📘 কালিমাতুশ শাহাদাহ > 📄 ঈমান ভঙ্গের কারণসমূহ

📄 ঈমান ভঙ্গের কারণসমূহ


ওযু করার পর এমন কিছু কাজ রয়েছে যেগুলো সম্পাদিত হলে ওযু ভেঙ্গে যায়। নামায-রোযা ও অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রেও একই কথা। তেমনি এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো ঈমান আনার পর করলে, ঈমান ভেঙ্গে যায়। ঈমান ভঙ্গ হলে ইসলামের গন্ডি থেকে বেরিয়ে মুসলিম কাফের হয়ে যায়। দুঃখজনক ব্যাপার হলো- আমরা ওযু ভঙ্গের কারণ জানি, সালাত (নামায) ভঙ্গের কারণ জানি, কিন্তু ঈমান ভঙ্গের কারণ আমরা অনেকেই জানি না। অথচ ঈমান আনার পূর্বেই এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। আসুন জেনে নিই ঈমান ভঙ্গকারী ১০টি বিষয়।
১. আল্লাহর সাথে শরীক করা: আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে। (সূরা নিসা ৪:৪৮) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন,
مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ
নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিবেন; আর তার আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা মায়িদা ৫:৭২) আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট প্রার্থনা করা, সাহায্য চাওয়া, কাউকে ভয় করা, অন্যের উপর ভরসা করা, অন্যের উদ্দেশ্যে মানত করা, অন্যকে উপকার ও অপকারের মালিক মনে করা, আল্লাহর যেমন ক্ষমতা অন্য কারো এরূপ ক্ষমতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করা, আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আইন-বিধানদাতা মানা, অন্য আইনে বিচার-ফায়সালা চাওয়া ইত্যাদি সবই শিরক যা একজনকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। এ কারণেই আল্লাহ তা'আলা ঈমান গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শিরকমুক্ত হওয়ার শর্তারোপ করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে: (الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ) যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলম (শিরক) দ্বারা কলুষিত করে নাই, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই হেদায়াত প্রাপ্ত। (সূরা আন'আম ৬:৮২)
যতবড় ঈমান ও আমলের অধিকারী হোক না কেন, শিরক থাকলে তার সবকিছুই বরবাদ হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ #-কে আল্লাহ তা'আলা সতর্ক করে ঘোষণা করলেন: (وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ) তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহী হয়েছে তুমি আল্লাহর সাথে শরীক করলে তোমার আমল নিস্ফল হয়ে যাবে এবং অবশ্য তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্ত। (সূরা যুমার ৩৯:৬৫)
সূরা আন'আমের ৮৩-৮৭ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ১৮ জন নবীর নাম উল্লেখপূর্বক তাদের ব্যাপারে বলেছেন: ﴿وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴾ তারাও যদি শির্ক করতো তবে তাদের কৃতকর্ম নিস্ফল হত। (আনআম ৬:৮৮)
২. আল্লাহ এবং বান্দার মাঝখানে এমন মাধ্যম স্থির করা, যার কাছে বান্দা সুপারিশ কামনা করে এবং তার ওপর তাওয়াক্কুল করা: আল্লাহ তা'আলা বলেন, (وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ) তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর ইবাদত করে, যা তাদের কোনো ক্ষতিও করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না, তারা বলে: এরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশকারী। (সূরা ইউনুস ۱۰:۱۸) আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র আরো বলেন, (وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُوْنَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى) আর যারা তাকে ব্যতীত অলী আউলিয়া ধারণ করেছে তারা বলে আমরা তাদের উপাসনা করি শুধু এই উদ্দেশ্যে যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছিয়ে দিবে। (সূরা যুমার ৩৯:৩)
এটা হচ্ছে আউলিয়া এবং নেককার লোকদের কবরের উদ্দেশ্যে যারা যায় তাদের অবস্থা। তারা সেখানে গিয়ে কবরবাসিকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ইবাদাতে লিপ্ত হয়, কবরবাসী আল্লাহর কাছে সুপারিশ করতে পারবে এ বিশ্বাসে। যেমন : তাদের কাছে দোয়া করা, তাদের উদ্দেশ্যে মানত করা, পশু যবাই করা, তাদের কাছে সাহায্য কামনা করা এবং কবরের চারপাশে প্রদক্ষিণ করা।
৩. কাফেরদের কাফের মনে না করা অথবা তাদের কুফরীর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা অথবা তাদের কুফরী মতবাদকে সহীহ মনে করা : আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ নিশ্চয় আল্লাহর নিকট মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম। (সূরা আল ইমরান ৩:১৯) وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ )
যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম সন্ধান করবে কস্মিনকালেও তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা আল ইমরান ৩:৮৫) এখানে সন্দেহ দ্বারা বুঝানো হচ্ছে যে, মুসলিম উম্মাহ যার কাফের হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করে তার কুফরীর ব্যাপারে কোনো মুসলিমের সন্দেহ পোষণ করা। যেমন- ইহুদী, নাসারা ও মুশরিক (অর্থাৎ ইহুদী নাসারা ও মুশরিকদের কুফরীর ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর কোনো দ্বিমত নেই, তাই কোনো মুসলিম এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করতে পারবে না। করলে সেও কুফরী মতবাদে বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে) এ দৃষ্টিকোণ থেকে জাহেলি যুগের মুশরিক যারা নিজেদের মুশরিক হওয়ার ব্যাপারে নিজেরাই সাক্ষ্য প্রদান করেছিলো, আর বর্তমান যুগের মুশরিক যারা ইসলাম ও ঈমানের দাবি করে অথচ আল্লাহর সাথে সংশিষ্ট হককে গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করে, এই দুই ধরনের মুশরিকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
৪. রাসূলুল্লাহ # এর দ্বীন, অথবা (পুণ্য কাজের) সাওয়াব অথবা (পাপের জন্য) শান্তি এবং দ্বীনের যে কোনো বিষয়ে বিদ্রূপ করা: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُوْلِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ ﴾ আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁরআয়াত সমূহের সাথে, তাঁর রাসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? তামাশা করো না, তোমরা তো ঈমান প্রকাশ করার পর কাফের হয়ে গেছো। (সূরা তাওবাহ ৯:৬৫-৬৬)
ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব রহ. তাঁর 'কাশফুশ শুবহাত' পুস্তিকায় বলেন, এটা যখন নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত যে, কতিপয় মুনাফিক যারা রাসূল # এর সাথে রোমের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ও তাদের ঠাট্টা বিদ্রূপাত্মক কথা দ্বারা কুফরী করেছে, তখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, যে ব্যক্তি সম্পদের স্বল্পতার আশংকায় কিংবা কিছু প্রাপ্তির আশায় অথবা কারো মনতুষ্টির জন্য কুফরী কথা বলল অথবা কুফরী কর্ম করল, সে অবশ্যই ঐ ব্যক্তির চেয়ে জঘন্য কাজ করেছে যে ঠাট্টা ও বিদ্রূপাত্মক কথা বলেছে।
এমন অবস্থা আজকাল অনেক নামধারী মুসলিমদের। যারা পর্দা করা, দাড়ি রাখা অথবা দ্বীনের অন্যান্য বিষয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে। প্রকারান্তরে তারা যেন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথেই ঠাট্টা করে।
৫. যাদু করা: যাদুর মধ্যে রয়েছে (যাদু-মন্ত্র দ্বারা) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিছিন্নতা সৃষ্টি করা। উভয়ের মধ্যে পরস্পরের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা। তাছাড়া "তাওলার” আশ্রয় নেয়া। তাওলা হচ্ছে (যাদু মন্ত্রের সাহায্যে) স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে বশীভূতকরণ। এর মধ্যে রয়েছে ভেলকিবাজী এবং কথিত ভালোবাসা সৃষ্টিকারী রিং। এগুলো নিঃসন্দেহে কুফরী। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ
তারা উভয়েই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিতো না যে, দেখো- আমরা নিছক পরীক্ষা মাত্র। অতএব তুমি কুফরী করো না। (সূরা বাকারা ২:১০২)
৬. মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের পক্ষ নেয়া ও সহযোগিতা করা: মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য-সহযোগিতা করা, তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করা, তাদেরকে কাফেরদের হাতে ধরিয়ে দেয়া ইত্যাদি সবই কুফরী ও ঈমান বিধ্বংসী বিষয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তাদেরকে (মুশরিকদেরকে) বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তাহলে সে তাদের মধ্যেই গণ্য হবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা জালেমদেরকে হেদায়াত করেন না। (সূরা মায়িদা ৫:৫১)
৭। যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ # এর আনীত কোন বিধানকে অপছন্দ করল সে কুফরী করল। যদিও সে ওই আমলটি নিজে পালন করে: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ذلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوْا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ )
এটা এজন্যে যে, তারা সেই বিষয়ের অনুসরণ করে, যা আল্লাহ্র অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং তারা আল্লাহ্র সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করে। ফলে তিনি তাদের কর্মসমূহ ব্যর্থ করে দেন। (সূরা মুহাম্মদ ৪৭:২৮)
৮. মুহাব্বত ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা অথবা কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা: পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّوْنَهُمْ كَحُبِ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا وَأَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ
আর কোনো কোনো লোক এমনও রয়েছে, যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালোবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালোবাসা ওদের তুলনায় অনেক বেশি। (সূরা বাকারা ২:১৬৫) ৯. যে ব্যক্তি মনে করে যে, নবী এর নিয়ে আসা বিধানের চেয়ে মানবরচিত অন্য বিধান পরিপূর্ণ বা উত্তম: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ) নিশ্চয় আল্লাহর নিকট মনোনীত দ্বীন হলে ইসলাম। (সূরা আল ইমরান ৩:১৯) وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ ) যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম সন্ধান করবে কস্মিনকালেও তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা আল ইমরান ৩: ৮৫) وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য নিজেদের ব্যাপারে অন্য কিছু এখতিয়ার করার অধিকার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে। (সূরা আহযাব ৩৩:৩৬)
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا অতএব তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে, তারপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে ব্যাপারে নিজেদের অন্তরে কোন দ্বিধা অনুভব না করে এবং পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়। (সূরা নিসা ৪:৬৫) হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ وَالَّذِي نَفْسٌ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هُذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِي وَلَا نَصْرَانِي ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ # ইরশাদ করেছেন, ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ নিহিত রয়েছে! এই উম্মাতের ইয়াহুদী হোক আর খ্রিস্টান হোক আমার সম্পর্কে শোনার পর যদি আমার প্রতি এবং আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করে, তবে অবশ্যই সে জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে গণ্য হবে।
১০. আল্লাহর দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া বা অমনোযোগী হওয়া: আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَا إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ) যে ব্যক্তিকে তার রবের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দেয়া হয়েছে অতঃপর সে তা থেকে বিমূখ হয়েছে তার চেয়ে বড় যালিম কে? নিশ্চয় আমি অপরাধীদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী। (সূরা সাজদাহ ৩২:২২)
ইসলাম বিনষ্টকারী এসব বিষয়ের ক্ষেত্রে অবহেলাকারী বা ভয় দ্বারা প্রভাবিতদের মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। তবে যে ব্যক্তি নিরুপায় ও বাধ্য তার কথা ভিন্ন। এগুলো সবই অত্যন্ত ভয়াবহ এবং সচরাচরই ঘটে থাকে। মুসলিমদের উচিত এগুলোতে পতিত হওয়ার আশংকায় ভীত এবং সতর্ক থাকা। যেসব কাজ আল্লাহর ক্রোধ এবং তার যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে অপরিহার্য করে দেয় সেগুলো থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00