📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 মানুষ ও জিনের মধ্যে বিয়ে শাদী

📄 মানুষ ও জিনের মধ্যে বিয়ে শাদী


আমরা আগের অধ্যায়ে জিনে জিনে বিয়ে-শাদী অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা করেছি। এখন আমরা মানুষ ও জিনের মধ্যে কিংবা জিন ও মানুষের মধ্যে বিয়ে-শাদীর বিষয়ে আলোচনা করবো।
বিষয়টি দু'ভাগে বিভক্ত। ১. জিন ও মানুষের মধ্যে বিয়ে-শাদী সম্ভব কিনা এবং এরূপ বিয়ে সংঘটিত হয়েছে কিনা।
২. জিন ও মানুষের মধ্যে বিয়ে-শাদী অনুষ্ঠিত হওয়া জায়েয কি-না। এখন আমরা জিন কর্তৃক মানুষ কিংবা মানুষ কর্তৃক জিনের বিয়ে সম্ভব কি-না- এ বিষয়ে আলোচনা করবো।
জিনের সাথে মানুষের বিয়ে-শাদী সম্ভব। আল্লামা সা’লেবী বলেছেন, লোকদের মতে, মানুষ ও জিনের মধ্যে বিয়ে ও সন্তান প্রজননের কাজ হয়ে থাকে। আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেছেন:
وَشَارِكُهُمْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ .
আল্লাহ শয়তানকে লক্ষ্য করে বলেন: “শরীক হয়ে যা তাদের (মানুষের) ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে।” -(সূরা বনী ইসরাঈল-৬৪) এ আয়াতে আল্লাহ ইবলিশকে মানুষের সন্তান-সন্ততিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন। অর্থাৎ জিন ও মানুষের মধ্যে সন্তান প্রজননের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়াও নবী (সঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে:
إِذَا جَامَعَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ وَلَمْ يُسَمِّ انْطَوَى الْجَانَّ عَلَى إِحِلِيْلِهِ فَجَامَعَ مَعَهُ .
‘কোন ব্যক্তি নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাসের সময় বিসমিল্লাহ না বললে, শয়তান তার পুরুষাঙ্গে আশ্রয় নেয় এবং একইসাথে সহবাস করে।’ (তিরমিজী, ইবনে জরীর) আল্লামা তারতুসী তাঁর ‘তাহরীমুল ফাওয়াহেশ’ গ্রন্থে ‘কিভাবে হিজড়া সন্তান জন্ম হয়। এ অধ্যায়ে ইয়াহইয়া বিন জোরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস বলেন, হিজড়ারা জিনের সন্তান। ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হল, সেটা কিভাবে? তিনি জবাবে বলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হায়েজ বা মাসিক অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে নিষেধ করেছেন।
কেউ যদি মাসিক অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন শয়তান এ কাজে অগ্রগামী হয়। তার ফলে স্ত্রী গভধারণ করলে সে সন্তান হিজড়া হয়।
আল্লামা আস-সা'আলেবী তাঁর 'ফেকহুল লোগাহ' গ্রন্থে লিখেছেন, পুরুষ মানুষ এবং মহিলা জিনের (পরী) মাধ্যমে সন্তান জন্ম নিলে তাকে খুন্স বলে।
এখন একটি প্রশ্ন হল, নবী (সঃ) জিনের সাথে বিয়ে-শাদী নিষেধ করেছেন। অপরদিকে, ফেকাহবিদগণও মানুষ এবং জিনের বিয়েকে নাজায়েয বলেন। কিছু সংখ্যক তাবেঈও এ জাতীয় বিয়েকে অপছন্দ করেছেন। তাহলে জিন ও মানুষের মধ্যে বিয়ে কিভাবে হতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তর হল, উপরোক্ত নিষেধাজ্ঞাগুলোই জিন ও মানুষের মধ্যে বিয়ে অনুষ্ঠানের সম্ভাবনার প্রমাণ। অসম্ভব জিনিসের উপর জায়েয-নাজায়েয ফতোয়া কার্যকর হয় না।
আরেকটি প্রশ্ন হল, জিনের মূল উপাদান আগুন। আর মানুষের মূল উপাদান হল ৪টি জিনিস। একারণেই কোন মানুষের শুক্র কোন পরীর জরায়ুতে প্রবেশ করতে পারে না। তরল মানবীয় শুক্র পরীর তীব্র দাহিকা শক্তির কারণে নষ্ট হয়ে যেতে বাধ্য। কেননা, পানি আগুনের বিপরীত হওয়ায় একে অপরকে গ্রহণ করতে অক্ষম। পরস্পরের মধ্যে বিয়ে সম্ভব হলেও তা ভেঙ্গে যেতে বাধ্য। এ প্রশ্নের একাধিক জবাব আছে। সেগুলো হচ্ছে:
১. জিনেরা আগুনের তৈরি হলেও তারা তাদের সেই মৌলিক উপাদানের উপর আর অবশিষ্ট নেই। বরং পানাহার, সন্তান প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের রূপান্তর ঘটেছে। অনুরূপভাবে মানুষও তার মূল উপাদান মাটি থেকে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে আরো উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জিনের প্রথম পুরুষ তথা ইবলিশকেই কেবল আগুন থেকে তৈরি করা হয়েছে। তেমনি প্রথম মানব- আদমকেও কেবল মাটি থেকেই তৈরি করা হয়েছে। তাদের প্রথম পুরুষ ছাড়া অবশিষ্ট সকল জিন আগুন থেকে তৈরি নয়। অনুরূপ, অন্য কোন আদম সন্তানও আর মাটি থেকে সৃষ্টি নয়। প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় যে, শয়তান যখন নবী (সঃ)-এর নামাজ নষ্ট করার জন্য এসেছিল তখন তিনি তাকে গলাটিপে ধরেন এবং নিজ হাত মোবারকে শয়তানের জিহ্বার আর্দ্রতা অনুভব করেন।
শয়তানের মুখের লালা প্রমাণ করে যে, সে তার মূল উপাদান আগুন থেকে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। যদি রূপান্তরিত না হত তাহলে, লালা কোথা থেকে আসল?
তদ্রুপ জিন আশ্রিত ব্যক্তির শরীরে জিন প্রবেশ করে এবং তার শিরা-উপশিরায় চলাচল করে। যদি সে আগুনের মূল উপাদানে অবশিষ্ট থাকত তাহলে, জিন-আশ্রিত ব্যক্তি জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যেত।
ইমাম মালেক বিন আনাসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, একজন আমাদের এক বাঁদীর প্রতি বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়ে বলেছে, সে একটি হালাল মেয়ে চায়। এ ব্যাপারে তিনি উত্তর দেন, আমি দীনের মধ্যে তাতে ক্ষতির কোন কিছু দেখি না। কিন্তু আমার অপসন্দের কারণ হল, যদি মহিলাটি গর্ভবতী হয় এবং তাকে তার স্বামী কে এ প্রশ্ন করা হয় তখন সে কি জবাব দেবে? সে যদি বলে, আমার স্বামী হচ্ছে, জিন, তাহলে, এর ফলে ইসলামে বিরাট বিপর্যয় দেখা যাবে।
২. আমরা যদি ধরে নেই যে, জিন ও মানুষের যৌন মিলনের ফলে শুক্র ও ডিম্ব মিলিত হয়ে রক্ত পিণ্ড তৈরি করতে পারবেনা যা সন্তান তৈরির জন্য পরবর্তী প্রয়োজনীয় স্তর। তাহলে, তা কিন্তু উভয়ের মধ্যে যৌন মিলনের প্রতিবন্ধক হতে পারে না। ফলে, তা উভয়ের মধ্যে বিয়েরও প্রতিবন্ধক নয়। বিশেষ করে নাবালেগ মেয়ে, বয়োবৃদ্ধা মহিলা এবং বন্ধা মহিলার ক্ষেত্রে জমাট রক্তপিন্ডের চিন্তা অবান্তর। অথবা, বন্ধা পুরুষের কারণেও তো জমা রক্ত পিন্ডের চিন্তা করা যায় না। এসব ক্ষেত্রে তো বিয়ে-শাদী হতে পারে। বিয়ের মূল লক্ষ্য যদিও বংশবৃদ্ধি এবং উম্মতের আধিক্যের গর্বের প্রকাশ, কিন্তু এক্ষেত্রে তা কার্যকর হচ্ছে না।
৩. বিয়ে সম্ভব হলেও বিয়ে ভেঙ্গে যেতে বাধ্য বলে যারা বলেন, তাদের প্রতি জওয়াব হল, বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া জরুরী নয়। কোন সময় কোন জিনিস সম্ভব হলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয় না। যেমন: আগুন ও দেবতার পুজারীদের মধ্যে জমাট রক্ত পিন্ডের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে বিয়ে করা জায়েয নেই। অনুরূপভাবে মহরম এবং দুধপান করার কারণেও অনেক মহিলাকে বিয়ে করা যায় না।
মানুষের সাথে জিনের বিয়ে-শাদীর প্রতিবন্ধকতাগুলো হচ্ছে, জাতিসত্বার বিভিন্নতা, বিয়ের মূল লক্ষ্য অর্জন না হওয়া কিংবা শরীয়তে এর অনুমতি না থাকা। জাতিসত্তার বিভিন্নতা তো সুস্পষ্ট। এক্ষেত্রে যৌন মিলন বা জমাট রক্ত পিন্ড হবে কিনা তা দেখারও প্রয়োজন নেই।
বিয়ের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার ব্যাপারটি হল, আল্লাহ আমাদের উপর দয়াপরবশ হয়ে আমাদের সত্ত্বা থেকে স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন- যেন আমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ করি। তিনি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ভালবাসা ও দয়া-মায়া সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمُ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَٰحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَآءً .
"হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করে তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চল, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন: আর বিস্তার করেছেন তাদের দু'জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী।" (সূরা নিসা-১)
আল্লাহ আরো বলেন:
هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَٰحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِّيَسْكُنَ إِلَيْهَا .
"তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্ত্বা থেকে; আর তার থেকেই তৈরি করেছেন তার সঙ্গীনীকে যাতে তার কাছে শান্তি ও স্বস্তি পেতে পারে।" (সূরা আরাফ-১৮৯)
আল্লাহ বলেন:
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَٰجًا لِّتَسْكُنُوٓا۟ إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ .
"আর তাঁর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গীনীদেরকে সৃষ্টি করেছেন। যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি ও স্বস্তি লাভ কর এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা এবং দয়া-মায়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (সূরা রূম-২১)
আল্লাহ আরো বলেন:
فَاطِرُ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا .
"তিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, যিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা শূরা-১১)
জিনেরা আমাদের মধ্যকার লোক নয়। তাই তাদের মধ্য থেকে আমাদের কোন জোড়া হতে পারে না। হলে বিয়ের মূল লক্ষ্যই নষ্ট হয়ে যাবে। বিয়ের অন্যতম লক্ষ্য হল, স্বামী-স্ত্রী পরস্পর পরস্পরের কাছে স্বস্তি লাভ করবে ও শান্তিতে বাস করবে। এক্ষেত্রে শান্তির অনুপস্থিতিই শরীয়তের দৃষ্টিতে বিয়ের পথে বাধা। শুধুমাত্র জিন ও মানুষের মধ্যে ভালবাসা ও প্রবৃত্তির চাহিদা তা থেকে ব্যতিক্রম হবে। তখন কোন মানুষ নিজের নফসের উপর ভয় ভীতি ও আশংকার কারণেই কেবল কোন পরীকে বিয়ে করতে অগ্রসর হবে। নচেত, তাকে কষ্ট দেয়া বা হত্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
পরীকে বিয়ে করলে মানুষ সর্বদা দুশ্চিন্তা ও পেরেশানীতে থাকবে। আর এটা বিয়ের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। মানুষ ও জিনের মধ্যে ভালবাসা ও মায়া-দয়া থাকতে পারে না। আল্লাহ বলেছেন: وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ . "আর আমি বললাম, নীচে অবতরণ কর, তোমরা একে অপরের শত্রু।" (সূরা বাকারা-৩৬)
বোখারী ও মুসলিম, শরীফে আবু মূসা থেকে বর্ণিত। এক রাতে মদীনায় একটি ঘরে আগুন লেগেছিল, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ ব্যাপারে কথা বলেন। তিনি বলেন: এটা হচ্ছে আগুন যা তোমাদের শত্রু। তোমরা যখন ঘুমাবে তখন আগুন নিভিয়ে ফেলবে।
আগুন যেহেতু আমাদের শত্রু। তাই তা থেকে সৃষ্ট প্রাণ আমাদের শত্রুতার ব্যাপারে তার মূলের অনুসারী। বিয়ের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ায় সে বিয়েও অর্থহীন হয়ে পড়ে। অপরদিকে, শরীয়ত এ বিয়ের অনুমতি দেয় না। আল্লাহ বলেন, فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنَ النِّسَاءِ . "তোমরা তোমাদের ইচ্ছামত মহিলাদেরকে বিয়ে কর।" (সূরা নিসা-৩)
আয়াতে উল্লেখত نساء শব্দটির অর্থ হচ্ছে বনি আদমের কন্যা সন্তান। তাই আদম সন্তানের কন্যা ছাড়া অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করা যায় না। অবশ্য رجال বা পুরুষ শব্দটি মানুষের পাশাপাশি জিনের জন্যও ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ বলেছেন: وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِنَ الْإِنْسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِنَ الْجِنِّ . "নিশ্চয়ই মানষজাতির পুরুষেরা জিনজাতির পুরুষদের কাছে আশ্রয় চায়।"
قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ في أزواجهم - : 1 GIER 'আমরা তাদের উপর তাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে কি ফরজ করেছি, তা জানি।'
১। 'এতদ্ব্যতীত তাদের স্ত্রীদের তিনি আরো বলেন: উপর।' إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ
আদম সন্তানের স্ত্রীরাও মানব সন্তানই। তাদেরকেই বিয়ে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা ছাড়া অন্য কোন সৃষ্টি তাদের স্ত্রী হতে পারে না।
তবে জিনের সাথে যে মানুষের বিয়ে হয়, তার প্রমাণ হিসেবে আবু সাঈদ ওসমান বিন সাঈদ দারেমী তাঁর 'এত্তেবা' আস্-সুনান, ওয়াল আখবার গ্রন্থে লিখেছেন, আমাস-শেখ থেকে এবং তিনি বোজাইল থেকে উল্লেখ করেছেন:
এক জিন আমাদের এক মেয়েকে আটকিয়ে রেখেছে এবং আমাদের কাছে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সে আরো বলেছে, আমি তাকে হারামভাবে ভোগ করতে অপসন্দ করি। বোজাইল বলেন, আমরা মেয়েটিকে সে জিনের সাথে বিয়ে দিলাম। জিনটি পরে আমাদের কাছে এসে আলাপ করল। আমরা তার পরিচয় জিজ্ঞেস করলাম সে উত্তরে বলল: আপনাদের মতই এক সম্প্রদায়। আপনাদের মত আমাদেরও বিভিন্ন গোত্র রয়েছে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম তোমাদের মধ্যে কি আত্মপুজারী দলগুলো আছে? সে বলল, 'হাঁ, আমাদের মধ্যে কাদরিয়া, শিয়া ও মোরজেআ সম্প্রদায় রয়েছে। আমরা প্রশ্ন করলাম, তুমি কোন্ সম্প্রদায়ের লোক? সে জবাবে বলে: 'মোরজেআ সম্প্রদায়ের।
আহমদ বিন সোলায়মান আন-নাজ্জাদ তাঁর 'আমালী' গ্রন্থে লিখেছেন: আলী বিন হাসান বিন সোলায়মান আবিশ শা'না আল্ হাদ্রামী (ইমাম মোসলেমের শিক্ষক) বলেছেন, আবু মোআওইয়া আমাসকে বলতে শুনেছেন, আমাদের এক লোক এক পরীকে বিয়ে করেছে। আমি, তাকে প্রশ্ন করলাম। তোমাদের প্রিয় খাবার কি? সে বলল, ভাত। আমি তার জন্য ভাত আনলাম। আমি ভাতের লোকমা উঠতে দেখলাম কিন্তু কোন লোক দেখলাম না। তখন আমি প্রশ্ন করলাম, আমাদের মধ্যে যে রকম প্রবৃত্তির পূজারী আছে, তোমাদের মধ্যেও কি সে রকম আছে? সে বলে 'হাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তোমাদের কাছে রাফেজী সম্প্রদায় কিভাবে বিবেচিত? সে উত্তর দিল: তারা খুবই খারাপ।
আবু ইউসুফ আস-সুরুজী বলেছেন, মদীনার এক পুরুষের কাছে এক মহিলা এসে বলল : আমরা মুসাফির, আপনাদের কাছেই অবতরণ করেছি। আমাকে বিয়ে করুন। লোকটি তাকে বিয়ে করল। রাত্রে সে তার কাছে এক মেয়ে লোকের আকৃতিতে আসত। একদিন মহিলাটি তার কাছে এসে বলল, আমাদের বিদায়ের সময় হয়েছে, আমাকে তালাক দিন। পরে একদিন সে মহিলাটিকে মদীনার এক রাস্তায় পড়ে থাকা গম কুড়াতে দেখে জিজ্ঞেস করল, এগুলো কি তোমার জন্য? মহিলাটি মাথায় হাত দিয়ে তার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে বলল, আপনি কোন্ চোখে আমাকে দেখেছেন? লোকটি আঙ্গুল দিয়ে নিজ চোখটি দেখাল। তারপর চোখ থেকে পানি পড়তে লাগল।
কাজী জালালুদ্দিন আহমদ বিন কাজী হোসামুদ্দিন রাযী হানাফী বলেছেন: আমার আব্বা মধ্য এশিয়াভুক্ত আমাদের পূর্বাঞ্চল থেকে নিজ পরিবারে আসার লক্ষ্যে সফরে বেরিয়েছেন। বিরা এলাকা অতিক্রম করার পর বৃষ্টি শুরু হলে আমরা একটি গর্তে আশ্রয় নিলাম। সেখানে আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম। আমরা ছিলাম একদল লোক। আমি যখন ঘুমে তখন কে যেন আমাকে জাগাল। আমি জেগে দেখি, অনেক মেয়েলোকের সমভিব্যাহারে এমন এক স্ত্রী লোক যার চোখের ফাটল লম্বা। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। স্ত্রী লোকটি বলল, আপনার কোন ভয় নেই। আমি চাঁদের মত সুন্দরী আমার এক মেয়েকে আপনার সাথে বিয়ে দিতে এসেছি। আমি তার ভয়ে বললাম, ঠিক আছে আল্লাহর মঙ্গলের উপর ভরসা। তারপর আমি লক্ষ্য করে দেখলাম, অনেক পুরুষ, যাদের চোখ স্ত্রীলোকটির চোখের মতই লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত। তাদের কেউ বিচারক এবং কেউ স্বাক্ষী। কাজী বিয়ের প্রস্তাব দিল এবং বিয়ে পড়াল। আমি কবুল করলাম। তারপর তারা চলে গেল। স্ত্রী লোকটি অত্যন্ত সুন্দরী এক কন্যা নিয়ে আসল। তার চোখ ও তার মায়ের চোখের মতই। আমার কাছে তাকে রেখে সে চলে গেল। আমার ভয় আরও বেড়ে গেল। আমার কাছে আমার দলের ঘুমন্ত সদস্যদের প্রতি আমি পাথরকুচি নিক্ষেপের মাধ্যমে জাগানোর চেষ্টা করি। কিন্তু কেউ জাগল না। তারপর আমি আল্লাহর কাছে দোআ'ও কান্নাকাটি শুরু করি। আমরা গর্ত থেকে যখন রওনা করলাম। যুবতীটি আমার সাথে লেগেই রইল। এভাবে তিনদিন চলল। চতুর্থ দিন মা-স্ত্রী লোকটি এসে আমাকে বলল মনে হয় তুমি যুবতীকে পসন্দ করছনা এবং তাকে বিদায় করতে চাচ্ছ? আমি বললাম, আল্লাহর কসম, ব্যাপারটি তাই। সে বলল, ঠিক আছে, তাকে তালাক দিয়ে দাও। আমি তালাক দিলাম। সে চলে গেল। আমি আর ঐ দু'জনকে কখনও দেখিনি। ১.
জিন ও মানুষের মধ্যে বিয়ের আরেকটি প্রমাণ হল, বিলকিস। একমত অনুযায়ী, বিলকিসের মাতা-পিতার মধ্যে একজন ছিল জিন। কোরআনের সূরা সাবায় বিলকিসের কাহিনী বর্ণিত আছে।
আল্লামা কালবী বলেছেন, তার বাপ ছিল শ্রেষ্ঠ সম্রাট। তার সন্তানেরা ছিল সমস্ত ইয়েমেনের সম্রাট। তিনি বলতেন, বিশ্বে কোন সম্রাট আমার চাইতে শ্রেষ্ঠ নেই। তিনি রায়হানা বিনতে সাকান নামক এক পরীকে বিয়ে করেন। সেই ঘরেই বিলকিসের জন্ম। বর্ণিত আছে, তাঁর দু'পায়ের নিম্নাংশ পশুর ক্ষুরের মত ছিল। আর এজন্যই হযরত সোলায়মান (আঃ) তাঁর জন্য স্বচ্ছ-স্ফটিক প্রাসাদ নির্মাণ করলেন। এটা মূলতঃ আয়নার তৈরি বালাখানা ছিল। কিন্তু দর্শক প্রথম দর্শনেই বিভ্রান্ত হয়ে যেত। বিলকিস এটাকে জলাশয় মনে করে নিজ পায়ের গোছার কাপড় খুলল। তখন তার পায়ে খুবই হালকা পশম দেখা গিয়েছিল। তার জ্ঞান পরীক্ষা করার জন্য হযরত সোলায়মান তার সিংহাসন আনার হুকুম দিলেন। তারপর সে মুসলমান হল।
জিন ও মানুষের মধ্যে বিয়ের আরেকটি প্রমাণ হল, আবু মনসুর আস-সাআ'লেবী তাঁর 'ফেকহুল লোগাহ গ্রন্থে লিখেছেন, মানুষ ও জিনের মাধ্যমে জন্ম নেয়া সন্তানকে 'খুন্নাস' বলে। যদি বিয়েই না হবে তাহলে, সন্তান কোথা থেকে আসবে এবং এই নামকরণ কিভাবে হবে?
আবুল মাআ'লী বিন আল-মানজা হাম্বলী 'হেদায়া' কিতাবের ব্যাখ্যা গ্রন্থে এক মেয়ে লোক সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। মেয়েলোকটি বলে, আমার সাথে এক জিন, পুরুষের মতই এসে যৌন মিলন করে। তিনি লিখেছেন, এজন্য তার উপর গোসল ফরজ নয়। কোন কোন হানাফী আলেমও একই মত প্রকাশ করেছেন। গোসল ফরজ হওয়ার জন্য যৌনাঙ্গ প্রবেশ ও বীর্যপাত হওয়া জরুরী। এক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত।
হাকিম তিরমিজী 'নাওয়াদের-উসুল' কিতাবে হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, إِنَّ مِنْكُمْ مَغْرَبَيْنَ 'তোমাদের মধ্যে 'মোগরাব' লোক আছে। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, 'মোগরাব' কারা? তিনি উত্তরে বলেন : الَّذِينَ يَشْتَرِكٌ فِيْهِمُ الْجِنِّ 'যাদের জন্মে জিন শরীক আছে।' ইবনু কাসীর তাঁর আল নেহায়া গ্রন্থে লিখেছেন: তাদেরকে 'মোগরাব' বলার কারণ হল, তাদের মধ্যে অপরিচিত রক্ত প্রবেশ করেছে কিংবা তারা দূরবর্তী বংশোদ্ভূত। কেউ কেউ বলেছেন, তাদের মধ্যে জিনের অশংগ্রহণ রয়েছে। তাদের এ বিষয়টি যেনা-ব্যভিচারের পর্যায়ে পড়ে। আল্লাহ কোরাআনে বলেছেন: وَشَارِكَهُمْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ. “তুই (শয়তান) তাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে শরীক হয়ে যা।” -(সূরা বনী ইসরাঈল-৪৬)
নোযহাতুল মোজাকেরা কিতাবে হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আলীর সাথে নাহরাওয়ানের হারুরিয়ায় সংঘটিত যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম। হযরত আলী জুল ইয়াদাইনকে খুঁজতে লাগলেন। লোকেরা বলল, সে ভেগে গেছে। তিনি বলেন, তাকে খুঁজে বের কর। পরে তাকে পাওয়া গেল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন। তাকে কে চেনে? সম্প্রদায়ের এক লোক বলল, আমরা তাকে চিনি। তার মা ওখানে আছে। আলী (রাঃ) তার মায়ের কাছে একজনকে এই প্রশ্ন করে পাঠালেন যে, তার বাপকে? মা উত্তর দিল, আমি জানি না। আমি জাহেলিয়াত যুগে মদীনায় দুম্বা-বকরী চরাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে একটি অন্ধকার ছায়া আমাকে ছেয়ে গেল। আমি তাতে গর্ভ ধারণ করি এবং পরে এ সন্তান জন্মলাভ করে।
দক্ষিণ মরক্কোর এক ব্যক্তি তার জিন স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে জিন সমাজে পুরো বাস করে যাচ্ছে। ১৯ সে ইতিপূর্বে এক নিকটাত্মীয়াকে বিয়ে করেছিল। সে ঘরে তার সন্তানও রয়েছে। তারা নিঃসন্দেহে জিনের সাথে নিজ পিতার বিয়ে-শাদী, সন্তান সন্ততি ও মেলা-মেশার কথা বর্ণনা করেছে। প্রমাণ হিসেবে তারা উল্লেখ কয়েছে যে, অন্য গোত্রের লোকদের সাথে ঝগড়া-বিবাদের সময় তাদের জিন ভাইয়েরা তাদেরকে সাহায্য করেছে। পুরুষটি পরীটিকে তার সতীনের সাথে পালা বণ্টনে রাজী করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, পরীর সাথে পালার দিন সে মরুভূমির রোদে পানিবিহীন অবস্থায় কাটায় ও বসে থাকে। তার মতে এটাই তার পরী-স্ত্রীর দাম্পত্য ঘর। তার মৃত্যুর পর জিন সন্তানেরা তাদের মানব সন্তান ভাইদের প্রতি বিশ্বস্ততা ও সহযোগীতা অব্যাহত রেখেছে। ঐ এলাকার লোকজনের কাছে এঘটনা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।
মরক্কোর ফেজ শহরের নিকটে মেকনাস শহরের উপকণ্ঠে বসবাসকারী এক ব্যক্তির সন্তান সোলায়মান বর্ণনা করেছে। ২. তার বাপের অবস্থা অস্বাভাবিক হয়ে গেছে। তিনি কম কথা বলা শুরু করেছেন। ঘরের কোণে একাকী বসে থাকাকে পসন্দ করেন এবং নিজ স্ত্রীকে বয়কট করেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি এক পরীকে বিয়ে করেছেন এবং তিনি তার পরী-স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে কথা বলেন বলে জানান। তিনি আমাদের সাথে কেবল শারিরিকভাবেই আছেন। এক পর্যায়ে তিনি আমাদের থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরী-স্ত্রীর উৎসাহে আমার মায়ের সাথে হিংসা শুরু করেন। তিনি আলাদা ঘরে বাস করা শুরু করেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, আমার পিতা যখন ঘর থেকে বের হন তখন তার কাছে একদিনের খাবারও থাকে না। পরী-স্ত্রী তার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে। আমার পিতা আমাদের নিকটবর্তী এলাকায় একখণ্ড জমীন ক্রয় করেন। এরপর আর আমাদের সাথে কথা বলেন না, সাক্ষাত করেন না এবং কোন সম্পর্কও রাখেন না। ইতিমধ্যে তিনি এক বিরাট বকরী পালের মালিক হয়ে গেছেন। তিনি আমাদেরকে বলেছেন, তিনি তার পরী-স্ত্রীর সাথে সুখী জীবন-যাপন করছেন এবং ঐ ঘরে তার সন্তান রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে কেউ দেখে না। তার উপর থেকে জিন তাড়ানোর চিকিৎসা করে কোন লাভ হয়নি।
মানুষ ও জিনের মধ্যে বিয়ে-শাদীর আরো বহু ঘটনা জানা যায়। অনেক সময় জিন কোন মানুষকে অপহরণ করে বিয়ে করে। এসকল ঘটনা প্রমাণ করে যে, মানুষের সাথে জিনের বিয়ে হয়, যদিও তার সংখ্যা খুবই সামান্য।
এ বিয়ে থেকে সন্তান উৎপাদনের বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। একদলের মতে জিন ও মানুষের বিয়ের মাধ্যমে সন্তান জন্ম হতে পারে না। কেননা, দু'টো দু'প্রকার সৃষ্টি। সন্তান জন্ম হলে সে-টা কি মানুষ হবে, না জিন হবে? আর ভিন্ন ভিন্ন উপাদানে সৃষ্টি বলে সন্তান উৎপাদনের প্রশ্নই উঠতে পারে না।
তাদের মতে যারা জিনের সাথে বিয়ের পর সন্তান হয়েছে বলে দাবী করেছেন, তার ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে। অর্থাৎ সে অলীক স্বপ্ন দেখে যে তার সন্তান আছে কিংবা জিনেরা তার সামনে সন্তানের আকৃতিতে হাজির হয়ে বলে, আমরা আপনার সন্তান। পরী-স্ত্রীর সন্তান ধারনের আগে আরো প্রশ্ন দেখা দেয়। তাহলে, কি যৌন মিলনের সময় উভয়ের বীর্যপাত হয়? মানুষের মত জিনের তো একই ধরনের শুক্র ও ডিম্ব থাকার কথা নয়। শুধু কি তাই? জিনের সাথে সম্পর্ক বিশিষ্ট ব্যক্তির সকল সন্তানাদি জিনের প্রভাব দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বরং শয়তান বা জিন তার চোখ-কান ও সমস্ত শরীরের উপর মালিকানা অর্জন করে এবং তার চোখ-কান ও নাককে কথা বলার জন্য ব্যবহার করে।
কোরআন, হাদীস, ইমাম ও ফকীহদের উল্লেখিত মতামতের ভিত্তিতে, জিন ও মানুষের মধ্যে যৌন মিলন হতে পারে। এতটুকুই গ্রহণযোগ্য। যদিও তা মানুষে মানুষে যৌন মিলনের মত নয়, বরং তা অপেক্ষা ভিন্ন প্রকৃতির। সন্তান উৎপাদনের বিষয়টি কোরআন ও হাদীস দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নয়। বরং এ বিষয়ে অনেক বর্ণনা এবং ব্যাখ্যাই দুর্বল। কোন সময় কোন পরী কোন পুরুষের উপর কিংবা কোন পুরুষ জিন কোন মানব-মহিলার উপর আসক্ত হতে পারে। যেহেতু, মানুষের শরীরের ধমনীতে চলার শক্তি জিনের আছে। সে কারণে শরীরের যৌন মিলনের সাথে বিচরণ ও যৌন মিলন করা তাদের পক্ষে মোটেই কঠিন নয়। কিন্তু যৌন মিলন হলেই যে সন্তান উৎপাদিত হবে এটা মোটেও জরুরী নয়। যেমন পশুর সাথে মানুষের সঙ্গমে সন্তান জন্মাতে পারে না। পশুর সাথে মানুষের সঙ্গম করা হারাম।

টিকাঃ
১. মাসালেকুল আবসার কাজী শাহাবুদ্দিন (আজায়েব ও গারায়েব গ্রন্থের সৌজন্যে)।
১. সাপ্তাহিক আল মোসলেমুন- ৯ই মে, ১৯৯৭ ইং।
২. ঐ

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনের সাথে মানুষের বিয়ের হুকুম

📄 জিনের সাথে মানুষের বিয়ের হুকুম


রাসূলুল্লাহ (স) জিনের সাথে মানুষের এবং মানুষের সাথে জিনের বিয়ে-শাদীকে নিষিদ্ধ করেছেন। একদল তাবেঈ এ জাতীয় বিয়েকে মাকরূহ বলেছেন। হারব আল-কারমানী তাঁর 'মাসায়েল' গ্রন্থে ইমাম আহমদ ও এসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মোহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল কোতাইয়ী বিশর বিন ওমর থেকে, তিনি ইবনে লোহাইআ' থেকে এবং তিনি ইউসুফ বিন ইয়াযীদ যোহরী থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিনকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। হাদীসটি মোরসাল এবং তাতে ইবনে লোহাইআ' নামক বর্ণনাকারী দুর্বল। ইমাম মালেক বলেছেন, বিয়ে জায়েয হওয়া সত্ত্বেও আমি জিন কর্তৃক কোন মহিলার গর্ভ ধারণের কথা শুনতে অপছন্দ করি। কেননা এর ফলে ইসলামে বিরাট ফেতনা ও বিপর্যয় দেখা দেবে। মুআওইয়া হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হাকাম বিন ওতাইবা জিনের সাথে বিয়েকে মাকরূহ বলেছেন। ওকবা রোমানী বলেছেন, আমি প্রখ্যাত আলেম কাতাদাহকে জিন বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞেস করায় তিনি এটাকে মাকরূহ বলেছেন। ওকবা আরো বলেন আমি হাসানকে জিন বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞেস করায় তিনিও এটাকে মাকরূহ বলেছেন।
ইবনু আবিদ দুনিয়া তাঁর 'আল-হাওয়াতেফ' গ্রন্থে লিখেছেন, এক ব্যক্তি হাসান বিন হাসান বসরীর কাছে এসে বলল, হে আবু সাঈদ। জিনের এক পুরুষ আমাদের এক যুবতীর জন্য বিয়ের পায়গাম দিয়েছে। তিনি বলেন, তার কাছে বিয়ে দেবে না। তারপর সে কাতাদার কাছে এসে বলে, হে আবুল খাত্তাব! জিনের এক পুরুষ আমাদের এক যুবতীর জন্য বিয়ের পয়গাম দিয়েছে। তিনি বলেন, তার কাছে বিয়ে দেবে না। সে যখন আসবে তখন তাকে বলবে, 'তুমি যদি মুসলমান হও এবং ফিরে যাও আমাদেরকে কষ্ট না দাও, তাহলে আমরা তোমার কাছে আসতে পারি।'
রাত হলে জিন আসল এবং দরজায় দাঁড়িয়ে বলল, তোমরা হাসানের কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেছ। তিনি উত্তরে বলেছেন, তার কাছে বিয়ে দিওনা। তারপর কাতাদার কাছে গিয়েছ এবং তাকেও জিজ্ঞেস করেছ। তিনি বলেছেন, তার কাছে বিয়ে দেবেনা এবং তাকে একথা বলঃ 'তুমি যদি মুসলমান হও এবং ফিরে যাও এবং আমাদেরকে কষ্ট না দাও তাহলে, আমরা তোমার কাছে আসতে পারি।'
তারা একথা স্বীকার করল। তারপর জিনটি চলে গেল এবং তাদের কোন ক্ষতি করলনা।
হারব বলেন, আমি ইসহাককে প্রশ্ন করলাম এক ব্যক্তি সাগর পথে রওনা হল এবং নৌকা ভেঙ্গে যাওয়ায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এক পরীকে বিয়ে করল। তখন তিনি বলেন জিনের সাথে বিয়ে-শাদী মাকরূহ।
ইবনু আবিদ দুনিয়া ফজল বিন ইসহাক থেকে, তিনি আবু কোতাইবা থেকে এবং তিনি ওকবা আল-আসম এবং কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তাঁদের উভয়ের কাছে জিনকে বিয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করায় তাঁরা এটাকে মাকরূহ বলেছেন।
ইবনু আবিদ দুনিয়া আরো উল্লেখ করেছেন যে, হাসান বলেছেন জিনেরা তাঁর কাছে আসার পর উপস্থিত লোকেরা বলল যে, আমরাও তোমাদের কাছে বেরিয়ে আসব যদি তোমরা আমাদেরকে তোমাদের শব্দ শুনাও কিংবা তোমাদের আকৃতি দেখাও। তারা এরূপ বলায় জিনেরা চলে গেল।
জামালুদ্দিন সাজিস্তানী হানাফী মাজহাবের একজন ইমাম ছিলেন। তিনি তার 'মনিয়্যাতুল মুফতী' গ্রন্থে ফাতাওয়া সিরাজিয়ার বরাত দিয়ে লিখেছেন যে, মানুষ ও জিনের মধ্যে বিয়ে-শাদী নাজায়েয। কেননা, মানুষ ও জিনের মধ্যকার সৃষ্টি ও উপাদানগত পার্থক্যের কারণে তা হতে পারে না।
নাজমুদ্দিন আল-যাহেদী তাঁর 'কানিয়‍্যাতুল মানিয়্যাহ' গ্রন্থে লিখেছেন। জিনের সাথে বিয়ে-শাদীর ব্যাপারে হাসান বসরীকে জিজ্ঞেস করায় তিনি জবাবে বলেন: দুই পুরুষ ব্যক্তি স্বাক্ষী হলে জায়েয আছে এবং দুই পুরুষ স্বাক্ষী ছাড়া জায়েয হবে না। গ্রন্থকার বলেন, এর মাধ্যমে প্রশ্নকর্তাকে তার বোকামীর জন্য উপযুক্ত থাপ্পড় লাগানো বা শিক্ষা দেয়া হয়েছে।
মিসরের শেখ জামালুদ্দিন ইস্কুওয়ী শাফেঈ তাঁর 'জুমলাতুল, মাসায়েল' গ্রন্থে প্রধান বিচারপতি শারফুদ্দিন আল বাজরীকে যে সকল মাসলা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সেগুলো উল্লেখ করে বলেছেন, তাঁকে প্রশ্ন করা হল, কোন মানুষ-পুরুষ যদি কোন মহিলা জিনকে বিয়ে করতে চায়-এশর্তে যে তা সম্ভব- তাহলে, কি তা জায়েয? প্রশ্নে আরো উল্লেখ করা হয়- আল্লাহ বলেছেন:
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا .
"আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হল, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ কর।" (সূরা রুম-২১)
প্রশ্নে আরো বলা হয়, আল্লাহ এ আয়াতে একই মানব সত্ত্বা থেকে তাদের স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করার দয়ার কথা উল্লেখ করেছেন যা তাদের পরিচিত ও ভালবাসার পাত্র। জিনের ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য নয়। কেননা তারা ভিন্নজাতি। আমরা যদি ইবনু ইউনুসের রচিত 'শারহুল ওয়াজিজ' গ্রন্থে প্রদত্ত জায়েয ফতোয়ার আলোকে এটাকে জায়েযই বলি। তাহলে আরো কতগুলো প্রশ্ন দেখা দেয়। সেগুলো হল, মেয়ে-জিন বা পরীকে কি মানব-স্বামীর সাথে একত্রে থাকাকে বাধ্যতামূলক করা হবে? মানব-স্বামী কি সক্ষম হলে পরীর জন্য মানুষ ছাড়া অন্য কোন কিছুর আকৃতি ধারণ করতে পারবে? এক্ষেত্রেও কি বিয়ে বিশুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলী পালন করতে হবে? যেমন অভিভাবকের মতামত, বিয়ের পথে প্রতিবন্ধকতা অনুপস্থিত থাকা, কাজীর এ বিয়ে গ্রহণ করা উচিত কিনা, সে যদি পরী-স্ত্রীকে অন্য কোন অপরিচিত আকৃতিতে দেখে এবং স্ত্রী যদি বলে যে, সে তারই স্ত্রী তাহলে কি এর উপর নির্ভর করে তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা জায়েয হবে কিনা এবং বিকল্প খাদ্যের ব্যবস্থা থাকলে হাড় ও গোবরসহ তাদের খাদ্য সংগ্রহ করা কি তার কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হবে?
আল বাজরী উত্তরে বলেন, নিম্নোক্ত দু'টো আয়াতের কারণে কোন পরীকে বিয়ে করা জায়েয নেই। আল্লাহ বলেন: وَاللهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا .
"আল্লাহ তোমাদের নফস থেকেই স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন।" -(সূরা নহল-৭২) তিনি আরো বলেন: আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হল, তিনি তোমাদের নফস থেকে তোমাদের স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রম-২১)
তাফসীরকারকগণ এ দু'আয়াতে স্ত্রী বলতে মানব স্ত্রী বুঝিয়েছেন। আয়াতে مِنْ أَنْفُسِكُمُ বলতে স্বজাতি, আপন সম্প্রদায় ও নিজ দলকে বুঝানো হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেছেন:
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ .
'তোমাদের কাছে তোমাদের স্বজাতির রাসূল এসেছে।' (সূরা তাওবা-১২৮) অর্থাৎ মানুষের মধ্য থেকেই রাসূল এসেছে। বিয়ের মধ্যে রক্ত ও বংশের সম্পর্কের ধারা কার্যকর। সেজন্য ফুফাত ও চাচাত বোন এবং খালাত ও মামাত বোনকে বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন:
وَبَنَاتُ عَمِّكَ وَبَنَاتٌ عَمَّاتِكَ وَبَنَاتٌ خَالِكَ وَبَنَاتٌ خَالَاتِكَ .
'তোমার চাচাত ও ফুফাত বোন এবং মামাত ও খালাত বোনকে বিয়ে কর।' -(সূরা আহযাব-৫০)
এছাড়াও অন্যান্য রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়দেরকে বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সূরা নেসায় বংশ ও রক্তের সম্পর্কের অন্য কিছু মহিলাকে মহরম ঘোষণা করা হয়েছে। এসবই বিয়ের সাথে রক্ত ও বংশের সম্পর্ককে স্বীকার করে। কিন্তু জিনের সাথে মানুষের এরূপ কোন বংশ ধারা ও রক্তের সম্পর্ক নেই।
প্রখ্যাত ফেকাহবিদ আবু বকর বিন আরবী মানুষের সাথে জিনের বিয়ে শাদীকে নাজায়েয বলেছেন। তিনি বলেছেন, জিনেরা হচ্ছে সুক্ষ্ম শরীর আর মানুষের হচ্ছে ভারী শরীর। ফলে এ দু'ধরনের সত্ত্বা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না। শেখ ইজুদ্দিন আবদুস সালাম বলেছেন, তিনি এক পরীকে বিয়ে করেছেন। তিনি তার সাথে বেশ কিছু দিন কাটান। একদিন পরীটি তাঁকে উটের হাড় দিয়ে মেরে জখম করে ভেগে যায়। তিনি আমাদেরকে তার মুখের আঘাত দেখান।১.
পরী বিয়ের ব্যাপারে পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। একদল আলেম তাকে নাজায়েয বলেছেন এবং অন্য একদল জায়েজ বলেছেন। যারা জায়েয বলেছেন, তাদের মতে, বিয়ে জায়েয হওয়ার জন্য যা দরকার তা জিনের মধ্যে আছে।
তারা আমাদের ভাই। সালাহ সাফেদী তাঁর তাওকীকুল আহকাম আলা গাওয়ামেদিল আহকাম' বইতে লিখেছেন, জিনকে আরবীতে 'নাস' ও রিজাল' শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এ শব্দদ্বয় তাদের জন্য ব্যবহার করা এদু'টোর অর্থ হল যথাক্রমে মানুষ ও পুরুষ। এজন্য মানুষের সাথে তাদের বিয়ের বিষয়ে ঐক্য পাওয়া যায়। তারা আরো বলেছেন, যদি জিন আসে ও কথা বলে, কিন্তু তার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ না করে এবং আমরা তাকে না চিনি তাহলে, তার সাথে বিয়ে জায়েয হবে না। যদি জিন তার ব্যক্তি সত্বা প্রকাশ করে আমরা দেখি এবং তার ঈমানদার হওয়ার বিষয়ে আমরা জানতে পারি তাহলে বিয়ে জায়েয হবে কিনা এ ব্যাপারে তিনি ইতস্ততঃড়াব প্রকাশ করেন।

টিকাঃ
১. সাপ্তাহিক আল মোসলেমুন- ৯ই মে, ১৯৯৭ইং।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনের সাথে যৌন মিলনের পর গোসলের হুকুম

📄 জিনের সাথে যৌন মিলনের পর গোসলের হুকুম


ফতওয়া জোহাইরিয়াতে উল্লেখ আছে, এক মহিলা বলে, আমার কাছে এক জিন দিনে কয়েকবার আসে। সে আমার সাথে আমার স্বামীর মত মিলিত হয়। ফতোয়ায় বলা হয়েছে, তার উপর গোসল ফরজ হবে না।
আবুল মাআ'লী বিন মোনজী হাম্বলী বলেছেন, ইবনুল হাম্বল খাত্তাবী শরহুল হেদায়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এক মহিলা বলল, 'আমার কাছে এক জিন আসে, যেমন কোন স্বামী তার স্ত্রীর কাছে যায়- প্রশ্ন হল, তার উপর কি গোসল ফরজ? এক হানাফী আলেম বলেছেন, তার গোসলের দরকার নেই। আবুল মা'আলী বলেছেন, কোন মহিলা যদি বলে যে, আমার সাথে স্বামীর মত এক জিন আছে অহলে তার উপরও গোসল ফরজ হবে না। কেননা, গোসল ফরজ হওয়ার শর্ত এখানে অনুপস্থিত। এটা হল বীর্যপাতহীন স্বপ্নদোষের মত। তারপরও বিষয়টির জটিলতা অবশিষ্ট থেকেই যায়।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিন কর্তৃক স্বামীকে অপহরণের পর স্ত্রীর হুকুম

📄 জিন কর্তৃক স্বামীকে অপহরণের পর স্ত্রীর হুকুম


আবু বকর ইবনু আবিদ দুনিয়া উল্লেখ করেছেন যে, আবদুর রহমান বিনাবি লায়লা বলেন: এক ব্যক্তি নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের সাথে এশার নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বের হল। এরপর সে নিখোঁজ হয়ে গেল। তার স্ত্রী খলীফা ওমর বিন খাত্তাবের নিকট বিষয়টি উত্থাপন করল। খলীফা তার সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে জিজ্ঞেস করায় তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করল। খলীফা স্ত্রীকে ৪ বছর অপেক্ষার আদেশ দেন। চার বছর পর স্ত্রীলোকটি পুনরায় খলিফার কাছে এসে বলেন, তার স্বামী ফিরেনি। খলীফা তার সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে জিজ্ঞেস করায় তারা এর সত্যতার স্বাক্ষ্য দেয়। খলিফা স্ত্রী লোকটিকে অন্যত্র বিয়ের অনুমতি দেন। তারপর স্ত্রীলোকটির ১ম স্বামী ফিরে আসে। ঘটনাটি হযরত ওমরের কাছে পুনরায় উত্থাপন করায় বলেন তোমরা কেন দীর্ঘদিন ব্যাপী নিজ স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরে থাক এবং তারা তোমাদের কোন খবর জানে না? লোকটি বলল, আমার ওজর ছিল। ওমর বলেন: তোমার কি ওজর? সে বলল, আমি আমার সম্প্রদায়ের সাথে এশার নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বের হলে জিন আমাকে ধরে বসে। আমি জিনদের কাছে দীর্ঘদিন ছিলাম। তারপর মোমেন জিনেরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং কিছু যুদ্ধবন্দীকে নিয়ে আসে। আমিও সে যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে ছিলাম। মোমেন জিনেরা আমাকে আমার দীন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। আমি বললাম, আমি মুসলমান। তারা বলল, তুমি আমাদের একই দলের অনুসারী হওয়ায় আমাদের দীনি ভাই। তাই তোমাকে দাস হিসেবে রাখা জায়েয নেই। তারা আমাকে তাদের কাছে থাকা কিংবা নিজ পরিবারে প্রত্যাবর্তনের এখতিয়ার দেয়। আমি নিজ পরিবারে ফিরে আসার প্রস্তাব গ্রহণ করি। তারা রাত্রে আমার সাথে মানুষের মত কথা বলতে বলতে আসতে থাকে এবং দিনে ঝড়ের রূপ ধারণ করে এগুতে থাকে। আমি তাদেরকে অনুসরণ করি। এভাবে আমি নিজ পরিবারে পৌঁছি। তাতে তার খাবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। সে বলল: সেগুলোই ছিল আমার খাবার যে গুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয় না। এর পর তার পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলে: নেশা সৃষ্টিকারী নয় এমন পানীয় পান করেছি। যাক, এরপর হযরত ওমর (রাঃ) তাকে স্ত্রী ও দেন-মোহর এ দু'টোর যে কোন একটা ফেরত পাবার এখতিয়ার দেন।
হাদীসে উল্লেখ আছে, পানাহারের সময় বিসমিল্লাহ বলে না খেলে শয়তান তা খায় এবং রাত্রে ঘরে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ বলে প্রবেশ না করলে শয়তান ঘরে রাত্রি জাগরণ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00