📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শয়তানের বিরোধিতা

📄 শয়তানের বিরোধিতা


শয়তানের চক্রান্ত জানার পর তার আদেশের বিরোধিতা করা কর্তব্য। যেমন সে যদি কোন শুভাকাঙ্ক্ষীর বেশে এসে উপদেশ দেয়, তাহলে নিশ্চয় তার উপদেশ ক্ষতিকর। সুতরাং সে ক্ষেত্রে তাকে বলা উচিত, 'তুমি যদি কারো উপদেষ্টা হতে, তাহলে নিজেকে আগে উপদেশ দিতে। তুমি তো নিজেকেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছ এবং তোমার প্রতিপালককে ক্রোধান্বিত করেছ। তবে আবার অপরকে কী উপদেশ দেবে?

হারেষ বিন কাইস বলেছেন, "নামাযরত অবস্থায় শয়তান যদি তোমার কাছে এসে বলে, 'তুমি লোককে প্রদর্শন করে নামায পড়ছ', তাহলে তোমার নামাযকে আরো লম্বা কর।"³⁷⁸ যখন আমরা জানব যে, অমুক জিনিস বা কর্মকে শয়তান পছন্দ করে বা ভালোবাসে, তখন আমাদের উচিত তার বৈপরীত্য করা।

যেমন আমরা জানি, শয়তান বাম হাতে পানাহার করে, বাম হাত দ্বারা লেনদেন করে। সুতরাং আমাদের উচিত নয়, বাম হাতে পানাহার না করা, বাম হাত দ্বারা লেনদেন না করা। নবী বলেছেন,

لِيَأْكُلْ أَحَدُكُمْ بِيَمِينِهِ ، وَلْيَشْرَبُ بِيَمِينِهِ ، وَلْيَأْخُذُ بِيَمِينِهِ ، وَلْيُعْطِ بِيَمِينِهِ ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ ، وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ ، وَيُعْطِي بِشِمَالِهِ ، وَيَأْخُذُ بِشِمَالِهِ

"তোমাদের প্রত্যেকেই যেন নিজ ডান হাত দ্বারা আহার করে, ডান হাত দ্বারা পান করে, ডান হাত দ্বারা গ্রহণ করে ও ডান হাত দ্বারা প্রদান করে। কারণ শয়তান নিজ বাম হাত দ্বারা আহার করে, বাম হাত দ্বারা পান করে, বাম হাত দ্বারা প্রদান করে ও বাম হাত দ্বারা গ্রহণ করে। "³⁷⁹

দাঁড়িয়ে পানি পান করা জায়েয হলেও, ঠিক নয়। কারণ দাঁড়িয়ে পানি পান করলে পান কাজে শয়তান শরীক হয়। তাই আমাদের উচিত, বসে পানি পান করা। নবী এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে দাঁড়িয়ে পান করছে। তিনি তাঁকে বললেন, "বমি করে ফেলো।" সে বলল, 'কেন?' তিনি বললেন, "তুমি কি এতে খুশী হবে যে, তোমার সাথে বিড়ালও পান করুক?" সে বলল, 'না।' তিনি বললেন,

فَإِنَّهُ قَدْ شَرِبَ مَعَكَ مَنْ هُوَ شَرٌّ مِنْهُ، الشَّيْطَانُ

"কিন্তু তোমার সাথে এমন কেউ পান করেছে, যে বিড়াল থেকেও নিকৃষ্ট, শয়তান।”³⁸⁰ শয়তান দুপুরে বিশ্রাম নেয় না। আমাদের বিশ্রাম নেওয়া উচিত। নবী বলেছেন,

قِيلُوا فَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَا تَقِيلُ

অর্থাৎ, দুপুরে বিশ্রাম নাও। কারণ শয়তানরা দুপুরে বিশ্রাম নেয় না। ³⁸¹ অপচয় করা শয়তানের কাজ। তাই কুরআন আমাদেরকে অপচয় করতে নিষেধ করে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا - إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا

"কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় যারা অপব্যয় করে, তারা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।"³⁸²

অযথা মাল ব্যয় করা বা অপব্যয় করা বৈধ নয়। বৈধ নয় অপ্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র রাখা এবং প্রয়োজনের অধিক বিছানা রাখা। যেহেতু রসূল বলেছেন,

فِرَاشُ لِلرَّجُلِ وَفِرَاشُ لِلْمَرْأَةِ وَفِرَاشُ لِلضَّيْفِ وَالرَّابِعُ لِلشَّيْطَانِ

"একটি বিছানা পুরুষের জন্য, আরেকটি স্ত্রীর জন্য, আরো একটি মেহমানের জন্য। আর চতুর্থটি শয়তানের জন্য।"³⁸³ এমনকি খেতে খেতে আমাদের হাত হতে যে খাদ্যাংশ মাটিতে পড়ে যায়, তাও পরিষ্কার করে খেতে হবে। নচেৎ তা যাবে শয়তানের পেটে। নবী বলেছেন,

إِنَّ الشَّيْطَانَ يَحْضُرُ أَحَدَكُمْ عِنْدَ كُلِّ شَيْءٍ مِنْ شَأْنِهِ ، حَتَّى يَحْضُرَهُ عِنْدَ طَعَامِهِ ، فَإِذَا سَقَطَتْ لُقْمَةُ أَحَدِكُمْ فَلْيَأْخُذْهَا فَلْيُمِطْ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أَذِى ، ثُمَّ لِيَأْكُلُهَا وَلَا يَدَعْهَا لِلشَّيْطَانِ ، فَإِذَا فَرَغَ فَلْيَلْعَقُ أَصَابِعَهُ ، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي فِي أَيِّ طَعَامِهِ البَرَكَةُ

"শয়তান তোমাদের সমস্ত কাজ কর্মে তোমাদের নিকট উপস্থিত হয়; এমনকি তোমাদের খাবারের সময়েও উপস্থিত হয়। সুতরাং যখন কারো খাবার লুকমা (থালার বাইরে) পড়ে যায়, তখন সে যেন তা তুলে তা থেকে নোংরা পরিষ্কার করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ফেলে না রাখে। আর আহারান্তে আঙ্গুলগুলি চেটে নেয়। কারণ, তার জানা নেই যে, তার কোন্ খাবারে বর্কত নিহিত আছে।"³⁸⁴

টিকাঃ
৩৭৮. তালবীসু ইবলীস ৩৮পৃ.
৩৭৯. ইবনে মাজাহ তাও, হা/৩২৬৬
৩৮০. মুসনাদে আহমাদ মাশা. হা/৮০০৩, সিলসিলা আহাদীসুস সহীহা মাশা, হা/১৭৫
৩৮১. ত্বাবারানীর আওসাত্ব, সহীহুল জামে' লিল আলবানী, মাশা, হা/৪৪৩১
৩৮২. সূরা বানী ইসরাঈল-১৭:২৬-২৭
৩৮৩. মুসনাদে আহমাদ মাশা, হা/১৪৪৭৫, মুসলিম মাশা, হা/৫৫৭৩, আবু দাউদ আলএ. হা/৪১৪২
৩৮৪. মুসলিম মাশা. হা/৫৪২৩

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শয়তানের বাহন

📄 শয়তানের বাহন


যে সকল পশু (ঘোড়া, উট) দ্বারা জুয়া খেলা হয়, তা আসলে শয়তানের বাহন। নবী বলেছেন,

الْخَيْلُ ثَلَاثَةٌ فَفَرَسٌ لِلرَّحْمَنِ وَفَرَسٌ لِلْإِنْسَانِ وَفَرَسٌ لِلشَّيْطَانِ فَأَمَّا فَرَسُ الرَّحْمَنِ فَالَّذِي يُرْبَطُ فِي سَبِيلِ اللهِ فَعَلَفُهُ وَرَوْثُهُ وَبَوْلُهُ فِي مِيزَانِهِ، وَأَمَّا فَرَسُ الشَّيْطَانِ فَالَّذِي يُقَامَرُ أَوْ يُرَاهَنُ عَلَيْهِ وَأَمَّا فَرَسُ الْإِنْسَانِ فَالْفَرَسُ يَرْتَبِطُهَا الْإِنْسَانُ يَلْتَمِسُ بَطْنَهَا فَهِيَ تَسْتُرُ مِنْ فَقْرٍ

"ঘোড়া হল তিনটিঃ একটি রহমানের জন্য, একটি ইনসানের জন্য এবং আরেকটি শয়তানের জন্য। সুতরাং যেটি রহমানের জন্য, তা হল সেটি, যেটিকে আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) বাঁধা হয়েছে। তার খাদ্য, লাদ ও পেসাব ইত্যাদি তার (মালিকের) মীযানে রাখা হবে। শয়তানের ঘোড়া সেটি, যেটির মাধ্যমে জুয়া খেলা বা বাজি ধরা হয়। আর ইনসানের ঘোড়া সেটি, যেটিকে মানুষ বেঁধে রেখে তার পেটের বাচ্চা অনুসন্ধান করে। সুতরাং সে তাকে দারিদ্র্য থেকে পর্দা করে। "³⁸⁵

টিকাঃ
৩৮৫. মুসনাদে আহমাদ মাশা. হা/৩৭৫৬

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জলদিবাজি শয়তানের কাজ

📄 জলদিবাজি শয়তানের কাজ


শয়তান যে সকল কাজকে ভালোবাসে, তার মধ্যে একটি হল জলদিবাজি ও তাড়াহুড়া করা। যেহেতু তাড়ার কাজ বাড়া হয় এবং তাতে ভুল সংঘটিত হয় অনেক। নবী বলেছেন,

التَّأَنِّي مِن الله، والعَجَلَةُ مِنَ الشَّيْطَانِ

"ধীর-স্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর জলদিবাজি শয়তানের পক্ষ থেকে।"³⁸⁶

সুতরাং শয়তানের বিপরীত করে আমাদের উচিত, সেই আচরণ গ্রহণ করা, যা রহমান ভালোবাসেন। নবী আশাজ্জ আব্দুল কাইসকে বলেছিলেন,

إِنَّ فِيكَ خَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ : الْحِلْمُ وَالأَنَاةُ

"নিশ্চয় তোমার মধ্যে এমন দু'টি স্বভাব রয়েছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন; সহনশীলতা ও চিন্তা-ভাবনা (ধীরে-সুস্থে) করে কাজ করা।"³⁸⁷

টিকাঃ
৩৮৬. বাইহাক্বী, সিলসিলা আহাদীসুস সহীহা মাশা. হা/১৭৯৫
৩৮৭. মুসলিম মাশা. হা/১২৬-১২৭

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 হাই শয়তানের পক্ষ থেকে

📄 হাই শয়তানের পক্ষ থেকে


হাই তোলা বা মুখ ব্যাদানো শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। এটা শয়তান পছন্দ করে এবং আল্লাহ অপছন্দ করেন। আমাদের উচিত আল্লাহর পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়া। নবী বলেছেন,

إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ ، وَيَكْرَهُ التَّقَاؤُبَ ، فَإِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ وَحَمِدَ الله تَعَالَى كَانَ حَقًّا عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَهُ أَنْ يَقُولَ لَهُ : يَرْحَمُكَ اللَّهُ ، وَأَمَّا التَّشَاؤُبُ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ ، فَإِذَا تَشَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا تَشَاءَبَ ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ

"আল্লাহ তাআলা হাঁচি ভালবাসেন, আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। অতএব তোমাদের কেউ যখন হাঁচবে এবং 'আলহামদুলিল্লা-হ' পড়বে তখন প্রত্যেক মুসলিম শ্রোতার উচিত হবে যে, সে তার জবাবে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলবে। আর হাই তোলার ব্যাপারটা এই যে, তা হচ্ছে শয়তানের পক্ষ থেকে (আলস্য ও কজ্জান্তির লক্ষণ)। অতএব কেউ যখন হাই তুলবে তখন সে যেন যথাসাধ্য তা রোধ করে। কেননা, যখন তোমাদের কেউ হাই তোলে, তখন শয়তান তা দেখে হাসে।"³⁸⁸ তিনি আরো বলেছেন,

إِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيُمْسِكُ بِيَدِهِ عَلَى فِيهِ ؛ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ

"যখন তোমাদের কেউ হাই তুলবে, তখন সে যেন আপন হাত দিয়ে নিজ মুখ চেপে ধরে রাখে। কেননা, শয়তান (মুখে) প্রবেশ করে থাকে।"³⁸⁹

যেহেতু হাই তোলা আলস্যের লক্ষণ। অলস মানুষ কাজে-কর্মে ও ইবাদতে নেহাতই কম। তাই শয়তান তাতে খুশী হয় ও হাসে। নিজের সাফল্য ও দুশমনের ক্ষতি দেখে তো দুশমন হাসবেই।

টিকাঃ
৩৮৮. বুখারী ইফা. হা/৫৬৮০, আপ্র. হা/৫৭৮৫, তাও. হা/৬২২৬
৩৮৯. মুসলিম মাশা. হা/৭৬৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00