📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 পঞ্চমতঃ মুসলিমদের জামাআতে একতাবদ্ধ থাকা

📄 পঞ্চমতঃ মুসলিমদের জামাআতে একতাবদ্ধ থাকা


যে সকল কর্ম মুসলিমকে শয়তান ও তার ফাঁদ থেকে দূরে রাখে, তার মধ্যে একটি হল মুসলিম দেশে বসবাস করা এবং সেখানে কোন বিদ্রোহী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের সাথে সম্পর্ক না রাখা। যেহেতু এক মুসলিম রাষ্ট্রনেতার নেতৃত্বে জামাআতবদ্ধভাবে বসবাস করাতে শয়তান অশান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ পায় না। ইবনে উমার বলেন, একদা উমার জাবিয়াতে আমাদের মাঝে খুতবা দিলেন। তাতে তিনি বললেন, 'হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে দন্ডায়মান হয়েছি, যেমন রসূলুল্লাহ আমাদের মাঝে দন্ডায়মান হতেন। তিনি যা বলতেন, তার মধ্যে কিছু অংশ এই যে,

عَلَيْكُم بِالْجَمَاعَة ، وَإِيَّاكُم والفرقة ؛ فَإِن الشَّيْطَانِ مَعَ الْوَاحِد ، وهُوَ من الاثنين أبعد

"তোমরা জামাআতবদ্ধভাবে বসবাস কর। বিচ্ছিন্নতা থেকে দূরে থাকো। কারণ শয়তান থাকে একলা মানুষের সাথে। দুজন থেকে থাকে বেশি দূরে।"³⁷⁴ এমনকি সফরেও জামাআতবদ্ধভাবে যাওয়া ও থাকা উচিত। যেহেতু নবী বলেছেন,

الرَّاكِبُ شَيْطَانٌ، وَالرَّاكِبَانِ شَيْطَانَانِ ، وَالثَّلَاثَةُ رَكْبٌ

"একজন (সফরকারী) আরোহী একটি শয়তান এবং দু'জন আরোহী দু'টি শয়তান। আর তিনজন আরোহী একটি কাফেলা।"³⁷⁵ আবূ সা'লাবা খুশানী বলেন, সাহাবাগণ সফরে যখন কোন স্থানে অবতরণ করতেন, তখন তাঁরা গিরিপথ ও উপত্যকায় ছড়িয়ে যেতেন। রসূলুল্লাহ বললেন,

إِنَّ تَفَرُّقَكُمْ فِي هَذِهِ الشَّعَابِ وَالْأَوْدِيَةِ إِنَّمَا ذَلِكُمْ مِنَ الشَّيْطَانِ

"তোমাদের এ সকল গিরিপথে ও উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত হওয়া আসলে শয়তানের কাজ।" এরপর তাঁরা যখনই কোন মঞ্জিলে অবতরণ করতেন, তখন একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে থাকতেন।³⁷⁶

জামাআত হল মুসলিমদের জামাআত। আর সে জামাআতের কোন মূল্য নেই, যে জামাআত হকপন্থী নয়। যে জামাআত কিতাব ও সহীহ সুন্নাহর অনুসারী নয়। যে জামাআত জামাআত-সহকারে স্বলাতের অভ্যাসী নয়। সে জামাআতে শয়তানের আধিপত্য থাকে। নবী বলেছেন,

مَا مِنْ ثَلَاثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلَا بَدْرٍ لاَ تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلَاةُ إِلَّا قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَعَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذَّئْبُ الْقَاصِيَةَ

“যে কোন গ্রাম বা মরু-অঞ্চলে তিনজন লোক বাস করলে এবং সেখানে (জামাআতে) নামায কায়েম না করা হলে শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে ফেলে। সুতরাং তোমরা জামাআতবদ্ধ হও। অন্যথা ছাগ পালের মধ্য হতে নেকড়ে সেই ছাগলটিকে ধরে খায়, যে (পাল থেকে) দূরে দূরে থাকে।”³⁷⁷

টিকাঃ
৩৭৪. সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/২১৬৫
৩৭৫. আবু দাউদ আলএ. হা/২৬০৯, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/১৬৭৪, নাসাঈ
৩৭৬. আবু দাউদ আলএ. হা/২৬৩০
৩৭৭. আবু দাউদ আলএ. হা/৫৪৭, নাসাঈ মাথ, হা/৮৪৭, মিশকাত হাএ. হা/১০৬৭

যে সকল কর্ম মুসলিমকে শয়তান ও তার ফাঁদ থেকে দূরে রাখে, তার মধ্যে একটি হল মুসলিম দেশে বসবাস করা এবং সেখানে কোন বিদ্রোহী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের সাথে সম্পর্ক না রাখা। যেহেতু এক মুসলিম রাষ্ট্রনেতার নেতৃত্বে জামাআতবদ্ধভাবে বসবাস করাতে শয়তান অশান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ পায় না। ইবনে উমার বলেন, একদা উমার জাবিয়াতে আমাদের মাঝে খুতবা দিলেন। তাতে তিনি বললেন, 'হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে দন্ডায়মান হয়েছি, যেমন রসূলুল্লাহ আমাদের মাঝে দন্ডায়মান হতেন। তিনি যা বলতেন, তার মধ্যে কিছু অংশ এই যে,
عَلَيْكُم بِالْجَمَاعَة ، وَإِيَّاكُم والفرقة ؛ فَإِن الشَّيْطَانِ مَعَ الْوَاحِد ، وهُوَ من الاثنين أبعد
"তোমরা জামাআতবদ্ধভাবে বসবাস কর। বিচ্ছিন্নতা থেকে দূরে থাকো। কারণ শয়তান থাকে একলা মানুষের সাথে। দুজন থেকে থাকে বেশি দূরে।"৩৭৪ এমনকি সফরেও জামাআতবদ্ধভাবে যাওয়া ও থাকা উচিত। যেহেতু নবী বলেছেন,
الرَّاكِبُ شَيْطَانٌ، وَالرَّاكِبَانِ شَيْطَانَانِ ، وَالثَّلَاثَةُ رَكْبٌ
"একজন (সফরকারী) আরোহী একটি শয়তান এবং দু'জন আরোহী দু'টি শয়তান। আর তিনজন আরোহী একটি কাফেলা।"৩৭৫

আবূ সা'লাবা খুশানী বলেন, সাহাবাগণ সফরে যখন কোন স্থানে অবতরণ করতেন, তখন তাঁরা গিরিপথ ও উপত্যকায় ছড়িয়ে যেতেন। রসূলুল্লাহ বললেন,
إِنَّ تَفَرُّقَكُمْ فِي هَذِهِ الشَّعَابِ وَالْأَوْدِيَةِ إِنَّمَا ذَلِكُمْ مِنَ الشَّيْطَانِ
"তোমাদের এ সকল গিরিপথে ও উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত হওয়া আসলে শয়তানের কাজ।" এরপর তাঁরা যখনই কোন মঞ্জিলে অবতরণ করতেন, তখন একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে থাকতেন।৩৭৬
জামাআত হল মুসলিমদের জামাআত। আর সে জামাআতের কোন মূল্য নেই, যে জামাআত হকপন্থী নয়। যে জামাআত কিতাব ও সহীহ সুন্নাহর অনুসারী নয়। যে জামাআত জামাআত-সহকারে স্বলাতের অভ্যাসী নয়। সে জামাআতে শয়তানের আধিপত্য থাকে। নবী বলেছেন,
مَا مِنْ ثَلَاثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلَا بَدْرٍ لاَ تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلَاةُ إِلَّا قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَعَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذَّئْبُ الْقَاصِيَةَ
“যে কোন গ্রাম বা মরু-অঞ্চলে তিনজন লোক বাস করলে এবং সেখানে (জামাআতে) নামায কায়েম না করা হলে শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে ফেলে। সুতরাং তোমরা জামাআতবদ্ধ হও। অন্যথা ছাগ পালের মধ্য হতে নেকড়ে সেই ছাগলটিকে ধরে খায়, যে (পাল থেকে) দূরে দূরে থাকে।”৩৭৭

টিকাঃ
৩৭৪. সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/২১৬৫
৩৭৫. আবু দাউদ আলএ. হা/২৬০৯, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/১৬৭৪, নাসাঈ
৩৭৬. আবু দাউদ আলএ. হা/২৬৩০
৩৭৭. আবু দাউদ আলএ. হা/৫৪৭, নাসাঈ মাথ, হা/৮৪৭, মিশকাত হাএ. হা/১০৬৭

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 ষষ্ঠতঃ শয়তানের পরিকল্পনা ও ফাঁদ সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ

📄 ষষ্ঠতঃ শয়তানের পরিকল্পনা ও ফাঁদ সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ


শয়তানের পরিকল্পনা, কৌশল, চক্রান্ত ও তার পাতা নানা ফাঁদ ও জাল সম্বন্ধে সম্যক্ ধারণা লাভ করতে পারলে তার হাত থেকে বাঁচা সহজ হয়। প্রত্যেক মুসলিমেরই তা জানা উচিত। আর জানা সহজ করে দিয়েছে কুরআন ও হাদীস।

আমরা জেনেছি---- কীভাবে শয়তান আমাদের আদি পিতা-মাতার সাথে চক্রান্ত করেছে এবং তাঁদেরকে জান্নাত থেকে বহিষ্কার করে ছেড়েছে।

কীভাবে শয়তানরা আসমানী খবর চুরি করে শুনে এসে তার বন্ধুদের কানে প্রক্ষিপ্ত করে এবং তারা শত মিথ্যা সংযোজিত করে মানুষের মাঝে প্রচার করে।

কীভাবে শয়তান মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয়, কীভাবে তাদের নামায ও ইবাদত নষ্ট করার চেষ্টা করে।

কীভাবে মানুষের উযূতে সন্দেহ সৃষ্টি করে।

কীভাবে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে।

কীভাবে নির্জন যুবক-যুবতীর মাঝে কোটনা সেজে আকর্ষণ সৃষ্টি করে।

কীভাবে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে বলে, 'এটা কে সৃষ্টি করেছে, ওটা কে সৃষ্টি করেছে?' পরিশেষে বলে, 'তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে?' যে জানবে, সে নিশ্চয়ই জেনে-শুনে তার ফাঁদে পা দেবে না। জীবন- যুদ্ধে শয়তানই সবচেয়ে বড় শত্রু। সুতরাং তার ব্যাপারে সতর্ক থাকা বিজয়াকাঙ্ক্ষীর একান্ত কর্তব্য।

শয়তানের পরিকল্পনা, কৌশল, চক্রান্ত ও তার পাতা নানা ফাঁদ ও জাল সম্বন্ধে সম্যক্ ধারণা লাভ করতে পারলে তার হাত থেকে বাঁচা সহজ হয়। প্রত্যেক মুসলিমেরই তা জানা উচিত। আর জানা সহজ করে দিয়েছে কুরআন ও হাদীস।
আমরা জেনেছি---- কীভাবে শয়তান আমাদের আদি পিতা-মাতার সাথে চক্রান্ত করেছে এবং তাঁদেরকে জান্নাত থেকে বহিষ্কার করে ছেড়েছে।
কীভাবে শয়তানরা আসমানী খবর চুরি করে শুনে এসে তার বন্ধুদের কানে প্রক্ষিপ্ত করে এবং তারা শত মিথ্যা সংযোজিত করে মানুষের মাঝে প্রচার করে।
কীভাবে শয়তান মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয়, কীভাবে তাদের নামায ও ইবাদত নষ্ট করার চেষ্টা করে।
কীভাবে মানুষের উযূতে সন্দেহ সৃষ্টি করে।
কীভাবে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে।
কীভাবে নির্জন যুবক-যুবতীর মাঝে কোটনা সেজে আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
কীভাবে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে বলে, 'এটা কে সৃষ্টি করেছে, ওটা কে সৃষ্টি করেছে?' পরিশেষে বলে, 'তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে?'
যে জানবে, সে নিশ্চয়ই জেনে-শুনে তার ফাঁদে পা দেবে না। জীবন-যুদ্ধে শয়তানই সবচেয়ে বড় শত্রু। সুতরাং তার ব্যাপারে সতর্ক থাকা বিজয়াকাঙ্ক্ষীর একান্ত কর্তব্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00