📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত আদম আ.-এর আল্লাহর ঘর নির্মাণ

📄 হযরত আদম আ.-এর আল্লাহর ঘর নির্মাণ


• ইবনে জারির রহ. ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: হে আদম! আমার আরশ বরাবর পৃথিবীতে আমার একটি সম্মানিত স্থান আছে। তুমি গিয়ে তথায় আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে তা তাওয়াফ কর। যেমনটি ফেরেশতারা আমার আরশ তাওয়াফ করে। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তিনি আদম আ.-কে জায়গাটি দেখিয়ে দেন এবং তাকে হজের করণীয় কাজসমূহ শিখিয়ে দেন। ইবনে জারির রহ. আরো উল্লেখ করেন, দুনিয়ার যেখানে যেখানে আদম আ.-এর পদচারণা হয়, পরবর্তীকালে সেখানেই এক একটি জনবসতি গড়ে উঠে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত আদম আ.-এর প্রথম খাদ্য

📄 হযরত আদম আ.-এর প্রথম খাদ্য


• ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে আরো বর্ণিত আছে, পৃথিবীতে আদম আ.-এর প্রথম খাদ্য ছিল গম। জিবরাইল আ. তার কাছে সাতটি গমের বীজ নিয়ে উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এগুলো কী? জিবরাইল আ. বললেন: এ-ই তো আপনার সেই নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল, যা আপনি খেয়েছিলেন। আদম আ. জিজ্ঞাসা করলেন, এগুলো আমি কী করব? জিবরাইল আ. বললেন, যমিনে বপন করবেন। উল্লেখ‍্য, প্রতিটি বীজের ওজন ছিল দুনিয়ার এক লক্ষ দানা অপেক্ষা বেশি। বীজগুলো বপন করার পর ফসল উৎপন্ন হলে আদম আ. তা কেটে মাড়িয়ে পিষে আটা বানিয়ে খামির করে রুটি বানিয়ে বহু কষ্ট ও শ্রমের পর তা আহার করেন। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তাআলা বলেন: فَلَا يُخْرِ جَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقَى (۱۱۷) সুতরাং সে যেন তোমাদের কিছুতেই জান্নাত থেকে বের করে না দেয়। দিলে তোমরা দুঃখ পাবে। (সূরা ত্ব-হা: ১১৭)

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 সর্বপ্রথম পোশাক

📄 সর্বপ্রথম পোশাক


হযরত আদম ও হাওয়া আ. সর্বপ্রথম যে পোশাক পরিধান করেন, তা ছিল ভেড়ার পশমের তৈরি। প্রথমে চামড়া থেকে পশমগুলো খসিয়ে তা দিয়ে সুতা তৈরি করেন। তারপর আদম আ. নিজের জন্য একটি জুব্বা আর হাওয়া আ.-এর জন্য একটি কামিজ ও একটি ওড়না তৈরি করে নেন। জান্নাতে থাকাবস্থায় তাঁদের কোনো সন্তানাদি জন্মেছিল কি না, এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কারো কারো মতে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও তাঁদের কোনো সন্তান জন্মে নি। কেউ বলেন, জন্মেছে। কাবিল ও তার বোনের জন্ম জান্নাতেই হয়েছিল। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।

উল্লেখ‍্য, প্রতি দফায় আদম আ.-এর এক সঙ্গে একটি পুত্র সন্তান ও একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিত। আর একগর্ভের পুত্রের সঙ্গে পরবর্তী গর্ভের কন্যার ও কন্যার সঙ্গে পুত্রের বিবাহ দেওয়ার বিধান ছিল। পরবর্তী সময়ে একই গর্ভের দু ভাই-বোনের এরূপ বিবাহ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 আদম আ.-কে সৃষ্টির ঘোষণা

📄 আদম আ.-কে সৃষ্টির ঘোষণা


আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ফেরেশতাদেরকে সম্বোধন করে বলেছিলেন:

إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً "পৃথিবীতে আমি প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি।" (সূরা বাকারা: ৩০)

এ ঘোষণায় আল্লাহ তাআলা আদম আ. ও তাঁর বংশধরদের সৃষ্টি করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন, যারা একে অপরের প্রতিনিধিত্ব করবে। যেমন- এক আয়াতে তিনি বলেন:

وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الْأَرْضِ "তিনিই তোমাদেরকে দুনিয়ার প্রতিনিধি বানিয়েছেন। (সূরা আন'আম : ১৬৫)

এ ঘোষণা দ্বারা আল্লাহ তাআলা সংকল্প ব্যক্ত করণার্থে ফেরেশতাদেরকে আদম আ. ও তাঁর বংশধরদের সৃষ্টি করার কথা জানিয়ে দেন। যেমন বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আগাম সংবাদ দেওয়া হয়ে থাকে। ঘোষণা শুনে ফেরেশতাগণ বললেন:

أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ "আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে সেখানে অশান্তি ঘটাবে ও রক্তপাত করবে?” (সূরা বাকারা: ৩০)

ফেরেশতাগণ বিষয়টির তাৎপর্য জানা এবং তার রহস্য সম্পর্কে অবগতি লাভ করার উদ্দেশ্যে এ কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আদম সন্তানদের অমর্যাদা বা তাদের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করা উদ্দেশ্য আদৌ ছিল না। যেমনটা কোনো কোনো মুফাসসির গলত ধারণা করেছেন। তারা বলেছিলেন, আপনি কি পৃথিবীতে ফ্যাসাদ্ সৃষ্টিকারী ও রক্তপাতকারী কাউকে সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন? এর ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলেন, আদমের পূর্বে যে জিন জাতির বসবাস ছিল, তাদের কার্যকলাপ দেখে ফেরেশতাগণ জানতে পেরেছিলেন, আগামীতেও এমন অঘটন ঘটবে। এটা কাতাদার অভিমত।

• আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. বলেন, আদম আ.-এর পূর্বে জিন জাতি দু হাজার বছর পৃথিবীতে বসবাস করে। তারা রক্তপাতে লিপ্ত হলে আল্লাহ তাআলা তাদের কাছে একদল ফেরেশতা বাহিনী প্রেরণ করেন। তারা তাদেরকে বিভিন্ন দ্বীপে তাড়িয়ে দেন। ইবনে আব্বাস রাযি. থেকেও এরূপ বর্ণনা পাওয়া যায়।

• হাসান রহ. থেকে বর্ণিত আছে, ফেরেশতাগণের প্রতি এ তথ্য ইলহাম করা হয়েছিল। কেউ বলেন, লাওহে মাহফুয থেকে তাঁরা এ ব্যাপারে অবগত হয়েছিলেন।

কেউ বলেন, মারূত ও হারূত তাদেরকে তা অবগত করেছিলেন। তাঁরা দু জন তা জানতে পেরেছিলেন তাঁদের উপরস্থ শাজাল নামক এক ফেরেশতার কাছ থেকে। ইবনে আবু হাতিম রহ. আবু জাফর বাকির রহ. সূত্রে এটা বর্ণনা করেন। কেউ কেউ বলেন, তাদের একথা জানা ছিল, মাটি থেকে সৃষ্ট জীবের স্বভাব এরূপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই তারা বলেছিলেন,

وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ "আমরা সর্বদা আপনার ইবাদত করি। আমাদের মধ্যকার কেউ আপনার অবাধ্যতা করে না।) এখন যদি এদেরকে সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য এই হয়, তারা আপনার ইবাদত করবে; তবে আমরাই তো রাত-দিন অবিশ্রান্তভাবে এ কাজে নিয়োজিত রয়েছি।

قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ "এদেরকে সৃষ্টি করার মধ্যে যে কী স্বার্থকতা রয়েছে, তা আমি জানি- তোমরা জান না। অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে এদেরই মধ্য থেকে বহু নবী-রাসূল, সিদ্দিক ও শহিদের জন্ম হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px