📄 যে সকল আছার দিয়ে লেখার নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দলীল প্রদান করা হয়
আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لَا تَكْتُبُوا عَنِّي، وَمَنْ كَتَبَ عَنِّي غَيْرَ الْقُرْآنِ فَلْيَمْحُهُ، وَحَدَّثُوا عَنِّي، وَلَا حَرَجَ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ - قَالَ هَمَّامٌ : أَحْسِبُهُ قَالَ - مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
“তোমরা আমার কাছ থেকে কিছু লিখবে না। তোমাদের মাঝে কেউ যদি আমার কাছ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখে থাকে, সে যেন সেটা মুছে ফেলে। আমার থেকে বর্ণনা করো, তাতে কোনো আপত্তি নেই। যে আমার নামে মিথ্যাচার করবে- হুমাম বলেন, সম্ভবত তিনি বলেছেন ইচ্ছাকৃত - সে যেন জাহান্নামে নিজের আবাস বানিয়ে নেয়।”
মুত্তালিব ইবন আব্দুল্লাহ ইবন হান্তাব বলেন, যাইদ ইবন সাবিত একবার মুয়াবিয়ার কাছে গেলে মুয়াবিয়া তাকে একটা হাদীসের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। যাইদ হাদীসটা বলতে গেলে মুয়াবিয়া একজন মানুষকে সেটা লিখে রাখার নির্দেশ দিলেন। যাইদ তাকে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাঁর কোনো হাদীস আমরা না লিখি।' মুয়াবিয়া তখন হাদীসটা মুছে ফেললেন। খত্বীব বাগদাদী এ ঘটনা বর্ণনা করেন তার 'তাক্বঈদুল ইলম' বইয়ে কাসীর ইবন যাইদ থেকে, তিনি মুত্তালিবের সূত্রে বর্ণনা করেন। শাইখ মুয়াল্লিমী ইয়ামানী বলেন, কাসীর শক্তিশালী নয়। আর মুত্তালিব যাইদের সাক্ষাৎ পাননি।
আবু হুরাইরা বলেন, আমরা একদিন বসে বসে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রুত বিষয়গুলো লিখছিলাম। তিনি বেরিয়ে এসে বললেন, “তোমরা কী লিখছ” আমরা বললাম, 'আপনার থেকে যা শুনেছি।' তিনি বললেন, “আল্লাহর কিতাবের সাথে ভিন্ন কিছু লিখছ?” আমরা বললাম, 'আমরা যা শুনি (তাই লিখেছি)।' তিনি বললেন, “আল্লাহর কিতাব ছাড়া ভিন্ন কিছু? তোমরা আল্লাহর কিতাব লেখার ব্যাপারে একনিষ্ঠ থাকো।” আমরা যা লিখেছিলাম তা এক জায়গায় জমিয়ে তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেললাম। এরপর বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আমরা কি আপনার থেকে বর্ণনা করব?' তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তোমরা বর্ণনা করো, এতে সমস্যা নেই। যে আমার নামে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বলে, সে যেন জাহান্নামে নিজের স্থান বানিয়ে নেয়।”
আহমদ তার মুসনাদে হাদীসটি বর্ণনা করেন, আর শাইখ শুয়াইব আরনাউত্ব হাদীসটিকে সহীহ বলেন।
টিকাঃ
৩১২. সহীহ মুসলিম: ৩০০৪।
📄 যে সকল বর্ণনা দিয়ে বৈধতার পক্ষে দলীল প্রদান করা হয়
ইমাম আহমদ বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রুত সবকিছু লিখে রাখতাম; কারণ আমি মুখস্থ করতে চাইতাম। কুরাইশ আমাকে এটা করতে নিষেধ করল। তারা বলল, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা যা শুনেছ, তার সবই লিখে রাখছ? অথচ তিনি তো মানুষ, তিনি কখনো খুশি হয়ে আবার কখনো ক্রুদ্ধ হয়ে কথা বলেন।' আমি লেখা থামিয়ে দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেটা বললাম। তিনি আঙুল দিয়ে নিজের মুখের দিকে ইশারা করে বললেন, "তুমি লিখবে; যার হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ করে বলছি এই মুখ থেকে সত্য ছাড়া কিছু বের হয় না।”
সহীহ বুখারীতে আছে, আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, 'নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লমের সাহাবীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবন আমর থেকে বেশি হাদীস বর্ণনা করেছেন এমন কেউ নেই। কারণ তিনি লিখতেন, আমি লিখতাম না।'
সহীহ বুখারীতে আছে, আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন। এ সময় আবু শাহ নামে ইয়েমেনের একজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, 'আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য লিখুন।' তিনি বললেন, "তার জন্য লিখে দাও।"
সহীহ বুখারীতে আছে, ইবন আব্বাস বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেদনা যখন বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি বললেন,
ائْتُونِي بِكِتَابٍ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَا تَضِلُّوا بَعْدَهُ قَالَ عُمَرُ إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَلَبَهُ الوَجَعُ، وَعِنْدَنَا كِتَابُ اللَّهِ حَسْبُنَا. فَاخْتَلَفُوا وَكَثُرَ اللَّغَطُ، قَالَ: «قُومُوا عَنِّي، وَلَا يَنْبَغِي عِنْدِي التَّنَازُعُ
"তোমরা আমার কাছে লেখার জিনিস নিয়ে আসো। আমি তোমাদের এমন কিছু লিখে দিব, যাতে পরে তোমরা আর পথভ্রষ্ট হবে না।” উমার বললেন, 'নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোগ-যন্ত্রণা প্রবল হয়ে গিয়েছে। আমাদের কাছে তো আল্লাহর কিতাব আছে, এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।' এটা নিয়ে সাহাবীদের মাঝে মতানৈক্য ও শোরগোল বেড়ে গেল। আল্লাহর রাসূল বললেন, “তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও। আমার কাছে ঝগড়া-বিবাদ করা অনুচিত।”
এমন আরো অনেক আছার।
টিকাঃ
৩১৩. সহীহ বুখারী: ১১৪।