📘 কালিমাতুশ শাহাদাহ 📄 সুন্নাহর বিপরীত হলো বিদআত

📄 সুন্নাহর বিপরীত হলো বিদআত


বিদআত শব্দটি আরবি اَلْبَدْعُ শব্দ থেকে গৃহীত হয়েছে; যার আভিধানিক অর্থ নতুন আবিষ্কার। শরীয়তের পরিভাষায় বিদআত হচ্ছে দ্বীনের নামে নতুন কাজ, নতুন ইবাদাত আবিষ্কার করা। নবী বলেন,
فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيْثِ كِتَابُ اللهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدًى مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম পদ্ধতি হচ্ছে মুহাম্মাদ এর পদ্ধতি। আর নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত হচ্ছে ভ্রষ্টতা। রাসূল আরো বলেছেন, فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي যে আমার সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সে আমার দলভুক্ত নয়।" অর্থাৎ যে রাসূলুল্লাহ এর পদ্ধতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নতুন নতুন ইবাদাত আবিষ্কার করবে অথবা আল্লাহর নৈকট্যের জন্য নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করবে সে রাসূলুল্লাহ এর পদ্ধতিকে তুচ্ছ মনে করল। রাসূলুল্লাহ এর জন্য এর চেয়ে বড় অপমান আর কী হতে পারে? বিদআতের কারণে জাহান্নাম অবধারিত:
রাসূলুল্লাহ বলেন, وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَارِ সব বিদআতই ভ্রষ্টতা, আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণামই হচ্ছে জাহান্নাম。

টিকাঃ
* সহীহ মুসলিম: ৮৬৭, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪৫ সহীহ ইবনে হিব্বান ১০। * সহীহ বুখারী: ৫০৬৩, সহীহ মুসলিম: ১৪০১, সুনানে নাসাঈ ৩২১৭। * সুনানে নাসাঈ: ১৫৭৮, সহীহ ইবনে খুযায়মা: ১৭৮৫।

📘 কালিমাতুশ শাহাদাহ 📄 আমাদের সমাজে প্রচলিত বিদআত

📄 আমাদের সমাজে প্রচলিত বিদআত


প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মুফতি আলী হুসাইন (দা. বা.) লিখেছেন: শরীয়তের বিধান মনে করে সওয়াবের আশায় নিম্নলিখিত কাজসমূহ করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত-

* প্রচলিত ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করা। মীলাদ পড়া বিদআত। * রাসূল-কে উপস্থিত মনে করে মীলাদে কিয়াম করা। এটি একটি বড় শিরকও বটে। * ফরয নামাযের পর ইমাম-মুক্তাদি সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করা। যে দু'আ করার সময় হাত উত্তোলনের প্রমাণ নেই তাতে হাত উত্তোলন করা। * কেউ মারা গেলে তার চল্লিশা বা দশা করা এবং যিয়াফত করা। * ইসালে সওয়াবের জন্য হাফেয ডেকে কুরআন খতম করা। * ইসালে সওয়াব ও কবর যিয়ারত করে প্রতিদান গ্রহণ করা। * প্রচলিত খতমে খাজেগান করা। * প্রচলিত খতমে ইউনুস ও বুখারী খতমের অনুষ্ঠান গুরুত্বের সাথে পালন করা।
* জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা。
* পীর-দরবেশদের মাযারে মান্নত করা। বরং এটি একটি বড় শিরকও বটে。
* কবরে বাতি জ্বালানো, ফুল দেয়া, চাদর দ্বারা ঢেকে রাখা ও চুম্বন করা。
* কবরের দিকে মুখ করে নামায আদায় করা ও সিজদা করা। এটাও শিরক।
* কবরকে কেন্দ্র করে ওরশ করা।
* কবর পাকা করা ও তার উপর গম্বুজ নির্মাণ করা।
* কবরে আযান দেয়া।
* দিন-তারিখ নির্দিষ্ট করে সুরে সুর মিলিয়ে যিকির করা।
* ঈদের নামায ও খুতবার পর সম্মিলিতভাবে দু'আ করা।
* জুমার সুন্নত নামাযের পর সম্মিলিতভাবে দু'আ করা।
* তারাবীহ্ প্রত্যেক ৪ রাকাতে অথবা সর্বশেষে সম্মিলিতভাবে দু'আ করা।
* রমাযানের শেষ জুমাকে "জুমাতুল বিদা" বলে আখ্যায়িত করে মহল্লার মসজিদ ছেড়ে সেদিন শহরের বড় মসজিদে নামায আদায় করা।
* জানাযার নামাযের পর আবার সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা।
* জানাযার পর মুর্দার মুখ খুলে দেখানো।
* জানাযার পরে ও পূর্বে লোকটির ভালো হওয়া সম্পর্কে ঘোষণা করা।
* মুর্দাকে কবরে নেওয়ার সময় উচ্চৈঃস্বরে যিকির করা।
* শবে মেরাজ/ শবে বরাতে নফল নামায আদায় করার জন্য মসজিদে একত্রিত হওয়া।
* শবে কদর বা শবে বরাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ নফল নামায পড়তে হবে বলে ধারণা করা এবং সে নামাযে নির্দিষ্ট সূরা পাঠ করতে হবে বলে ধারণা করা।
* শবে বরাতে হালুয়া-রুটি পাকানো ও বণ্টন করা।
* পীরকে সর্বজ্ঞ ধারণা করা ও তার ধ্যানে মগ্ন হওয়া। এগুলো বর্তমানে শিরকের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
* নবজাতককে বরকতের জন্য পীরের কবর বা মসজিদ স্পর্শ করানো।
* খৎনার অনুষ্ঠান করা।
* পীরদের কবর প্রদক্ষিণ করা। এটি শিরকের পর্যায় পৌঁছে গেছে।
এ ছাড়াও আরও কিছু বিদ'আত হচ্ছে:
* সলাতের শুরুতে "নাওয়াইতুয়ান” ও জায়নামাযের দোয়া "ইন্নি ওয়াজজিহাতু পড়া" পড়া বিদ'আত।
* আযানে ও ইকামতে নবীজির নাম শুনে চোখে আঙ্গুল বুলিয়ে তা চুম্বন করা বিদ'আত।
* খুতবাহ চলাকালীন লাল বাতি জ্বালানো ও তাহিয়্যাতুল মাসজিদ দুই রাকাত নামায ত্যাগ করা বিদ'আত।
* মনগড়া দরুদ পড়া যেমন- দরুদে হাজারি, লাকি, শেফা ইত্যাদি। দরুদ পড়তে কিয়াম করা বা সমস্বরে উচ্চৈঃস্বরে দরুদ পড়া।
* যিকিরের প্রচলিত বিদআত যেমন, নির্দিষ্ট সংখ্যায় যিকর ছাড়া নিজের তরফ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় যিকর করা। হু-হু বা হুয়া-হুয়া যিকর করা। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকে ভেঙ্গে যিকর করা অর্থাৎ নির্দিষ্ট সংখ্যায় 'লা ইলাহা' বলা ও পরে আবার নির্দিষ্ট সংখ্যায় 'ইল্লাল্লাহ' বলা বা 'ইল-ইল' বলে যিকর হাঁকা। ইয়া রাসূলুল্লাহ বা ইয়া মুহাম্মাদ বা ইয়া আলীর যিকর করা। উচ্চৈঃস্বরে যিকর, হেলে-দুলে যিকর, নেচে, হাততালি দিয়ে যিকর। কোন পীর/ওলীর নামে যিকর করা বিদ'আত।
* কিছু লেখার পূর্বে 'এলাহি ভরসা' অথবা ৭৮৬ লিখা বিদ'আত।
* প্রচলিত দিবস যেমন নবীর জন্মদিবস, ফাতেহা ইয়াযদহম, দোয়াযদহম, আখেরী চাহার শোম্বা, শবে মিরাজ, জুমআতুল বিদা, শবে বরাত, তার নামায। মহররম উপলক্ষ্যে তাজিয়া-মিছিল, নিশান, মর্সিয়া বাদ্য ও আত্মপ্রহার দ্বারা শোক পালন, এ সবই জাহেলিয়াতের কুপ্রথা।

টিকাঃ
- হাকীকতে সুন্নত বিদআত ও রসুমাত, মুফতী আলী হুসাইন- পৃঃ ১৮৩-১৮৪ (ঈষৎ পরিমার্জিত)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية