📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিন ছাড়াতে ঝাড়ফুঁক

📄 জ্বিন ছাড়াতে ঝাড়ফুঁক


একদা আবু হাবেস জুহনী কে নবী বললেন, "হে আবু হাবেস! আমি তোমাকে উত্তম ঝাড়-ফুঁকের কথা বলে দেব না কি, যার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনাকারীরা আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকে?" তিনি বললেন, 'অবশ্যই বলে দিন।' নবী এই (ফালাক ও নাস) সূরা দুটিকে উল্লেখ করে বললেন, "এ সূরা দুটি হল মুআব্বিযাতান (ঝাড়-ফুঁকের মন্ত্র)। "৪২২
নবী মানুষ ও জ্বিনের বদ নজর থেকে (আল্লাহর) নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। যখন এই দুটি সূরা অবতীর্ণ হল, তখন থেকে তিনি ঐ দুটিকে প্রত্যহ পড়ার অভ্যাস বানিয়ে নিলেন এবং বাকী অন্যান্য (দু'আ) বর্জন করলেন।
* প্রথমতঃ যেন তা কুরআনী আয়াত, (সহীহ) দু'আয়ে রসূল অথবা আল্লাহর আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলী) দ্বারা হয়।
* দ্বিতীয়তঃ আরবী ভাষায় এবং তার অর্থ বোধগম্য হয়।
* তৃতীয়তঃ যেন রোগী ও ঝাড়ফুঁককারী এই বিশ্বাস রাখে যে, ঝাড়ফুঁকের (অনুরূপভাবে ঔষধের) নিজস্ব কোন শক্তি বা তাসীর নেই। বরং (তা আল্লাহর দানে) আরোগ্য তাঁর ইচ্ছা ও তকদীরের উপর হয়। অতএব কোন ফিরিশতা, জ্বিন বা কোন দেবতার নামের যিক্র নিয়ে অথবা কোন অর্থহীন মনগড়া হিজিবিজি মন্ত্রতন্ত্র দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা বা করানো শির্কের অন্তর্ভুক্ত। রসূল বলেছেন,
إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتَّوَلَةَ شِرْكٌ
"নিশ্চয়ই মন্ত্র-তন্ত্র, তাবীয-কবচ এবং যোগ-যাদু ব্যবহার করা শির্ক।”৪২৩ একদা তিনি সাহাবাগণকে বললেন,
اعْرِضُوا عَلَى رُقَاكُمْ، لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ
"তোমরা তোমাদের ঝাড়-ফুঁকের মন্ত্রগুলি আমার নিকট পেশ কর। ঝাড়-ফুঁক করায় দোষ নেই; যতক্ষণ তাতে শির্ক না থাকে। "৪২৪
তিনি আরো বলেছেন, "যে ব্যক্তি তার ভাইকে উপকৃত করতে সক্ষম, সে যেন তার উপকার করে। "৪২৫
চিকিৎসার জন্য কুরআনী আয়াত পাঠ করে পানিতে দম করে অথবা পবিত্র পাত্রে লিখে তা ধৌত করে পান করানো যায়। ৪২৬ পানিতে ফুঁক দেওয়া নিষিদ্ধ হলেও কুরআনী আয়াতের বর্কতমিশ্রিত থুথু উপকারী হবে ইনশা-আল্লাহ।
এ ছাড়া কুরআনী আয়াত লিখে তাবীয বানিয়ে ব্যবহার করাও বৈধ নয়। পরন্তু আবজাদী না বানিয়ে, ফিরিশতা বা শয়তানের নাম দিয়ে অথবা তেলেস্মাতি কবচ তৈরী করে ব্যবহার শির্ক তা সর্বদা মনে রাখা দরকার। চিকিৎসককে (এবং রোগীকেও) এসব বিষয়ে অধিক সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত, যাতে কোন শির্ক না করে বসে। আর রোগীর পরিবারের উচিত, তারা যেন রোগীর জন্য কোন শির্কী চিকিৎসা বা মুশরিক চিকিৎসক ব্যবহার না করে।

টিকাঃ
৪২২. নাসাঈ মাথ, হা/৫০২০
৪২৩. ইবনে মাজাহ তাও. হা/৩৫৩০, সিলসিলাহ আহাদীসুস সহীহাহ মাশা. হা/৩৩১
৪২৪. মুসলিম মাশা. হা/৫৮৬২
৪২৫. মুসলিম মাশা. হা/৫৮৬১
৪২৬. ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়‍্যাহ ১৯/৬৪

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিনকে তুষ্ট করে বিদায় করা

📄 জ্বিনকে তুষ্ট করে বিদায় করা


বৈধ কোন শর্ত হলে তা মেনে নিয়ে তার জ্বালাতন থেকে মুক্তি নেওয়াতে সমস্যা নেই। কিন্তু জ্বিনের কথা বা শর্ত মতো কোন পশু তার নামে বলিদান করে বা তাকে সিজদা করে সন্তুষ্ট করে দূর করা পাক্কা শির্ক। বৈধ নয় অন্য কোন হারাম পদ্ধতিতে চিকিৎসা। যেমন চেহারা পুড়িয়ে বা আগুনের ছেঁকা দিয়ে অথবা হারাম কিছু ভক্ষণ করিয়ে চিকিৎসা বৈধ নয়। জ্ঞাতব্য যে, রোগীর কাছে জ্বিন না থাকলেও আমভাবে কুরআনী চিকিৎসা ফলপ্রসূ। যেহেতু কুরআন হার্দিক ও শারীরিক সর্বরোগের ঔষধ। আর আল্লাহই নিরাময়কর্তা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00