📘 কালিমাতুশ শাহাদাহ > 📄 মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এই সাক্ষ্যবাণীর মর্মকথা

📄 মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এই সাক্ষ্যবাণীর মর্মকথা


১. মুহাম্মাদ ﷺ এর প্রতি এবং তাঁর নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তার উপর ঈমান আনা। কেননা আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُوْلِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُوْلِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের, তাঁর রাসূলের নিকট তিনি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সেই কিতাবের এবং পূর্বে নাযিলকৃত কিতাবের উপর ঈমান আনো। [সূরা নিসা ৪: ১৩৬]
২. একমাত্র রাসূলকেই উত্তম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা। আল্লাহ বলেন,
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। [সূরা আহযাব ৩৩: ২১] ৩. সর্বদা তাঁকে সম্মান করা। আল্লাহ বলেন,
لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُوْلِهِ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا
(ওহে মানুষেরা) যেন তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন, রাসূলকে শক্তি যোগাও আর তাকে সম্মান কর, আর সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর মহিমা ঘোষণা কর। [সূরা ফাতহ ৪৮: ৯]
৪. পৃথিবীর সবকিছু থেকে এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও তাঁকে বেশি ভালোবাসা। হাদীসে এসেছে, قَالَ النَّبِيُّ : لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُوْنَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِيْنَ নবী বলেন, তোমাদের কেউই ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এমনকি দুনিয়ার সমস্ত মানুষ হতে অধিকতর প্রিয় হব।"
৫. তাঁর প্রতি সালাম জানানো। আল্লাহ তা'আলা বলেন إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا ) আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীর প্রতি সালাত প্রেরণ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। [সূরা আহযাব ৩৩: ৫৬]
৬. দ্বিধাহীন চিত্তে তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া। আল্লাহ বলেন, وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُوْنَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী উক্ত নির্দেশের ভিন্নতা করার কোন অধিকার রাখে না। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে সে স্পষ্টতই সত্য পথ হতে দূরে সরে পড়ল। [সূরা আহযাব ৩৩: ৩৬]
৭. কোন অবস্থাতেই তাঁর খিয়ানত না করা। আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللهَ وَالرَّسُوْلَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ) হে মুমিনগণ! তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না, আর যে বিষয়ে তোমরা আমানত প্রাপ্ত হয়েছ তাতেও বিশ্বাস ভঙ্গ করো না। [সূরা আনফাল ৮: ২৭]
৮. তাঁর আদেশ অমান্য না করা। আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُوْنَ) ওহে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং আদেশ শোনার পর তা অমান্য করো না। [সূরা আনফাল ৮: ২০]
৯. তাঁর বিরুদ্ধাচরণ না করা। আল্লাহ বলেন, وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَةً يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ) আর যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নাফরমানী করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন, সে তাতে চিরস্থায়ী হবে এবং সে অবমাননাকর শাস্তি ভোগ করবে। [সূরা নিসা ৪: ১৪]
১০. রাসূলুল্লাহ-কে নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা। রাসূল বলেছেন,
لَا تُظرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى عِيسَى بْنَ مَرْيَمَ فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ فَقُوْلُوْا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ ৬৭ তোমরা আমার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করো না, যেমনভাবে নাসারা/খ্রিস্টানরা ঈসা ইবনে মারইয়ামের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছিল। আমি তো একজন বান্দা বৈ আর কিছুই নই। তাই তোমরা বলো, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
১১. মুহাম্মাদ সর্বশেষ নবী ও রাসূল। তাঁর পর আর কোন নবী বা রাসূলের আগমন ঘটবে না, এর স্বীকৃতি দেয়া। আল্লাহ বলেন, مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا ) মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যকার কোন পুরুষের পিতা নয়, কিন্তু (সে) আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞাত।। সূরা আহযাব ৩৩: ৪০]
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল- এ কথার অর্থ এই নয় যে, রাসূল মানুষের ইবাদাত পাওয়ার অধিকার রাখেন। এরূপ কোন ধারণা বা বিশ্বাস মোটেই করা যাবে না।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট হলো যে, সকল বিষয়ে রাসূলুল্লাহ এর একনিষ্ঠ অনুসরণ করা, তাঁকেই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উত্তম আদর্শ (মডেল) হিসেবে মেনে নেয়া, তাঁকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা, তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করা, তাঁর দেয়া নির্দেশাবলি মেনে চলা, তাঁর আদেশ অমান্য না করা, তাঁকে নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা এবং তাঁকে সর্বশেষ নবী হিসেবে মেনে নেয়া।
মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা বা দাস এ সাক্ষ্যের দাবি হলো, সৃষ্টি বা পরিচালনায় এবং প্রভুত্বে কিংবা ইবাদাতে রাসূল এর কোন অধিকার নেই। বরং তিনি নিজেই আল্লাহর ইবাদাতকারী। তিনি সত্য রাসূল। তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যাবে না। তিনি নিজের জন্য কিংবা অপরের জন্য কল্যাণ-অকল্যাণের কোন ক্ষমতা রাখেন না। মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণের একমাত্র মালিক আল্লাহ। তাঁর প্রতি যা আদেশ করা হয় তিনি কেবল মাত্র তারই অনুসরণ করে থাকেন। আল্লাহ বলেন, قُلْ لَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكَ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ ) বলো, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধন-ভান্ডার আছে, আর আমি অদৃশ্যের খবরও জানি না। আর আমি তোমাদেরকে এ কথাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয় তাছাড়া (অন্য কিছুর) আমি অনুসরণ করি না। [সূরা আনআম ৬: ৫০]
তবে শেষ নবী মুহাম্মাদ-কে আল্লাহ সৃষ্টিকূলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদায় আসীন করেছেন। তাঁকে দিয়েছিলেন এমন কিছু স্বতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্য, যা পূর্বের কোন নবীকে দেয়া হয়নি। এ সম্পর্কে রাসূল বলেছেন, فُضِلْتُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ بِسِةٍ أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِي الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِي الْأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَةً وَخُتِمَ بِِي النَّبِيُّونَ

টিকাঃ
কালিমা তাইয়েবা, পৃঃ ১০৫-১০৯।
সুনানে ইবনে মাজাহ ৬৭, সহীহ বুখারী: ১৫, মুসলিম: ৪৪।
সহিহ ইবনে হিব্বান ৬২৩৯, সহীহ বুখারী: ৩৪৪৫, মুসনাদে আহমাদ: ১৫৪।

📘 কালিমাতুশ শাহাদাহ > 📄 সুন্নাহ কী?

📄 সুন্নাহ কী?


শরঈ পরিভাষায় রাসূলুল্লাহ এর বাণী, কাজ, মৌনসম্মতি, যাবতীয় ইবাদাত, আদেশ-নিষেধ, সবকিছুই হচ্ছে সুন্নাহ। সুন্নাহ (السُّنَّةُ) শব্দটি سَنَّ يَسُنُّ ক্রিয়ামূল থেকে। যার অর্থ তরীকা বা পন্থা, পদ্ধতি, রীতিনীতি, হুকুম ইত্যাদি। এই পদ্ধতি ও রীতিনীতি নন্দিত বা নিন্দিত কিংবা প্রশংসিত বা ধিকৃত উভয়ই হতে পারে। যেমন- (اَلسُّنَّةُ مِنَ اللَّهِ )আল্লাহর নীতি)। মহান আল্লাহ বলেন,
سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ رُسُلِنَا وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلًا
তোমার পূর্বে আমি আমার যে সব রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের ক্ষেত্রে এটাই ছিল নিয়ম আর তুমি আমার নিয়মের কোন পরিবর্তন দেখতে পাবে না।। সূরা ইসরা ১৭: ৭৭] কুরআন মাজীদে এ সুন্নাহকেই সিরাতুল মুস্তাকীম বলে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَضَاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ
এ পথই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্য কোন পথের অনুসরণ করো না, নতুবা তোমরা তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন, যেন তোমরা সাবধান হও। (সূরা আন'আম- ১৫৩) এ আয়াত থেকে সিরাতুল মুস্তাকীম বলতে সেই জিনিসকেই বুঝানো হয়েছে, যা বুঝা যায় সুন্নাত শব্দ থেকে。

টিকাঃ
• সহীহ মুসলিম: ৫২৩, তিরমিযী: ১৫৫৩, সহীহ ইবনে হিব্বান ৬৪০৩।

📘 কালিমাতুশ শাহাদাহ > 📄 সুন্নাহর বিপরীত হলো বিদআত

📄 সুন্নাহর বিপরীত হলো বিদআত


বিদআত শব্দটি আরবি اَلْبَدْعُ শব্দ থেকে গৃহীত হয়েছে; যার আভিধানিক অর্থ নতুন আবিষ্কার। শরীয়তের পরিভাষায় বিদআত হচ্ছে দ্বীনের নামে নতুন কাজ, নতুন ইবাদাত আবিষ্কার করা। নবী বলেন,
فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيْثِ كِتَابُ اللهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدًى مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম পদ্ধতি হচ্ছে মুহাম্মাদ এর পদ্ধতি। আর নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত হচ্ছে ভ্রষ্টতা। রাসূল আরো বলেছেন, فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي যে আমার সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সে আমার দলভুক্ত নয়।" অর্থাৎ যে রাসূলুল্লাহ এর পদ্ধতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নতুন নতুন ইবাদাত আবিষ্কার করবে অথবা আল্লাহর নৈকট্যের জন্য নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করবে সে রাসূলুল্লাহ এর পদ্ধতিকে তুচ্ছ মনে করল। রাসূলুল্লাহ এর জন্য এর চেয়ে বড় অপমান আর কী হতে পারে? বিদআতের কারণে জাহান্নাম অবধারিত:
রাসূলুল্লাহ বলেন, وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَارِ সব বিদআতই ভ্রষ্টতা, আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণামই হচ্ছে জাহান্নাম。

টিকাঃ
* সহীহ মুসলিম: ৮৬৭, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪৫ সহীহ ইবনে হিব্বান ১০। * সহীহ বুখারী: ৫০৬৩, সহীহ মুসলিম: ১৪০১, সুনানে নাসাঈ ৩২১৭। * সুনানে নাসাঈ: ১৫৭৮, সহীহ ইবনে খুযায়মা: ১৭৮৫।

📘 কালিমাতুশ শাহাদাহ > 📄 আমাদের সমাজে প্রচলিত বিদআত

📄 আমাদের সমাজে প্রচলিত বিদআত


প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মুফতি আলী হুসাইন (দা. বা.) লিখেছেন: শরীয়তের বিধান মনে করে সওয়াবের আশায় নিম্নলিখিত কাজসমূহ করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত-

* প্রচলিত ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করা। মীলাদ পড়া বিদআত। * রাসূল-কে উপস্থিত মনে করে মীলাদে কিয়াম করা। এটি একটি বড় শিরকও বটে। * ফরয নামাযের পর ইমাম-মুক্তাদি সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করা। যে দু'আ করার সময় হাত উত্তোলনের প্রমাণ নেই তাতে হাত উত্তোলন করা। * কেউ মারা গেলে তার চল্লিশা বা দশা করা এবং যিয়াফত করা। * ইসালে সওয়াবের জন্য হাফেয ডেকে কুরআন খতম করা। * ইসালে সওয়াব ও কবর যিয়ারত করে প্রতিদান গ্রহণ করা। * প্রচলিত খতমে খাজেগান করা। * প্রচলিত খতমে ইউনুস ও বুখারী খতমের অনুষ্ঠান গুরুত্বের সাথে পালন করা।
* জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা。
* পীর-দরবেশদের মাযারে মান্নত করা। বরং এটি একটি বড় শিরকও বটে。
* কবরে বাতি জ্বালানো, ফুল দেয়া, চাদর দ্বারা ঢেকে রাখা ও চুম্বন করা。
* কবরের দিকে মুখ করে নামায আদায় করা ও সিজদা করা। এটাও শিরক।
* কবরকে কেন্দ্র করে ওরশ করা।
* কবর পাকা করা ও তার উপর গম্বুজ নির্মাণ করা।
* কবরে আযান দেয়া।
* দিন-তারিখ নির্দিষ্ট করে সুরে সুর মিলিয়ে যিকির করা।
* ঈদের নামায ও খুতবার পর সম্মিলিতভাবে দু'আ করা।
* জুমার সুন্নত নামাযের পর সম্মিলিতভাবে দু'আ করা।
* তারাবীহ্ প্রত্যেক ৪ রাকাতে অথবা সর্বশেষে সম্মিলিতভাবে দু'আ করা।
* রমাযানের শেষ জুমাকে "জুমাতুল বিদা" বলে আখ্যায়িত করে মহল্লার মসজিদ ছেড়ে সেদিন শহরের বড় মসজিদে নামায আদায় করা।
* জানাযার নামাযের পর আবার সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা।
* জানাযার পর মুর্দার মুখ খুলে দেখানো।
* জানাযার পরে ও পূর্বে লোকটির ভালো হওয়া সম্পর্কে ঘোষণা করা।
* মুর্দাকে কবরে নেওয়ার সময় উচ্চৈঃস্বরে যিকির করা।
* শবে মেরাজ/ শবে বরাতে নফল নামায আদায় করার জন্য মসজিদে একত্রিত হওয়া।
* শবে কদর বা শবে বরাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ নফল নামায পড়তে হবে বলে ধারণা করা এবং সে নামাযে নির্দিষ্ট সূরা পাঠ করতে হবে বলে ধারণা করা।
* শবে বরাতে হালুয়া-রুটি পাকানো ও বণ্টন করা।
* পীরকে সর্বজ্ঞ ধারণা করা ও তার ধ্যানে মগ্ন হওয়া। এগুলো বর্তমানে শিরকের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
* নবজাতককে বরকতের জন্য পীরের কবর বা মসজিদ স্পর্শ করানো।
* খৎনার অনুষ্ঠান করা।
* পীরদের কবর প্রদক্ষিণ করা। এটি শিরকের পর্যায় পৌঁছে গেছে।
এ ছাড়াও আরও কিছু বিদ'আত হচ্ছে:
* সলাতের শুরুতে "নাওয়াইতুয়ান” ও জায়নামাযের দোয়া "ইন্নি ওয়াজজিহাতু পড়া" পড়া বিদ'আত।
* আযানে ও ইকামতে নবীজির নাম শুনে চোখে আঙ্গুল বুলিয়ে তা চুম্বন করা বিদ'আত।
* খুতবাহ চলাকালীন লাল বাতি জ্বালানো ও তাহিয়্যাতুল মাসজিদ দুই রাকাত নামায ত্যাগ করা বিদ'আত।
* মনগড়া দরুদ পড়া যেমন- দরুদে হাজারি, লাকি, শেফা ইত্যাদি। দরুদ পড়তে কিয়াম করা বা সমস্বরে উচ্চৈঃস্বরে দরুদ পড়া।
* যিকিরের প্রচলিত বিদআত যেমন, নির্দিষ্ট সংখ্যায় যিকর ছাড়া নিজের তরফ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় যিকর করা। হু-হু বা হুয়া-হুয়া যিকর করা। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকে ভেঙ্গে যিকর করা অর্থাৎ নির্দিষ্ট সংখ্যায় 'লা ইলাহা' বলা ও পরে আবার নির্দিষ্ট সংখ্যায় 'ইল্লাল্লাহ' বলা বা 'ইল-ইল' বলে যিকর হাঁকা। ইয়া রাসূলুল্লাহ বা ইয়া মুহাম্মাদ বা ইয়া আলীর যিকর করা। উচ্চৈঃস্বরে যিকর, হেলে-দুলে যিকর, নেচে, হাততালি দিয়ে যিকর। কোন পীর/ওলীর নামে যিকর করা বিদ'আত।
* কিছু লেখার পূর্বে 'এলাহি ভরসা' অথবা ৭৮৬ লিখা বিদ'আত।
* প্রচলিত দিবস যেমন নবীর জন্মদিবস, ফাতেহা ইয়াযদহম, দোয়াযদহম, আখেরী চাহার শোম্বা, শবে মিরাজ, জুমআতুল বিদা, শবে বরাত, তার নামায। মহররম উপলক্ষ্যে তাজিয়া-মিছিল, নিশান, মর্সিয়া বাদ্য ও আত্মপ্রহার দ্বারা শোক পালন, এ সবই জাহেলিয়াতের কুপ্রথা।

টিকাঃ
- হাকীকতে সুন্নত বিদআত ও রসুমাত, মুফতী আলী হুসাইন- পৃঃ ১৮৩-১৮৪ (ঈষৎ পরিমার্জিত)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00