📄 কবরে যে প্রশ্ন করা হবে!
এখানে আমি যা বর্ণনা করতে চাচ্ছি তা মুমিন, কাফির, পরহেজগার, ফাসিকসহ সকল প্রাপ্তবয়স্ক বান্দার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর এটা একটা দীর্ঘ হাদীস যা সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরছি।
কবরে মুমিন বান্দাকে যে প্রশ্ন করা হবে: হুংকারকারী শক্তিশালী দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে ধমক দিয়ে বসিয়ে প্রশ্ন করবে: তোমার রব কে? সে বলবে: আমার রব আল্লাহ। তারা বলবে: তোমার দ্বীন কী? সে বলবে: আমার দ্বীন ইসলাম। তারা বলবে: তোমাদের নিকট প্রেরিত এই লোকটি কে? সে বলবে: তিনি হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ ﷺ। তারা বলবে: তুমি কীভাবে জানলে? সে বলবে: আল্লাহর কিতাব পড়েছি, এর ওপর ঈমান এনেছি এবং বিশ্বাস করেছি।
এরপর ফেরেশতারা তাকে জিজ্ঞেস করে বলবে: তোমার প্রভু কে? তোমার দ্বীন কি? তোমার নবী কে? আর এটিই হবে মুমিন আত্মার ওপর অর্পিত শেষ ফিতনা। সে বলবে: আমার রব আল্লাহ, দ্বীন ইসলাম এবং নবী মুহাম্মাদ । তখন আকাশ হতে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করে বলবেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিধান করিয়ে দাও। তখন জান্নাত থেকে সুগন্ধির হাওয়া আসতে থাকবে এবং তার জন্য তার কবরকে চোখের শেষ দৃষ্টি পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং তার নিকট সুশ্রী সুন্দর পোশাক পরিহিত একজন ফেরেশতা আসবে, অন্য বর্ণনায় রয়েছে: তার বেশ ধরে এসে বলবে: তোমাকে আনন্দিত করবে এমন একটি সুসংবাদ গ্রহণ করো। আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং অসীম শান্তি বিশিষ্ট জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো।
অপরদিকে কাফির, মুশরিক-ফাসিক/মুনাফিককে কবরে যে প্রশ্ন করা হবে: তার নিকট গম্ভীর দু'জন ফেরেশতা এসে ধমকাবে এবং তাকে বসিয়ে বলবে: তোমার রব কে? সে বলবে: হায়! হায়! আমি জানি না। তারা বলবে: তোমার দ্বীন কী? সে বলবে হায়! হায়! আমি জানি না। তারা বলবে: সেই লোকটি কে যাকে তোমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল? তখন সে তাঁর নাম স্মরণ করতে পারবে না। বলা হবে (তাঁর নাম কি) মুহাম্মাদ? সে বলবে: হায়! হায়! আমি জানি না; কিন্তু লোকজনকে এ নাম বলতে শুনেছি। তিনি বলেন: তাকে বলা হবে, তুমি জাননি এবং যারা জেনেছে তাদের অনুসরণও করনি। তখন আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করে বলবেন: সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দাও; যেন সেখান থেকে উত্তাপ ও প্রখর বাষ্প আসতে থাকে। অতঃপর তার কবরকে এমন সংকীর্ণ করে দেওয়া হবে যে, তার বুকের হাড়গুলো একদিক থেকে অন্য দিকে চলে যাবে। তারপর বিশ্রী মুখ বিশিষ্ট জীর্ণ কাপড় পরিহিত দুর্গন্ধযুক্ত এক ব্যক্তি তার নিকট আসবে- অন্য বর্ণনায় রয়েছে: তার বেশ ধরে বলবে, তুমি এমন একটি সুসংবাদ গ্রহণ করো, যা তোমার অনিষ্ট করবে। আজ সেই দিন যে দিনের অঙ্গীকার তোমাকে দেওয়া হয়েছিল। সে বলবে: তুমি কে? তোমাকে আল্লাহ এমন দুঃসংবাদ দিয়ে পাঠিয়েছেন? তোমার চেহারা তো সেই চেহারা যা অনিষ্ট বয়ে আনে। সে বলবে: আমি তোমার মন্দ আমল। আল্লাহর কসম! তুমি তাঁর আনুগত্যের প্রতি ছিলে অত্যন্ত নিশ্চল এবং তাঁর নাফরমানীর প্রতি ছিলে চতুর। সুতরাং আল্লাহ তোমার মন্দের যথাযথ প্রতিদান দিয়েছেন।
সুতরাং এ হাদীস থেকে স্পষ্ট জানা গেল, যারা দ্বীনি ইলম/জ্ঞান অর্জন করবে আল্লাহর কিতাব ও রাসূল এর সুন্নাহ অধ্যয়ন করবে, সত্য জানার চেষ্টা করবে এবং যারা দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন করেছে তাদের অনুসরণ করবে তারাই কবরের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। আর যারা শুনে শুনে অন্ধভাবে লোকে যা বলত তাই মানত, তারা সঠিক উত্তর দিতে পারবে না।
টিকাঃ
মুসনাদে আহমাদ ১৮৫৩৪, মিশকাত: ১৬৩০, সনদ হাসান।
📄 উদাত্ত আহ্বান! সত্যকে প্রত্যাখ্যান করো না
হে ভাই ও বোনেরা! কুরআন-সুন্নাহ্ আলোকে কালিমাতুশ শাহাদাহ্র সঠিক অর্থ, ব্যাখ্যা, উপকারিতা, ফযীলত, গুরুত্ব, তাওহীদ, তাগূত, শিরক, সুন্নাহ, বিদআত এবং ঈমান ভঙ্গের কারণ স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরা হলো। সম্মানিত দ্বীনি ভাই ও বোন! এ সমস্ত বিষয় থেকে সতর্ক হোন এবং স্মরণ করুন সেই দিনের কথা, যে দিন মানুষ পলায়ন করবে নিজ ভাই থেকে, মাতা-পিতা থেকে, পত্নী ও সন্তানদের থেকে। সেদিন প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে এতটাই চিন্তিত থাকবে যে, সবচেয়ে আপনজনের কথাও কারো স্মরণে থাকবে না। সতর্ক হোন সে দিনের জন্য যেদিন ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি কোন উপকারে আসবে না। সেদিন উপকারে আসবে কেবল তাওহীদী ঈমান ও সুন্নাহসম্মত আমল। সুতরাং ফিরে আসুন হকের পথে। সত্যকে প্রত্যাখ্যান করবেন না। আহ্বান করুন অপরকে। দাওয়াত দিন পূর্ণাঙ্গ তাওহীদের। অটল থাকুন, ধৈর্য ধরুন। আল্লাহর উপর ভরসা করুন।
হে আমার ভাই ও বোন! আজ থেকেই না হয় একটি উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এই বইটি প্রচার-প্রসারের মাধ্যমে যেন সকল নবী-রাসূলদের দাওয়াতের মূল বিষয় তাওহীদ তথা লা- ইলাহা-ইল্লাল্লাহ'র দাওয়াত খুব সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।
আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন। হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষি থেকো, আমি সত্য পৌছিয়েছি।
বইটি পড়া হলে অন্যকে উপহার দিন অথবা এমন স্থানে রাখুন যাতে বইটি যে কেউ পড়তে পারে ও উপকৃত হতে পারে।