📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 মানুষ থেকে জিনের শিক্ষা ও মানুষের উদ্দেশ্যে জিনের ফতোয়া

📄 মানুষ থেকে জিনের শিক্ষা ও মানুষের উদ্দেশ্যে জিনের ফতোয়া


আবু বকর কোরাইশী ওহাব বিন মোনাববেহ থেকে বর্ণনা পরম্পরায় উল্লেখ করেছেন। ওহাব বলেন: তিনি ও হাসান বসরী প্রত্যেক হজ্জ মওসুমে মিনার মসজিদে খায়েফে মিলিত হতেন। যখন লোকেরা শান্ত হত এবং ঘুমিয়ে পড়ত তখন তাদের সাথে কিছু সঙ্গী বসে বসে আলাপ করতেন। এক রাতে তাঁরা দু'জন মজলিশের লোকদের সাথে কথা বলার সময় একটি পাখি মজলিশে ওহাবের কাছে এসে বসল। পাখীটি সালাম দিল। ওহাব সালামের জবাব দিলেন তিনি জানতেন যে এটা ছিল জিন। পাখিটি তার কাছে এসে কথা বলা শুরু করল। ওহাব জিজ্ঞেস করেন, তুমি কে? পাখিটি বলল, আমি একজন মুসলমান জিন। ওহাব জিজ্ঞেস করেন, তোমার প্রয়োজন কি? সে উত্তর দিল। আপনারা কি চাননা যে আমরা আপনাদের মজলিশে বসি এবং আপনাদের কাছ থেকে এলেম শিক্ষা করি? আমাদের মধ্যে আপনাদের কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণকারী অনেক বর্ণনাকারী আছে। আমরা আপনাদের সাথে নামাজ, জেহাদ, রোগী দেখা, জানায়ায় উপস্থিত হওয়া, হজ্জ ও ওমরাসহ আরো বহু কাজে শরীক হই। শুধু তাই নয়, আমরা আপনাদের কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করি ও কোরআন শুনি। ওহাব প্রশ্ন করেন, তোমাদের মধ্যে কোন্ শিক্ষক উত্তম বলে বিবেচিত? পাখিটি উত্তর দিল, এই শেখ অর্থাৎ হাসান বসরী। হাসান বসরী ওহাবকে তার থেকে বিরত দেখে জিজ্ঞেস করেন, হে আবু আবদুল্লাহ! আপনি কার সাথে কথা বলছেন? তিনি জওয়াব দেন মজলিশের এক সাথীর সাথে। তারপর দু'জন মজলিশ থেকে উঠে দাঁড়ান। তখন হাসান ওহাবকে পুনরায় জিজ্ঞেস করেন। ওহাব তাকে জিনের খবর দেন এবং বলেন, জিনেরা হাসানের কাছ থেকে অর্জিত এলেমের চর্চা বেশী করে। হাসান বলেন : আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি। আপনি একথা কারো কাছে বলবেন না। আমি কাউকে এমন মর্যাদা দেয়ার ব্যাপরটি নিরাপদ বোধ করি না। ওহাব বলেন, আমি প্রতি হজ্জ মওসুমে এ জিনটির সাথে মিলিত হই। সে আমার খোঁজ খবর নেয়। আমি তাকে আমার খোঁজ খবর দেই। একবার তওয়াফে তার সাথে আমার সাক্ষাত হয়। আমাদের তওয়াফ শেষ হলে আমি এবং সে মসজিদের পার্শ্বে বসে আলাপ করি। আমি তাকে তার হাত বাড়ানোর অনুরোধ করি। হাত ধরে দেখি তা বিড়ালের পাঞ্জা এবং তাতে রয়েছে লোম। তারপর আমি তার কাঁধ পর্যন্ত হাত বাড়ালাম এবং বাহুর গোড়া অনুভব করলাম। আমি তার হাতে খোঁচা দিলাম। এরপর আমরা কিছুক্ষণ আলাপ করলাম। তারপর সে বলল, হে আবু আবদুল্লাহ! আমি যেরূপ আমার হাত বাড়িয়েছি, আপনিও আপনার হাত বাড়ান। আল্লাহর কসম, সে আমার হাতে এমন জোরে খোঁচা দিল যে, আমি প্রায় চীৎকার দেই। এরপর সে হেসে দিল। ওহাব বলল : আমি প্রত্যেক হজ্জে তার সাক্ষাত পাই। কিন্তু এরপর আর পেলামনা। আমার আশংকা হল যে, হয় সে মৃত্যু বরণ করেছে কিংবা নিহত হয়েছে। ওহাব তাকে জিনদের মধ্যে উত্তম জিহাদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। সে বলল 'আমাদের উত্তম জেহাদ হল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে পরস্পরের সাথে পরস্পরের জেহাদ। ১
ইয়াহইয়া বিন সাবেত বলেন: আমি তায়েফের হাফসের সাথে মিনায় ছিলাম। সাদা দাঁড়িবিশিষ্ট এক শেখকে লোকদের উদ্দেশ্যে ফতোয়া দিতে দেখলাম। হাফস আমাকে বলেন: হে আবু আইউব! এই যে ফতোয়াদানকারী শেখ, সে হল দৈত্য। এরপর হাফস এবং আমি শেখের নিকটবর্তী হলাম। দৈত্যটি হাফসকে দেখে হাতে জুতা নিয়ে জোরে চলে গেল। লোকেরা তার পিছে পিছে চলতে লাগল। হাফস বলতে লাগলেন: হে লোকেরা। এ হচ্ছে দৈত্য। ২.
ইবনু আবিদ দুনিয়া আবু খোলাইফা আবদী থেকে বর্ণনা করেছেন। আবদী বলেন: আমার একটি শিশু সন্তান মারা যাওয়ায় আমি খুব শোকাভিভূত হলাম। ফলে আমার ঘুম-নিদ্রা দূর হয়ে গেল। এক রাত আমি খাটের উপর শুয়ে আছি। ঘরে কেউ নেই। আমি আমার ছেলের বিষয়ে চিন্তা করছি। ঘরের পাশ থেকে কে যেন বললঃ হে আবু খোলাইফা, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি তার সালামের জবাব দিলাম। সে সূরা আলে ইমরানের শেষ কয়েকটি আয়াত পড়ল। সে শেষ আয়াতটি ছিল:
وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِلْأَبْرَارِ .
"আল্লাহর কাছে যা আছে নেক লোকদের জন্য তা উত্তম।" -(সূরা আল-ইমরান ১৯৮)
তারপর বললঃ হে আবু খোলাইফা! আমি বললাম, হাজির, বলুন। সে বলল : তুমি কি চাও? তুমি কি অন্যান্য সকল লোক বাদ দিয়ে কেবলমাত্র তোমার সন্তানকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাও? আল্লাহর কাছে কে অধিকতর মর্যাদাবান তুমি, না হযরত মোহাম্মদ? তাঁর ছেলে ইবরাহীমও মারা গেছে। তাঁর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছে, মন পেরেশান হয়েছে। আমরা এমন কোন কথা বলবোনা যার দ্বারা আল্লাহ অসন্তুষ্ট হতে পারেন। তুমি কি তোমার ছেলের মৃত্যু ঠেকাতে চাও অথচ, সকল সৃষ্টির জন্য মৃত্যু নির্ধারিত? নাকি তুমি আল্লাহর উপর অসন্তুষ্ট এবং তার সৃষ্টি পরিকল্পনা বাতিল করতে চাও? আল্লাহর কসম, মৃত্যু না হলে জমীনে মানুষের জায়গা হত না এবং দুঃখ না থাকলে মানুষ জীবন দ্বারা উপকৃত হতে পারতনা। তারপর সে জিজ্ঞেস করল, তোমার কোন প্রয়োজন আছে? খোলাইফা বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন, তুমি কে? সে উত্তরে বলল- আমি তোমার প্রতিবেশী জিন। ১. এ বর্ণনায় মানুষের প্রতি জিনের ওয়াজ নসীহত ও উপদেশ ফুটে উঠেছে।

টিকাঃ
১. গারায়েব ওয়া আজায়েবুল জিন- কাযী বদরুদ্দিন শিবলী।
২. ঐ
১. ঐ

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 মহিলাদের কাছে খারাপ জিনের আগমন ও ভাল জিনের বাধা প্রদান

📄 মহিলাদের কাছে খারাপ জিনের আগমন ও ভাল জিনের বাধা প্রদান


ইবনু আবিদ দুনিয়া সা'দ বিন আবি আককাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার বাড়ীর আঙ্গিনায় ছিলাম। এমন সময় আমার স্ত্রীর দূত এসে বলল, আপনার স্ত্রীর কাছে যান। আমি তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কে এসেছে? স্ত্রী বলল, আমি যখন মরু গ্রামে নির্জন স্থানে যেতাম তখন এ সাপটাকে দেখতাম। এরপর অনেকদিন পর্যন্ত আর আমি তাকে দেখিনি। এখন আবার তাকে দেখছি। এটা সে সাপই। আমি তার চোখ দেখেই চিনতে পেরেছি। একথা শুনে সা'দ আল্লাহর প্রশংসার পর সাপের উদ্দেশ্যে বলেন : তুই আমাকে কষ্ট দিয়েছিস। আল্লাহর কসম, আমি যদি এরপর তোকে দেখি, অবশ্যই তোকে মেরে ফেলবো। সাপটি বেরিয়ে গেল এবং মসজিদে নবওয়ীতে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মিম্বারের কাছে এসে আকাশে উঠে অদৃশ্য হয়ে গেল। আল্লামা বায়হাকী তাঁর দালায়েল আন নবুয়াহ গ্রন্থে রবী' বিনতে মোআওয়াজ বিন আফরার সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।
ইবনু আবিদ দুনিয়া তাঁর 'মাকায়েদুশ শয়তান' গ্রন্থে হাসান বিন হোসেন থেকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আমি রবী বিনতে মোআওয়াজ বিন আফরার ঘরে প্রবেশ করে তার কাছে একটা জিনিস চাই। তিনি তখন একটা ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি আমার মজলিশে বসা। তখন আমার ঘরের ছাদ ফেটে উট বা গাধার মত কাল একটা প্রাণী অবতরণ করল। আমি, কখনও এরূপ কাল ও ভয়াবহ প্রাণী দেখিনি। সে আমার কাছে খারাপ উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসল। তখন তার কাছে একটি ছোট চিঠি এসে পড়ল। সে চিঠিটা খুলে পড়ল। তাতে লেখা আছে, 'কাবের রবের পক্ষ থেকে কা'বের প্রতি' বাদ সমাচার এই যে, নেক পুরুষের নেক মেয়ের উপর তোমার কোন অধিকার নেই। মোআওয়াজ কন্যা রবি বলেন, তারপর সে যেপথ দিয়ে আসল সে পথ' দিয়ে পুনরায় চলে গেল। আমি তাকিয়ে থাকলাম। হাসান বিন হোসাইন বলেন: তিনি আমাকে চিঠিটা দেখিয়েছেন এবং পরবর্তীতে এটা তাদের কাছেই সংরক্ষিত ছিল।
ইবনু আবিদ দুনিয়া তাঁর নিজ গ্রন্থে এবং বায়হাকী তাঁর দালায়েল আন নবুয়াহ গ্রন্থে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ওমরাহ বিনতে আবদুর রহমানের মৃত্যু উপস্থিত হলে তাঁর কাছে কয়েকজন তাবেঈ হাজির হন। তাদের মধ্যে ওরওয়াহ বিন যোবায়ের, কাসেম বিন মোহাম্মদ এবং আবু সালামা বিন আবদুর রহমান অন্যতম। ঐ সময় ওমরাহ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তারা তখন ছাদে একটি আওয়াজ শুনতে পান। হঠাৎ করে এক কাল সাপ নীচে পড়ল। যেন এটি গাছের বিরাট কাণ্ড। সাপটি ওমরার দিকে অগ্রসর হল। তখন একটি সাদা কাগজ এসে পড়ল। তাতে লেখা ছিল: 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কা'বের রবের পক্ষ থেকে কা'বের প্রতি। নেকক্কারদের কন্যা সন্তানের উপর তোমার কোন অধিকার নেই। চিঠিটি পড়ে সাপটি উপরে উঠল এবং একই পথে বিদায় নিল।
ইবনু আবিদ দুনিয়া তাঁর নিজ গ্রন্থে এবং রায়হাকী 'দালায়েল আন নবুয়াহ' গ্রন্থে আনাস বিন মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আওফ বিন আফরার কন্যা বিছানায় চিত হয়ে শুয়েছিলেন। তিনি হঠাৎ করে মাথায় জটচুল বিশিষ্ট এক কৃষ্ণাঙ্গকে তার বুকের উপর লাফিয়ে পড়তে দেখলেন। সে হাত দিয়ে তার গলা চেপে ধরল। হঠাৎ করে উপর থেকে তার বুকের উপর একটি হলুদ কাগজ পড়ল। কৃষ্ণাঙ্গ লোকটি চিঠিটি। পড়ল চিঠিতে লেখা আছে : লাকিনের রবের পক্ষ থেকে লাকিনের প্রতি। নেক্কার লোকের কন্যাকে ছেড়ে দাও; তার উপর তোমার কোন অধিকার নেই।' এরপর সে উঠে দাঁড়াল এবং আমার গলা থেকে তার হাত সরিয়ে নিল। সে আমার দুই হাঁটুতে এমন জোরে হাত দিয়ে থাপ্পড় মারল যে, তা ছাগলের মাথার মত ফুলে কাল হয়ে গেল।
পরে আওফ বিন আফরার কন্যা হযরত আয়েশা (রাঃ) এর কাছে এসে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। হযরত আয়েশা বলেন : হে ভাতিজী। তোমার মাসিক হলে শরীর কাপড় দ্বারা আবৃত করে রাখবে। ইনশাআল্লাহ তোমার কোন ক্ষতি হবে না। আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন। তাঁর পিতা বদর যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। অন্য এক বর্ণনায় মাসিকের পরিবর্তে ভয়ের কথা উল্লেখ আছে। অর্থাৎ তোমার ভয় লাগলে শরীর কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখবে।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 সাপের আকৃতিতে ঘরে জিনের উপস্থিতি

📄 সাপের আকৃতিতে ঘরে জিনের উপস্থিতি


ইমাম মুসলিম ও আবু দাউদ হেশام বিন জোহরার গোলাম আবুস সায়েব থেকে বর্ণনা করেছেন। আবুস সায়েব হযরত আবু সাঈদ খুদরীর (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করেন। এবং তাঁকে নামাজ পড়তে দেখেন। নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেন এবং ঘরের এক পাশে ছাদের কাঠে শব্দ শুনতে পান। সে দিকে তাকিয়ে একটি সাপ দেখতে পান। তিনি বলেন, আমি সাপটিকে হত্যা করতে উদ্যত হলাম। এমন সময় আবু সাঈদ হাত দিয়ে ইশারা করে আমাকে বসতে বলেন। নামাজ শেষ করে ঐ বাড়ীতে আরেকটি ঘর দেখান এবং জিজ্ঞেস করেন। এটা কার ঘর জান? আমি বললাম, হাঁ, আমাদেরই সদ্য বিবাহিত এক যুবকের ঘর। খন্দক যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে বের হই। সে যুবকটি রাসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে দুপুরে ঘরে আসার অনুমতি নিয়ে ঘরে আসে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন : তুমি সাথে করে তোমার হাতিয়ার নিয়ে যাও। আমি তোমার উপর ইহুদী বনি কোরাইজার আক্রমণের আশংকা করছি। যুবকটি অস্ত্র নিয়ে ঘরে এসে দেখে তার স্ত্রী ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। এতে তার আত্মসম্মানবোধে আঘাত লাগল। সে স্ত্রীর প্রতি তীর নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিল। স্ত্রী বলল : তীর সামলাও। ঘরে এসে দেখ আমি কেন বাইরে আসতে বাধ্য হলাম। যুবকটি ঘরে গিয়ে দেখে এক বিরাট সাপ বিছানায় নিজেকে পেঁচিয়ে বসে আছে। সে সাপের প্রতি লক্ষ্য করে তীর ছুঁড়ল। তীরবিদ্ধ অবস্থায় সে এটাকে ঘরে রেখে বেরিয়ে আসল। সাপটি তাকে আক্রমণ করল। এরপর সাপ ও যুবকটির মধ্যে কে আগে মারা গেল তা জানা যায়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে ঘটনাটি খুলে বললাম এবং তাঁর পুনর্জীবনের জন্য আল্লাহর কাছে দোআর অনুরোধ জানালাম।
তিনি বলেন : তোমাদের বন্ধুর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। মদীনার কিছু জিন মুসলমান হয়েছে। তোমরা এ জাতীয় কিছু দেখলে অর্থাৎ সাপ দেখলে তিনদিন পর্যন্ত তাকে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানাবে। এরপর যদি দেখতে পাও তাহলে তাকে হত্যা করবে। সে হল শয়তান।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ঘরের আবাদকারী সাপ আছে। তোমরা তা দেখলে তাকে তিনবার চলে যাওয়ার জন্য বলবে। চলে গেলে তো ভাল। না হয় তাকে হত্যা করবে, কেননা, সে কাফের জিন।
ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, অন্যায়ভাবে জিন হত্যা করা জায়েয নেই। যেমন করে অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যাও জায়েয নেই। সকল অবস্থায় জুলুম হারাম। তাই কারো উপর জুলুম করা নাজায়েয। এমন কি কাফেরের উপরও না। জিন বিভিন্ন জিনিসের আকৃতি ধারণ করে। ঘরে সাপ দেখলে তাকে তিনবার চলে যাওয়ার অনুরোধ করতে হবে। চলে গেলে তো গেল, না হয় তাকে হত্যা করতে হবে। আসল সাপ হলে তাকে হত্যা করতে হবে। আর যদি জিন হয় এবং শত্রুতার লক্ষ্যে নিজেকে সাপের আকৃতিতে প্রকাশ করে মানুষকে ভয় দেখানোর ইচ্ছা করে তাকেও হত্যা করতে হবে।
আবুশ শেখ 'আজামাহ' গ্রন্থে ইবনু আবু মোলায়কা থেকে বর্ণনা করেছেন। এক সাপ হযরত আয়েশার (রাঃ) ঘরে আসত। তিনি তাকে হত্যার আদেশ দেন। সাপটাকে হত্যা করা হল। হযরত আয়েশাকে স্বপ্নে বলা হল। আপনি আল্লাহর একজন মুসলমান বান্দাহকে হত্যা করেছেন। তিনি বলেন : সে 'মুসলমান হলে নবী পত্নীদের ঘরে আসতনা। তাঁকে বলা হল। আপনি কাপড় পরার আগে সে আপনার ঘরে আসতনা। সে কোরআন শুনার জন্য আসত। সকাল বেলায় ঘুম থেকে জেগে তিনি ১২ হাজার দেরহাম গরীবদের মধ্যে দান করেন।
ইবনু আবিদ দুনিয়া হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : হযরত আয়েশা নিজ ঘরে একটি সাপ দেখতে পান। তিনি এটাকে হত্যার আদেশ দেন। সাপটিকে হত্যা করা হল। রাত্রে তাঁকে স্বপ্নে দেখানো হল, নিহত সাপটি সেই জিনদলের অন্তর্ভুক্ত ছিল যারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে কোরআন শুনেছিল। তিনি এক ব্যক্তিকে ইয়েমেন পাঠান এবং ৪০টি দাস কিনে তাদেরকে মুক্ত করে দেন।
ইমাম মুসলিম নাফে' থেকে এবং নাফে' নিজ পিতা থেকে বর্ণনা করেন, একদিন আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ) পুরাতন খড়-কুটা কিংবা শুকনো ঝোঁপ ঝাড়ের কাছে একটি উজ্জল সাপ দেখে তাকে মেরে ফেলার আদেশ দেন। তখন আবু লোবাবাহ আনসারী (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি ঘরে ছোট লেজবিশিষ্ট সাপ এবং যে সাপের পিঠে দুই ডোরা আছে সে সাপ ব্যতীত অন্য সাপ মরতে নিষেধ করেছেন। এ দু'প্রকারের সাপ চোখ নষ্ট এবং গর্ভবতী মহিলার গর্ভপাত ঘটায়।
অর্থাৎ গর্ভবতী মহিলা সে সাপের দিকে তাকালে কিংবা কোন মানুষ ঐ সাপের দিকে তাকালে কিংবা সাপ তাদের চোখ ও পেটের দিকে তাকালে তার বিষাক্ত দৃষ্টি চোখ ও গর্ভের ক্ষতি সাধন করে।
আবু দাউদ আবুলায়লা থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে ঘরের সাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করায় তিনি উত্তর দেন: তোমরা ঘরের সাপ দেখলে বলবে: আমি তোমাদেরকে হযরত নূহ (আঃ) এবং হযরত সোলায়মান (আঃ) এর গৃহীত অঙ্গীকারের দোহাই দিয়ে বলছি। তোমরা আমাদের ক্ষতি করো না। এরপর যদি আবার আসে তাহলে মেরে ফেল।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিন মানুষকে ভয় পায়

📄 জিন মানুষকে ভয় পায়


আবু বকর ইবনু আবিদ দুনিয়া বর্ণনাকারীদের সূত্র পরম্পরায় মোজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। মোজাহিদ বলেন একরাতে আমি নামাজ পড়ছি। আমার সামনে একটি বালক দাঁড়িয়ে গেল। আমি তাকে শক্তভাবে ধরার জন্য তৈরি হলাম। সে লাফ দিয়ে দেয়ালের ঐ পার্শ্বে পড়ে গেল। আমি তার পড়ার শব্দ শুনেছি। এরপর সে আর কখনও আসেনি। এটি ছিল জিন। মোজাহিদ বলেন তারা তোমাদেরকে সেরূপ ভয় পায় তোমরা তাদেরকে যে রূপ ভয় পাও।
ইবনু আবিদ দুনিয়া মোআসসার বিন কাদ্দাম এবং তিনি আবু শারাআহ নামক এক বৃদ্ধ লোক থেকে বর্ণনা করেন যে, ইয়াহইয়া বিন হাজ্জার আমাকে দেখলেন। আমি রাত্রে অলি-গলিতে ভয় পেতাম। তিনি বলেন: তুমি যাকে ভয় কর সে তোমাকে দেখে আরো কঠোর ভয় পায়। মোজাহিদ বলেন: শয়তান তোমাদেরকে দেখে ভীষণ ভয় পায়। সে তোমাদের কাছে আসলে তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তাহলে সে তোমাদের উপর সওয়ার হবে। বরং তোমরা শক্ত হও, সে ভেগে যাবে।
জিন যে আকৃতি ধারণ করে তার মধ্যে সে পরিমাণ শক্তিই থাকে। আর এখানেই তার দুর্বলতা এবং এ কারণেই সে মানুষকে ভয় পায়।
এছাড়াও আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেছেন: وَمَا كَانَ لَهُ عَلَيْهِمْ مِنْ سُلْطَانٍ إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يُؤْمِنُ بِالْآخِرَةِ مِمَّنْ هُوَ مِنْهَا فِي شَكٍّ .
"তাদের উপর শয়তানের কোন শক্তি নেই। কিন্তু আমরা শয়তানকে তাদের উপর প্রাধান্য বিস্তারের সুযোগ দিয়ে সন্দেহবাদী থেকে সত্যিকার মোমেন কে তা জেনে নেই।" মানুষ নিজেই নিজের কামনা-বাসনার কাছে দুর্বল হয়ে যায়। তখন শয়তান বিজয়ী হয়। ইবলিশ মানুষের কাছে নিজ ধারণাকে সত্য প্রমাণিত করে দেখায়। তখন শক্তিশালী মানুষ শয়তানের কাছে নিজশক্তি সত্ত্বেও দুর্বল হয়ে যায়। আসলে মানুষই শক্তিশালী। সে ইচ্ছা করলে শয়তানের কথা নাও শুনতে পারে। বরং শয়তানকেই সে দূরে সরিয়ে দিতে সক্ষম। কিন্তু ভোগ-বিলাস ও কামনা বাসনার কারণে মানুষের বিবেক লোপ পায়। আর এভাবেই গোমরাহী তাকে হাতছানি দেয়।
বহু নেক ও বুজুর্গ মানুষ দুনিয়ায় আছে যারা শয়তানের আনুগত্য ও ওয়াসওয়াসা থেকে বহু দূরে। এলেম ও আমলের কারণে তারা শয়তানী ওয়াসওয়াসা বুঝতে পারে এবং তা থেকে দূরেও থাকতে পারে। সকল মোমেনের এরূপ হওয়াই কাম্য।।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00