📄 লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর আহ্বানে পূর্ববর্তীরা কী বলেছিল
প্রিয় পাঠক! আসুন এবার জেনে নেই- নবী-রাসূলরা যখন لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ]লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ] এর দাওয়াত দিয়েছিলেন তাদের জাতিকে তখন সেই জাতির লোকেরা কী বলেছিল? রাসূল যখন তার জাতিকে আহ্বান জানালেন, لَا إِلَهَ إِلَّا الله [লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ] বলতে অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) মাবুদ নেই এর সাক্ষ্য দিতে, তখন মুশরিকরা বলেছিল,
أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ) সে কি অনেক মাবুদের পরিবর্তে এক মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে? এতো এক আশ্চর্য ব্যাপার! [সূরা সোয়াদ ৩৮: ৫]
وَ يَقُولُونَ أَبْنَا لَتَارِكُوا لِهِتِتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍ) ৩৫ এবং তারা বলত, আমরা কি এক পাগল কবির কথায় আমাদের ইলাহদেরকে বর্জন করব? [সূরা সাফফাত ৩৭: ৩৬]
বুঝা গেল, মুশরিকরা لَا إِلَهَ إِلَّا الله] লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ] এর অর্থ ঠিকমতই বুঝেছিল যে, এক আল্লাহকে মেনে নিলে সমস্ত দেব-দেবী, তাগূত ও গাইরুল্লাহকে বর্জন করতে হবে। নতুবা তারা (আমাদের ইলাহদেরকে পরিত্যাগ করব?) এ কথা বলল কেন? আল্লাহ বলেন-
وَإِذَا ذَكَرْتَ رَبَّكَ فِي الْقُرْآنِ وَحْدَهُ وَلَّوْا عَلَى أَدْبَارِهِمْ نُفُورًا) আর যখন তুমি কুরআনে তোমার প্রতিপালকের একত্বের কথা (তাদের সামনে) উল্লেখ করো, তখন তারা (সত্য থেকে) পালিয়ে পিছনে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। [সূরা বনী ইসরাঈল ১৭: ৪৬]
তারা বলে, আমাদের লাত কোথায় গেল? উযযা কোথায় গেল? মূর্তি/প্রতিমা কোথায় গেল? পীর কোথায় গেল? খাজা বাবা, গাঁজা বাবা কোথায় গেল? একি বলে! শুধুমাত্র এক ইলাহকেই মানতে হবে! এক আল্লাহরই ইবাদাত করতে হবে! এতো বড় আজব ব্যাপার! কুরআনে আরও বর্ণিত হয়েছে,
وَإِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ এক আল্লাহর কথা বলা হলে, যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং আল্লাহর পরিবর্তে তাদের দেবতাগুলির উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়। [সূরা যুমার ৩৯: ৪৫]
মহান আল্লাহ এখানে মক্কার কাফের-মুশরিকদের চিত্র তুলে ধরেছেন। যখন আল্লাহ্র এককত্ব তথা তাওহীদের আলোচনা করা হয়, তখন তাদের মনটা খারাপ হয়ে যায়, রাগে-ক্ষোভে, অন্তরটা ফেটে যেতে চায়। শরীরের পশমগুলো দাঁড়িয়ে যায়, চেহারাটা মলিন হয়ে যায়। আর যদি আল্লাহর সাথে তাদের নেতা, পীর, বুযুর্গ, মূর্তি, প্রতিমা তথা গাইরুল্লাহর আলোচনা করা হয়, তখন তাদের মনটা আনন্দে উল্লাসিত হয়, খুশিতে বাগ বাগ হয়ে যায়, চেহারা উজ্জ্বল হয়ে যায়।
ইসলাম বলে গাইরুল্লাহকে বর্জন করতে হবে, মুশরিকরা বলে গাইরুল্লাহকে বর্জন করা যাবে না। গাইরুল্লাহর নামে নযর-মান্নত বন্ধ করা যাবে না।
কুরআন মাজীদ বলছে, আল্লাহর সঙ্গে গাইরুল্লাহ (তথা মূর্তি/প্রতিমা, পীর, বুযুর্গ, ওলী-আউলিয়াদের)-কে যোগ করার এ রোগ শুধু মক্কার মুশরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং পূর্ববর্তী উম্মতের মুশরিকরাও এ রোগে আক্রান্ত ছিল। সুতরাং এ কথা বলা যায় যে, রোগ একটাই কিন্তু ডাক্তার পরিবর্তন হচ্ছিল। যখনই নবী-রাসূলগণ মুশরিক সম্প্রদায়কে তাওহীদের (একত্ববাদের) কথা বলেছেন এবং তাদের কাছে দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ]লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। এর মূল দাবি পেশ করেছেন, তখনই তারা জবাবে বলেছে-
قَالُوا إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا تُرِيدُونَ أَنْ تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ بَآؤُنَا فَأْتُوْنَا بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ তারা বলত, তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ; আমাদের পিতৃ পুরুষগণ যাদের ইবাদাত করত তোমরা তাদের ইবাদাত হতে আমাদেরকে বিরত রাখতে চাও; অতএব তোমরা আমাদের কাছে কোন অকাট্য প্রমাণ উপস্থিত করো। [সূরা ইবরাহীম ১৪: ১০]
কাওমে নূহ: নূহ যখন তার জাতিকে তাওহীদের দাওয়াত দিলেন তখন তার জাতি উত্তর দিয়েছিল- وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ الهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوْثَ وَيَعُوْقَ وَنَسْرًا আর তারা বলেছিল, তোমাদের দেব-দেবীদের কক্ষনো পরিত্যাগ করো না, আর অবশ্যই পরিত্যাগ করো না ওয়াদ সুয়া'আকে, আর না ইয়াগুস, ইয়া'উক ও নাসরকে। [সূরা নূহ ৭১: ২৩] নূহ তার জাতিকে এক ইলাহের (আল্লাহর) দিকে আহ্বান করেছিলেন। তিনি কোন পীর-বুযুর্গের নাম উল্লেখ করেননি। অথচ তার জাতি প্রত্যুত্তরে পাঁচজন আল্লাহওয়ালার (নেককার বান্দার) নাম উল্লেখ করল। বতর্মানেও যখন মানুষকে তাওহীদের দাওয়াত দেয়া হয়, তখন মানুষ বিভিন্ন পীর-বুযুর্গের কথা উল্লেখ করে বলে, আমার মুফতী সাহেব, পীর সাহেব কেবলা, হুজুর কেবলা কি তোমাদের চেয়ে কম বুঝেছিলেন? তারা কি ভুল করেছেন?
কাওমে হূদ: قَالُوا أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللهَ وَحْدَةً وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ بَاؤُنَا তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যাতে আমরা এক আল্লাহর ইবাদাত করি। আর আমাদের পিতৃপুরুষগণ যার ইবাদাত করত তা ত্যাগ করি? [সূরা আরাফ ৭: ৭০] অর্থাৎ তারা আল্লাহর ইবাদাত করতে আপত্তি করেনি, কিন্তু তাদের আপত্তি ছিল তাওহীদ তথা এক আল্লাহর ইবাদাত করতে। এবার হূদ এর জাতি অহংকার এবং দাম্ভিকতা প্রকাশ করে হূদ-কে বলল-
قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي الهَتِنَا عَنْ قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ ) তারা বলল, হে হূদ! তুমি আমাদের কাছে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসনি, আর তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যগুলোকে ত্যাগ করতে পারি না, আমরা তোমাতে বিশ্বাসী নই। [সূরা হুদ ১১: ৫৩]
এই আয়াতেও প্রমাণিত হলো হূদ গাইরুল্লাহর ইবাদাতের অনুমতি দেননি। অথচ তার জাতি গাইরুল্লাহর ইবাদাত ছাড়তে পারেনি。
📄 লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর গুরুত্ব ও ফযীলত
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ [লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ] এর গুরুত্ব যে কত অপরিসীম, এর মর্যাদা যে কত উচ্চ তা এ ক্ষুদ্র পরিসরে বলে শেষ করা সম্ভব নয়। তবুও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আমরা এ কালিমার গুরুত্ব তুলে ধরছি।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ [লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ] এর গুরুত্ব • এটি ইসলামের মূল কালিমা। এর সাক্ষ্য দানই ইসলামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তা। কেউ বুঝে-শুনে এ কালিমার সাক্ষ্য দিলে সে হবে মুসলিম, আর অস্বীকার করলে সে হবে কাফের। এ হচ্ছে এমন এক কালিমা যা মানুষের ঈমান এবং কুফরীর মধ্যে পার্থক্য করে দেয়। বর্তমানে যারা নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করছে তাদের জন্যও অবশ্যই জরুরি যে, তারা বুঝে-শুনে এ কালিমার সাক্ষ্য দেবে; অন্যথায় তাদেরও মুসলিম দাবি করা বৃথা হবে। রাসূল ﷺ যখন মুয়ায-কে ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন তখন বলেছিলেন, "নিশ্চয় তুমি আহলে কিতাবদের (ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের) এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সর্বপ্রথম যে জিনিসের দিকে তুমি তাদেরকে আহ্বান জানাবে তা হচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই [ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ] এবং মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর রাসূল এর সাক্ষ্য দান। সকল নবী-রাসূল ﷺ এর মূল মিশনই ছিল لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ [লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ]। এর দিকে আহ্বান করা। আল্লাহ ﷻ বলেন-
﴿وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُولٍ إِلَّا نُوْحِيَّ إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ﴾ আমি তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূলই পাঠাইনি যার প্রতি আমি ওহী করিনি যে, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই। কাজেই তোমরা আমারই ইবাদাত করো। [সূরা আম্বিয়া ২১: ২৫] সুতরাং কালিমার এ দাওয়াতই সর্বশ্রেষ্ঠ দাওয়াত, এ কালিমাকে মেনে নেয়াই হেদায়াতের রাস্তা গ্রহণ করা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণকে মেনে নেয়া। • এ কালিমা ইসলামের মূল ভিত্তি। ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির প্রথম ভিত্তি হচ্ছে শাহাদাতাইন বা দুটি বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়া। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
بُنِيَ الإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالْحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ
> সহীহ বুখারি ৪৩৪৭, সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৮৩, সুনানে আবু দাউদ ১৫৮৪।
ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, (আল্লাহর) ঘরে হজ্জ করা এবং রমাযান মাসে সিয়াম পালন করা।" এটা যেহেতু ইসলামের মূল ভিত্তি, এখন কেউ যদি বলে আমি মুসলিম, আমার দ্বীন ইসলাম তাহলে অবশ্যই তাকে এ কালিমার সাক্ষ্য জেনে-বুঝে দিতে হবে এবং এটাকে দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করতে হবে।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ]লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ] এর ফযীলত
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ]লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। এর সাক্ষ্য যে ব্যক্তি দেয় সে মুসলিম, সে ব্যক্তি সবোত্তম জিনিস "ঈমান" লাভ করে। সে আল্লাহর এমন বান্দাতে পরিণত হয়- যে তাঁর অনুগ্রহ লাভের যোগ্য। لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ]লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। এর অনেক ফযীলত। সংক্ষিপ্তভাবে এখানে কিছু ফযীলতের কথা তুলে ধরছি- মানবজীবনের চূড়ান্ত সফলতা হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা। আর এ কালিমা স্বীকার করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। আর আল্লাহ যার প্রতি সন্তুষ্ট, তার আবাসস্থল জান্নাত। রাসূলুল্লাহ বলেন,
مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ যে ব্যক্তি মারা গেল এ অবস্থায় যে, সে জানে (ও মানে) আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তবে অবশ্যই এর জন্য শর্ত হচ্ছে বান্দাকে সমস্ত প্রকার শিরক থেকে মুক্ত থাকতে হবে, যাবতীয় ইবাদাত এক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদন করতে হবে। কারণ আল্লাহ বলেন,
إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارِ নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম; এবং এরূপ অত্যাচারীদের জন্য কোন সাহায্যকারী থাকবে না।। সূরা-মায়েদা ৫: ৭২]
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ]লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এর যিকির (স্মরণ) করতে সমস্ত মাখলুক আদিষ্ট। এ কালিমার যিকির সর্বোত্তম যিকির। নবী বলেন, أَفْضَلُ الذِّكْرِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ সর্বোত্তম যিকির হচ্ছে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ।" এ কালিমা যে স্বীকার করে নেবে এবং শিরক মুক্ত থাকবে সে নিরাপত্তা লাভ করবে। প্রিয় নবী বলেন,
فَمَنْ قَالَ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ
যে ব্যক্তি বলে, আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তার সম্পদ এবং প্রাণ হারাম। তবে ইসলামের কোন অধিকার নষ্ট করলে ভিন্ন কথা। আর তার হিসাব আল্লাহর উপর।"
যদি কোন ব্যক্তি শিরক হতে বেঁচে একনিষ্ঠভাবে তাওহীদের অধিকারী হয়, তবে অবশ্যই তার এককত্ব শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য। ফলে এটা তার সবচেয়ে বড় কারণ হবে সুখের জন্য এবং তার গুনাহ মাফের জন্য ও পাপকে দূরীভূত করার জন্য; যা নবী এর হাদীসে এসেছে- مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَنَّ عِيسَى عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوْحٌ مِنْهُ وَالجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ أَدْخَلَهُ اللهُ الجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ مِنَ العَمَلِ
যে সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি এক, অদ্বিতীয়, তার কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহর ঐ কথা, যা মরিয়ম এর প্রতি প্রেরণ করেছিলেন এবং তিনি আল্লাহ হতে প্রেরিত রূহ, জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য- তবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, সে যে কোন আমলই করুক না কেন।" এই সমস্ত সাক্ষ্য যখন কোন মানুষ দেবে, তখন তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা ওয়াজিব হবে, যা চিরস্থায়ী নিয়ামতের জায়গা, শিরক ব্যতীত যদিও তার কোন পাপ থাকে। হাদীসে এসেছে, আল্লাহ বলেন- وَمَنْ لَقِيَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطِيئَةً لَا يُشْرِكْ بِي شَيْئًا لَقِيتُهُ بِمِثْلِهَا مَغْفِرَةً
(হে আদম সন্তান!) যদি তুমি কোন শিরক না করে আমার সামনে দুনিয়া ভর্তি পাপরাশি নিয়ে হাজির হও, তবে আমি তোমার সাথে দুনিয়া ভর্তি ক্ষমা নিয়ে সাক্ষাৎ করব।" অপর হাদীসে এসেছে, مَنْ لَقِيَ اللهَ لَا يُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَقِيَهُ يُشْرِكُ بِهِ دَخَلَ النَّارِ
যে আল্লাহর সাথে কোন শিরক করা ব্যতীত সাক্ষাৎ করবে, অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে শিরকের উপরে মারা যাবে অবশ্যই সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে。
টিকাঃ
সহীহ বুখারী ৮: সহীহ মুসলিম ১৬।
সহীহ মুসলিম ১৪৫: সহিহ ইবনে হিব্বান ২০১।
তিরমিযী: ৩৩৮৩, ইবনে মাজাহঃ ৩৮০০।
অর্থ্যাৎ তার জান ও মাল/সম্পদ নিরাপদ। কেড়ে নেওয়া বৈধ নয়。
সহীহ বুখারি: ৬৯২৪, সহীহ মুসলিম: ২০, মুসনাদে আহমাদ ২৭২১৩।
সহীহ বুখারী: ৩৪৩৫, সহীহ মুসলিম: ২৮।
সহীহ মুসলিম: ২৬৮৭, ইবনে মাজাহঃ ৩৮২১।
সহীহ মুসলিম: ৯৩ সহীহ বুখারী: ১২৯।
📄 লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর উপকারিতা
[দুনিয়াতে] - নিরাপত্তা ও হেদায়াত লাভ। - আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও মদদ লাভ। - প্রকৃত সুখ-শান্তি লাভ। - একতা ও ঐক্য সৃষ্টি। - মুসলিম উম্মাহর শক্তি অর্জন। - আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াব হাসিল। - সকল ইবাদাত কবুল হওয়ার আশা। - দুঃখ-কষ্ট ও শান্তি লাঘব। - অপছন্দনীয় জিনিসসমূহ হালকা অনুভব করা এবং দুঃখ-দুর্দশা সহজ হওয়া। - মানুষের গোলামি, ভয়-ভীতি এবং তাদের থেকে আশা-আকাঙ্ক্ষা ও মাখলুকের উদ্দেশ্যে আমল করা থেকে সম্পূর্ণ আযাদ ও স্বাধীন হওয়া। - ঈমানের ভালোবাসা ও হৃদয়ের সৌন্দর্য এবং কুফরী অপকর্ম ও অবাধ্যতাকে ঘৃণা।
[আখিরাতে] - কবরের ফিতনা ও আযাব থেকে নিষ্কৃতি লাভ। - হাশরের ময়দানে ভয়-ভীতি থেকে মুক্ত। - জাহান্নামে প্রবেশ করলেও চিরস্থায়ী জাহান্নামী না হওয়া। - পরিপূর্ণ তাওহীদ হলে সরাসরি জান্নাত লাভ। - কিয়ামতের ময়দানে রাসূলুল্লাহ এর সুপারিশ লাভ।