📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 কোন অজানা মঞ্জিলে অথবা উপত্যকায় প্রবেশের সময়

📄 কোন অজানা মঞ্জিলে অথবা উপত্যকায় প্রবেশের সময়


কোন জনশূন্য মাঠ, ময়দান, জঙ্গল, উপত্যকা ইত্যাদিতে প্রবেশের সময় শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়। জাহেলী যুগের লোকেদের মতো জ্বিন থেকে জ্বিনের কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা বৈধ নয়। যেমন তারা বলত, 'এই উপত্যকার সর্দারের নিকট তার সম্প্রদায়ের নির্বোধদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।' এর ফলে জ্বিনদের মধ্যে অহংকার সৃষ্টি হতো এবং বেশি করে তাদেরকে কষ্ট দিত। যেমন মহান আল্লাহ সে কথা তাঁর কিতাবে বলেছেন,

وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا

"কতিপয় মানুষ কতক জ্বিনদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত, ফলে তারা জ্বিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিত।"

কোন মঞ্জিলে অবতরণ করলে কী বলে আশ্রয় প্রার্থনা করব, তা আমাদেরকে নবী শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,

مَنْ نَزَلَ مَنْزِلاً ثُمَّ قَالَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرُّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ

অর্থাৎ, “যে ব্যক্তি (সফরের) কোন মঞ্জিলে নেমে এই দু'আ পড়বে, 'আউযু বিকালিমাতিল্লা-হিত্ তা-ম্মাতি মিন শারি মা খালাক্ব।' (অর্থাৎ, আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আমি আশ্রয় চাচ্ছি।) তাহলে সে মঞ্জিল থেকে অন্যত্র রওনা হওয়া পর্যন্ত কোন জিনিস তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

কোন জনশূন্য মাঠ, ময়দান, জঙ্গল, উপত্যকা ইত্যাদিতে প্রবেশের সময় শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়। জাহেলী যুগের লোকেদের মতো জ্বিন থেকে জ্বিনের কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা বৈধ নয়। যেমন তারা বলত, 'এই উপত্যকার সর্দারের নিকট তার সম্প্রদায়ের নির্বোধদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।' এর ফলে জ্বিনদের মধ্যে অহংকার সৃষ্টি হতো এবং বেশি করে তাদেরকে কষ্ট দিত। যেমন মহান আল্লাহ সে কথা তাঁর কিতাবে বলেছেন,
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
"কতিপয় মানুষ কতক জ্বিনদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত, ফলে তারা জ্বিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিত।"

কোন মঞ্জিলে অবতরণ করলে কী বলে আশ্রয় প্রার্থনা করব, তা আমাদেরকে নবী শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
مَنْ نَزَلَ مَنْزِلاً ثُمَّ قَالَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرُّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ
অর্থাৎ, “যে ব্যক্তি (সফরের) কোন মঞ্জিলে নেমে এই দু'আ পড়বে, 'আউযু বিকালিমাতিল্লা-হিত্ তা-ম্মাতি মিন শারি মা খালাক্ব।' (অর্থাৎ, আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আমি আশ্রয় চাচ্ছি।) তাহলে সে মঞ্জিল থেকে অন্যত্র রওনা হওয়া পর্যন্ত কোন জিনিস তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 গাধার ডাক শোনার সময়

📄 গাধার ডাক শোনার সময়


নবী বলেছেন,

إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الْحِمَارِ فَتَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهَا رَأَتْ شَيْطَانًا

অর্থাৎ, যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন ফিরিস্তা দেখেছে। আর যখন তোমরা গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন শয়তান দেখেছে। ³⁵⁰

টিকাঃ
৩৫০. বুখারী ইফা, হা/৩০৬৮, আপ্র, হা/৩০৫৯, তাও, হা/৩৩০৩, মুসলিম মাশা. হা/৭০৯৬

নবী বলেছেন,
إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الْحِمَارِ فَتَعُوَذُوا بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهَا رَأَتْ شَيْطَانًا
অর্থাৎ, যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন ফিরিস্তা দেখেছে। আর যখন তোমরা গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন শয়তান দেখেছে।

টিকাঃ
৩৫০. বুখারী ইফা, হা/৩০৬৮, আপ্র, হা/৩০৫৯, তাও, হা/৩৩০৩, মুসলিম মাশা. হা/৭০৯৬

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে

📄 কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে


মহান আল্লাহর নির্দেশ,

فَإِذَا قَرَأْتِ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

তিলাওয়াতের শুরুতে শয়তান থেকে পানাহ চাইতে হয় কেন? ইবনুল কাইয়্যিম এর যৌক্তিকতা বর্ণনা করেছেন:

(ক) কুরআন হল হৃদ্রোগের ঔষধ। শয়তানের প্রক্ষিপ্ত কুমন্ত্রণা, কুপ্রবৃত্তি, ইন্দ্রিয়ল্যিসা, কুবাসনা ইত্যাদি দূরীভূত করে কুরআন। শয়তান হৃদয়ে যে সকল রোগ সৃষ্টি করে, কুরআন তার নিরাময়-ব্যবস্থা। তাই মহান আল্লাহ বান্দাকে আদেশ করেছেন, যাতে রোগের উপাদান দূরীভূত হয়। হৃদয় সর্বরোগ থেকে শূন্য হয়। অতঃপর তাতে ঔষধ শূন্যস্থানে অপ্রত্যাশিতভাবে জায়গা নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। যেমন আরবী কবি বলেছেন,

أَتَانِي هَوَاهَا قَبْلَ أَنْ أَعْرَفَ الْهَوَى فَصَادَفَ قَلْبًا خَالِيًا فَتَمَكَّنَا

অর্থাৎ, আমার কাছে তার প্রেমাসক্তি এসেছে প্রেমাসক্তি চেনার পূর্বেই। সুতরাং অকস্মাৎ শূন্য হৃদয় পেয়ে তা বদ্ধমূল হয়ে গেছে।

সুতরাং আরোগ্যদানকারী ঐ ঔষধ হৃদয়ে এমন সময় আসে, যখন তাতে তার কোন নিরোধক বা প্রতিরোধক ছাড়াই নিরাময় করে।

(খ) কুরআন হল হৃদয়ের হিদায়াত, ইল্ম ও কল্যাণের মূল উপাদান, যেমন পানি হল উদ্ভিদের মূল উপাদান। পক্ষান্তরে শয়তান হল আগুন, যা উদ্ভিদকে একটার পর একটা জ্বালিয়ে দেয়। সুতরাং যখনই সে হৃদয়ের জমিতে কোন কল্যাণের উদ্ভিদ অনুভব করে, তখনই তা নষ্ট করতে ও পুড়িয়ে ফেলতে সচেষ্ট হয়। তাই মহান আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন, কুরআন তিলাওয়াতকারী যেন আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে। যাতে সে কুরআন দ্বারা অর্জিত ফসল নষ্ট না করে ফেলে।

('আউযু বিল্লাহ' পড়ার) এই যৌক্তিকতা ও পূর্বের যৌক্তিকতার মাঝে পার্থক্য এই যে, প্রথমটা হল কুরআনের উপকারিতা অর্জনের জন্য। আর দ্বিতীয়টা হল সেই উপকারিতা অবশিষ্ট ও সুরক্ষিত রাখার জন্য।

(গ) কুরআন তিলাওয়াতের সময় ফিরিস্তা নিকটবর্তী হন এবং তিলাওয়াত শোনেন। যেমন উসাইদ বিন হুয়াইর কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তাঁর তিলাওয়াত শুনতে ফিরিস্তা অবতরণ করেছিলেন আলোময় মেঘের মধ্যে। তা দেখে তাঁর ঘোড়া চকিত হয়েছিল। আর শয়তান হল ফিরিপ্তার বিরোধী ও শত্রু। সুতরাং তিলাওয়াতকারীকে আদেশ দেওয়া হল, সে যেন আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর শত্রুকে দূরে রাখার জন্য প্রার্থনা করে। যাতে তার নিকট বিশেষ ফিরিস্তা অবতীর্ণ হন। যেহেতু এটা এমন একটি স্থান, যেখানে ফিরিস্তা ও শয়তান একত্রিত হতে পারে না।

(ঘ) কুরআন তিলাওয়াতকারীর বিরুদ্ধে শয়তান তার পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী দ্বারা আক্রমণ চালায়। যাতে সে কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য থেকে তাকে অমনোযোগী করে তোলে। যেহেতু তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য হল, তার অর্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা, হৃদয়ঙ্গম করা, মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা ইত্যাদি। কিন্তু শয়তান বিরামহীন প্রচেষ্টা চালায়, যাতে সে তিলাওয়াতকারীর হৃদয় ও কুরআনের অর্থ-উদ্দেশ্যের মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি করে। ফলে তিলাওয়াতকারী তিলাওয়াতে কোন উপকার লাভে ধন্য হয় না। তাই শুরুতে শয়তান থেকে পানাহ চাইতে আদিষ্ট হয়েছে তিলাওয়াতকারী।

(ঙ) তিলাওয়াতকারী আল্লাহর বাণী তিলাওয়াতের মাধ্যমে তাঁরই সাথে মুনাজাত (নির্জনে আলাপ) করে। আর গায়িকা দাসীর প্রভু যেমন তার গান মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার চাইতে মহান আল্লাহ সুকণ্ঠের তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত বেশি কান লাগিয়ে শোনেন। (এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয়।³⁵¹ শয়তানের তিলাওয়াত হল (খারাপ) কবিতা ও গান। তাই মহান আল্লাহর মুনাজাতের সময় এবং তাঁর তিলাওয়াত শোনার সময় তিনি তিলাওয়াতকারীকে 'আউযু বিল্লাহ---' পাঠের মাধ্যমে শয়তানকে ভাগাতে আদেশ করেছেন।

(চ) মহান আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন,

وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنسَخُ اللهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

"আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল কিংবা নবী প্রেরণ করেছি তাদের কেউ যখনই আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে। কিন্তু শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ তা বিদূরিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুদৃঢ় করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।”³⁵² সলফদের সকলে এ অর্থে একমত যে, নবী যখনই তিলাওয়াত করেছেন, তখনই শয়তান তাঁর তিলাওয়াতে প্রক্ষিপ্ত করেছেন। সুতরাং এ অবস্থা যদি রসূলগণ (আলাইহিমুস স্বালাত অস্সালাম) এর সাথে হয়, তাহলে অন্যদের সাথে কী হতে পারে? তাই দেখা যায়, শয়তান কখনো তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত ভুল করে দেয়, কখনো গোলমাল করে দেয়, কখনো পাঠের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে দেয়, কখনো জিহ্বা আড়ষ্ট করে দেয় এবং কখনো তার মন ও মস্তিষ্ককে বিক্ষিপ্ত করে দেয়। সুতরাং সে যদি তিলাওয়াতকারীর কাছে উপস্থিত হয়, তাহলে যে কোন একটি অসুবিধা তার করে। হয়তো-বা সব রকমের অসুবিধাই সৃষ্টি করে তার মধ্যে।

(ছ) মানুষ যখন কোন কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করে, তখন শয়তান বেশি আগ্রহী হয়ে তার পিছে লাগে, তার মধ্যে প্রবেশ করে, তাকে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে প্রতিহত করে, যাতে সে ঐ কল্যাণ সম্পাদন না করতে পারে। তাই তিলাওয়াতকারী তিলাওয়াতের শুরুতেই তার সকল প্রকার মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে আদিষ্ট হয়েছে। ³⁵³

টিকাঃ
৩৫১. সিলসিলাতুল আহাদীসুস যঈফাহ মাশা. হা/২৯৫১
৩৫২. সূরা হাজ্জ-২২:৫২
৩৫৩. ইগাষাতুল লাহফান ১/১০৯

মহান আল্লাহর নির্দেশ,
فَإِذَا قَرَأْتِ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

তিলাওয়াতের শুরুতে শয়তান থেকে পানাহ চাইতে হয় কেন? ইবনুল কাইয়্যিম এর যৌক্তিকতা বর্ণনা করেছেন:

(ক) কুরআন হল হৃদ্রোগের ঔষধ। শয়তানের প্রক্ষিপ্ত কুমন্ত্রণা, কুপ্রবৃত্তি, ইন্দ্রিয়ল্যিসা, কুবাসনা ইত্যাদি দূরীভূত করে কুরআন। শয়তান হৃদয়ে যে সকল রোগ সৃষ্টি করে, কুরআন তার নিরাময়-ব্যবস্থা। তাই মহান আল্লাহ বান্দাকে আদেশ করেছেন, যাতে রোগের উপাদান দূরীভূত হয়। হৃদয় সর্বরোগ থেকে শূন্য হয়। অতঃপর তাতে ঔষধ শূন্যস্থানে অপ্রত্যাশিতভাবে জায়গা নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। যেমন আরবী কবি বলেছেন,
أَتَانِي هَوَاهَا قَبْلَ أَنْ أَعْرَفَ الْهَوَى فَصَادَفَ قَلْبًا خَالِيًا فَتَمَكَّنَا
অর্থাৎ, আমার কাছে তার প্রেমাসক্তি এসেছে প্রেমাসক্তি চেনার পূর্বেই। সুতরাং অকস্মাৎ শূন্য হৃদয় পেয়ে তা বদ্ধমূল হয়ে গেছে।
সুতরাং আরোগ্যদানকারী ঐ ঔষধ হৃদয়ে এমন সময় আসে, যখন তাতে তার কোন নিরোধক বা প্রতিরোধক ছাড়াই নিরাময় করে।

(খ) কুরআন হল হৃদয়ের হিদায়াত, ইল্ম ও কল্যাণের মূল উপাদান, যেমন পানি হল উদ্ভিদের মূল উপাদান। পক্ষান্তরে শয়তান হল আগুন, যা উদ্ভিদকে একটার পর একটা জ্বালিয়ে দেয়। সুতরাং যখনই সে হৃদয়ের জমিতে কোন কল্যাণের উদ্ভিদ অনুভব করে, তখনই তা নষ্ট করতে ও পুড়িয়ে ফেলতে সচেষ্ট হয়। তাই মহান আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন, কুরআন তিলাওয়াতকারী যেন আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে। যাতে সে কুরআন দ্বারা অর্জিত ফসল নষ্ট না করে ফেলে।
('আউযু বিল্লাহ' পড়ার) এই যৌক্তিকতা ও পূর্বের যৌক্তিকতার মাঝে পার্থক্য এই যে, প্রথমটা হল কুরআনের উপকারিতা অর্জনের জন্য। আর দ্বিতীয়টা হল সেই উপকারিতা অবশিষ্ট ও সুরক্ষিত রাখার জন্য।

(গ) কুরআন তিলাওয়াতের সময় ফিরিস্তা নিকটবর্তী হন এবং তিলাওয়াত শোনেন। যেমন উসাইদ বিন হুয়াইর কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তাঁর তিলাওয়াত শুনতে ফিরিস্তা অবতরণ করেছিলেন আলোময় মেঘের মধ্যে। তা দেখে তাঁর ঘোড়া চকিত হয়েছিল। আর শয়তান হল ফিরিপ্তার বিরোধী ও শত্রু। সুতরাং তিলাওয়াতকারীকে আদেশ দেওয়া হল, সে যেন আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর শত্রুকে দূরে রাখার জন্য প্রার্থনা করে। যাতে তার নিকট বিশেষ ফিরিস্তা অবতীর্ণ হন। যেহেতু এটা এমন একটি স্থান, যেখানে ফিরিস্তা ও শয়তান একত্রিত হতে পারে না।

(ঘ) কুরআন তিলাওয়াতকারীর বিরুদ্ধে শয়তান তার পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী দ্বারা আক্রমণ চালায়। যাতে সে কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য থেকে তাকে অমনোযোগী করে তোলে। যেহেতু তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য হল, তার অর্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা, হৃদয়ঙ্গম করা, মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা ইত্যাদি। কিন্তু শয়তান বিরামহীন প্রচেষ্টা চালায়, যাতে সে তিলাওয়াতকারীর হৃদয় ও কুরআনের অর্থ-উদ্দেশ্যের মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি করে। ফলে তিলাওয়াতকারী তিলাওয়াতে কোন উপকার লাভে ধন্য হয় না। তাই শুরুতে শয়তান থেকে পানাহ চাইতে আদিষ্ট হয়েছে তিলাওয়াতকারী।

(ঙ) তিলাওয়াতকারী আল্লাহর বাণী তিলাওয়াতের মাধ্যমে তাঁরই সাথে মুনাজাত (নির্জনে আলাপ) করে। আর গায়িকা দাসীর প্রভু যেমন তার গান মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার চাইতে মহান আল্লাহ সুকণ্ঠের তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত বেশি কান লাগিয়ে শোনেন। (এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয়। ৩৫১ শয়তানের তিলাওয়াত হল (খারাপ) কবিতা ও গান। তাই মহান আল্লাহর মুনাজাতের সময় এবং তাঁর তিলাওয়াত শোনার সময় তিনি তিলাওয়াতকারীকে 'আউযু বিল্লাহ---' পাঠের মাধ্যমে শয়তানকে ভাগাতে আদেশ করেছেন।

(চ) মহান আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন,
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنسَخُ اللهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
"আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল কিংবা নবী প্রেরণ করেছি তাদের কেউ যখনই আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে। কিন্তু শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ তা বিদূরিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুদৃঢ় করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।”৩৫২ সলফদের সকলে এ অর্থে একমত যে, নবী যখনই তিলাওয়াত করেছেন, তখনই শয়তান তাঁর তিলাওয়াতে প্রক্ষিপ্ত করেছেন। সুতরাং এ অবস্থা যদি রসূলগণ (আলাইহিমুস স্বালাত অস্সালাম) এর সাথে হয়, তাহলে অন্যদের সাথে কী হতে পারে? তাই দেখা যায়, শয়তান কখনো তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত ভুল করে দেয়, কখনো গোলমাল করে দেয়, কখনো পাঠের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে দেয়, কখনো জিহ্বা আড়ষ্ট করে দেয় এবং কখনো তার মন ও মস্তিষ্ককে বিক্ষিপ্ত করে দেয়। সুতরাং সে যদি তিলাওয়াতকারীর কাছে উপস্থিত হয়, তাহলে যে কোন একটি অসুবিধা তার করে। হয়তো-বা সব রকমের অসুবিধাই সৃষ্টি করে তার মধ্যে।

(ছ) মানুষ যখন কোন কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করে, তখন শয়তান বেশি আগ্রহী হয়ে তার পিছে লাগে, তার মধ্যে প্রবেশ করে, তাকে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে প্রতিহত করে, যাতে সে ঐ কল্যাণ সম্পাদন না করতে পারে। তাই তিলাওয়াতকারী তিলাওয়াতের শুরুতেই তার সকল প্রকার মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে আদিষ্ট হয়েছে।

টিকাঃ
৩৫১. সিলসিলাতুল আহাদীসুস যঈফাহ মাশা. হা/২৯৫১
৩৫২. সূরা হাজ্জ-২২:৫২

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শিশুদেরকে নিরাপত্তা দিতে

📄 শিশুদেরকে নিরাপত্তা দিতে


মারয়‍্যামের মা তাঁকে প্রসব করার পর শয়তান থেকে আশ্রয় চেয়ে দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেছেন,
فَلَمَّا وَضَعَتُهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنثَى وَاللهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالأُنثَى وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ
"অতঃপর যখন সে (ইমরানের স্ত্রী) ওকে (সন্তান) প্রসব করল তখন সে বলল, 'হে আমার প্রতিপালক! আমি কন্যা প্রসব করেছি, বস্তুতঃ আল্লাহ সম্যক অবগত সে যা প্রসব করেছে। আর (ঐ কাঙ্ক্ষিত) পুত্র তো (এ) কন্যার মত নয়, আমি তার নাম মারয়‍্যাম রেখেছি এবং অভিশপ্ত শয়তান হতে তার ও তার বংশধরদের জন্য তোমার পানাহ দিচ্ছি। "৩৫৪

নবী হাসান-হুসাইনকে এইভাবে দু'আর তাবীয দিতেন।
أُعِيذُ كُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لأَمَّةٍ
অর্থ- আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় প্রত্যেক শয়তান ও কষ্টদায়ক জন্তু হতে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকারক (বদ) নজর হতে আল্লাহর পানাহ দিচ্ছি। তিনি উভয়কে বলতেন, 'তোমাদের পিতা (ইব্রাহীম (শিশু) ইসমাঈল ও ইসহাকের জন্য এই দু'আ বলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।

টিকাঃ
৩৫৩. ইগাষাতুল লাহফান ১/১০৯
৩৫৪. সূরা আলে ইমরান-৩:৩৬
৩৫৫. বুখারী ইফা, হা/৩১২৯, আপ্র. হা/৩১২১, তাও, হা/৩৩৭১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00