📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 নারীরা কেন জিনের আক্রমনের বেশী শিকার?

📄 নারীরা কেন জিনের আক্রমনের বেশী শিকার?


জিন আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা সর্বাধিক। এর কারণ হচ্ছে নিম্নরূপঃ
১. শারীরিক দিক থেকে নারী পুরুষ অপেক্ষা দুর্বল। দুর্বলের উপর জিনের অত্যাচার বেশি হয়।
২. বেপর্দা নারী জিনের যৌন খোরাক। উগ্রভাবে চলাফেরা করলে, উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনা প্রদর্শন করলে জিন তাদের প্রতি আসক্ত হয়। আওলা কেশী ও খোলা মাথায় চললে জিন তাদের উপর আক্রমণ করে।
৩. অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা : নারীরা ঋতুস্রাবের সময় অপরিস্কার থাকে। এটা জিনের জন্য খুবই প্রিয় সময়। তখন সতর্ক না হলে বিপদ আছে। জিন থেকে বাঁচার চেষ্টা চালাতে হবে। তাই তাদেরকে মার্জিত ও পরিচ্ছন্নভাবে চলতে হবে।
৪. অশিক্ষা-কুশিক্ষার কারণে অনেকেই বহু কুসংস্কারে জড়িত থাকে। নারীরা সে কুসংস্কারে বেশি অগ্রসর থাকে। শয়তান এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে।
৫. জিন থেকে রক্ষার ব্যাপারে বিভিন্ন দোআ পড়েনা কিংবা অলসতা করে। নারীর প্রতি শয়তানের লোলুপ দৃষ্টি প্রথম থেকেই রয়েছে। সে এ সকল সুযোগের সদ্ব্যবহার করে।
যে নারী পর্দা করে, মাথায় কাপড় রাখে, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে, নামাজ-রোজা ঠিকমত করে, জিকর-আজকার করে, দোআ পড়ে এবং নিয়মিত কোরআন মজীদ তেলাওয়াত করে, তাদের কাছে জিন খুব কম আসে। কেননা, আল্লাহ তাদেরকে হেফাজত করেন। ফেরেশতারা তাদের হেফাজতে নিয়োজিত থাকেন। অবশ্য শয়তান তাদেরকে অন্যান্য মানুষের মত ওয়াসওয়াসা দান করা থেকে বিরত থাকে না। সাধারণত মুর্খ ও গরীব লোকেরাই জিনের আক্রমণের বেশি শিকার। শিক্ষিত লোকদেরকে জিনে কম ধরে।
৬. নারী সংসারে নির্যাতন ও দুঃখ-কষ্টের অবসানের লক্ষ্যে জিনে ধরার মত নাটকীয় মহড়া প্রদর্শন করে সংশ্লিষ্ট সকলের সহানুভূতি ও স্নেহ-ভালবাসা লাভের কৃত্রিম প্রচেষ্টা চালায়। এটাতে কেউ কেউ সফলও হয়েছে। একবার জিন তাড়ানোর উদ্দেশ্যে আগত এক চিকিৎসক যখন বুঝলেন যে তা আদৌ জিনের রোগী নয়, তখন তিনি রোগীকে গোপনে জিনে ধরার ভান করার কারণ জিজ্ঞেস করেন। বধু তাকে গোপনীয়তা রক্ষার আবদার জানিয়ে বলেন, আমি স্বামীর সংসারে শাশুড়ী, ননদ ও অন্যদের দ্বারা অত্যাচারিত। অনন্যোপায় হয়ে জিনে ধরার ভান করেছি যেন তারা আমার সাথে ভাল ব্যবহার করে। পরে চিকিৎসক কৌশল ও প্রজ্ঞা সহকারে শ্বশুরবাড়ির সকলকে রোগীর জিন তাড়ানোর শর্ত হিসেবে পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি না করা, পুত্রবধুকে আদর-সোহাগ করা এবং সবাই মিলেমিশে থাকার পরামর্শ দেন। রোগীকে খামাখা কিছু চিকিৎসা দান করেন। তারপরে দেখা গেল, জিনের সমস্যাও নেই, পারিবারিক সমস্যাও শেষ।
এছাড়াও অন্যকোন অজ্ঞাত কারণও থাকতে পারে যা কেবলমাত্র জিনেরাই জানে। কিন্তু বাস্তব সত্য কথা হল, মহিলাদের উপর জিনের আক্রমণ বেশি হয়।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 অমুসলমানদের উপর জিনের আক্রমণ কম কেন?

📄 অমুসলমানদের উপর জিনের আক্রমণ কম কেন?


প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, কাফের-অমুসলিম দেশে জিনের আক্রমণ কদাচ হয়ে থাকে। তার কারণ আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন। তবে কাফের-মুশরিকের উপর জিন-শয়তানের সফল অভিযানের কারণেই তো তারা অমুসলমান হয়েছে। এজন্য তাদের ঈমান-বিশ্বাস এবং পরকালের এত বড় ক্ষতি করার পর আর কোন ছোট ক্ষতির প্রয়োজন তেমন একটা থাকে না কিংবা জিনেরা তা চিন্তা করে না।
এমনও হতে পারে যে, জিনেরা গরম ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে বেশি বাস করে। সেজন্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং আরব ও পাক-ভারত উপমহাদেশে তাদের আক্রমণ বেশি। পক্ষান্তরে শীত প্রধান দেশে তারা কম বাস করে। সেজন্য ইউরোপ-আমেরিকা কিংবা রাশিয়াসহ মধ্য এশিয়ার শীতপ্রধান অঞ্চলে তাদের আক্রমণের খবর তেমন একটা জানা যায় না। সর্বোপরি মুমিন-মুসলমানরাই হচ্ছে জিন শয়তানের বড় শত্রু। ঈমান ও ইসলামের কারণেই তা হয়েছে। তাই মুসলমানরাই জিনের আক্রমণের প্রধান শিকার। আর মুসলমানের মধ্যে পুরুষ অপেক্ষা নারীর উপর আক্রমণ বেশি হয়। সুন্দর কচি-কাঁচা শিশুদের উপরও জিনের আক্রমণ হয়ে থাকে।
মূলকথা, মানুষের ক্ষতি করাই জিন-শয়তানের আক্রমণের মূল লক্ষ্য। কার কতটুকু ক্ষতি করা হবে সেটা নির্ভর করে জিনের নিজের পসন্দের উপর।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিন আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা প্রক্রিয়া

📄 জিন আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা প্রক্রিয়া


আমরা আগেই বলেছি, জিন আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দীনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিরাট দায়িত্ব ও কর্তব্য। কেননা, সে জিনের অত্যাচারের কারণে মজলুম। মজলুমের সাহায্য ওয়াজিব। এখন প্রশ্ন হল, কিভাবে জিন তাড়ানো যাবে? জিন তাড়ানোর কিছু পর্যায় আছে। পর্যায়ক্রমে অগ্রসর হতে হবে। সেগুলো হলঃ ১. দোআ-জিকর ও কোরআন পাঠ করা
এর মাধ্যমে জিন চলে গেলে এবং রোগী সুস্থ হলে পরবর্তী পর্যায় অতিক্রমের প্রয়োজন নেই। এজন্য কোরআন পাঠ করা, যেকোন সূরা ও আয়াত তেলাওয়াত করা, কিংবা বাছাই করা কিছু সূরা ও আয়াত পাঠ করা ইত্যাদি। ক্যাসেটের মাধ্যমেও কোরআন তেলাওয়াত শুনানো যেতে পারে। উত্তম হল, রোগীর সর্বদা নিজে কোরআন ও দোআ পড়া। প্রয়োজনে সুঘ্রাণযুক্ত ধুঁয়া গ্রহণ, যমযমের পানি পান করা, তেল ও পানি পড়া কিংবা কোন ঝাড়-ফুঁককারীর সাহায্য নেয়া যেতে পারে। এছাড়াও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে দোআ করা জরুরী। যাবতীয় গুনাহর কাজ থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। জিন-শয়তান যে সকল কাজ পসন্দ করে সেগুলো থেকেও দূরে থাকতে হবে। যে সকল আয়াত ও সূরা এজন্য বেশি উপকারী সেগুলো নিম্নরূপ:
১. সূরা ফাতেহা।
সুনানে আবু দাউদে খারেজা বিন সালত থেকে, তিনি তার চাচা আল্লাকা বিন সাহহার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নবী করীম (সঃ)-এর কাছে আসেন এবং তাঁর কাছ থেকে ফেরত আসার পথে এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। তিনি তাদের মধ্যে এক পাগল ব্যক্তিকে লোহার মধ্যে বাঁধা দেখতে পান। পাগলের পরিবারের লোকেরা তাকে ঝাড়-ফুঁকের অনুরোধ করেন। তিনি সূরা ফাতেহা পড়ে তাকে ফুঁ দেন। তাতে সে সুস্থ হয়ে উঠে। তারা তাঁকে এজন্য ১শ বকরী দেয়। তিনি বিষয়টি নবী করীম (সঃ)-এর কানে পৌঁছান। নবী (সঃ) তাঁকে বলেন: এগুলো গ্রহণ কর। আমার বয়সের শপথ, অন্যেরা বাতিল ও নাজায়েয ঝাড়-ফুঁক করে তা খায়। আর তুমি সত্য ও হক ঝাড়-ফুঁক করে তা খাচ্ছ।'
২. সূরা বাকারার ১ম ৫ আয়াত তেলাওয়াত করা।
৩. সূরা বাকারার ১৬৩ ও ১৬৪নং আয়াত পাঠ করা।
৪. আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারা ২৫৫-২৫৬)।
৫. সূরা বাকারার শেষ ৩ আয়াত।
৬. সূরা আল-ইমরানের ১ম পাঁচ আয়াত এবং ১৮ ও ১৯নং আয়াত।
৭. সূরা আরাফের ৫৪-৫৬ আয়াত।
৮. সূরা আল-মুমিনুনের ১১৫-১১৮নং আয়াত।
৯. সূরা সাফফাতের ১ম ১০ আয়াত।
১০. সূরা হাশরের ২১-২৪নং আয়াত।
১১. সূরা আর-রাহমানের ২৩-২৬নং আয়াত।
১২. সূরা জিনের ১ম ৫ আয়াত।
১৩. সূরা ইয়াসিন।
১৪. সূরা কাফেরুন, সূরা এখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) রোগীর কানে নিম্নোক্ত আয়াত পড়ে ফুঁ দিতেনঃ أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ .
"তোমরা কি মনে করেছ যে, আমরা তোমাদেরকে অর্থহীন সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরে আসতে হবে না?" (সূরা মুমেনূন-১১৫)
২. জিনকে ধমক দেয়া
হুমকী-ধামকী, আদেশ-নিষেধ, গালি ও অভিশাপ দিয়ে জিন তাড়ানোর চেষ্টা করা। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, নবী করীম (সঃ) একটি জিনগ্রস্ত শিশু اَخْرُجْ عَدُوَّ اللَّهِ فَإِنِّي رَسُولُ اللهِ catce a free cateca আল্লাহর দুশমন, বের হও। আমি আল্লাহর রাসূল।' অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন : إِخْسَنُ عَدُوٌّ اللَّهِ 'হে আল্লাহর দুশমন, বিতাড়িত হও।'
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রঃ) খলীফার বাঁদী থেকে জিনকে তাড়ানোর জন্য ফিতাযুক্ত কাঠের স্যান্ডেল পাঠিয়ে ছিলেন। এছাড়াও স্বাভাবিকভাবে ঝাড়-ফুঁককারীরা জিনকে চলে যেতে অনুরোধ জানায়। তাতে সাড়া দিয়ে জিন চলে গেলে পরবর্তী পর্যায়ের আর প্রয়োজন হয় না।
৩. জিনকে আঘাত করা
আঘাত করলে জিনের উপরই পড়ে, রোগী তা অনুভব করে না। জিন ছেড়ে গেলে রোগী বলে, আমি আঘাত টের পাইনি এবং তা আমার শরীরে কোন ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে নি।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) জিনগ্রস্ত রোগীর দু'পায়ে শক্ত বেত দিয়ে ৩শ থেকে ৪শ বেত্রাঘাত করেন। এ মার কোন মানুষের উপর পড়লে সে মরে যেত। তা পড়েছে জিনের উপর। তাতে জিন চিৎকার দিয়েছে। ইমাম ইবনুল কাইয়েম বলেছেন, আমরা ইমাম ইবনে তাইমিয়াকে দেখেছি, তিনি বহু জিনগ্রস্ত রোগীকে মেরে জিন তাড়িয়েছেন। একবার তিনি জিনের কানে কোরআন পড়ে ফুঁ দেন। তখন জিন ভেতর থেকে জবাব দেয়। তিনি একটা বেত দিয়ে রোগীর ঘাড়ের রগে মারা শুরু করেন। মারতে মারতে তাঁর হাত ক্লান্ত হয়ে আসে। উপস্থিত লোকেরা নিশ্চিত ছিল যে এ মারের ফলে রোগীটি মারা যাবে। মারের ভেতর জিনটি বলে, আমি তাকে ভালবাসি। ইবনে তাইমিয়া বলেন: সে তোকে ভালবাসে না। জিনটি বলে আমি তাকে নিয়ে হজ্জ করতে চাই। তিনি বলেন: সে তো তোর সাথে হজ্জ করতে চায় না। জিনটি বলে, আমি আপনার সম্মানে তাকে ছেড়ে চলে যাব। তিনি বলেন: না, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমে ছেড়ে যাবি। জিনটি বলল: ঠিক আছে, আমি তার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। এরপর রোগী ডানে-বামে তাকিয়ে বলল: আমাকে ইমাম ইবনে তাইমিয়ার কাছে কেন আনা হয়েছে? তারপর লোকেরা বলল: এত মার কোথায় গেল? রোগী বলল: শেখ আমাকে কেন মেরেছে? আমি তো কোন অন্যায় করিনি? অর্থাৎ সে মার সম্পর্কে ছিল সম্পূর্ণ অনুভূতিহীন।
ইতিপূর্বে আমরা মোসনাদে আহমদে উম্মে আব্বান বিনতে ওয়াজে কর্তৃক তার বাপের বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছি যে, তার দাদা নিজের এক ছেলে কিংবা আপন ভাগিনাকে রাসূলুল্লাহর (সঃ) কাছে নিয়ে বলল: তাকে জিনে ধরেছে, তার জন্য দোআ করুন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে তার কাপড় ধরে খালি পিঠে মারতে লাগলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর দুশমন, বের হও। সব রোগীকে মার দেয়া যাবে না। শুধুমাত্র বেহায়া এবং আগের পদ্ধতির প্রতি সাড়া প্রদানে অস্বীকারকারী জিনকেই শাস্তি দিতে হবে।
মারের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হতে হবে যে, রোগীর উপর জিনের আংশিক আক্রমণ হয়েছে যেমন, শরীরের বিশেষ কোন অঙ্গে-তখন তাকে মার দেয়া যাবে না। মার দিলে তা রোগীর উপর পড়বে, জিনের উপর নয়। তখন রোগী তা সহ্য করতে পারবে না। বরং তার ক্ষতি হবে।
পক্ষান্তরে, যে রোগীর উপর জিনের পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ হয়েছে তাকেই কেবল মার দিতে হবে। মার দিলে তখন তা জিনের উপর পড়বে, রোগীর উপর নয় এবং তাতে রোগীর কোন ক্ষতি হবে না। মার সহ্য করতে না পেরে জিন রোগীকে ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
চিকিৎসককে ধীরে সুস্থ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং নিজের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। তা না হয় চিকিৎসা বুমেরাং হয়ে যাবে।
নবী করীম (সঃ) জিনকে অভিশাপ দিয়েছেন। যখন এক দৈত্য জিন তাঁর মুখে আগুন নিক্ষেপ করতে এসেছিল তখন তিনি বলেছিলেন: আমি তোর উপর আল্লাহর অভিশাপ দিচ্ছি। একথা তিনি ৩ বার বলেন। এছাড়াও তিনি শয়তানকে আল্লাহর দুশমন একথা বলে গালি দিয়েছেন। জিন তাড়ানোর ক্ষেত্রে কোরআন ও হাদীসের সমর্থিত এ সকল পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত।
৪. জিনকে হত্যা করা কিংবা বন্দী করা
উপরোক্ত পদ্ধতিসমূহ প্রয়োগের পরও যদি জিন না যায় এবং তাকে হত্যা করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তাই করতে হবে। এছাড়াও জিন যদি কোন মহিলা কিংবা পুরুষের সাথে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়, তাহলেও তাকে হত্যা করা যাবে। ইসলামে এ সকল অপরাধের শাস্তি হত্যা। হযরত সোলায়মান (আঃ) অবাধ্য জিনকে বন্দী করে সাগরে ফেলে দিয়েছিলেন। আগে আমরা তা উল্লেখ করেছি।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) বলেন: জিনকে হত্যা বা বন্দী করার মত অবস্থা সৃষ্টি না হলে এ চরম পদ্ধতির প্রয়োগ নিষিদ্ধ। কেননা, এর ফলে জিনেরা প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। তখন প্রাণহাণির আশঙ্কা দেখা দেয়। এজন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রদর্শিত ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ পন্থায় অগ্রসর হতে হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত বান্দাহ কারো উপর জুলুম করে না। বরং ন্যায়সঙ্গত উপায়ে মজলুম ও বিপদগ্রস্ত লোকের বিপদ দূর করার চেষ্টা চালায়।
জিন তাড়ানোর এ সকল প্রক্রিয়া সম্পর্কে ডঃ মোহাম্মদ নাগাস বলেন: ১. জিন যে কারণে শরীরে প্রবেশ করেছে, সে কারণ অনুযায়ী চিকিৎসার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যদি মানুষ বিসমিল্লাহ না বলে উপর থেকে নিচে লাফ দেয়ার কারণে জিনের উপর পড়ে থাকে এবং গরম পানি নিক্ষেপ কিংবা টয়লেটে দোআ না পড়ে পানি ব্যবহার করে থাকে যা জিনের উপর পড়ে তার কষ্টের কারণ হয়েছে। এ জাতীয় কষ্টদান মানুষের ইচ্ছাকৃত নয়। এজন্য জিন তাকে পাল্টা শাস্তি দিতে পারে না।
জিন যদি কোন মানুষের প্রতি আসক্ত হয়, তাহলে তাকে বুঝাতে হবে যে, এটা হারাম কাজ। পরকালে এর শাস্তি সম্পর্কে তাকে ভয় প্রদর্শন করতে হবে এবং আল্লাহর আজাব-গযবের হুমকী দিতে হবে। জিন যদি কাফের হয় এবং সে যদি শান্তিকামী না হয় এবং যাদুর স্থান ও কারা করেছে তা না বলে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কালেমা 'লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' দ্বারা তাকে কাবু করতে হবে। এরপরও সাড়া না দিলে তার শরীরে আরবী নূন অক্ষর লিখে তাকে আটক করে ফেলতে হবে। কেউ কেউ বলেছেন كهيعص এ পাঁচটি অক্ষর দ্বারা তাকে বন্দী করতে হবে। একটি অক্ষর কপালে আর বাকি অক্ষরগুলো দু'হাত ও দু'পায়ে লিখতে হবে। এরপর অধিক কোরআন তেলাওয়াত, আল্লাহর নামের জিকর এবং আজান দ্বারা তাকে জ্বালিয়ে দেয়া যাবে।
জিন যদি চলে যাওয়ার অঙ্গীকার করে তাহলে আল্লাহর শুকরিয়া। কিন্তু উত্তম হল বের হওয়ার আগে তার কাছ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এবং পুনরায় ফিরে না আসার অঙ্গীকার নেয়া। সে চিকিৎসকের সাথে সাথে এ ওয়াদা উচ্চারণ করবে 'আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি আমি তার শরীর থেকে বেরিয়ে যাব, পুনরায় ফিরে আসব না এবং অন্য কাউকে আর কষ্ট দেব না। আমি ওয়াদা ভঙ্গ করলে আমার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিশাপ। হে আল্লাহ। আমি যদি সত্যবাদী হই, তাহলে আমার বেরিয়ে যাওয়াকে সহজ করে দাও। আর যদি মিথ্যুক হই, তাহলে মুমিনদেরকে আমার উপর নিয়ন্ত্রণকারী বানিয়ে দাও। আমি যা বললাম, আল্লাহকে এর উপর স্বাক্ষী রাখলাম।'
জিন ওয়াদা ভঙ্গ করলে, রোগীর কানে নিম্নোক্ত আয়াতগুলো পড়তে হবে: يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ (২) السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ . (সূরা আর-রাহমান-৩৩)
إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ إِلَّا (২) تَعْلُوا عَلَى وَاتُونِي مُسْلِمِينَ . (সূরা নামল-৩০-৩১)
(৩) সূরা যিলযাল
এগুলো পড়লে জিন নতিস্বীকার করতে বাধ্য হবে। কোন কোন সময় জিন অল্প বয়স কিংবা কম অভিজ্ঞতার কারণে রোগীর শরীর থেকে বের হওয়ার পদ্ধতি নাও জানতে পারে। সে তা স্বীকার করবে এবং বেরিয়ে যাওয়ার উপায় জানতে চাবে। তখন সূরা ইয়াসিন ও সূরা আর-রাহমান পূর্ণ পাঠ করতে হবে এবং রোগীর ডান কানে আজান দিলে জিন বেরিয়ে যাবে।
মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রঃ) বলেছেন: ১. শরীরে জিন ঢুকলে রোগী অচেতন হয়ে পড়ে। ঢুকার সময় অনেকের বুকে ব্যথাও হয়ে থাকে এবং দাঁতে খিল লাগে, চোখ বন্ধ করে রাখে যা খোলা খুবই কষ্টকর। রোগীর দাঁত ও চোখ খোলার জন্য জোরাজুরি করা উচিত নয়। রোগের চিকিৎসা হলে এগুলো এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।
তাঁর মতে, জিন তাড়ানোর জন্য জিনকে হাজির করা দরকার। অনেক সময় জিন রোগীর উপর আছর করে চলে যায়। মাঝে মাঝে আসে। চিকিৎসক তাকে তাড়ানোর চেষ্টা করলে সে যদি অনুপস্থিত থাকে তাহলে কিভাবে তাড়াবে? জিন হাজির করার জন্য তিনি কিছু পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। যথা:

টিকাঃ
১. সাপ্তাহিক আল-মোসলেমুন-সংখ্যা-২৫৩, ৮-১৪ ডিসেম্বর-১৯৮৯ জেদ্দা।
১. বেহেশতী জেওর-৯ম খণ্ড।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনকে আটক করা

📄 জিনকে আটক করা


মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রঃ) জিনকে আটক করার জন্য কিছু পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হল-
১. ৫ হাত সূতাকে পাকিয়ে দ্বিগুণ করতে হবে। তারপর-
إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا وَأَكِيدُ كَيْدًا : فَمَهِّلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلُهُمْ رُوَيْدًا . (সূরা তারেক ১৫-১৭)
এ আয়াতটি ২৫ বার পড়বে এবং প্রত্যেকবার রশির একটি গিরায় ফুঁ দেবে। এটা আগেই প্রস্তুত করে রাখতে হবে। জিন হাজির হয়ে রোগীর শরীরে প্রবেশ করলে রোগি চোখ বন্ধ এবং দাঁত খিল মেরে থাকবে। তখন চুপে চুপে তাড়াতাড়ি রোগীর বাম বাহুতে শক্ত করে রশিটি বেঁধে দিতে হবে এবং একবার নিম্নোক্ত আয়াতটি পড়ে বাঁধা সূতার উপর ফুঁ দিয়ে রুমাল দ্বারা ঢেকে রাখতে হবে যেন রোগী তা স্পর্শ করতে না পারে।
فَالْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُونَ - إِنَّا إِلَى رَبَّنَا مُنْقَلِبُونَ .
২. জিন হাজির হয়ে রোগীর শরীরে প্রবেশ করলে একটা ছুরি বা চাকুর উপর তিনবার নিম্নোক্ত দোআটি পড়ে ফুঁ দিতে হবে এবং তা দিয়ে রোগীর চারদিকে মাটিতে গোল দাগ দিলে জিন পালাতে পারবে না।
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ، لَا إِلَهَ إِلَّا الله - گرد با گرد هزار حصار باد مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللهِ - گردان حصار بستم قفل - لا إله إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللَّهِ صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُوْنَ .
৩. হঠাৎ জিন হাজির হলে এবং রোগী চোখ বন্ধ করলে সূতা বা ছুরি না পেলে ৬ বার নিম্নোক্ত আয়াতটি পড়ে রোগীর বাম হাতের বাহু খুব জোরে চেপে ধরে নিয়ত করতে হবে। আমি তাকে ধরেছি, সে ছুটতে পারবে না।
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ .
(সূরা আল-মুমেনূন-১১৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00