📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনের পানাহার

📄 জিনের পানাহার


কাজী আবু ইয়া'লী বলেছেন: 'জিনেরা আমাদের মতই পানাহার করে ও বিয়ে শাদী করে।' জিমের খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে মোট তিনটি মত আছে।
১. জিনেরা মোটেই পানাহার করে না। এমত বাতিল।
২. এক প্রকার জিন পানাহার করে। অন্য এক প্রকার পানাহার করে না। এমতের সমর্থনে সামনে তাবেঈদের বক্তব্য পেশ করা হবে।
৩. সকল জিন পানাহার করে। এমতের কোন কোন অনুসারী বলেনঃ জিনের পানাহার হচ্ছে ঘ্রাণ নেয়া ও স্বাদ গ্রহণ করা। তারা চিবিয়ে এবং গিলে খায় না। একথার সমর্থনে কোন প্রমাণ নেই। তবে এদলের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের মতে জিন চিবিয়ে ও গিলে খায়। তাদের সমর্থনেই বিশুদ্ধ হাদীস এবং প্রকাশ্য প্রমাণ রয়েছে। আবু দাউদ শরীফ উমাইয়া বিন মাখশীর হাদীস এর প্রমাণ। তাতে উল্লেখ আছে যে, শয়তান এক ব্যক্তির সাথে খানা খাচ্ছিল। যখন তিনি আল্লাহর নাম স্মরণ করলেন, তখন সে যা খেয়েছিল, সব বমি করে দিল।
আবদুস সামাদ বিন মা'কাল বলেন: ওহাব বিন মোনাব্বেহকে জিজ্ঞেস করা হল, জিনেরা কি? তারা কি পানাহার করে? তিনি জবাবে বলেন: জিনেরা বিভিন্ন ধরনের। তাদের মধ্যে আসল জিন হচ্ছে বায়ু; তারা পানাহার করে না এবং বংশ বিস্তারও করে না। আরেক প্রকার জিন আছে যারা পানাহার করে, বিয়ে করে ও বংশ বিস্তার করে। যেমন, সোআ'লী, গাওল, কোতরোব ইত্যাদি।
ইবনু আবিদ দুনিয়া 'মাকায়েদুশ শায়তান' গ্রন্থে এবং আবুশ শেখ 'আজামা' গ্রন্থে ইয়াযিদ বিন জাবের থেকে বর্ণনা করেছেন, 'এমন কোন মুসলমানের ঘর নেই যাদের ঘরের ছাদে মুসলমান জিন বাস করে না। যখন মুসলমানেরা দুপুরের খাদ্য প্রস্তুত করে তখন মুসলমান জিনেরাও তাদের সাথে শরীক হয়। অনুরূপভাবে, তারা যখন রাত্রের খাবার তৈরি করে, মুসলমান জিনেরাও তাদের সাথে বসে পড়ে। আল্লাহ এই জিনদেরকে দিয়েই মানুষের হেফাজতের ব্যবস্থা করেছেন।
আহমদ, আবুশ শেখ ও তিরমিযী আলকমা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি ইবনে মাসউদকে জিজ্ঞেস করলাম, জিনের ঘটনার রাতে নবী (সঃ) এর সাথে আপনারা কি কেউ ছিলেন? তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ তাঁর সাথে ছিল না। কিন্তু একরাতে আমরা তাঁকে মক্কায় খুঁজে পাচ্ছিলামনা। আমাদের ধারণা, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ভোরে তিনি হেরা পাহাড়ের দিক থেকে আসেন। সাহাবায়ে কেরাম, তাদের আশংকা সম্পর্কে তাঁকে বলেন। তখন নবী (সঃ) বলেন: 'আমার কাছে এক জিন এসে আমন্ত্রণ জানায়। আমি তার সাথে যাই এবং তাদের কাছে কোরআন পড়ি।' এরপর তিনি আমাদেরকে নিয়ে গেলেন এবং তাদের ও-আগুনের চিহ্ন দেখালেন। আরব দ্বীপের জিনেরা তাঁকে তাদের সম্বল সম্পর্কে প্রশ্ন করেন্। তিনি উত্তরে বলেন: 'তোমাদের জন্য আল্লাহর নাম উচ্চারিত হাড় নির্দিষ্ট করা হল।'
বোখারী ও মুসলিম শরীফে বার্ণিত হাদীসে এসেছে, জিনেরা নবী (সঃ)-কে তাদের খাবার সম্পর্কে প্রশ্ন করে। তিনি বলেন, যে হাড়ের উপর বিসমিল্লাহ বলা হয়েছে তা যদি তাদের হাতে পড়ে তাহলে তা গোশতে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং গোবর তাদের পশুদের খাবারে পরিণত হবে।
ইবনু সালাম তাঁর তাফসীরে বলেছেন, গোবর তাদের পশুদের জন্য সবুজ খাবারে পরিণত হয়।
এ বর্ণনাতেই কেবল পশুর বিষ্ঠাকে জিনের পশুর খাবার হিসেবে বলা হয়েছে। অন্যান্য বর্ণনায় হাড় এবং বিষ্ঠা এ দু'টোকেই জিনের খাবার বলা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, فَلَا تَسْتَنْجُو بِهِمَا فَإِنَّهُمَا طَعَامُ إِخْوَانِكُمُ الْجِنِّ .
'তোমরা ঐ দু'টো জিনিস (হাড় ও গোবর) দিয়ে এস্তেঞ্জা করো না। কেননা, তা তোমাদের ভাই জিনের খাবার।' (মুসলিম)
মুসলিম শরীফে সালমান আল-ফারেসীর বর্ণনায় এসেছে, 'রাসূলুল্লাহ (স) আমাদেরকে কেবলামুখী হয়ে পেশাব-পায়খানা করতে, ডান হাত দিয়ে কিংবা তিনটি পাথরের কমে এস্তেঞ্জা করতে অথবা গোবর ও হাড় দিয়ে এস্তেঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন।'
• ইবনুল আচারী জাবের বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, আমি রাসূলুল্লাহর (সঃ) সাথে ছিলাম। তখন একটি সাপ আসল, নিজ কোমরের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াল এবং নিজ মুখকে কানের কাছে নিয়ে আসল যেন সে মুনাজাত করছে। তখন নবী (সঃ) বলেন, 'হাঁ'। তারপর সে চলে গেল। আমি তাঁকে প্রশ্ন করায় তিনি বলেন, এটা ছিল এক পুরুষ জিন। সে আবেদন জানাল, আপনি আপনার উম্মতকে হাঁড় ও গোবর দিয়ে এস্তেঞ্জা করতে নিষেধ করুন। কেননা, আল্লাহ তাতে আমাদের জন্য রিজক রেখেছেন।
আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সঃ) তাঁকে ইস্তেঞ্জার জন্য পাথর আনার হুকুম করেন এবং বলেন, হাঁড় ও গোবর আনবেনা। আবু হোরায়রা বলেন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হাঁড় ও গোবরের ব্যাপারটি কি? নবী (সঃ) উত্তরে বলেন, এ দু'টো হচ্ছে জিনের খাবার, আমার কাছে নাসীধীন এলাকার জিনেরা এসেছিল। তারা খুবই ভাল জিন। তারা আমাকে তাদের খাদ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করায় আমি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোআ করি, তারা যেন এমন কোন হাঁড় ও গোবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম না করে, যাকে তারা খাবার হিসেবে না পায়। (বোখারী) অর্থাৎ আল্লাহ যেন তাদেরকে হাঁড় ও গোবরে খাদ্য দান করেন।
আবু নাঈম তাঁর 'দালায়েলুন্নবুওয়াত' গ্রন্থে ইবনে মাসউদ থেকে উল্লেখ করেছেন, হিজরতের আগে রাসূলুল্লাহ (সঃ) মক্কার এক প্রান্তের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি আমার জন্য একটা রেখা টানেন এবং বলেন, আমি আসার আগে তুমি কারো সাথে কথা বলবে না। তিনি আরো বলেন, তুমি কোন জিনিস দেখলে ভয় পাবে না এবং এ জায়গা ছেড়ে যাবে না। তারপর তিনি কিছু সামনে এগিয়ে যান এবং বসেন। তখন কিছু কৃষ্ণাঙ্গ লোক আসল এবং তাঁর কাছে ভীড় জমাল। পরে তারা চলে গেল। ইবনু মাসউদ বলেন, আমি তাদেরকে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা বহু দূর থেকে এসেছি, আমরা রওনা করলাম, আমাদেরকে সম্বল দিন। তখন নবী (সঃ) বলেন: তোমাদের জন্য গোবর বা পশুর বিষ্ঠা খাদ্য হিসেবে নির্দিষ্ট করলাম। আর তোমরা যদি হাঁড় পাও, তাতে গোশতও পাবে। আর গোবর বা পশুর বিষ্ঠা তোমাদের জন্য খেজুর হবে। তারা চলে যাওয়ার পর আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারা কে? তিনি উত্তরে বলেন, তারা হল, নাসীবী এলাকার জিন।
এতো গেল জিনের খাদ্যের ব্যাপার। অর্থাৎ তারাও খায়। কিন্তু কোন্ হাতে খায়? এমর্মে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।
মুসলিম, মালেক, আবু দাউদ ও তিরমিজী আবদুল্লাহ বিন জুমার থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন বাম হাতে না খায় এবং কিছু পান না করে। কেননা, শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে। নাফে' আরো একটু যোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাম হাতে যেন কিছু না ধরে এবং না দেয়।” মুসলিমের আরেক বর্ণনায় এসেছে, "তোমাদের কেউ খানা খেলে যেন ডান হাতে খায় এবং পান করলেও যেন ডান হাতে পান করে। কেননা, শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।"
ইবনু আবদুল বার বলেছেন, শয়তান যে পানাহার করে- এ হাদীস তার প্রমাণ। যারা বলেন যে, শয়তান খায় না, তারা এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, বাম হাতে পানাহার করাকে শয়তান পছন্দ করে। যারা বলেন যে, শয়তান পানাহার করে না, সহীহ হাদীসের পরিপন্থী হওয়ায় তাদের কথা গ্রহণযোগ্য নয়।
অপরদিকে, কাজী আবদুল জাব্বার বলেছেন, সুক্ষ্ম দেহের অধিকারী হওয়াটা পানাহারের পথে কোন বাধা নয়। যেমন করে সুক্ষ্ম হওয়াটাও সুক্ষ্মভার পরিপন্থী নয়। এক্ষেত্রে ফেরেশতারা সুক্ষ্ম সত্তা হওয়ার কারণে পানাহার না করার যুক্তি প্রদর্শন করা যাবে না। তাদের পানাহার না করাটাই আল্লাহর সিদ্ধান্ত।
মুসলিম জাবের থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: "শয়তান তোমাদের প্রতিটা কাজে হাজির থাকে, এমনকি খানা পরিবেশনের মধ্যেও। যদি তোমাদের কারো হাত থেকে এক লোকমা খাবার পড়ে যায় তাহলে, তার থেকে ময়লা দূর করে তা খেয়ে ফেল। শয়তানের জন্য রেখে দিও না।"
মুসলিম ও আবু দাউদ হোজায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন- "আমরা রাসূলুল্লাহর (সঃ) সাথে খাবারে উপস্থিত থাকলে তিনি খানা শুরু না করলে আমরা কেউ খানায় হাত দিতাম না। হঠাৎ এক বেদুইন ছুটে আসল এবং খাদ্যে হাত দিতে উদ্যত হল। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার হাত ধরে ফেলেন। তারপর এক বালিকা ছুটে আসল এবং খাদ্যে হাত দিতে উদ্যত হলে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার হাতও ধরে ফেলেন। এরপর তিনি বলেন: 'শয়তান বেদুইনের মাধ্যমে খানাকে হালাল করতে চেয়েছিল। আমি তার হাত ধরে ফেললাম। তারপর এ বালিকাটিকে নিয়ে আসল পুনরায় খাদ্যকে বৈধ করার জন্য। এবার আমি তার হাত ধরে ফেললাম। যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি, শয়তানের হাত তাদের উভয়ের হাতের সাথে আমার হাতের মধ্যে রয়েছে।"
উমাইয়া বিন মাখশী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বসা ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি খানা খাচ্ছিল। কিন্তু সে বিসমিল্লাহ বলেনি। তার খানা মাত্র এক লোকমা বাকী। সে বিসমিল্লাহি আউয়ালাহু ওয়া আখিরাহু বলে তা মুখে দিল। নবী (সঃ) হাসলেন এবং বললেন: 'শয়তান এতক্ষণ তার সাথে খানা খাচ্ছিল। কিন্তু বিসমিল্লাহ বলায় শয়তান যা খেয়েছিল পেট থেকে তা বমি করে দিল।'- (আবু দাউদ)
আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: 'শয়তান অত্যন্ত অনুভূতি সম্পন্ন ও সংবেদনশীল। তোমরা তার থেকে নিজেদেরকে সতর্ক রাখ। কেউ রাত্রি যাপন করলে এবং হাতে ঘ্রাণ থাকার কারণে কোন ক্ষতি হলে, নিজেকে ছাড়া আর কাউকে দোষারোপ করতে পারবে না।' (তিরমিয়ী, হাকেম)
এ হাদীসে খাওয়ার পর হাত ধোয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তা না হয় হাতে খাদ্যের ঘ্রাণ থেকে কোন রোগ বা অনিষ্ট হতে পারে। হাত ধোয়া হচ্ছে সে অনিষ্টের প্রতিষেধক।
আ'ম্বাসা বিন সাঈদ কাজী সা'লাবা বিন সোহাইলকে বলেন, আমি এক অদ্ভুত জিনিস দেখেছি। আ'ম্বাসা বলেন, আমি ভোর রাত্রে পান করার জন্য কিছু শরবত রাখতাম। কিন্তু ভোর রাত্রে উঠে তা পেতাম না, আমি এবার শরবত রাখলাম এবং এর উপর সূরা ইয়াসিন পড়ে ফুঁ দিলাম। ভোরে আমি শরবত হুবহু দেখতে পাই এবং শয়তানকে দেখি সে অন্ধের মত ঘরে ঘুরছে।১০
মুসলিম, ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: 'ব্যক্তি ঘরে প্রবেশের সময় এবং খাওয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করলে শয়তান নিজ সাথীদেরকে বলে: তোমরা এ ঘরে রাত যাপন ও রাতের খানায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। ব্যক্তি প্রবেশের সময় আল্লাহকে স্মরণ না করলে শয়তান নিজ সাথীদেরকে বলে, তোমরা এঘরে রাত যাপনের সুযোগ পেলে। আর খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ না করলে বলে, তোমরা রাত্রি যাপন সহ রাতের খাবারে অংশ নিতে পারবে, এসকল হাদীস প্রমাণ করে যে শয়তান খানা খায়।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনের বিয়ে-শাদী

📄 জিনের বিয়ে-শাদী


জিন জাতির মধ্যে বিয়ে শাদী প্রচলিত আছে। এর পক্ষে কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি উত্তম প্রমাণ। আল্লাহ বলেন:
افَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ
'অতঃপর তোমরা কি আমার পরিবর্তে উহাকে (ইবলিশ) এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু।' (সূরা কাহফ-৫০)
ইবলিশ সম্পর্কে একই আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, 'সে ছিল জিন। আয়াতটির অর্থ হল 'যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম: আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল- ইবলিশ ছাড়া। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল।'
বংশধর ও সন্তান সন্তুতির জন্য জিনেরা বিয়ে-শাদী করে। ইবনু আবু হাতেম তাঁর নিজ গ্রন্থে এবং আবুশ শেখ তাঁর গ্রন্থ 'আজামা'য় কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, এই আয়াতে বর্ণিত ইবলিশের বংশধর ও সন্তান সন্তুতি দ্বারা বুঝা যায় যে, তারা মানব সন্তানের মতই জন্মগ্রহণ করে। বরং তাদের সংখ্যা অনেক বেশী।
ইবনু আবদুল বার, ইবনু জারীর, ইবনুল মোনজের ইবনু আবি হাতেম এবং হাকেম আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ মোট ১০ ভাগ মানুষ ও জিন তৈরি করেছেন। তার মধ্যে ৯ ভাগ জিন আর এক ভাগ হচ্ছে মানুষ।
আল্লামা শাবী বলেন উল্লেখিত আয়াতটি জিনের বংশ বিস্তারের প্রমাণ। তিনি আরো বলেন, এক ব্যক্তি আমাকে ইবলিশের স্ত্রী আছে কিনা জিজ্ঞেস করল। তিনি বলেন, আমি তো ঐ কনে সম্পর্কে কিছু দেখতে পাইনি। তারপর আমার উপরোক্ত আয়াতটি স্মরণ হল। তখন আমি ভাবলাম যে, স্ত্রী ছাড়া সন্তান আসতে পারে না। তখন আমি বললাম যে, হাঁ, ইবলিশের স্ত্রী আছে। ১.
হাদীসের মধ্যে এসেছে, নবী (সঃ) পায়খানায় প্রবেশ করার সময় এ দোআ পড়তেন - اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُبِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ - 'হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে নারী ও পুরুষ শয়তান থেকে আশ্রয় চাই।' (বোখারী) ইবনু হাজার আসকালানী বলেছেন, এখানে 'খুবস' 'খাবীস' এর এবং 'খাবায়েস' 'খাবীসা-এর বহু বচন। খাবীস ও খাবীসাহ অর্থ হল, পুরুষ ও নারী শয়তান। নারী ও পুরুষ শয়তানের অস্তিত্বই তাদের মধ্যে বিয়ে শাদীর উত্তম প্রমাণ।
(ফাতহুল বারী ১ম খন্ড, ২৪২ পৃঃ)
কোরআন ও হাদীসে জিনের মৃত্যুর কথা প্রমাণিত। যদি তাদের বংশ বিস্তার না হয়, তাহলে মৃত্যুর কারণে জিনের অস্তিত্ব বিলোপ হয়ে যাবে। এ বিষয়টিও জিনের মধ্যে বিয়ে-শাদীর প্রমাণ বহন করে।
জিনের বিয়ে-শাদীর ব্যাপারে কোরআনের আরেকটি আয়াতকেও প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আয়াতটি হচ্ছে : لَمْ يَطْمِثْهَنَّ إِنْسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جان 'কোন মানুষ ও জিন ইতিপূর্বে তাদের (হুরদের) সাথে সহবাস করেনি।' আয়াতে বর্ণিত অ এর অর্থ হল, সহবাস করা কিংবা সতীত্বের পর্দা দূর করা। আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, জিনেরাও সহবাস করে কিংবা সতীত্বের পর্দা দূর করে। অবশ্য কেউ কেউ এই শব্দের অর্থ বলেছেন, স্পর্শ করা। এর দ্বারা তারা যে, বিয়ে শাদী করে তা স্পষ্ট বুঝা যায়।
ইমাম বায়হাকী তাঁর 'শোআবুল ঈমান' গ্রন্থে সাবেত থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইবলিশ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করল, হে রব! আপনি আদমকে তৈরি করে আমার সাথে তার শত্রুতা সৃষ্টি করে দিয়েছেন; আমাকে তার উপর নিয়ন্ত্রণ শক্তি দান করুন। আল্লাহ বলেন: তাদের বুক হল তোর বাসস্থান। ইবলিশ বলল,
আরো বাড়ান। আল্লাহ বলেন, আদম সন্তান একজন জন্মগ্রহন করলে তোর সন্তান জন্মগ্রহন করবে ১০টি। তারপর ইবলিশ আরো বাড়ানোর প্রার্থনা জানায়। আল্লাহ বলেন :
وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُم بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِم بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِى الْاَمْوَالِ وَالْاَوْلَادِ وَعِدْهُمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُوْرًا.
‘তুই তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস তাকে নিজ আওয়াজ দ্বারা এবং নিজ অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা আক্রমণ করে সত্যাস্ত কর, তাদের অর্থ সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যা এবং তাদেরকে (মিথ্যা) প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না।
(সূরা বনি ইসরাইল-৬৪)
এ আয়াতে ইবলিশের অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনীর কথা উল্লেখ আছে। তারা তাদের সন্তান-সন্তুতি বা বংশধর। বিয়ে ছাড়া বংশধর হতে পারে না।
ইবনুল মুনজের শা’বী থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁকে প্রশ্ন করা হল, ইবলিসের স্ত্রী আছে কি? তিনি উত্তরে বলেন : এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনি।
কাজী আব্দুল জাব্বার বলেছেন : আয়াতে বর্ণিত “যুররিয়া” শব্দ দ্বারা সন্তান ও স্ত্রীকে বুঝানো হয়। তাদের সূক্ষ্মতা সূক্ষ্ম সন্তান উৎপাদনে পথে বাঁধা নয়। তিনি বলেন, আপনি কি এমন সূক্ষ্ম প্রাণী দেখেন না, যাকে গভীর পর্যবেক্ষণ বা অনুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া চোখে দেখা যায় না? কিন্তু তাদেরও বংশ আছে। আল্লাহর সৃষ্টিজগতে ক্ষুদ্রাতিসুক্ষ্ম প্রাণী রয়েছে। আল্লাহ বলেন : “তিনি পবিত্র যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদ, মানুষ এবং যা তারা জানে না, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা ইয়াসিন-৩৬)
আল্লাহ জিন সহ অন্য যে কোন প্রাণীর বংশবৃদ্ধি এবং সৃষ্টি করতে সক্ষম।
সৃষ্টির জন্য তাঁর শুধু হুকুমই যথেষ্ট। এটাই তিনি কোরআন মজিদে বলেছেন-
إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُوْلَ لَهُ كُنْ فَيَكُوْنُ
“তিনি যখন কোন কিছু করার ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়।” (সূরা ইয়াসিন-৮২)

টিকাঃ
১. মাকায়েশ শয়তান আবু বকর বিন দুনিয়া।
১. তাফসীর, আফওয়া-আল বায়ান-আল্লামা শাওকানী ৪র্থ খন্ড পৃঃ ১২২।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনের মৃত্যু

📄 জিনের মৃত্যু


জিনেরা মৃত্যু বরণ করে। এমর্মে আল্লাহ্‌ পবিত্র কোরআন মজীদে বলেছেন- أُولَئِكَ الَّذِينَ حَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ
"তাদের আগে যেসব জিন ও মানুষ গত হয়েছে, তাদের মধ্যে এ ধরনের লোকদের প্রতিও শাস্তিবাণী অবধারিত হয়ে গেছে।" (সূরা আহকাফ-১৮)
এ আয়াতে, মানুষ ও জিনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। বর্ণিত আছে, এক সাহাবী এক সাপকে হত্যা করেছিলেন। সাপটি ছিল একটি জিন, সে বিষাক্ত সাপের আকৃতি ধারণ করেছিল।
আবুশ শেখ তাঁরা আজামাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করল, জিনেরা কি মৃত্যু বরণ করে? তিনি বলেন, 'হাঁ, তবে ইবলিশ ব্যতীত। তারপর জিজ্ঞেস করল, জিন নামক সাপ সম্পর্কে আপনার মত কি? তিনি বলেন, 'তা হচ্ছে ছোট জিন'।
ইবনু শাহীন তাঁর 'গারায়েবুস সুনান' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে উল্লেখ করেছেন, ইবলিশ যুগের আবর্তনে বৃদ্ধ হয়ে যায় তারপর আবার ৩০ বছরের যুবকে পরিণত হয়।
ইবনু আবিদ দুনিয়া আ'সেম আল-আহওয়াল থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রবী' বিন আনাসকে জিজ্ঞেস করলাম, মানুষের সাথে মওজুদ শয়তানের মৃত্যু সম্পর্কে আপনার রায় কি?
তিনি বলেন, একজন মুসলমানের পেছনে একজন শয়তান লাগা থাকে। সে তাকে বিপদে ফেলার পর চালে যায়।
অর্থাৎ সর্বদাই একজন শয়তান সাথীর মত লাগা থাকে। কাজ শেষ হলে চলে যায়।
ইবনু আবিদ দুনিয়া নিজ গ্রন্থে এবং আবুশ শেখ তাঁর 'আজামাহ' গ্রন্থে আবদুল্লাহ বিন হারেস থেকে বর্ণনা করেছেন, 'জিনেরা মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু শয়তান মৃত্যু বরণ করে না।' অর্থাৎ ইবলিশ মরে না।
আল্লামা জুয়াইবার নিজ তাফসীরে দাহ্হাক থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, মৃত্যুর ফেরেশতাকে মানুষ ও ফেরেশতার রূহ হরন, জিনের রূহ হরণের জন্য এক ফেরেশতা, শয়তানের রূহ হরণের জন্য এক ফেরেশতা, পাখী, হিংস্র প্রাণী ও প্রাণীর রূহ হরণের জন্য এক ফেরেশতা এবং মাছের রূহ হরণের জন্য ৪ জন ফেরেশতাকে নিয়োজিত করা হয়েছে। অর্থাৎ জিন যে মরে, এ বক্তব্য তার প্রমাণ।
জিন যখন যে আকৃতি ধারণ করে তখন সে আকৃতিতে তাকে হত্যা করা সম্ভব। অনেকেই বিড়াল ও কাক, কুকুর ও সাপের আকৃতি ধারণকারী জিনকে হত্যা করেছে। জিন হত্যার কারণে বিভিন্ন সময় মানুষ ও জিনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। মক্কার বনি সাহাম গোত্রের সাথে একবার জিনের যুদ্ধ হয়েছিল। ১. ইবলিশ মরেনা, কিন্তু তার বংশধরগণ মরে।

টিকাঃ
১. আখবারে মক্কা আল-ফাকেহী

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনের ওপর শরীয়তের হুকুম প্রযোজ্য

📄 জিনের ওপর শরীয়তের হুকুম প্রযোজ্য


মানুষের মত জিনের উপরও শরীয়তের হুকুম প্রযোজ্য। এজন্য তাদেরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহী করতে হবে। অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম পালন করলে পুরস্কার পাবে এবং অমান্য করলে শাস্তি হবে। ইবনু আবদুল বার বলেছেন, নিম্নোক্ত দু'টো আয়াতে আল্লাহ মানুষের সাথে জিনদেরকেও সম্বোধন করেছেন। يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ . “হে জিন, ও মানুষ সম্প্রদায় তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ নেয়ামতটিকে অস্বীকার করবে?" ইমাম রাজী তাঁর তাফসীরে উল্লেখ করেছেন যে, সবাই এ বিষয় একমত যে, সকল জিনের উপর শরীয়তের পাবন্দী জরুরী।
কাজী আবদুল জাব্বার বলেছেন, জিনের জন্য শরীয়তের হুকুম প্রযোজ্য হওয়ার বিষয়ে চিন্তাবিদদের মধ্যে কোন মতভেদ আছে বলে আমরা জানি না। যারকান ও গাস্সান উল্লেখ করেছেন যে, জিনেরা নিজ নিজ কাজ করতে বাধ্য, তাদের উপর শরীয়তের হুকুম প্রযোজ্য নয়। পক্ষান্তরে যারা বলেন যে, জিনের জন্য শরীয়তের হুকুম প্রযোজ্য, তাদের প্রমাণ হচ্ছে পবিত্র কোরআন মজীদ শয়তানের মন্দ ও খারাপ কাজের নিন্দা করে অভিশাপের কথা ঘোষণা করেছে এবং তাদের জন্য প্রস্তুত আজাবের কথা জানিয়ে দিয়েছে। যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ লংঘন করে, গুনাহ কবীরা করে এবং নিষিদ্ধ কাজ করে বেড়ায়, অথচ এগুলো না করার শক্তি ও এখতিয়ার রাখে, আল্লাহ কেবল তাদের জন্যই শাস্তি ও অভিশাপের কথা ঘোষণা করে থাকেন। এছাড়াও শয়তানকে অভিশাপ দেয়া তাদের অবস্থা বর্ণনা করা, মন্দ ও গুনাহর কাজের প্রতি তাদের আহবান ও ওয়াসওয়াসার বিষয়ে নবী (সঃ)-এর শরীয়তের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। এসব কিছুই জিনের জন্য শরীয়ত প্রযোজ্য হওয়ার প্রমাণ।
আরো প্রমাণ হল, আল্লাহ পবিত্র কোরআন মজীদে বলেছেন: قُلْ أُوحِيَ إِلَى أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَر مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قرآنا عَجَبًا - يَهْدِى إِلَى الرَّشْدِ فَأَمَنَّا بِهِ ، وَلَنْ نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا .
“(হে নবী!) আপনি বলুন যে, একদল জিন কোরআন শুনেছে। অতঃপর তারা বলেছে, আমরা আশ্চর্যজনক কোরআন শুনেছি। যা সৎপথ দেখায়। ফলে, আমরা এর উপর ঈমান এনেছি, আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক করবো না।" (সূরা জিন : ১-২)
এ আয়াতে জিনদের হেদায়েত গ্রহণ এবং শিরক না করার অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে। শরীয়তের পাবন্দ না হলে তারা এরকম বলবে কেন?
হাদীসে আরো এসেছে, নবী করীম (সঃ) একবার হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদকে সাথে নিয়ে বের হন। বর্তমানে মক্কায় মসজিদে জিনের কাছে একটি দাগ দিয়ে তিনি তাঁকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলেন। সেখানেই জিনেরা এসে তাঁর কাছে দীন শিক্ষা করেছে। তাদের জন্য শরীয়ত প্রযোজ্য না হলে তারা দীন শিখতে আসবে কেন?
আল্লামা, ইজুদিন্ন বিন জামাআ'হ 'বাদউল আমানী'র ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন, শরীয়তের পাবন্দ লোক তিন প্রকার। ১ম প্রকার হচ্ছে, যাদেরকে সৃষ্টির ১ম দিন থেকেই নিশ্চিতভাবে শরীয়তের পাবন্দ বানানো হয়েছে। তারা হলেন, ফেরেশতা এবং আদম ও হাওয়া। ২য় প্রকার হচ্ছে, প্রথমেই শরীয়তের পাবন্দ বানানো হয় না বরং পরে অর্থাৎ বালেগ হলে বানানো হয়। তারা হল, আদম সন্তান। ৩য় প্রকার হল, মতভেদপূর্ণ। তবে এটা সুস্পষ্ট যে, তারা ১ম থেকেই শরীয়তের পাবন্দ। তারা হল জিন।
পরকালে, জিনের ভাল ও মন্দ কাজের হিসেব নেয়া হবে এবং তাদেরকে শাস্তি ও পুরস্কার দেয়া হবে। সেজন্যই জিনদের মধ্যে ভাল ও মুসলমান জিনের অস্তিত্ব রয়েছে। যারা মানুষের কোন ক্ষতি করে না। তারাই হচ্ছে নেক জিন।
ইবনে মোফলেহ হাম্বলী তাঁর কিতাবুল ফরু' গ্রন্থে লিখেছেন, জিনদের উপর শরীয়তের হুকুম প্রযোজ্য। তাদের মধ্যে মোমেন জিনেরা বেহেশতে এবং কাফের জিনেরা দোজখে যাবে। তারা পশুর মত মাটি হয়ে যাবে না। তারা তাদের সওয়াব ও গুনাহ অনুসারে পুরস্কার ও শান্তি পাবে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: 'জিন বিভিন্ন সীমারেখা এবং বাস্তব সত্যের ক্ষেত্রে মানুষের মত নয়। তাই আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ পালনের ক্ষেত্রে জিনেরা কখনও মানুষের সমান হতে পারে না। তবে তারাও শরীয়তের আদেশ নিষেধ এবং হালাল-হারামের অংশীদার। যেমন বিয়ে-শাদী ইত্যাদি। আমাদের কোন কোন সাথীর মতে, সকল বিষয়েই তারা মানুষের সমান। মুগনী কিতাবে উল্লেখ আছে, জিনের জন্য অসিয়ত করা জায়েয নেই। তারা কোন জিনিসের মালিক হতে পারে না। যেমন দান বা হেবা ইত্যাদি।
ইবনে হামেদ এবং আবুল বাকা বলেছেন মানুষের নামাজ সহীহ-শুদ্ধ হওয়ার জন্য যা শর্ত জিনের জন্যও তা শর্ত। ইবনু হামেদের বক্তব্য দ্বারা এটাও বুঝা যায় যে, মানুষের মত জিনের উপরও যাকাত ফরজ। তারা মানুষের মতই অজু, নামাজ, হজ্জ, যাকাত ও রোজার ক্ষেত্রে সমান।
অনুরূপভাবে জুলুম মানুষ এবং জিনের উভয়ের জন্যই হারাম। কেউ যেন কারো উপর জুলুম না করে। মহানবী (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ বলেন: يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلَا تَظَالَمُوا .
"হে আমার বান্দাহগণ। আমি আমার নিজের উপর জুলুমকে হারাম করেছি, তোমাদের উপরও তাকে হারাম করলাম। তোমরা কেউ কারো উপর জুলুম করো না।” (মুসলিম ও আহমদ) কেউ জুলুম করলে সাধ্যমত সেই জুলুমের প্রতিরোধ করা জরুরী। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) ভুতে পাওয়া লোকের কাছে এসে তাকে ওয়াজ-নসীহত করতেন এবং সৎকাজের আদেশ করতেন ও মন্দ কাজ থেকে বারণের উপদেশ দিতেন। তাতেই যদি ভূত রোগীকে ছেড়ে চলে যেতে চায়, তিনি তার কাছ থেকে পুনরায় ফিরে না আসার অঙ্গীকার আদায় করতেন। আর ছেড়ে যেতে না চাইলে তাকে মার দিতেন যে পর্যন্ত না ভূত চলে যায়। মার বাহ্যতঃ মানুষের উপর পড়ে। কিন্তু আসলে তা ভূতের উপরই পড়ে। এজন্য সে ব্যথা পায় ও চীৎকার করে। হুঁশ ফিরে এলে ভুত রোগীকে বলে আমি মারের ব্যথা অনুভব করিনি। এটা আসলে মিথ্যা কথা।
আবুল মা'আলী বলেন জিনেরা। শরীয়তের পাবন্দ হওয়ায় তাদের কাছে মানুষের সতর ঢাকা ফরজ। যেহেতু তারা অপরিচিত লোক। কোন জিন কোন মৃত মানুষের গোসল দিলে মুর্দারের গোসলের ফরজ আদায় হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে নিজের জবেহ করা পশু-বিসমিল্লাহ বলে জবেহ করলে খাওয়াও জায়েয হবে। ১.

টিকাঃ
১. আকামুল মারজান-কাজী বদরুদ্দিন শিবলী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00