📄 হযরত আদম আ. ও হাওয়া আ.-এর জান্নাতে অবস্থানকাল
যা হোক, হযরত আদম আ. ও তাঁর স্ত্রী হাওয়া আ. জান্নাতে- তা আসমানেই হোক বা যমিনের কোনো উদ্যানই হোক; যে মতভেদের কথা পূর্বেই বিবৃত হয়েছে- কিছুকাল বসবাস করেন। এবং অবাধে ও স্বাচ্ছন্দে সেখানে আহারাদি করতে থাকেন। অবশেষে নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল আহার করায় তাদের পরিধানের পোশাক ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাদেরকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়। অবতরণের ক্ষেত্র সম্পর্কে মতভেদের কথা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।
জান্নাতে আদম আ.-এর অবস্থানকাল সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। কারো মতে দুনিয়ার হিসাবের একদিনের কিছু অংশ। আবু হোরায়রা রাযি. থেকে মারফু সূত্রে ইমাম মুসলিম রহ. কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিস উপরে উল্লেখ করে এসেছি, জুমার দিন আদম আ.-কে সৃষ্টি করা হয়। আর এদিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বহিষ্কার করা হয়। সুতরাং যদি এমন হয়ে থাকে, অর্থাৎ যেদিন আদম আ.-এর সৃষ্টি হন এবং ঠিক সেদিনই জান্নাত থেকে তিনি বহিষ্কৃত হন, তা হলে বলা যায়, তিনি একদিনের মাত্র কিছু অংশ জান্নাতে অবস্থান করেছিলেন। তবে এ বক্তব্যটি বিতর্কের ঊর্ধে নয়।
পক্ষান্তরে যদি তাঁর বহিষ্কার সৃষ্টির দিন থেকে ভিন্ন কোনো দিনে হয়ে থাকে কিংবা ওই ছয় দিনের সময়ের পরিমাণ ছয় হাজার বছর হয়ে থাকে, তা হলে সেখানে তিনি সুদীর্ঘ সময়ই অবস্থান করে থাকবেন। যেমন: ইবনে আব্বাস রাযি., মুজাহিদ ও যাহ্হাক রহ. থেকে বর্ণিত এবং ইবনে জারির রহ. কর্তৃক সমর্থিত বর্ণনা পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে।
• ইবনে জারির রহ. বলেন: এটা জানা কথা, আদম আ.-কে সৃষ্টি করা হয়েছে জুমার দিনের শেষ প্রহরে। আর সেখানকার এক প্রহর দুনিয়ার তিরাশি বছর চার মাসের সমান। এতে প্রমাণিত হয়, রূহ সঞ্চারের পূর্বে জান্নাতে অবস্থান করেছেন তেতাল্লিশ বছর চার মাস কাল। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
📄 হযরত আদম আ.-এর উচ্চতা
আবদুর রাযযাক রহ. বর্ণনা করেন, 'আতা ইবনে আবু রাবাহ রহ. বলেন: আদম আ.-এর পদদ্বয় যখন পৃথিবী স্পর্শ করে, তখনও তাঁর মাথা ছিল আকাশে। তারপর আল্লাহ তাঁর দৈর্ঘ্য ষাট হাতে কমিয়ে আনেন। ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রেও এরূপ একটি বর্ণনা আছে। তবে এ তথ্যটি আপত্তিকর। কারণ, ইতোপূর্বে আবু হোরায়রা রাযি. কর্তৃক সর্বজন স্বীকৃত বিশুদ্ধ হাদিস উদ্ধৃত করে এসেছি- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা আদম আ.-কে ষাট হাত দীর্ঘ করে সৃষ্টি করেন। এরপর তাঁর সন্তানদের উচ্চতা কমতে কমতে এখন এ পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে। এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, আদম আ.-কে সৃষ্টিই করা হয়েছে ষাট হাত দৈর্ঘ্য দিয়ে; তার বেশি নয়। আর তাঁর সন্তানদের উচ্চতা হ্রাস পেতে পেতে বর্তমান পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে।
📄 হযরত আদম আ.-এর আল্লাহর ঘর নির্মাণ
• ইবনে জারির রহ. ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: হে আদম! আমার আরশ বরাবর পৃথিবীতে আমার একটি সম্মানিত স্থান আছে। তুমি গিয়ে তথায় আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে তা তাওয়াফ কর। যেমনটি ফেরেশতারা আমার আরশ তাওয়াফ করে। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তিনি আদম আ.-কে জায়গাটি দেখিয়ে দেন এবং তাকে হজের করণীয় কাজসমূহ শিখিয়ে দেন। ইবনে জারির রহ. আরো উল্লেখ করেন, দুনিয়ার যেখানে যেখানে আদম আ.-এর পদচারণা হয়, পরবর্তীকালে সেখানেই এক একটি জনবসতি গড়ে উঠে।
📄 হযরত আদম আ.-এর প্রথম খাদ্য
• ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে আরো বর্ণিত আছে, পৃথিবীতে আদম আ.-এর প্রথম খাদ্য ছিল গম। জিবরাইল আ. তার কাছে সাতটি গমের বীজ নিয়ে উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এগুলো কী? জিবরাইল আ. বললেন: এ-ই তো আপনার সেই নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল, যা আপনি খেয়েছিলেন। আদম আ. জিজ্ঞাসা করলেন, এগুলো আমি কী করব? জিবরাইল আ. বললেন, যমিনে বপন করবেন। উল্লেখ্য, প্রতিটি বীজের ওজন ছিল দুনিয়ার এক লক্ষ দানা অপেক্ষা বেশি। বীজগুলো বপন করার পর ফসল উৎপন্ন হলে আদম আ. তা কেটে মাড়িয়ে পিষে আটা বানিয়ে খামির করে রুটি বানিয়ে বহু কষ্ট ও শ্রমের পর তা আহার করেন। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তাআলা বলেন: فَلَا يُخْرِ جَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقَى (۱۱۷) সুতরাং সে যেন তোমাদের কিছুতেই জান্নাত থেকে বের করে না দেয়। দিলে তোমরা দুঃখ পাবে। (সূরা ত্ব-হা: ১১৭)