের অবাধ্যতা ও লাঞ্ছনা
আল্লাহ তাআলা বলেন: وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ "যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম : তোমরা আদমকে সিজদা করো! তখন ইবলিস ছাড়া সকলেই সিজদা করল, সে অমান্য করল ও অহঙ্কার করল।" (সূরা বাকারা: ৩৪)
আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আ.-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাদের যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই নির্দেশ এবং তা বাস্তবায়নের মধ্যে নিহিত ছিল হযরত আদম আ.-এর জন্য বিরাট সম্মান ও মর্যাদা। আদম আ.-কে আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরতি হাতে সৃষ্টি করে তাতে রূহ সঞ্চার করার পর ফেরেশতাদেরকে আদেশ করলেন তাঁকে ওই সিজদা করার জন্য। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ (۲۹) "যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার রূহ সঞ্চার করব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো।" (সূরা হিজর: ২৯)
📄 আদম আ.কে চারটি মর্যাদা দান
(১) আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিজ কুদরতি হাতে সৃষ্টি করেছেন। (২) তাঁর মধ্যে নিজ রূহ সঞ্চার করেছেন। (৩) তাঁকে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাদের আদেশ দিয়েছেন। (৪) তাঁকে সমস্ত বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন।
এ কারণে উর্ধ্বজগতে যখন হযরত মূসা আ. ও হযরত আদম আ.-এর মধ্যে সাক্ষাৎ হয়, তখন হযরত মূসা আ. বলেছিলেন- আপনি মানবজাতির পিতা। আপনাকে আল্লাহ পাক নিজ কুদরতি হাতে সৃষ্টি করেছেন। আপনার মধ্যে তাঁর (আল্লাহর) রূহ সঞ্চার করেছেন। ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছেন। আপনাকে তিনি সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন এবং তার গুণাবলী ও কার্যকারিতা সম্পর্কে জ্ঞান দান করেন।
কেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে সমবেত লোকেরাও হযরত আদম আ.-এর কাছে অনুরূপভাবে আরয করবে। অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন: وَلَقَدْ خَلَقْنَاكُمْ ثُمَّ صَوَّরْنَاكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآদَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ لَمْ يَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ (۱۱) "আমিই তোমাদেরকে (প্রথমে মাটি দিয়ে) সৃষ্টি করেছি। এরপর তোমাদেরকে রূপ দান করেছি এবং তারপর ফেরেশতাদেরকে বলেছি আদমকে সিজদা করতে। ইবলিস ছাড়া সকলেই সিজদা করল। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলো না।" (সূরা আরাফ: ১১)
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন: قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ "আমি যখন তোমাকে আদেশ করলাম, তখন কী সে তোমাকে সিজদা করতে বারণ করল?" قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ “সে বলল, আমি তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আমাকে আপনি অগ্নি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি দিয়ে। (সূরা আরাফ : ১১-১২)
📄 সর্বপ্রথম অলীক যুক্তি উপস্থাপনকারী
হযরত হাসান বসরি রহ. বলেন, ইবলিস এখানে যুক্তি দিতে চেষ্টা করেছে এবং এভাবে যুক্তি প্রদানকারী সর্বপ্রথম সে (ইবলিস)-ই। মুহাম্মদ ইবনে সিরীন রহ. বলেন: সর্বপ্রথম যে এরূপ যুক্তির সূচনা করে, সে হলো ইবলিস। আর সূর্য ও চন্দ্রের পূজাও এই যুক্তির উপর ভিত্তি করেই শুরু হয়। (তাফসিরে তাবারি: ৮/৯৮)
ইবলিস নিজের ও আদম আ.-এর মাঝে (জ্ঞানের দিক থেকে) তুলনা করেছিল। সুতরাং আদম আ.-কে সেজদা করার জন্য তার প্রতি ও ফেরেশতাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার নির্দেশ হওয়া সত্ত্বেও সে (ইবলিস) নিজেকে আদম আ.-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাসম্পন্ন ধারণা করে সিজদা করা থেকে বিরত থাকে। (এখানে আল্লাহ তাআলার সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও) ইবলিস (তার শ্রেষ্ঠত্বের) যুক্তি প্রদান করে。
এ কথা সুস্পষ্ট, আল্লাহ তাআলার সরাসরি আদেশের সামনে সকল প্রকার যুক্তি বাতিল ও নিরর্থক। তা ছাড়া ইবলিসের এই যুক্তিটি ছিল সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও মনগড়া। কারণ, মাটি আগুনের চেয়ে উপকারী ও উত্তম। কেননা মাটির মধ্যে রয়েছে কোমলতা, স্থিরতা, সহিষ্ণুতা ও শীতলতা। আর মাটি উৎপাদনশক্তি সম্পন্ন। মাটি থেকে প্রায় সব জিনিসই সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ সব রকম শস্য উৎপাদক। আর মাটির মধ্যে যে সকল বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী রয়েছে, সেগুলো আল্লাহ তাআলারও পছন্দনীয়。
পক্ষান্তরে আগুনের স্বভাব-বৈশিষ্ট্য মাটির সম্পূণ বিপরীত। আগুনের মধ্যে রয়েছে উগ্রতা, তীব্রতা, উত্তাপ এবং ধ্বংস করার প্রবণতা। যেগুলো আল্লাহ তাআলার কাছে অপছন্দনীয়। যে কারণে তিনি আগুনকে জাহান্নামের সামগ্রী বানিয়েছেন। এরপর আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আ.-কে অধিক মর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন। (যা অভিশপ্ত ইবলিস অর্জন করতে পারে নি)। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অভিশপ্ত ইবলিস লানত ও লাঞ্ছনার পাত্র হয়ে গেল। ইবলিস নিম্নলিখিত কারণে অভিশপ্ত হয়েছিল। (১) হযরত আদম আ.-কে তুচ্ছ মনে করেছিল। (২) আল্লাহ তাআলার আদেশ অমান্য করেছিল। (৩) হযরত আদম আ.-কে সেজদা করার জন্য আল্লাহ তাআলার সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সে (ইবলিস) নিজেকে আদম আ.-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দাবি করে অমূলক যুক্তি দিয়েছিল। (৪) সত্যকে প্রত্যাখান করেছিল।
ইবলিস আদম আ.-কে তো সেজদা করলই না বরং সে উল্টো নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও আমিত্ব প্রকাশ করল। এবং মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে তার অনুগত করার কথা বলল। সেই সঙ্গে এর জন্য সে কেয়ামত পর্যন্ত অবকাশ চাইল। ইবলিসের এই অপরাধ প্রথম অপরাধের চেয়েও জঘন্যতর ছিল।
• হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “ফেরেশতাদেরকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর জিনদেরকে ধোঁয়াবিহীন আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আদমকে সেই বস্তু দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে, যা তোমাদের বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ প্রত্যেক আদম সন্তানকে এমন মাটি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে, যার বৈশিষ্ট্য ওই মাটির মধ্যে নিহিত।"
• হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস ও সাহাবাগণের একটি দল এবং সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব রহ. প্রমুখ বলেন, ইবলিস পৃথিবীর নিকটতম আকাশের ফেরেশতাদের সর্দার ছিল। হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, তার নাম ছিল 'আযাযিল'। হযরত আব্বাস রাযি.-এর এক বর্ণনা মতে তার নাম ছিল 'হারিস'। নাক্কাশ রাযি. বলেন, তার উপাধী ছিল 'আবু বকর দাওস'। • হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, 'ইবলিস ফেরেশতাদের একটি দলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যাদেরকে জিন বলা হত। এরা জান্নাতের রক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিল।'
যখন ইবলিস আল্লাহ তাআলার আদেশ অমান্য করে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করল, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বললেন। সে আল্লাহর কাছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ চাইল। আল্লাহ তাকে অবকাশ দান করলেন। সে বলল, "আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব, তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদের নয়। আল্লাহ তাআলা বললেন: “তবে এটাই সত্য আর আমি সত্যই বলি- তোমার দ্বারা ও তোমার অনুসারীদের দ্বারা আমি জাহান্নাম পূর্ণ করবই।"
• হযরত সুবরা বিন ফাকিহা রাযি. থেকে ইমাম আহমদ রহ, একটি হাদিস বর্ণনা করেন। হযরত সুবরা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি : “নিশ্চয়ই শয়তান আদম সন্তানদের পথভ্রষ্ট করার জন্য রাস্তায় (ওঁৎ পেতে) বসে থাকে।” (আহমাদ: ৩/৪৮৩, নাসাঈ)