📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 যেখানে যেখানে শয়তান থেকে পানাহ চাইতে হয়

📄 যেখানে যেখানে শয়তান থেকে পানাহ চাইতে হয়


### ★১। বাথরুম বা প্রস্রাব-পায়খানার জাগায় প্রবেশের আগে
নবী। প্রকৃতিকর্ম সারার জায়গায় প্রবেশ করলে বলতেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি পুরুষ ও নারী খবিস্ জ্বিন হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ³⁴⁴ তিনি বলেছেন,
### ★২। রাগের সময়

একদা নবী ﷺ এর নিকট দু’জন লোক গালাগালি করছিল। তাদের একজনের চোখ লাল হয়ে গেল এবং তার রগ ফুলে গেল। তিনি বললেন, “আমি এমন একটি বাক্য জানি, যদি এ তা বলে, তাহলে ওর সমস্ত রাগ দূর হয়ে যাবে। যদি সে বলে, ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম’ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি), তাহলে তার রাগ দূর হয়ে যাবে।”³⁴⁵

### ★৩। স্ত্রী-সহবাস করার আগে

নবী ﷺ বলেছেন,
لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرْ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا

অর্থাৎ, তোমাদের কেউ যখন স্ত্রী-সহবাস করার ইচ্ছা করে, তখন বলে, 'বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! তুমি শয়তানকে আমাদের নিকট থেকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে যে (সন্তান) দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ।' তাহলে উক্ত সহবাসে সন্তান জন্ম নিলে ঐ সন্তানকে শয়তান কখনো ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না।
### ☆৪। কোন অজানা মঞ্জিলে অথবা উপত্যকায় প্রবেশের সময়

কোন জনশূন্য মাঠ, ময়দান, জঙ্গল, উপত্যকা ইত্যাদিতে প্রবেশের সময় শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়। জাহেলী যুগের লোকেদের মতো জ্বিন থেকে জ্বিনের কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা বৈধ নয়। যেমন তারা বলত, 'এই উপত্যকার সর্দারের নিকট তার সম্প্রদায়ের নির্বোধদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।' এর ফলে জ্বিনদের মধ্যে অহংকার সৃষ্টি হতো এবং বেশি করে তাদেরকে কষ্ট দিত। যেমন মহান আল্লাহ সে কথা তাঁর কিতাবে বলেছেন,

وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا

"কতিপয় মানুষ কতক জ্বিনদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত, ফলে তারা জ্বিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিত।"

কোন মঞ্জিলে অবতরণ করলে কী বলে আশ্রয় প্রার্থনা করব, তা আমাদেরকে নবী শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,

مَنْ نَزَلَ مَنْزِلاً ثُمَّ قَالَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرُّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ

অর্থাৎ, “যে ব্যক্তি (সফরের) কোন মঞ্জিলে নেমে এই দু'আ পড়বে, 'আউযু বিকালিমাতিল্লা-হিত্ তা-ম্মাতি মিন শারি মা খালাক্ব।' (অর্থাৎ, আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আমি আশ্রয় চাচ্ছি।) তাহলে সে মঞ্জিল থেকে অন্যত্র রওনা হওয়া পর্যন্ত কোন জিনিস তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

### * ৫। গাধার ডাক শোনার সময়

নবী বলেছেন,

إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الْحِمَارِ فَتَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهَا رَأَتْ شَيْطَانًا

অর্থাৎ, যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন ফিরিস্তা দেখেছে। আর যখন তোমরা গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন শয়তান দেখেছে। ³⁵⁰

### * ৬। কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে

মহান আল্লাহর নির্দেশ,

فَإِذَا قَرَأْتِ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

তিলাওয়াতের শুরুতে শয়তান থেকে পানাহ চাইতে হয় কেন? ইবনুল কাইয়্যিম এর যৌক্তিকতা বর্ণনা করেছেন:

(ক) কুরআন হল হৃদ্রোগের ঔষধ। শয়তানের প্রক্ষিপ্ত কুমন্ত্রণা, কুপ্রবৃত্তি, ইন্দ্রিয়ল্যিসা, কুবাসনা ইত্যাদি দূরীভূত করে কুরআন। শয়তান হৃদয়ে যে সকল রোগ সৃষ্টি করে, কুরআন তার নিরাময়-ব্যবস্থা। তাই মহান আল্লাহ বান্দাকে আদেশ করেছেন, যাতে রোগের উপাদান দূরীভূত হয়। হৃদয় সর্বরোগ থেকে শূন্য হয়। অতঃপর তাতে ঔষধ শূন্যস্থানে অপ্রত্যাশিতভাবে জায়গা নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। যেমন আরবী কবি বলেছেন,

أَتَانِي هَوَاهَا قَبْلَ أَنْ أَعْرَفَ الْهَوَى فَصَادَفَ قَلْبًا خَالِيًا فَتَمَكَّنَا

অর্থাৎ, আমার কাছে তার প্রেমাসক্তি এসেছে প্রেমাসক্তি চেনার পূর্বেই। সুতরাং অকস্মাৎ শূন্য হৃদয় পেয়ে তা বদ্ধমূল হয়ে গেছে।

সুতরাং আরোগ্যদানকারী ঐ ঔষধ হৃদয়ে এমন সময় আসে, যখন তাতে তার কোন নিরোধক বা প্রতিরোধক ছাড়াই নিরাময় করে।

(খ) কুরআন হল হৃদয়ের হিদায়াত, ইল্ম ও কল্যাণের মূল উপাদান, যেমন পানি হল উদ্ভিদের মূল উপাদান। পক্ষান্তরে শয়তান হল আগুন, যা উদ্ভিদকে একটার পর একটা জ্বালিয়ে দেয়। সুতরাং যখনই সে হৃদয়ের জমিতে কোন কল্যাণের উদ্ভিদ অনুভব করে, তখনই তা নষ্ট করতে ও পুড়িয়ে ফেলতে সচেষ্ট হয়। তাই মহান আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন, কুরআন তিলাওয়াতকারী যেন আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে। যাতে সে কুরআন দ্বারা অর্জিত ফসল নষ্ট না করে ফেলে।

('আউযু বিল্লাহ' পড়ার) এই যৌক্তিকতা ও পূর্বের যৌক্তিকতার মাঝে পার্থক্য এই যে, প্রথমটা হল কুরআনের উপকারিতা অর্জনের জন্য। আর দ্বিতীয়টা হল সেই উপকারিতা অবশিষ্ট ও সুরক্ষিত রাখার জন্য।

(গ) কুরআন তিলাওয়াতের সময় ফিরিস্তা নিকটবর্তী হন এবং তিলাওয়াত শোনেন। যেমন উসাইদ বিন হুয়াইর কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তাঁর তিলাওয়াত শুনতে ফিরিস্তা অবতরণ করেছিলেন আলোময় মেঘের মধ্যে। তা দেখে তাঁর ঘোড়া চকিত হয়েছিল। আর শয়তান হল ফিরিপ্তার বিরোধী ও শত্রু। সুতরাং তিলাওয়াতকারীকে আদেশ দেওয়া হল, সে যেন আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর শত্রুকে দূরে রাখার জন্য প্রার্থনা করে। যাতে তার নিকট বিশেষ ফিরিস্তা অবতীর্ণ হন। যেহেতু এটা এমন একটি স্থান, যেখানে ফিরিস্তা ও শয়তান একত্রিত হতে পারে না।

(ঘ) কুরআন তিলাওয়াতকারীর বিরুদ্ধে শয়তান তার পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী দ্বারা আক্রমণ চালায়। যাতে সে কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য থেকে তাকে অমনোযোগী করে তোলে। যেহেতু তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য হল, তার অর্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা, হৃদয়ঙ্গম করা, মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা ইত্যাদি। কিন্তু শয়তান বিরামহীন প্রচেষ্টা চালায়, যাতে সে তিলাওয়াতকারীর হৃদয় ও কুরআনের অর্থ-উদ্দেশ্যের মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি করে। ফলে তিলাওয়াতকারী তিলাওয়াতে কোন উপকার লাভে ধন্য হয় না। তাই শুরুতে শয়তান থেকে পানাহ চাইতে আদিষ্ট হয়েছে তিলাওয়াতকারী।

(ঙ) তিলাওয়াতকারী আল্লাহর বাণী তিলাওয়াতের মাধ্যমে তাঁরই সাথে মুনাজাত (নির্জনে আলাপ) করে। আর গায়িকা দাসীর প্রভু যেমন তার গান মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার চাইতে মহান আল্লাহ সুকণ্ঠের তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত বেশি কান লাগিয়ে শোনেন। (এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয়।³⁵¹ শয়তানের তিলাওয়াত হল (খারাপ) কবিতা ও গান। তাই মহান আল্লাহর মুনাজাতের সময় এবং তাঁর তিলাওয়াত শোনার সময় তিনি তিলাওয়াতকারীকে 'আউযু বিল্লাহ---' পাঠের মাধ্যমে শয়তানকে ভাগাতে আদেশ করেছেন।

(চ) মহান আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন,

وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنسَخُ اللهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

"আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল কিংবা নবী প্রেরণ করেছি তাদের কেউ যখনই আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে। কিন্তু শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ তা বিদূরিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুদৃঢ় করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।”³⁵² সলফদের সকলে এ অর্থে একমত যে, নবী যখনই তিলাওয়াত করেছেন, তখনই শয়তান তাঁর তিলাওয়াতে প্রক্ষিপ্ত করেছেন। সুতরাং এ অবস্থা যদি রসূলগণ (আলাইহিমুস স্বালাত অস্সালাম) এর সাথে হয়, তাহলে অন্যদের সাথে কী হতে পারে? তাই দেখা যায়, শয়তান কখনো তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত ভুল করে দেয়, কখনো গোলমাল করে দেয়, কখনো পাঠের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে দেয়, কখনো জিহ্বা আড়ষ্ট করে দেয় এবং কখনো তার মন ও মস্তিষ্ককে বিক্ষিপ্ত করে দেয়। সুতরাং সে যদি তিলাওয়াতকারীর কাছে উপস্থিত হয়, তাহলে যে কোন একটি অসুবিধা তার করে। হয়তো-বা সব রকমের অসুবিধাই সৃষ্টি করে তার মধ্যে।

(ছ) মানুষ যখন কোন কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করে, তখন শয়তান বেশি আগ্রহী হয়ে তার পিছে লাগে, তার মধ্যে প্রবেশ করে, তাকে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে প্রতিহত করে, যাতে সে ঐ কল্যাণ সম্পাদন না করতে পারে। তাই তিলাওয়াতকারী তিলাওয়াতের শুরুতেই তার সকল প্রকার মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে আদিষ্ট হয়েছে। ³⁵³

### ★ ৭। শিশুদেরকে নিরাপত্তা দিতে

মারয়‍্যামের মা তাঁকে প্রসব করার পর শয়তান থেকে আশ্রয় চেয়ে দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেছেন,

فَلَمَّا وَضَعَتُهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنثَى وَاللهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالأُنثَى وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ

"অতঃপর যখন সে (ইমরানের স্ত্রী) ওকে (সন্তান) প্রসব করল তখন সে বলল, 'হে আমার প্রতিপালক! আমি কন্যা প্রসব করেছি, বস্তুতঃ আল্লাহ সম্যক অবগত সে যা প্রসব করেছে। আর (ঐ কাঙ্ক্ষিত) পুত্র তো (এ) কন্যার মত নয়, আমি তার নাম মারয়‍্যাম রেখেছি এবং অভিশপ্ত শয়তান হতে তার ও তার বংশধরদের জন্য তোমার পানাহ দিচ্ছি। "³⁵⁴ নবী হাসান-হুসাইনকে এইভাবে দু'আর তাবীয দিতেন।

أُعِيذُ كُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لأَمَّةٍ

অর্থ- আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় প্রত্যেক শয়তান ও কষ্টদায়ক জন্তু হতে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকারক (বদ) নজর হতে আল্লাহর পানাহ দিচ্ছি। তিনি উভয়কে বলতেন, 'তোমাদের পিতা (ইব্রাহীম (শিশু) ইসমাঈল ও ইসহাকের জন্য এই দু'আ বলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। ³⁵⁵

টিকাঃ
৩৪৪. বুখারী ইফা, হা/৫৭৭০, আপ্র. হা/৫৮৭৭, তাও, হা/৬৩২২, মুসলিম মাশা, হা/৮৫৭
৩৫০. বুখারী ইফা, হা/৩০৬৮, আপ্র, হা/৩০৫৯, তাও, হা/৩৩০৩, মুসলিম মাশা. হা/৭০৯৬
৩৫১. সিলসিলাতুল আহাদীসুস যঈফাহ মাশা. হা/২৯৫১
৩৫২. সূরা হাজ্জ-২২:৫২
৩৫৩. ইগাষাতুল লাহফান ১/১০৯
৩৫৪. সূরা আলে ইমরান-৩:৩৬
৩৫৫. বুখারী ইফা, হা/৩১২৯, আপ্র. হা/৩১২১, তাও, হা/৩৩৭১

### ★১। বাথরুম বা প্রস্রাব-পায়খানার জাগায় প্রবেশের আগে
নবী। প্রকৃতিকর্ম সারার জায়গায় প্রবেশ করলে বলতেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি পুরুষ ও নারী খবিস্ জ্বিন হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ³⁴⁴ তিনি বলেছেন,
### ★২। রাগের সময়

একদা নবী ﷺ এর নিকট দু’জন লোক গালাগালি করছিল। তাদের একজনের চোখ লাল হয়ে গেল এবং তার রগ ফুলে গেল। তিনি বললেন, “আমি এমন একটি বাক্য জানি, যদি এ তা বলে, তাহলে ওর সমস্ত রাগ দূর হয়ে যাবে। যদি সে বলে, ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম’ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি), তাহলে তার রাগ দূর হয়ে যাবে।”³⁴⁵

### ★৩। স্ত্রী-সহবাস করার আগে

নবী ﷺ বলেছেন,
لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرْ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا

অর্থাৎ, তোমাদের কেউ যখন স্ত্রী-সহবাস করার ইচ্ছা করে, তখন বলে, 'বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! তুমি শয়তানকে আমাদের নিকট থেকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে যে (সন্তান) দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ।' তাহলে উক্ত সহবাসে সন্তান জন্ম নিলে ঐ সন্তানকে শয়তান কখনো ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না।
### ☆৪। কোন অজানা মঞ্জিলে অথবা উপত্যকায় প্রবেশের সময়

কোন জনশূন্য মাঠ, ময়দান, জঙ্গল, উপত্যকা ইত্যাদিতে প্রবেশের সময় শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়। জাহেলী যুগের লোকেদের মতো জ্বিন থেকে জ্বিনের কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা বৈধ নয়। যেমন তারা বলত, 'এই উপত্যকার সর্দারের নিকট তার সম্প্রদায়ের নির্বোধদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।' এর ফলে জ্বিনদের মধ্যে অহংকার সৃষ্টি হতো এবং বেশি করে তাদেরকে কষ্ট দিত। যেমন মহান আল্লাহ সে কথা তাঁর কিতাবে বলেছেন,

وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا

"কতিপয় মানুষ কতক জ্বিনদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত, ফলে তারা জ্বিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিত।"

কোন মঞ্জিলে অবতরণ করলে কী বলে আশ্রয় প্রার্থনা করব, তা আমাদেরকে নবী শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,

مَنْ نَزَلَ مَنْزِلاً ثُمَّ قَالَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرُّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ

অর্থাৎ, “যে ব্যক্তি (সফরের) কোন মঞ্জিলে নেমে এই দু'আ পড়বে, 'আউযু বিকালিমাতিল্লা-হিত্ তা-ম্মাতি মিন শারি মা খালাক্ব।' (অর্থাৎ, আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আমি আশ্রয় চাচ্ছি।) তাহলে সে মঞ্জিল থেকে অন্যত্র রওনা হওয়া পর্যন্ত কোন জিনিস তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

### * ৫। গাধার ডাক শোনার সময়

নবী বলেছেন,

إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الْحِمَارِ فَتَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهَا رَأَتْ شَيْطَانًا

অর্থাৎ, যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন ফিরিস্তা দেখেছে। আর যখন তোমরা গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন শয়তান দেখেছে। ³⁵⁰

### * ৬। কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে

মহান আল্লাহর নির্দেশ,

فَإِذَا قَرَأْتِ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

তিলাওয়াতের শুরুতে শয়তান থেকে পানাহ চাইতে হয় কেন? ইবনুল কাইয়্যিম এর যৌক্তিকতা বর্ণনা করেছেন:

(ক) কুরআন হল হৃদ্রোগের ঔষধ। শয়তানের প্রক্ষিপ্ত কুমন্ত্রণা, কুপ্রবৃত্তি, ইন্দ্রিয়ল্যিসা, কুবাসনা ইত্যাদি দূরীভূত করে কুরআন। শয়তান হৃদয়ে যে সকল রোগ সৃষ্টি করে, কুরআন তার নিরাময়-ব্যবস্থা। তাই মহান আল্লাহ বান্দাকে আদেশ করেছেন, যাতে রোগের উপাদান দূরীভূত হয়। হৃদয় সর্বরোগ থেকে শূন্য হয়। অতঃপর তাতে ঔষধ শূন্যস্থানে অপ্রত্যাশিতভাবে জায়গা নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। যেমন আরবী কবি বলেছেন,

أَتَانِي هَوَاهَا قَبْلَ أَنْ أَعْرَفَ الْهَوَى فَصَادَفَ قَلْبًا خَالِيًا فَتَمَكَّنَا

অর্থাৎ, আমার কাছে তার প্রেমাসক্তি এসেছে প্রেমাসক্তি চেনার পূর্বেই। সুতরাং অকস্মাৎ শূন্য হৃদয় পেয়ে তা বদ্ধমূল হয়ে গেছে।

সুতরাং আরোগ্যদানকারী ঐ ঔষধ হৃদয়ে এমন সময় আসে, যখন তাতে তার কোন নিরোধক বা প্রতিরোধক ছাড়াই নিরাময় করে।

(খ) কুরআন হল হৃদয়ের হিদায়াত, ইল্ম ও কল্যাণের মূল উপাদান, যেমন পানি হল উদ্ভিদের মূল উপাদান। পক্ষান্তরে শয়তান হল আগুন, যা উদ্ভিদকে একটার পর একটা জ্বালিয়ে দেয়। সুতরাং যখনই সে হৃদয়ের জমিতে কোন কল্যাণের উদ্ভিদ অনুভব করে, তখনই তা নষ্ট করতে ও পুড়িয়ে ফেলতে সচেষ্ট হয়। তাই মহান আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন, কুরআন তিলাওয়াতকারী যেন আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে। যাতে সে কুরআন দ্বারা অর্জিত ফসল নষ্ট না করে ফেলে।

('আউযু বিল্লাহ' পড়ার) এই যৌক্তিকতা ও পূর্বের যৌক্তিকতার মাঝে পার্থক্য এই যে, প্রথমটা হল কুরআনের উপকারিতা অর্জনের জন্য। আর দ্বিতীয়টা হল সেই উপকারিতা অবশিষ্ট ও সুরক্ষিত রাখার জন্য।

(গ) কুরআন তিলাওয়াতের সময় ফিরিস্তা নিকটবর্তী হন এবং তিলাওয়াত শোনেন। যেমন উসাইদ বিন হুয়াইর কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তাঁর তিলাওয়াত শুনতে ফিরিস্তা অবতরণ করেছিলেন আলোময় মেঘের মধ্যে। তা দেখে তাঁর ঘোড়া চকিত হয়েছিল। আর শয়তান হল ফিরিপ্তার বিরোধী ও শত্রু। সুতরাং তিলাওয়াতকারীকে আদেশ দেওয়া হল, সে যেন আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর শত্রুকে দূরে রাখার জন্য প্রার্থনা করে। যাতে তার নিকট বিশেষ ফিরিস্তা অবতীর্ণ হন। যেহেতু এটা এমন একটি স্থান, যেখানে ফিরিস্তা ও শয়তান একত্রিত হতে পারে না।

(ঘ) কুরআন তিলাওয়াতকারীর বিরুদ্ধে শয়তান তার পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী দ্বারা আক্রমণ চালায়। যাতে সে কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য থেকে তাকে অমনোযোগী করে তোলে। যেহেতু তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য হল, তার অর্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা, হৃদয়ঙ্গম করা, মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা ইত্যাদি। কিন্তু শয়তান বিরামহীন প্রচেষ্টা চালায়, যাতে সে তিলাওয়াতকারীর হৃদয় ও কুরআনের অর্থ-উদ্দেশ্যের মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি করে। ফলে তিলাওয়াতকারী তিলাওয়াতে কোন উপকার লাভে ধন্য হয় না। তাই শুরুতে শয়তান থেকে পানাহ চাইতে আদিষ্ট হয়েছে তিলাওয়াতকারী।

(ঙ) তিলাওয়াতকারী আল্লাহর বাণী তিলাওয়াতের মাধ্যমে তাঁরই সাথে মুনাজাত (নির্জনে আলাপ) করে। আর গায়িকা দাসীর প্রভু যেমন তার গান মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার চাইতে মহান আল্লাহ সুকণ্ঠের তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত বেশি কান লাগিয়ে শোনেন। (এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয়।³⁵¹ শয়তানের তিলাওয়াত হল (খারাপ) কবিতা ও গান। তাই মহান আল্লাহর মুনাজাতের সময় এবং তাঁর তিলাওয়াত শোনার সময় তিনি তিলাওয়াতকারীকে 'আউযু বিল্লাহ---' পাঠের মাধ্যমে শয়তানকে ভাগাতে আদেশ করেছেন।

(চ) মহান আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন,

وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنسَخُ اللهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

"আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল কিংবা নবী প্রেরণ করেছি তাদের কেউ যখনই আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে। কিন্তু শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ তা বিদূরিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুদৃঢ় করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।”³⁵² সলফদের সকলে এ অর্থে একমত যে, নবী যখনই তিলাওয়াত করেছেন, তখনই শয়তান তাঁর তিলাওয়াতে প্রক্ষিপ্ত করেছেন। সুতরাং এ অবস্থা যদি রসূলগণ (আলাইহিমুস স্বালাত অস্সালাম) এর সাথে হয়, তাহলে অন্যদের সাথে কী হতে পারে? তাই দেখা যায়, শয়তান কখনো তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত ভুল করে দেয়, কখনো গোলমাল করে দেয়, কখনো পাঠের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে দেয়, কখনো জিহ্বা আড়ষ্ট করে দেয় এবং কখনো তার মন ও মস্তিষ্ককে বিক্ষিপ্ত করে দেয়। সুতরাং সে যদি তিলাওয়াতকারীর কাছে উপস্থিত হয়, তাহলে যে কোন একটি অসুবিধা তার করে। হয়তো-বা সব রকমের অসুবিধাই সৃষ্টি করে তার মধ্যে।

(ছ) মানুষ যখন কোন কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করে, তখন শয়তান বেশি আগ্রহী হয়ে তার পিছে লাগে, তার মধ্যে প্রবেশ করে, তাকে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে প্রতিহত করে, যাতে সে ঐ কল্যাণ সম্পাদন না করতে পারে। তাই তিলাওয়াতকারী তিলাওয়াতের শুরুতেই তার সকল প্রকার মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে আদিষ্ট হয়েছে। ³⁵³

### ★ ৭। শিশুদেরকে নিরাপত্তা দিতে

মারয়‍্যামের মা তাঁকে প্রসব করার পর শয়তান থেকে আশ্রয় চেয়ে দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেছেন,

فَلَمَّا وَضَعَتُهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنثَى وَاللهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالأُنثَى وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ

"অতঃপর যখন সে (ইমরানের স্ত্রী) ওকে (সন্তান) প্রসব করল তখন সে বলল, 'হে আমার প্রতিপালক! আমি কন্যা প্রসব করেছি, বস্তুতঃ আল্লাহ সম্যক অবগত সে যা প্রসব করেছে। আর (ঐ কাঙ্ক্ষিত) পুত্র তো (এ) কন্যার মত নয়, আমি তার নাম মারয়‍্যাম রেখেছি এবং অভিশপ্ত শয়তান হতে তার ও তার বংশধরদের জন্য তোমার পানাহ দিচ্ছি। "³⁵⁴ নবী হাসান-হুসাইনকে এইভাবে দু'আর তাবীয দিতেন।

أُعِيذُ كُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لأَمَّةٍ

অর্থ- আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় প্রত্যেক শয়তান ও কষ্টদায়ক জন্তু হতে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকারক (বদ) নজর হতে আল্লাহর পানাহ দিচ্ছি। তিনি উভয়কে বলতেন, 'তোমাদের পিতা (ইব্রাহীম (শিশু) ইসমাঈল ও ইসহাকের জন্য এই দু'আ বলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। ³⁵⁵

টিকাঃ
৩৪৪. বুখারী ইফা, হা/৫৭৭০, আপ্র. হা/৫৮৭৭, তাও, হা/৬৩২২, মুসলিম মাশা, হা/৮৫৭
৩৫০. বুখারী ইফা, হা/৩০৬৮, আপ্র, হা/৩০৫৯, তাও, হা/৩৩০৩, মুসলিম মাশা. হা/৭০৯৬
৩৫১. সিলসিলাতুল আহাদীসুস যঈফাহ মাশা. হা/২৯৫১
৩৫২. সূরা হাজ্জ-২২:৫২
৩৫৩. ইগাষাতুল লাহফান ১/১০৯
৩৫৪. সূরা আলে ইমরান-৩:৩৬
৩৫৫. বুখারী ইফা, হা/৩১২৯, আপ্র. হা/৩১২১, তাও, হা/৩৩৭১

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রয় প্রার্থনার দু'আ

📄 সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রয় প্রার্থনার দু'আ


কুরআনী দু'আর তাবীয বা দু'আসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দু'আ হল সূরা ফালাক্ব ও নাস। নবী বলেছেন,

ألا أُخبِرُكَ بِأَفضَلِ مَا تَعَوَّذَ بِهِ الْمُتَعَوِّذُونَ : قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ

অর্থাৎ, তাবীয ব্যবহারকারীরা যে সকল দু'আ দিয়ে তাবীয ব্যবহার করে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ তাবীয সম্বন্ধে বলে দেব না কি? সূরা ফালাক্ব ও নাস। ³⁵⁶

উকুবাহ বিন আমের বলেন, রসূলুল্লাহ একদা আমাকে বললেন, "তুমি কি দেখনি, আজ রাত্রে আমার উপর কতকগুলি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যার অনুরূপ আর কিছু দেখা যায়নি? (আর তা হল,) 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ব' ও 'কুল আউযু বিরাব্বিন নাস।"³⁵⁷

আবু সাঈদ খুদরী বলেন, 'রসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ব ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু'টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু'টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন। ¹³⁵⁸

আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব বলেন, একদা রসূলুল্লাহ আমাকে বললেন, "সকাল-সন্ধ্যায় 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সূরা ইখলাস) এবং 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ব' ও 'কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস' তিনবার করে পড়। তাহলে প্রতিটি (ক্ষতিকর) জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে। "³⁵⁹

টিকাঃ
৩৫৬. নাসাঈ, ত্বাবারানী, সহীহুল জামে' লিল আলবানী, মাশা. হা/২৫৯৩, ৭৮৩৯
৩৫৭. মুসলিম মাশা. হা/৮১৪, সহীহ আত-তিরমিযী
৩৫৮. সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/২০৫৮
৩৫৯. আবু দাউদ আলএ. হা/৫০৮৪, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/৩৫৭৫

কুরআনী দু'আর তাবীয বা দু'আসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দু'আ হল সূরা ফালাক্ব ও নাস। নবী বলেছেন,
ألا أُخبِرُكَ بِأَفضَلِ مَا تَعَوَّذَ بِهِ الْمُتَعَوِّذُونَ : قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
অর্থাৎ, তাবীয ব্যবহারকারীরা যে সকল দু'আ দিয়ে তাবীয ব্যবহার করে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ তাবীয সম্বন্ধে বলে দেব না কি? সূরা ফালাক্ব ও নাস।

উকুবাহ বিন আমের বলেন, রসূলুল্লাহ একদা আমাকে বললেন, "তুমি কি দেখনি, আজ রাত্রে আমার উপর কতকগুলি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যার অনুরূপ আর কিছু দেখা যায়নি? (আর তা হল,) 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ব' ও 'কুল আউযু বিরাব্বিন নাস।"৩৫৭

আবু সাঈদ খুদরী বলেন, 'রসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ব ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু'টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু'টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন। ১৩৫৮

আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব বলেন, একদা রসূলুল্লাহ আমাকে বললেন, "সকাল-সন্ধ্যায় 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সূরা ইখলাস) এবং 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ব' ও 'কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস' তিনবার করে পড়। তাহলে প্রতিটি (ক্ষতিকর) জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে। "৩৫৯

টিকাঃ
৩৫৬. নাসাঈ, ত্বাবারানী, সহীহুল জামে' লিল আলবানী, মাশা. হা/২৫৯৩, ৭৮৩৯
৩৫৭. মুসলিম মাশা. হা/৮১৪, সহীহ আত-তিরমিযী
৩৫৮. সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/২০৫৮
৩৫৯. আবু দাউদ আলএ. হা/৫০৮৪, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/৩৫৭৫

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শয়তান পাপকাজে প্ররোচিত করলে আপনি কী করবেন?

📄 শয়তান পাপকাজে প্ররোচিত করলে আপনি কী করবেন?


কথিত আছে, সলফদের একজন আলেম তাঁর ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'শয়তান তোমাকে পাপকার্যে প্ররোচিত করলে তুমি কী করবে?' সে বলেছিল, 'তার বিরুদ্ধে জিহাদ করব।' তিনি বললেন, 'আবার যদি ফিরে আসে?' সে বলল, 'আবারও জিহাদ করব।' তিনি বললেন, 'আবার যদি ফিরে আসে?' সে বলল, 'আবারও জিহাদ করব।'

তিনি বললেন, 'এভাবে তো ব্যাপারটা লম্বা হয়ে যাবে। আচ্ছা মনে কর, কোন ছাগল-ভেড়ার পালের পাশ দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছ, সে সময় পালের কুকুর যদি তোমাকে দেখে ভেকাতে শুরু করে অথবা পার হতে বাধা দেয়, তাহলে তুমি কী করবে?'

সে বলল, 'আমি প্রচেষ্টার সাথে তাকে প্রতিহত করব, তাকে হটাবার চেষ্টা করব।'

তিনি বললেন, 'এতেও তোমার সময় লম্বা হবে। তার চাইতে পালের মালিকের সাহায্য নাও, সে তার কুকুর ডেকে নিয়ে তোমার পথ ছেড়ে দেবে। ¹³⁶⁰

এ হল অভিজ্ঞ আলেমের দূরদর্শী জ্ঞান। সুতরাং শয়তান বিতাড়ন করতে এবং শয়তান থেকে নিরাপদ থাকতে একমাত্র পথ হল তার খালিক ও মালিকের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। এটাই করেছিলেন মারয়্যামের মা, ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ (আলাইহিমুস সালাম)।

টিকাঃ
৩৬০. তালবীসু ইবলীস ৪৮পৃ.

কথিত আছে, সলফদের একজন আলেম তাঁর ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'শয়তান তোমাকে পাপকার্যে প্ররোচিত করলে তুমি কী করবে?' সে বলেছিল, 'তার বিরুদ্ধে জিহাদ করব।' তিনি বললেন, 'আবার যদি ফিরে আসে?'
সে বলল, 'আবারও জিহাদ করব।'
তিনি বললেন, 'আবার যদি ফিরে আসে?'
সে বলল, 'আবারও জিহাদ করব।'
তিনি বললেন, 'এভাবে তো ব্যাপারটা লম্বা হয়ে যাবে। আচ্ছা মনে কর, কোন ছাগল-ভেড়ার পালের পাশ দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছ, সে সময় পালের কুকুর যদি তোমাকে দেখে ভেকাতে শুরু করে অথবা পার হতে বাধা দেয়, তাহলে তুমি কী করবে?'
সে বলল, 'আমি প্রচেষ্টার সাথে তাকে প্রতিহত করব, তাকে হটাবার চেষ্টা করব।'
তিনি বললেন, 'এতেও তোমার সময় লম্বা হবে। তার চাইতে পালের মালিকের সাহায্য নাও, সে তার কুকুর ডেকে নিয়ে তোমার পথ ছেড়ে দেবে। ৩৬০
এ হল অভিজ্ঞ আলেমের দূরদর্শী জ্ঞান। সুতরাং শয়তান বিতাড়ন করতে এবং শয়তান থেকে নিরাপদ থাকতে একমাত্র পথ হল তার খালিক ও মালিকের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। এটাই করেছিলেন মারয়্যামের মা, ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ (আলাইহিমুস সালাম)।

টিকাঃ
৩৬০. তালবীসু ইবলীস ৪৮পৃ.

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 আশ্রয় প্রার্থনার পরেও শয়তান ভাগে না কেন?

📄 আশ্রয় প্রার্থনার পরেও শয়তান ভাগে না কেন?


অনেকেই বলে থাকেন, আমরা শয়তান ভাগাবার চেষ্টায় বহুবার 'আঊযু বিল্লাহ'-সহ আরো অন্যান্য দু'আ-সূরা পড়ি, কিন্তু তা সত্ত্বেও অনুভব করি, যেন শয়তান অসঅসা দিচ্ছে, মন্দ কাজে উদ্বুদ্ধ করছে এবং আমাদের স্বলাতের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। এর কারণ কী?

উত্তর : আসলে এই 'ইস্তিআযাহ' বা শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা যোদ্ধার হাতে একটি তরবারির মতো। সুতরাং তার হাত যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে তরবারি দুশমনের সঠিক জায়গায় আঘাত করে। আর হাত শক্তিশালী না হলে আঘাত পড়ে না, যদিও তরবারি চকচকে ধারালো হয়। অনুরূপ 'ইস্তিআযাহ', যদি তা পরহেযগার মু'মিন প্রয়োগ করে, তাহলে তা হয় জ্বলন্ত অগ্নিবাণ, শয়তানকে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে। পক্ষান্তরে তা যদি কোন দুর্বল ঈমানের লোক প্রয়োগ করে, তাহলে তা দুশমনের ভিতরে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না।

আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেছেন, “জেনে রেখো যে, পরহেযগার ও অপরহেযগার মুসলিমের সাথে শয়তানের উপমা হল এমন এক ব্যক্তির, যার সামনে আছে খাবার ও গোস্ত। ইতি মধ্যে তার কাছে একটি কুকুর আসে। সে তাকে ‘ভাগ’ বললে, সে পালিয়ে যায়। সে তখন অন্য এক ব্যক্তির কাছে যায়, তার সামনেও খাবার ও গোস্ত আছে। সে যতই তাকে ‘ভাগ-ভাগ’ বলে তাড়াতে যায়, সে ভাগে না। প্রথম লোকটি পরহেযগার লোকের মতো, তার কাছে যখনই শয়তান উপস্থিত হয়, তাকে ভাগানোর জন্য তার কেবল যিক্রই যথেষ্ট হয়। আর দ্বিতীয় লোকটি অপরহেযগার লোকের মতো, শয়তান তার সাথেই ঘোরাফেরা করে, তার কিছু বদ আমলের মিশ্রণ থাকার জন্য। আমরা আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে পানাহ চাই।”³⁶¹

বলা বাহুল্য, যে মুসলিম শয়তান ও তার জাল ও ফাঁদসমূহ থেকে রক্ষা পেতে চায়, তার উচিত নিজের ঈমানকে শক্তিশালী ও সবল করা, শয়তান পছন্দ করে এমন আমল থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর শরণ নেওয়া। আর আল্লাহর তওফীক ছাড়া আমাদের কোন ক্ষমতাই নেই। ‘লা হাউলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’

টিকাঃ
৩৬১. তালবীসু ইবলীস ৪৮পৃ.

অনেকেই বলে থাকেন, আমরা শয়তান ভাগাবার চেষ্টায় বহুবার 'আঊযু বিল্লাহ'-সহ আরো অন্যান্য দু'আ-সূরা পড়ি, কিন্তু তা সত্ত্বেও অনুভব করি, যেন শয়তান অসঅসা দিচ্ছে, মন্দ কাজে উদ্বুদ্ধ করছে এবং আমাদের স্বলাতের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। এর কারণ কী?
উত্তর : আসলে এই 'ইস্তিআযাহ' বা শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা যোদ্ধার হাতে একটি তরবারির মতো। সুতরাং তার হাত যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে তরবারি দুশমনের সঠিক জায়গায় আঘাত করে। আর হাত শক্তিশালী না হলে আঘাত পড়ে না, যদিও তরবারি চকচকে ধারালো হয়। অনুরূপ 'ইস্তিআযাহ', যদি তা পরহেযগার মু'মিন প্রয়োগ করে, তাহলে তা হয় জ্বলন্ত অগ্নিবাণ, শয়তানকে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে। পক্ষান্তরে তা যদি কোন দুর্বল ঈমানের লোক প্রয়োগ করে, তাহলে তা দুশমনের ভিতরে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না।
আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেছেন, “জেনে রেখো যে, পরহেযগার ও অপরহেযগার মুসলিমের সাথে শয়তানের উপমা হল এমন এক ব্যক্তির, যার সামনে আছে খাবার ও গোস্ত। ইতি মধ্যে তার কাছে একটি কুকুর আসে। সে তাকে ‘ভাগ’ বললে, সে পালিয়ে যায়। সে তখন অন্য এক ব্যক্তির কাছে যায়, তার সামনেও খাবার ও গোস্ত আছে। সে যতই তাকে ‘ভাগ-ভাগ’ বলে তাড়াতে যায়, সে ভাগে না। প্রথম লোকটি পরহেযগার লোকের মতো, তার কাছে যখনই শয়তান উপস্থিত হয়, তাকে ভাগানোর জন্য তার কেবল যিক্রই যথেষ্ট হয়। আর দ্বিতীয় লোকটি অপরহেযগার লোকের মতো, শয়তান তার সাথেই ঘোরাফেরা করে, তার কিছু বদ আমলের মিশ্রণ থাকার জন্য। আমরা আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে পানাহ চাই।”৩৬১
বলা বাহুল্য, যে মুসলিম শয়তান ও তার জাল ও ফাঁদসমূহ থেকে রক্ষা পেতে চায়, তার উচিত নিজের ঈমানকে শক্তিশালী ও সবল করা, শয়তান পছন্দ করে এমন আমল থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর শরণ নেওয়া। আর আল্লাহর তওফীক ছাড়া আমাদের কোন ক্ষমতাই নেই। ‘লা হাউলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’

টিকাঃ
৩৬১. তালবীসু ইবলীস ৪৮পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00