📄 সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রয় প্রার্থনার দু'আ
কুরআনী দু'আর তাবীয বা দু'আসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দু'আ হল সূরা ফালাক্ব ও নাস। নবী বলেছেন,
ألا أُخبِرُكَ بِأَفضَلِ مَا تَعَوَّذَ بِهِ الْمُتَعَوِّذُونَ : قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
অর্থাৎ, তাবীয ব্যবহারকারীরা যে সকল দু'আ দিয়ে তাবীয ব্যবহার করে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ তাবীয সম্বন্ধে বলে দেব না কি? সূরা ফালাক্ব ও নাস। ³⁵⁶
উকুবাহ বিন আমের বলেন, রসূলুল্লাহ একদা আমাকে বললেন, "তুমি কি দেখনি, আজ রাত্রে আমার উপর কতকগুলি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যার অনুরূপ আর কিছু দেখা যায়নি? (আর তা হল,) 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ব' ও 'কুল আউযু বিরাব্বিন নাস।"³⁵⁷
আবু সাঈদ খুদরী বলেন, 'রসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ব ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু'টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু'টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন। ¹³⁵⁸
আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব বলেন, একদা রসূলুল্লাহ আমাকে বললেন, "সকাল-সন্ধ্যায় 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সূরা ইখলাস) এবং 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ব' ও 'কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস' তিনবার করে পড়। তাহলে প্রতিটি (ক্ষতিকর) জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে। "³⁵⁹
টিকাঃ
৩৫৬. নাসাঈ, ত্বাবারানী, সহীহুল জামে' লিল আলবানী, মাশা. হা/২৫৯৩, ৭৮৩৯
৩৫৭. মুসলিম মাশা. হা/৮১৪, সহীহ আত-তিরমিযী
৩৫৮. সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/২০৫৮
৩৫৯. আবু দাউদ আলএ. হা/৫০৮৪, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/৩৫৭৫
কুরআনী দু'আর তাবীয বা দু'আসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দু'আ হল সূরা ফালাক্ব ও নাস। নবী বলেছেন,
ألا أُخبِرُكَ بِأَفضَلِ مَا تَعَوَّذَ بِهِ الْمُتَعَوِّذُونَ : قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
অর্থাৎ, তাবীয ব্যবহারকারীরা যে সকল দু'আ দিয়ে তাবীয ব্যবহার করে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ তাবীয সম্বন্ধে বলে দেব না কি? সূরা ফালাক্ব ও নাস।
উকুবাহ বিন আমের বলেন, রসূলুল্লাহ একদা আমাকে বললেন, "তুমি কি দেখনি, আজ রাত্রে আমার উপর কতকগুলি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যার অনুরূপ আর কিছু দেখা যায়নি? (আর তা হল,) 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ব' ও 'কুল আউযু বিরাব্বিন নাস।"৩৫৭
আবু সাঈদ খুদরী বলেন, 'রসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ব ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু'টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু'টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন। ১৩৫৮
আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব বলেন, একদা রসূলুল্লাহ আমাকে বললেন, "সকাল-সন্ধ্যায় 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সূরা ইখলাস) এবং 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ব' ও 'কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস' তিনবার করে পড়। তাহলে প্রতিটি (ক্ষতিকর) জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে। "৩৫৯
টিকাঃ
৩৫৬. নাসাঈ, ত্বাবারানী, সহীহুল জামে' লিল আলবানী, মাশা. হা/২৫৯৩, ৭৮৩৯
৩৫৭. মুসলিম মাশা. হা/৮১৪, সহীহ আত-তিরমিযী
৩৫৮. সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/২০৫৮
৩৫৯. আবু দাউদ আলএ. হা/৫০৮৪, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/৩৫৭৫
📄 শয়তান পাপকাজে প্ররোচিত করলে আপনি কী করবেন?
কথিত আছে, সলফদের একজন আলেম তাঁর ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'শয়তান তোমাকে পাপকার্যে প্ররোচিত করলে তুমি কী করবে?' সে বলেছিল, 'তার বিরুদ্ধে জিহাদ করব।' তিনি বললেন, 'আবার যদি ফিরে আসে?' সে বলল, 'আবারও জিহাদ করব।' তিনি বললেন, 'আবার যদি ফিরে আসে?' সে বলল, 'আবারও জিহাদ করব।'
তিনি বললেন, 'এভাবে তো ব্যাপারটা লম্বা হয়ে যাবে। আচ্ছা মনে কর, কোন ছাগল-ভেড়ার পালের পাশ দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছ, সে সময় পালের কুকুর যদি তোমাকে দেখে ভেকাতে শুরু করে অথবা পার হতে বাধা দেয়, তাহলে তুমি কী করবে?'
সে বলল, 'আমি প্রচেষ্টার সাথে তাকে প্রতিহত করব, তাকে হটাবার চেষ্টা করব।'
তিনি বললেন, 'এতেও তোমার সময় লম্বা হবে। তার চাইতে পালের মালিকের সাহায্য নাও, সে তার কুকুর ডেকে নিয়ে তোমার পথ ছেড়ে দেবে। ¹³⁶⁰
এ হল অভিজ্ঞ আলেমের দূরদর্শী জ্ঞান। সুতরাং শয়তান বিতাড়ন করতে এবং শয়তান থেকে নিরাপদ থাকতে একমাত্র পথ হল তার খালিক ও মালিকের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। এটাই করেছিলেন মারয়্যামের মা, ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ (আলাইহিমুস সালাম)।
টিকাঃ
৩৬০. তালবীসু ইবলীস ৪৮পৃ.
কথিত আছে, সলফদের একজন আলেম তাঁর ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'শয়তান তোমাকে পাপকার্যে প্ররোচিত করলে তুমি কী করবে?' সে বলেছিল, 'তার বিরুদ্ধে জিহাদ করব।' তিনি বললেন, 'আবার যদি ফিরে আসে?'
সে বলল, 'আবারও জিহাদ করব।'
তিনি বললেন, 'আবার যদি ফিরে আসে?'
সে বলল, 'আবারও জিহাদ করব।'
তিনি বললেন, 'এভাবে তো ব্যাপারটা লম্বা হয়ে যাবে। আচ্ছা মনে কর, কোন ছাগল-ভেড়ার পালের পাশ দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছ, সে সময় পালের কুকুর যদি তোমাকে দেখে ভেকাতে শুরু করে অথবা পার হতে বাধা দেয়, তাহলে তুমি কী করবে?'
সে বলল, 'আমি প্রচেষ্টার সাথে তাকে প্রতিহত করব, তাকে হটাবার চেষ্টা করব।'
তিনি বললেন, 'এতেও তোমার সময় লম্বা হবে। তার চাইতে পালের মালিকের সাহায্য নাও, সে তার কুকুর ডেকে নিয়ে তোমার পথ ছেড়ে দেবে। ৩৬০
এ হল অভিজ্ঞ আলেমের দূরদর্শী জ্ঞান। সুতরাং শয়তান বিতাড়ন করতে এবং শয়তান থেকে নিরাপদ থাকতে একমাত্র পথ হল তার খালিক ও মালিকের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। এটাই করেছিলেন মারয়্যামের মা, ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ (আলাইহিমুস সালাম)।
টিকাঃ
৩৬০. তালবীসু ইবলীস ৪৮পৃ.
📄 আশ্রয় প্রার্থনার পরেও শয়তান ভাগে না কেন?
অনেকেই বলে থাকেন, আমরা শয়তান ভাগাবার চেষ্টায় বহুবার 'আঊযু বিল্লাহ'-সহ আরো অন্যান্য দু'আ-সূরা পড়ি, কিন্তু তা সত্ত্বেও অনুভব করি, যেন শয়তান অসঅসা দিচ্ছে, মন্দ কাজে উদ্বুদ্ধ করছে এবং আমাদের স্বলাতের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। এর কারণ কী?
উত্তর : আসলে এই 'ইস্তিআযাহ' বা শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা যোদ্ধার হাতে একটি তরবারির মতো। সুতরাং তার হাত যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে তরবারি দুশমনের সঠিক জায়গায় আঘাত করে। আর হাত শক্তিশালী না হলে আঘাত পড়ে না, যদিও তরবারি চকচকে ধারালো হয়। অনুরূপ 'ইস্তিআযাহ', যদি তা পরহেযগার মু'মিন প্রয়োগ করে, তাহলে তা হয় জ্বলন্ত অগ্নিবাণ, শয়তানকে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে। পক্ষান্তরে তা যদি কোন দুর্বল ঈমানের লোক প্রয়োগ করে, তাহলে তা দুশমনের ভিতরে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না।
আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেছেন, “জেনে রেখো যে, পরহেযগার ও অপরহেযগার মুসলিমের সাথে শয়তানের উপমা হল এমন এক ব্যক্তির, যার সামনে আছে খাবার ও গোস্ত। ইতি মধ্যে তার কাছে একটি কুকুর আসে। সে তাকে ‘ভাগ’ বললে, সে পালিয়ে যায়। সে তখন অন্য এক ব্যক্তির কাছে যায়, তার সামনেও খাবার ও গোস্ত আছে। সে যতই তাকে ‘ভাগ-ভাগ’ বলে তাড়াতে যায়, সে ভাগে না। প্রথম লোকটি পরহেযগার লোকের মতো, তার কাছে যখনই শয়তান উপস্থিত হয়, তাকে ভাগানোর জন্য তার কেবল যিক্রই যথেষ্ট হয়। আর দ্বিতীয় লোকটি অপরহেযগার লোকের মতো, শয়তান তার সাথেই ঘোরাফেরা করে, তার কিছু বদ আমলের মিশ্রণ থাকার জন্য। আমরা আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে পানাহ চাই।”³⁶¹
বলা বাহুল্য, যে মুসলিম শয়তান ও তার জাল ও ফাঁদসমূহ থেকে রক্ষা পেতে চায়, তার উচিত নিজের ঈমানকে শক্তিশালী ও সবল করা, শয়তান পছন্দ করে এমন আমল থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর শরণ নেওয়া। আর আল্লাহর তওফীক ছাড়া আমাদের কোন ক্ষমতাই নেই। ‘লা হাউলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’
টিকাঃ
৩৬১. তালবীসু ইবলীস ৪৮পৃ.
অনেকেই বলে থাকেন, আমরা শয়তান ভাগাবার চেষ্টায় বহুবার 'আঊযু বিল্লাহ'-সহ আরো অন্যান্য দু'আ-সূরা পড়ি, কিন্তু তা সত্ত্বেও অনুভব করি, যেন শয়তান অসঅসা দিচ্ছে, মন্দ কাজে উদ্বুদ্ধ করছে এবং আমাদের স্বলাতের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। এর কারণ কী?
উত্তর : আসলে এই 'ইস্তিআযাহ' বা শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা যোদ্ধার হাতে একটি তরবারির মতো। সুতরাং তার হাত যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে তরবারি দুশমনের সঠিক জায়গায় আঘাত করে। আর হাত শক্তিশালী না হলে আঘাত পড়ে না, যদিও তরবারি চকচকে ধারালো হয়। অনুরূপ 'ইস্তিআযাহ', যদি তা পরহেযগার মু'মিন প্রয়োগ করে, তাহলে তা হয় জ্বলন্ত অগ্নিবাণ, শয়তানকে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে। পক্ষান্তরে তা যদি কোন দুর্বল ঈমানের লোক প্রয়োগ করে, তাহলে তা দুশমনের ভিতরে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না।
আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেছেন, “জেনে রেখো যে, পরহেযগার ও অপরহেযগার মুসলিমের সাথে শয়তানের উপমা হল এমন এক ব্যক্তির, যার সামনে আছে খাবার ও গোস্ত। ইতি মধ্যে তার কাছে একটি কুকুর আসে। সে তাকে ‘ভাগ’ বললে, সে পালিয়ে যায়। সে তখন অন্য এক ব্যক্তির কাছে যায়, তার সামনেও খাবার ও গোস্ত আছে। সে যতই তাকে ‘ভাগ-ভাগ’ বলে তাড়াতে যায়, সে ভাগে না। প্রথম লোকটি পরহেযগার লোকের মতো, তার কাছে যখনই শয়তান উপস্থিত হয়, তাকে ভাগানোর জন্য তার কেবল যিক্রই যথেষ্ট হয়। আর দ্বিতীয় লোকটি অপরহেযগার লোকের মতো, শয়তান তার সাথেই ঘোরাফেরা করে, তার কিছু বদ আমলের মিশ্রণ থাকার জন্য। আমরা আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে পানাহ চাই।”৩৬১
বলা বাহুল্য, যে মুসলিম শয়তান ও তার জাল ও ফাঁদসমূহ থেকে রক্ষা পেতে চায়, তার উচিত নিজের ঈমানকে শক্তিশালী ও সবল করা, শয়তান পছন্দ করে এমন আমল থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর শরণ নেওয়া। আর আল্লাহর তওফীক ছাড়া আমাদের কোন ক্ষমতাই নেই। ‘লা হাউলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’
টিকাঃ
৩৬১. তালবীসু ইবলীস ৪৮পৃ.