📄 প্রথমতঃ সতর্কতা ও সাবধানতা
শয়তান মানুষের আদি ও চিরশত্রু। কুচক্রী ঐ দুশমন মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য সতত আগ্রহী। মানুষকে নিজ দলে টানার কাজে নিরলস প্রচেষ্টায় ব্রতী। সে তো আদিকাল থেকেই শপথ ও প্রতিজ্ঞা করেছে, সে তার পিছু ছাড়বে না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيَّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
সে বলল, 'হে আমার প্রতিপালক! তুমি যে আমাকে বিপদগামী করলে তার জন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপ কর্মকে অবশ্যই শোভনীয় করে তুলব এবং আমি তাদের সকলকে অবশ্যই বিপথগামী করে ছাড়ব।'³³⁰
قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
সে বলল, 'তোমার ক্ষমতার শপথ! আমি অবশ্যই ওদের সকলকেই বিভ্রান্ত করব।'³³¹
সুতরাং মুসলিমের উচিত সদা সতর্ক থাকা। দুশমনের দুরভিসন্ধি সম্পর্কে অবহিত থাকা, তার ভ্রষ্ট করার নানা অসীলা, মাধ্যম, উপায় ও পথ সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা। সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করলে বাঁচা সহজ, নচেৎ অসতর্ক ও উদাসীন থাকলে তার ফাঁদে অনায়াসে পা ফেঁসে যাবে। তার হাতে লাগাম আসবে এবং সে তাকে নিয়ে যথা ইচ্ছা প্রস্থান করবে। শয়তান ও মানুষের মাঝে এই লড়াইয়ের একটি সুন্দর চিত্রাঙ্কন করেছেন ইবনুল জাওযী। তিনি বলেছেন, "জেনে রেখো, হৃদয় হল দুর্গের মতো। এই দুর্গের চারিপাশে আছে প্রাচীর। তার আছে একাধিক দরজা। কোথাও আছে তার ভাঙ্গা অংশ। এই দুর্গের অধিবাসী হল বিবেক-বুদ্ধি। ফিরিস্তা এই দুর্গে যাতায়াত করেন। তার পাশে আছে একটি আখড়া, সেখানে থাকে প্রবৃত্তি। সেই আখড়ায় শয়তানেরা যাওয়া-আসা করে অবাধে অব্যাহতভাবে। দুর্গ ও আখড়ার অধিবাসীদের মাঝে যুদ্ধ বাধে। শয়তানেরা সর্বদা দুর্গের সেই প্রাচীরের চারিপাশে ঘুরে-ফিরে দারোয়ানের অসতর্কতার সুযোগ অনুসন্ধান করে এবং কোন ভাঙ্গা অংশ দিয়ে দুর্গের ভিতরে প্রবেশ করতে চায়।
সুতরাং দারোয়ানের জন্য আবশ্যক, প্রাচীরের সকল দরজা চিনে রাখা, যার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। অনুরূপ ভাঙ্গা অংশগুলিও (মেরামত করার চেষ্টায় অব্যাহত থাকা)। পাহারার কাজে নিমেষভরও শৈথিল্য ও ক্লান্তি প্রকাশ না করা। যেহেতু দুশমনের মাঝে কোন শৈথিল্য ও ক্লান্তি নেই।
এক ব্যক্তি হাসান বাসরীকে জিজ্ঞাসা করল, 'ইবলীস কি ঘুমায়?' উত্তরে তিনি বললেন, 'সে ঘুমালে তো আমরা স্বস্তি পেতাম।'
উক্ত দুর্গ যিক্রের আলো দ্বারা আলোকিত, ঈমানের দীপ্তি দ্বারা উদ্ভাসিত। তাতে আছে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ আয়না, কেউ পার হলেই তাকে তাতে সহজে দেখা যাবে। তাই শয়তান প্রথমে যে কাজটি করে, আখড়ায় বেশি বেশি ধুয়া সৃষ্টি করে। তার ফলে দুর্গের দেওয়ালগুলো কালো হতে শুরু করে, আয়নাগুলো অস্বচ্ছ হতে লাগে। কিন্তু পরিপূর্ণ বুদ্ধি ধুয়া প্রতিহত করতে থাকে এবং যিক্র দ্বারা আয়না পরিষ্কার করতে থাকে।
শত্রুর আছে নানা ধরনের আক্রমণ-কৌশল। কখনো সে আক্রমণ করে দুর্গে প্রবেশ করে। কিন্তু প্রহরী পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাকে প্রতিহত করে এবং দুর্গ থেকে বহিষ্কার করে। কখনো শত্রু প্রবিষ্ট হয়ে তান্ডব চালায়। কখনো প্রহরীর অসতর্কাবস্থায় সেখানে বসবাস শুরু করে। কখনো ধুয়া-বিতাড়নকারী বায়ু থেমে যায়, ফলে দুর্গের দেওয়াল কালো হয়ে যায় এবং আয়নাগুলো অস্বচ্ছ হয়ে যায়। আর তার ফলে শয়তান পার হয়ে গেলেও তাকে দেখা যায় না। কখনো সে প্রহরীকে অসতর্কতার কারণে আহত করে, বন্দী করে নিজের ব্যবহারে লাগায়। সেখানে স্থায়ী হয়ে প্রবৃত্তির অনুসরণ ও তাতে সহযোগিতা করার উপর নানা ছল-বাহানা খোঁজে।” ³³²
টিকাঃ
৩৩০. সূরা আল হিজ্বর-১৫:৩৯
৩৩১. সূরা সোয়া-দ-৩৮:৮২
৩৩২. তালবীসু ইবলীস ৪৯পৃ.
শয়তান মানুষের আদি ও চিরশত্রু। কুচক্রী ঐ দুশমন মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য সতত আগ্রহী। মানুষকে নিজ দলে টানার কাজে নিরলস প্রচেষ্টায় ব্রতী। সে তো আদিকাল থেকেই শপথ ও প্রতিজ্ঞা করেছে, সে তার পিছু ছাড়বে না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيَّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
সে বলল, 'হে আমার প্রতিপালক! তুমি যে আমাকে বিপদগামী করলে তার জন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপ কর্মকে অবশ্যই শোভনীয় করে তুলব এবং আমি তাদের সকলকে অবশ্যই বিপথগামী করে ছাড়ব।'³³⁰
قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
সে বলল, 'তোমার ক্ষমতার শপথ! আমি অবশ্যই ওদের সকলকেই বিভ্রান্ত করব।'³³¹
সুতরাং মুসলিমের উচিত সদা সতর্ক থাকা। দুশমনের দুরভিসন্ধি সম্পর্কে অবহিত থাকা, তার ভ্রষ্ট করার নানা অসীলা, মাধ্যম, উপায় ও পথ সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা। সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করলে বাঁচা সহজ, নচেৎ অসতর্ক ও উদাসীন থাকলে তার ফাঁদে অনায়াসে পা ফেঁসে যাবে। তার হাতে লাগাম আসবে এবং সে তাকে নিয়ে যথা ইচ্ছা প্রস্থান করবে। শয়তান ও মানুষের মাঝে এই লড়াইয়ের একটি সুন্দর চিত্রাঙ্কন করেছেন ইবনুল জাওযী। তিনি বলেছেন, "জেনে রেখো, হৃদয় হল দুর্গের মতো। এই দুর্গের চারিপাশে আছে প্রাচীর। তার আছে একাধিক দরজা। কোথাও আছে তার ভাঙ্গা অংশ। এই দুর্গের অধিবাসী হল বিবেক-বুদ্ধি। ফিরিস্তা এই দুর্গে যাতায়াত করেন। তার পাশে আছে একটি আখড়া, সেখানে থাকে প্রবৃত্তি। সেই আখড়ায় শয়তানেরা যাওয়া-আসা করে অবাধে অব্যাহতভাবে। দুর্গ ও আখড়ার অধিবাসীদের মাঝে যুদ্ধ বাধে। শয়তানেরা সর্বদা দুর্গের সেই প্রাচীরের চারিপাশে ঘুরে-ফিরে দারোয়ানের অসতর্কতার সুযোগ অনুসন্ধান করে এবং কোন ভাঙ্গা অংশ দিয়ে দুর্গের ভিতরে প্রবেশ করতে চায়।
সুতরাং দারোয়ানের জন্য আবশ্যক, প্রাচীরের সকল দরজা চিনে রাখা, যার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। অনুরূপ ভাঙ্গা অংশগুলিও (মেরামত করার চেষ্টায় অব্যাহত থাকা)। পাহারার কাজে নিমেষভরও শৈথিল্য ও ক্লান্তি প্রকাশ না করা। যেহেতু দুশমনের মাঝে কোন শৈথিল্য ও ক্লান্তি নেই।
এক ব্যক্তি হাসান বাসরীকে জিজ্ঞাসা করল, 'ইবলীস কি ঘুমায়?' উত্তরে তিনি বললেন, 'সে ঘুমালে তো আমরা স্বস্তি পেতাম।'
উক্ত দুর্গ যিক্রের আলো দ্বারা আলোকিত, ঈমানের দীপ্তি দ্বারা উদ্ভাসিত। তাতে আছে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ আয়না, কেউ পার হলেই তাকে তাতে সহজে দেখা যাবে। তাই শয়তান প্রথমে যে কাজটি করে, আখড়ায় বেশি বেশি ধুয়া সৃষ্টি করে। তার ফলে দুর্গের দেওয়ালগুলো কালো হতে শুরু করে, আয়নাগুলো অস্বচ্ছ হতে লাগে। কিন্তু পরিপূর্ণ বুদ্ধি ধুয়া প্রতিহত করতে থাকে এবং যিক্র দ্বারা আয়না পরিষ্কার করতে থাকে।
শত্রুর আছে নানা ধরনের আক্রমণ-কৌশল। কখনো সে আক্রমণ করে দুর্গে প্রবেশ করে। কিন্তু প্রহরী পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাকে প্রতিহত করে এবং দুর্গ থেকে বহিষ্কার করে। কখনো শত্রু প্রবিষ্ট হয়ে তান্ডব চালায়। কখনো প্রহরীর অসতর্কাবস্থায় সেখানে বসবাস শুরু করে। কখনো ধুয়া-বিতাড়নকারী বায়ু থেমে যায়, ফলে দুর্গের দেওয়াল কালো হয়ে যায় এবং আয়নাগুলো অস্বচ্ছ হয়ে যায়। আর তার ফলে শয়তান পার হয়ে গেলেও তাকে দেখা যায় না। কখনো সে প্রহরীকে অসতর্কতার কারণে আহত করে, বন্দী করে নিজের ব্যবহারে লাগায়। সেখানে স্থায়ী হয়ে প্রবৃত্তির অনুসরণ ও তাতে সহযোগিতা করার উপর নানা ছল-বাহানা খোঁজে।” ³³²
টিকাঃ
৩৩০. সূরা আল হিজ্বর-১৫:৩৯
৩৩১. সূরা সোয়া-দ-৩৮:৮২
৩৩২. তালবীসু ইবলীস ৪৯পৃ.
📄 দ্বিতীয়তঃ কিতাব ও সুন্নাহর পথ অবলম্বন
শয়তান থেকে নিজেকে বাঁচাবার সবচেয়ে বড় উপায় হল কিতাব ও সুন্নাহর পথ অবলম্বন করা। কুরআন বুঝে পড়া, তার সহীh তাফসীর পড়া এবং সহীh হাদীস জেনে আমল করা। এটাই হচ্ছে সরল পথ। আর শয়তানের পথ হল বাঁকা পথ। সে নিরলস প্রচেষ্টায় আছে, যাতে আমাদেরকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করে তার বাঁকা পথে পরিচালিত করে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلاَ تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থাৎ, নিশ্চয় এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং এরই অনুসরণ কর ও বিভিন্ন পথের অনুসরণ করো না। করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দান করেছেন, যেন তোমরা সাবধান হও।³³³ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন, একদা রসূল স্বহস্তে একটি (সরল) রেখা টানলেন, অতঃপর বললেন, "এটা আল্লাহর সরল পথ।" তারপর ঐ রেখাটির ডানে ও বামে আরো অনেক রেখা টেনে বললেন, "এই হচ্ছে বিভিন্ন পথ; যার প্রত্যেকটির উপর রয়েছে শয়তান, যে ঐ পথের দিকে আহ্বান করে (দাওয়াত দিতে) থাকে।" অতঃপর তিনি উক্ত আয়াতটি পাঠ করলেন। ³³⁴
বলা বাহুল্য, কিতাব ও সুন্নাহতে যে আকীদা, আমল, উক্তি, ইবাদত ও নিয়ম-নীতি এসেছে, তা গ্রহণ করতে হবে এবং তাতে যা নিষিদ্ধ আছে, তা বর্জন করতে হবে, তবেই বান্দা শয়তান থেকে সুরক্ষা পাবে। এই জন্যই মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
"হে মু'মিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।"³³⁵
সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করবে, সে এমন দুর্ভেদ্য দুর্গে প্রবেশ করবে, যেখানে শয়তান প্রবেশ করতে পারবে না। পরিপূর্ণরূপে ইসলামের অনুসরণ করলে শয়তানের পদাঙ্কানুসরণ হবে না। পক্ষান্তরে যে ইসলামের পথে চলবে না, সে স্বভাবতই শয়তানের পথে চলবে। যে যতটা ইসলাম থেকে দূরে সরে যাবে, সে ততটা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে।
এই জন্যই মহান আল্লাহর হারামকৃত জিনিসকে হালাল করা, তাঁর হালালকৃত জিনিসকে হারাম করা অথবা কোন হারাম ও অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ করা, আসলে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করার নামান্তর। অথচ মহান আল্লাহ তাতে নিষেধ করে বলেছেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الأَرْضِ حَلالاً طَيِّباً وَلا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
"হে লোক সকল! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।"³³⁶
শয়তান মানুষকে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের আদেশ দেয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তা করে, সে আসলে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। অথচ মহান আল্লাহ তাতে নিষেধ করে বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَن يَتَّبِعُ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ
“হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে শয়তান তো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়।”³³⁷
কিতাব ও সুন্নাহর আমল শয়তানকে ক্রোধান্বিত করে। মানুষের আমল দেখে সে অনুতপ্ত হয়, দূরে পালায়। নবী বলেছেন,
إِذَا قَرَأَ ابْنُ آدَمَ السَّجْدَةَ فَسَجَدَ اعْتَزَلَ الشَّيْطَانُ يَبْكِي يَقُولُ : يَا وَيْلِي أُمِرَ ابْنُ آدَمَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ فَلَهُ الْجَنَّةُ وَأُمِرْتُ بِالسُّجُودِ فَأَبَيْتُ فَلِيَ النَّارُ
“আদম-সন্তান যখন সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা করে, তখন শয়তান সরে গিয়ে কাঁদে ও বলে, ‘হায় আমার দুর্ভোগ! আদম-সন্তান সিজদা করতে আদিষ্ট হয়ে সিজদা করেছে, ফলে তার জন্য রয়েছে জান্নাত। আর আমি সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েও তা করতে অস্বীকার করেছি, ফলে আমার জন্য রয়েছে জাহান্নাম!”³³⁸
### তৃতীয়তঃ আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও রক্ষা চাওয়া
শয়তান ও তার সিপাই-সৈন্য থেকে রক্ষা পেতে উত্তম উপায় হল মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও রক্ষা প্রার্থনা করা। 'আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম' পাঠ করা। যেহেতু তিনি পানাহ দিলে শয়তান বান্দার কোন ক্ষতি করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ - وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
“তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল। আর যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। "³³⁹
মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় রসূল কে আদেশ দিয়েছেন, তিনি যেন শয়তান ও তার উপস্থিতি থেকে তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তিনি বলেছেন,
وَقُل رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ - وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
"বল, 'হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি শয়তানদের প্ররোচনা হতে। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিকট ওদের (শয়তানদের) উপস্থিতি হতে। "³⁴⁰
শয়তানের প্ররোচনা, কুমন্ত্রণা ও কুচক্রান্ত ইত্যাদি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে মহান আল্লাহর এই নির্দেশ। আর তার মানে শয়তানী শত্রুতার সম্মুখীন অবশ্যই হতে হবে। সে তাতে কোন প্রকার নমনীয়তা ও ত্যাগ স্বীকার করবে না। যেহেতু সে কেবল আদম-সন্তানের অমঙ্গলই চায়। সে মানুষের চরম শত্রু, প্রকাশ্য শত্রু।
ইবনে কাষীর তাঁর তাফসীর গ্রন্থে বলেছেন, "ইস্তিআযাহ (আশ্রয় প্রার্থনা) হল, প্রত্যেক মন্দকারীর মন্দ হতে মহান আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া, তাঁর দরবারে শরণ নেওয়া।
আর 'আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম' মানে এই যে, আমি আল্লাহর সমীপে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। যাতে সে আমাকে আমার দ্বীন ও দুনিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত না করতে পারে, যা করতে আমি আদিষ্ট, তা করতে যেন সে বাধা দিতে না পারে, যা করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে, তা করতে যেন সে আমাকে উদ্বুদ্ধ না করতে পারে। যেহেতু মানুষকে শয়তান থেকে আল্লাহ ছাড়া কেউ বিরত রাখতে সক্ষম নয়। এই জন্য উপকার-উপহার কিছু পেশ করে মনুষ্য শয়তানের সাথে একটু সৌজন্য ব্যবহার ও ত্যাগ স্বীকার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে সে বিনিময়ে তার প্রকৃতি তাকে অভ্যাসগত কষ্টদানে বিরত রাখে। আর জ্বিন শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু সে কোন ঘুস গ্রহণ করবে না, কোন উপকার-উপহার তাকে প্রভাবান্বিত করবে না। কেননা সে প্রকৃতিগত ভাবেই দুষ্ট। আর তোমার নিকট থেকে তাকে একমাত্র তিনিই নিবারণ করতে পারবেন, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। "³⁴¹
নবী মহান প্রতিপালকের নিকট শয়তান থেকে বহুবার বিভিন্ন বাক্যে পানাহ চাইতেন। নামাযে ইস্তিফতাহ্র দু'আ পাঠের পর বলতেন,
أَعُوذُ بِاللهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ، مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ
অর্থাৎ, আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান থেকে তার প্ররোচনা ও ফুৎকার হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ³⁴²
তিনি আবূ বাক্স সিদ্দীক কে নিম্নের দু'আ শিখিয়ে ছিলেন, যাতে তিনি সকাল-সন্ধ্যায় ও শয়নকালে পাঠ করেন,
اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ
অর্থঃ- হে উপস্থিত ও অনুপস্থিত পরিজ্ঞাতা, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি আল্লাহ! আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার আত্মার মন্দ হতে এবং শয়তানের মন্দ ও শির্ক হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ³⁴³
টিকাঃ
৩৩৩. সূরা আনআম-৬:১৫৩
৩৩৪. আহমাদ, নাসাঈ, হাকেম, মিশকাত হাএ. হা/১/৫৯
৩৩৫. সূরা আল বাক্বারাহ-২:২০৮
৩৩৬. সূরা আল বাক্বারাহ-২:১৬৮
৩৩৭. সূরা নূর-২৪:২১
৩৩৮. মুসলিম মাশা. হা/২৫৪
৩৩৯. সূরা আল আ'রা-ফ-৭:১৯৯-২০০
৩৪০. সূরা মু'মিনূন-২৩:৯৭-৯৮
৩৪১. তাফসীর ইবনে কাষীর ১/২৮
৩৪২. আবু দাউদ আলএ. হা/৭৭৫, তিরমিযী, দারাকুতুনী, হাকেম, ইবনে হিব্বান
৩৪৩. আবু দাউদ আলএ. হা/৫০৬৯, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/৩৩৯২
শয়তান থেকে নিজেকে বাঁচাবার সবচেয়ে বড় উপায় হল কিতাব ও সুন্নাহর পথ অবলম্বন করা। কুরআন বুঝে পড়া, তার সহীh তাফসীর পড়া এবং সহীh হাদীস জেনে আমল করা। এটাই হচ্ছে সরল পথ। আর শয়তানের পথ হল বাঁকা পথ। সে নিরলস প্রচেষ্টায় আছে, যাতে আমাদেরকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করে তার বাঁকা পথে পরিচালিত করে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلاَ تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থাৎ, নিশ্চয় এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং এরই অনুসরণ কর ও বিভিন্ন পথের অনুসরণ করো না। করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দান করেছেন, যেন তোমরা সাবধান হও।³³³ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন, একদা রসূল স্বহস্তে একটি (সরল) রেখা টানলেন, অতঃপর বললেন, "এটা আল্লাহর সরল পথ।" তারপর ঐ রেখাটির ডানে ও বামে আরো অনেক রেখা টেনে বললেন, "এই হচ্ছে বিভিন্ন পথ; যার প্রত্যেকটির উপর রয়েছে শয়তান, যে ঐ পথের দিকে আহ্বান করে (দাওয়াত দিতে) থাকে।" অতঃপর তিনি উক্ত আয়াতটি পাঠ করলেন। ³³⁴
বলা বাহুল্য, কিতাব ও সুন্নাহতে যে আকীদা, আমল, উক্তি, ইবাদত ও নিয়ম-নীতি এসেছে, তা গ্রহণ করতে হবে এবং তাতে যা নিষিদ্ধ আছে, তা বর্জন করতে হবে, তবেই বান্দা শয়তান থেকে সুরক্ষা পাবে। এই জন্যই মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ cَدُوٌّ مُّبِينٌ
"হে মু'মিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।"³³⁵
সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করবে, সে এমন দুর্ভেদ্য দুর্গে প্রবেশ করবে, যেখানে শয়তান প্রবেশ করতে পারবে না। পরিপূর্ণরূপে ইসলামের অনুসরণ করলে শয়তানের পদাঙ্কানুসরণ হবে না। পক্ষান্তরে যে ইসলামের পথে চলবে না, সে স্বভাবতই শয়তানের পথে চলবে। যে যতটা ইসলাম থেকে দূরে সরে যাবে, সে ততটা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে।
এই জন্যই মহান আল্লাহর হারামকৃত জিনিসকে হালাল করা, তাঁর হালালকৃত জিনিসকে হারাম করা অথবা কোন হারাম ও অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ করা, আসলে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করার নামান্তর। অথচ মহান আল্লাহ তাতে নিষেধ করে বলেছেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الأَرْضِ حَلالاً طَيِّباً وَلا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
"হে লোক সকল! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।"³³⁶
শয়তান মানুষকে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের আদেশ দেয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তা করে, সে আসলে শয়তানের پদাঙ্ক অনুসরণ করে। অথচ মহান আল্লাহ তাতে নিষেধ করে বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَن يَتَّبِعُ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ
“হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কেউ শয়তানের پদাঙ্ক অনুসরণ করলে শয়তান তো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়।”³³⁷
কিতাব ও সুন্নাহর আমল শয়তানকে ক্রোধান্বিত করে। মানুষের আমল দেখে সে অনুতপ্ত হয়, দূরে পালায়। নবী বলেছেন,
إِذَا قَرَأَ ابْنُ آدَمَ السَّجْدَةَ فَسَجَدَ اعْتَزَلَ الشَّيْطَانُ يَبْكِي يَقُولُ : يَا وَيْلِي أُمِرَ ابْنُ آدَمَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ فَلَهُ الْجَنَّةُ وَأُمِرْتُ بِالسُّجُودِ فَأَبَيْتُ فَلِيَ النَّارُ
“আদম-সন্তান যখন সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা করে, তখন শয়তান সরে গিয়ে কাঁদে ও বলে, ‘হায় আমার দুর্ভোগ! আদম-সন্তান সিজদা করতে আদিষ্ট হয়ে সিজদা করেছে, ফলে তার জন্য রয়েছে জান্নাত। আর আমি সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েও তা করতে অস্বীকার করেছি, ফলে আমার জন্য রয়েছে জাহান্নাম!”³³⁸
### তৃতীয়তঃ আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও রক্ষা চাওয়া
শয়তান ও তার সিপাই-সৈন্য থেকে রক্ষা পেতে উত্তম উপায় হল মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও রক্ষা প্রার্থনা করা। 'আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম' পাঠ করা। যেহেতু তিনি পানাহ দিলে শয়তান বান্দার কোন ক্ষতি করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ - وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
“তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল। আর যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। "³³⁹
মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় রসূল কে আদেশ দিয়েছেন, তিনি যেন শয়তান ও তার উপস্থিতি থেকে তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তিনি বলেছেন,
وَقُل رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ - وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
"বল, 'হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি শয়তানদের প্ররোচনা হতে। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিকট ওদের (শয়তানদের) উপস্থিতি হতে। "³⁴⁰
শয়তানের প্ররোচনা, কুমন্ত্রণা ও কুচক্রান্ত ইত্যাদি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে মহান আল্লাহর এই নির্দেশ। আর তার মানে শয়তানী শত্রুতার সম্মুখীন অবশ্যই হতে হবে। সে তাতে কোন প্রকার নমনীয়তা ও ত্যাগ স্বীকার করবে না। যেহেতু সে কেবল আদম-সন্তানের অমঙ্গলই চায়। সে মানুষের চরম শত্রু, প্রকাশ্য শত্রু।
ইবনে কাষীর তাঁর তাফসীর গ্রন্থে বলেছেন, "ইস্তিআযাহ (আশ্রয় প্রার্থনা) হল, প্রত্যেক মন্দকারীর মন্দ হতে মহান আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া, তাঁর দরবারে শরণ নেওয়া।
আর 'আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম' মানে এই যে, আমি আল্লাহর সমীপে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। যাতে সে আমাকে আমার দ্বীন ও দুনিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত না করতে পারে, যা করতে আমি আদিষ্ট, তা করতে যেন সে বাধা দিতে না পারে, যা করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে, তা করতে যেন সে আমাকে উদ্বুদ্ধ না করতে পারে। যেহেতু মানুষকে শয়তান থেকে আল্লাহ ছাড়া কেউ বিরত রাখতে সক্ষম নয়। এই জন্য উপকার-উপহার কিছু পেশ করে মনুষ্য শয়তানের সাথে একটু সৌজন্য ব্যবহার ও ত্যাগ স্বীকার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে সে বিনিময়ে তার প্রকৃতি তাকে অভ্যাসগত কষ্টদানে বিরত রাখে। আর জ্বিন শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু সে কোন ঘুস গ্রহণ করবে না, কোন উপকার-উপহার তাকে প্রভাবান্বিত করবে না। কেননা সে প্রকৃতিগত ভাবেই দুষ্ট। আর তোমার নিকট থেকে তাকে একমাত্র তিনিই নিবারণ করতে পারবেন, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। "³⁴¹
নবী মহান প্রতিপালকের নিকট শয়তান থেকে বহুবার বিভিন্ন বাক্যে পানাহ চাইতেন। নামাযে ইস্তিফতাহ্র দু'আ পাঠের পর বলতেন,
أَعُوذُ بِاللهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ، مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ
অর্থাৎ, আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান থেকে তার প্ররোচনা ও ফুৎকার হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ³⁴²
তিনি আবূ বাক্স সিদ্দীক কে নিম্নের দু'আ শিখিয়ে ছিলেন, যাতে তিনি সকাল-সন্ধ্যায় ও শয়নকালে পাঠ করেন,
اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ
অর্থঃ- হে উপস্থিত ও অনুপস্থিত পরিজ্ঞাতা, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি আল্লাহ! আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার আত্মার মন্দ হতে এবং শয়তানের মন্দ ও শির্ক হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ³⁴³
টিকাঃ
৩৩৩. সূরা আনআম-৬:১৫৩
৩৩৪. আহমাদ, নাসাঈ, হাকেম, মিশকাত হাএ. হা/১/৫৯
৩৩৫. সূরা আল বাক্বারাহ-২:২০৮
৩৩৬. সূরা আল বাক্বারাহ-২:১৬৮
৩৩৭. সূরা নূর-২৪:২১
৩৩৮. মুসলিম মাশা. হা/২৫৪
৩৩৯. সূরা আল আ'রা-ফ-৭:১৯৯-২০০
৩৪০. সূরা মু'মিনূন-২৩:৯৭-৯৮
৩৪১. তাফসীর ইবনে কাষীর ১/২৮
৩৪২. আবু দাউদ আলএ. হা/৭৭৫, তিরমিযী, দারাকুতুনী, হাকেম, ইবনে হিব্বান
৩৪৩. আবু দাউদ আলএ. হা/৫০৬৯, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/৩৩৯২
📄 চতুর্থতঃ আল্লাহর যিকরে নিরত থাকা
যে সকল বড় বড় উপায় অবলম্বন করলে শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, তার মধ্যে একটা উপায় হল আল্লাহর যিক্র। আল্লাহর নাম শুনলে শয়তান নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
হাদীসে এসেছে যে, মহান আল্লাহ নবী ইয়াহইয়া (আঃ) কে আদেশ করেছিলেন যে, তিনি যেন বানী ইস্রাঈলকে পাঁচটি আচরণের নির্দেশ দেন। তার মধ্যে একটি হল, “আমি তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা মহান আল্লাহর যিক্র কর। যেহেতু এর উপমা হল সেই ব্যক্তির মতো, যার পশ্চাতে শত্রু ত্রস্তপদে ধাওয়া করেছে। পরিশেষে একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে এসে নিজেকে তাদের হাত হতে রক্ষা করেছে। অনুরূপই আল্লাহর যিক্র ছাড়া বান্দা নিজেকে শয়তান থেকে রক্ষা করতে পারে না।”³⁶²
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, “যিক্রের মধ্যে যদি এই একটি ছাড়া অন্য কোন উপকারিতা না থাকত, তাহলেও বান্দার জন্য উচিত হতো যে, মহান আল্লাহর যিক্র তার জিহ্বা কোন শৈথিল্য করত না এবং সর্বদা তাঁর যিক্রে নিজেকে ব্রতী রাখত। যেহেতু যিক্র ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে দুশমন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। অসতর্ক না হলে দুশমন তার মাঝে প্রবেশ করতে পারে না। দুশমন তার গতিবিধি লক্ষ্য রাখে। সুতরাং যখনই সে একটু উদাস হয়, তখনই দুশমন তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শিকার বানিয়ে ফেলে। কিন্তু যদি মহান আল্লাহর যিক্র করে, তাহলে আল্লাহর দুশমন নিবারিত হয় এবং ক্ষুদ্র হয়ে যায়। ছোট পাখী বা মাছির মতো ছোট হয়ে যায়। এই জন্য তাকে ‘আল-অসওয়াসুল খান্নাস’ (আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতা) বলা হয়েছে। যেহেতু সে মানুষের বুকে কুমন্ত্রণা দেয়। অতঃপর আল্লাহর যিক্র করা হলে সরে পড়ে আত্মগোপন করে।
ইবনে আব্বাস বলেছেন, ‘শয়তান আদম-সন্তানের হৃদয়ে অবিচ্ছিন্নভাবে লেগে থাকে। অতঃপর একটু বিস্মৃত ও উদাস হলে, সে কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করে। অতঃপর সে আল্লাহ তাআলার যিক্র করলে সরে পড়ে।’³⁶³
স্বগৃহে বসবাসরত অবস্থায় আল্লাহর যিক্র বান্দার জন্য দুর্ভেদ্য কেল্লা। বাইরে গেলে আল্লাহর যিক্র তার জন্য মাথার ছাতা, দেহরক্ষক ঢাল। রসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَنْ قَالَ - يَعْنِي إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ - : بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ ، وَلَا حَولَ وَلا قُوَّةَ إلا باللهِ ، يُقالُ لَهُ : هُدِيتَ وَكُفِيتَ وَوُقِيتَ ، وَتَنَقَّى عَنْهُ الشَّيْطَانُ
“যে ব্যক্তি স্বীয় গৃহ থেকে বের হওয়ার সময় বলে, 'বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, অলা হাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।' (অর্থাৎ, আল্লাহর উপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পাপ থেকে ফিরা এবং পুণ্য করা সম্ভব নয়।) তাকে বলা হয়, 'তোমাকে সঠিক পথ দেওয়া হল, তোমাকে যথেষ্টতা দান করা হল এবং তোমাকে বাঁচিয়ে নেওয়া হল।' আর শয়তান তার নিকট থেকে দূরে সরে যায়।"³⁶⁴ আবূ দাউদ এই শব্দগুলি বাড়তি বর্ণনা করেছেন, "ফলে শয়তান অন্য শয়তানকে বলে যে, 'ঐ ব্যক্তির উপর তোমার কীরূপে কর্তৃত্ব চলবে, যাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করা হয়েছে, যাকে যথেষ্টতা দান করা হয়েছে এবং যাকে (সকল অমঙ্গল) থেকে বাঁচানো হয়েছে?” আবু হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, রসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَريكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ؛ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، فِي يَوْمٍ مِئَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابِ وَكُتِبَتْ لَهُ مِئَةٌ حَسَنَةٍ ، وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِئَةُ سَيِّئَةٍ ، وَكَانَتْ لَهُ حِرْزاً مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِي ، وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلَّا رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ
"লা- ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু অলা-হুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।' অর্থাৎ, এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। (বিশাল) রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই যাবতীয় স্তুতিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান।
যে ব্যক্তি এই দু'আটি দিনে একশবার পড়বে, তার দশটি গোলাম আযাদ করার সমান নেকী অর্জিত হবে, একশ'টি নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে, তার একশ'টি গুনাহ মোচন করা হবে, উক্ত দিনের সন্ধ্যা অবধি তা তার জন্য শয়তান থেকে বাঁচার রক্ষামন্ত্র হবে এবং তার চেয়ে সেদিন কেউ উত্তম কাজ করতে পারবে না। কিন্তু যদি কেউ তার চেয়ে বেশী আমল করে তবে আলাদা কথা। "³⁶⁵
আবূ খাল্লাদ মিসরী বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ইসলামে প্রবেশ করে, সে একটি দুর্গে প্রবেশ করে, যে মসজিদে প্রবেশ করে, সে দুটি দুর্গে প্রবেশ করে এবং যে ব্যক্তি এমন হালকায় বসে, যেখানে মহান আল্লাহর যিক্র করা হয়, সে তিনটি দুর্গে প্রবেশ করে।'
সূরা বাক্বারার তিলাওয়াত দ্বারা যিক্র হলে শয়তান বাড়ি ছেড়ে পলায়ন করে। নবী বলেন,
لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
"তোমাদের ঘরকে কবর বানিয়ে নিয়ো না (অর্থাৎ কবরে যেমন নামায বা তেলাঅত হয় না তেমনি বিনা নামায ও তেলাঅতে ঘরকেও তার মতো করো না; বরং তাতে নামায ও তেলাঅত করতে থাক।) অবশ্যই শয়তান সেই ঘর হতে পলায়ন করে, যে ঘরে সূরা বাক্বারাহ পাঠ করা হয়।"³⁶⁶
তিনি আরো বলেন, “তোমরা তোমাদের গৃহে সূরা বাক্বারাহ পাঠ কর। কারণ, যে ঘরে ঐ সূরা পাঠ করা হয়, সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না।”³⁶⁷ "তিন দিন প্রবেশ করতে পারে না।"³⁶⁸ আয়াতুল কুরসী দ্বারা আল্লাহর যিক্র করলে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
আবু হুরাইরা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) রসূলুল্লাহ আমাকে রমযানের যাকাত (ফিত্রার মাল-ধন) দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেন। বস্তুতঃ (আমি পাহারা দিচ্ছিলাম ইত্যবসরে) একজন আগমনকারী এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরলাম এবং বললাম, 'তোকে অবশ্যই রসূলুল্লাহ এর কাছে পেশ করব।' সে আবেদন করল, 'আমি একজন সত্যিকারের অভাবী। পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমার উপর, আমার দারুণ অভাব।' কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে (রসূলুল্লাহ এর নিকট হাযির হলাম।) রসূলুল্লাহ বললেন, "হে আবূ হুরাইরা! গত রাতে তোমার বন্দী কী আচরণ করেছে?” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! সে তার অভাব ও (অসহায়) পরিবার-সন্তানের অভিযোগ জানাল। সুতরাং তার প্রতি আমার দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।' তিনি বললেন, "সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।"
আমি রসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুরূপ উক্তি শুনে সুনিশ্চিত হলাম যে, সে আবার আসবে। কাজেই আমি তার প্রতীক্ষায় থাকলাম। সে (পূর্ববৎ) এসে আঁজলা ভরে খাদ্যসামগ্রী নিতে লাগল। আমি তাকে বললাম, 'অবশ্যই তোকে রসূলুল্লাহ ﷺ এর দরবারে পেশ করব।' সে বলল, 'আমি অভাবী, পরিবারের দায়িত্ব আমার উপর, (আমাকে ছেড়ে দাও) আমি আর আসব না।' সুতরাং আমার মনে দয়া হল। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে উঠে (যখন রসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে গেলাম তখন) রসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, "আবূ হুরাইরা! গত রাত্রে তোমার বন্দী কিরূপ আচরণ করেছে?” আমি বললাম, 'ইয়া রসূলাল্লাহ! সে তার অভাব ও অসহায় সন্তান-পরিবারের অভিযোগ জানাল। সুতরাং আমার মনে দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।' তিনি বললেন, "সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।"
সুতরাং তৃতীয়বার তার প্রতীক্ষায় রইলাম। সে (এসে) আঁজলা ভরে খাদ্যসামগ্রী নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম, "এবারে তোকে নবী ﷺ এর দরবারে হাযির করবই। এটা তিনবারের মধ্যে শেষবার। 'ফিরে আসবো না' বলে তুই আবার ফিরে এসেছিস।" সে বলল, 'তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কতকগুলি শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন।' আমি বললাম, 'সেগুলি কী?' সে বলল, 'যখন তুমি (ঘুমাবার জন্য) বিছানায় যাবে, তখন আয়াতুল কুর্সী পাঠ করে (ঘুমাবে)। তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।'
সুতরাং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আবার সকালে (রসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে গেলাম।) তিনি আমাকে বললেন, "তোমার বন্দী কী আচরণ করেছে?” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! সে বলল, “আমি তোমাকে এমন কতিপয় শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ আমার কল্যাণ করবেন।" বিধায় আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।' তিনি বললেন, “সে শব্দগুলি কী?” আমি বললাম, 'সে আমাকে বলল, “যখন তুমি বিছানায় (শোয়ার জন্য) যাবে, তখন আয়াতুল কুর্সী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত 'আল্লাহু লা- ইলাহা ইল্লা- হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম' পড়ে নেবে।" সে আমাকে আরো বলল, "তার কারণে আল্লাহর তরফ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসবে না।” (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, “শোনো! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে। হে আবূ হুরাইরা! তুমি জান, তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?” আমি বললাম, 'জী না।' তিনি বললেন, "সে শয়তান ছিল।”³⁶⁹
সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত দ্বারা যিক্র করলেও শয়তান থেকে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া যায় এবং বাড়ি শয়তানমুক্ত হয়। নবী বলেন,
إِن الله كتب كتابا قبل أن يخلق السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بألفي عام ، أنزل مِنْهُ آيَتَيْنِ ختم بهما سُورَة الْبَقَرَة وَلَا يقرآن في دار ثَلَاثَ لَيَال فيقربها شَيْطَان
“আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী ও ধরণী সৃষ্টির দুই সহস্রবৎসর পূর্বে এক গ্রন্থ (লওহে মাহফুয) লিপিবদ্ধ করেন, যা আরশের নিকট অবস্থিত। তিনি ঐ (গ্রন্থ) হতে দুটি আয়াত অবতীর্ণ করেন, যার দ্বারায় সূরা বাক্বারার সমাপ্তি ঘটান। যে গৃহে ঐ আয়াত দুটি তিন দিন পঠিত হবে, শয়তান সে গৃহের নিকটবর্তী হবে না। ³⁷⁰
অন্য এক বর্ণনায় আছে, উক্ত আয়াত দুটি কোন বাড়িতে পাঠ করা হলে তিন দিন পর্যন্ত শয়তান সে বাড়ির নিকটবর্তী হয় না। ³⁷¹
যথাসময়ে আল্লাহর যিক্র করা হলে, শয়তান সন্তানের কোন ক্ষতি করতে পারে না। নবী বলেছেন,
لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرُ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا
অর্থাৎ, তোমাদের কেউ যখন স্ত্রী-সহবাস করার ইচ্ছা করে, তখন বলে, 'বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! তুমি শয়তানকে আমাদের নিকট থেকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে যে (সন্তান) দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ।' তাহলে উক্ত সহবাসে সন্তান জন্ম নিলে ঐ সন্তানকে শয়তান কখনো ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। ³⁷²
শয়তান জিন মানুষকে ভয় দেখায়। ভয় পেয়ে আযান দিলে জিন বা শয়তান বা ভূত সব পালিয়ে যায়।
সুহাইল বলেন, একদা আমার আব্বা আমাকে বানী হারেষায় পাঠান। আমার সঙ্গে ছিল এক সঙ্গী। এক বাগান হতে কে যেন নাম ধরে আমার সঙ্গীকে ডাক দিল। আমার সঙ্গী বাগানে খুঁজে দেখল; কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না। ফিরে এলে আব্বার নিকট সে কথা উল্লেখ করলাম। আব্বা বললেন, যদি জানতাম যে, তুমি এই দেখতে পাবে, তাহলে তোমাকে পাঠাতাম না। তবে শোন! যখন (এই ধরনের) কোন শব্দ শুনবে, তখন স্বলাতের মত আযান দিয়ো। কারণ, আমি আবু হুরাইরা (কে আল্লাহর রসূল হতে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন,
إِنَّ الشَّيْطَانَ إِذَا نُودِيَ بِالصَّلَاةِ وَلَّى وَلَهُ حُصَاصٌ
"স্বলাতের আযান দেওয়া হলে শয়তান পাদতে পাদতে পালিয়ে যায়!"³⁷³
কোন বিপদের সময় শয়তানকে গালি দিলে শয়তান গর্বিত হয়। পক্ষান্তরে আল্লাহর নাম নিলে সে ছোট হয়ে যায়।
একটি গাধার পিঠে নবী এর পিছনে এক সাহাবী সওয়ার-সঙ্গী ছিলেন। চলতে চলতে গাধাটি হোঁচট খেলে সাহাবী বললেন, 'শয়তান ধ্বংস হোক।' তিনি বললেন,
لَا تَقُلْ تَعِسَ الشَّيْطَانُ فَإِنَّهُ يَعْظُمُ حَتَّى يَصِيرَ مِثْلَ الْبَيْتِ وَيَقُولُ بِقُوَّتِي صَرَعْتُهُ وَلَكِنْ قُلْ بِسْمِ الله فَإِنَّكَ إِذَا قُلْتَ ذلِكَ تَصَاغَرَ حَتَّى يَصِيرَ مِثْلَ الذُّبَابِ
'শয়তান ধ্বংস হোক' বলো না। যেহেতু এতে সে স্ফীত হয়ে ঘরের সমান হয় এবং বলে, 'আমি নিজ শক্তিতে ওকে বিপদগ্রস্ত করেছি।' বরং তুমি বলো, 'বিসমিল্লাহ।' এ কথা বললে, সে মাছির মত ছোট হয়ে যায়।
এই জন্য যে, সে তার কাজে কৃতকার্য ও সফল হয়েছে জেনে গর্বিত হয়। গালিও তার পায়ে ফুল হয়ে বর্ষিত হয় সাফল্যের উপহার। শুনেছি, এক যাত্রা-মঞ্চে সংসার ভাঙ্গার প্ররোচনামূলক অভিনয় করছিল এক অভিনেতা। কান-ভাঙ্গানির কথা সে এমন দক্ষতার সাথে বলছিল যে, এক দর্শক বাস্তব মনে করে নিজের পায়ের জুতা খুলে তার মুখে ছুড়ে মেরেছিল। অভিনেতা রাগ না করে মিষ্টি হেসে সেই জুতা তুলে নিয়ে বারবার চুম্বন করেছিল এবং অনেক অনেক আনন্দ প্রকাশ করেছিল। কেন?
যেহেতু তা ছিল তার অভিনয়ের মহা সাফল্যের দলীল ও উপহার। শয়তানও অনুরূপ গালি শুনে নিজের কাজে সাফল্য লাভের জন্য আনন্দিত ও গর্বিত হয়।
টিকাঃ
৩৬২. আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ, সহীহুল জামে' লিল আলবানী, মাশা. হা/১৭২৪
৩৬৩. আল-ওয়াবিলুস স্বাইয়িব ৬০পৃ.
৩৬৪. আবু দাউদ আলএ. হা/৫০৯৭, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/৩৪২৬, নাসাঈ প্রমুখ
৩৬৫. বুখারী ইফা, হা/৩০৬০, আপ্র, হা/৩০৫১, তাও, হা/৩২৯৩, ৬৪০৩, মুসলিম মাশা, হা/৭০১৮
৩৬৬. মুসলিম মাশা. হা/১৮৬০
৩৬৭. সহীহুল জামে' লিল আলবানী, মাশা, হা/১১৭০
৩৬৮. ইবনে হিব্বান, সহীহ আত-তারগীব লিল আলবানী মাশা. হা/১৪৬২
৩৬৯. বুখারী ইফা, অনুচ্ছেদ, ১৪৩৮, তাও, হা/২৩১১
৩৭০. মুসনাদে আহমাদ মাশা, হা/৪/২৭৪
৩৭১. হাকেম, সহীহ তারগীব, মাশা. হা/১৪৬৭
৩৭২. বুখারী ইফা, হা/৪৭৮৭, আপ্র. হা/৪৭৮৪, তাও. হা/৫১৬৫, মুসলিম মাশা. হা/৩৬০৬
৩৭৩. মুসলিম মাশা. হা/৮৮৩
যে সকল বড় বড় উপায় অবলম্বন করলে শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, তার মধ্যে একটা উপায় হল আল্লাহর যিক্র। আল্লাহর নাম শুনলে শয়তান নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
হাদীসে এসেছে যে, মহান আল্লাহ নবী ইয়াহইয়া (আঃ) কে আদেশ করেছিলেন যে, তিনি যেন বানী ইস্রাঈলকে পাঁচটি আচরণের নির্দেশ দেন। তার মধ্যে একটি হল, “আমি তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা মহান আল্লাহর যিক্র কর। যেহেতু এর উপমা হল সেই ব্যক্তির মতো, যার পশ্চাতে শত্রু ত্রস্তপদে ধাওয়া করেছে। পরিশেষে একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে এসে নিজেকে তাদের হাত হতে রক্ষা করেছে। অনুরূপই আল্লাহর যিক্র ছাড়া বান্দা নিজেকে শয়তান থেকে রক্ষা করতে পারে না।”৩৬২
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, “যিক্রের মধ্যে যদি এই একটি ছাড়া অন্য কোন উপকারিতা না থাকত, তাহলেও বান্দার জন্য উচিত হতো যে, মহান আল্লাহর যিক্র তার জিহ্বা কোন শৈথিল্য করত না এবং সর্বদা তাঁর যিক্রে নিজেকে ব্রতী রাখত। যেহেতু যিক্র ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে দুশমন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। অসতর্ক না হলে দুশমন তার মাঝে প্রবেশ করতে পারে না। দুশমন তার গতিবিধি লক্ষ্য রাখে। সুতরাং যখনই সে একটু উদাস হয়, তখনই দুশমন তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শিকার বানিয়ে ফেলে। কিন্তু যদি মহান আল্লাহর যিক্র করে, তাহলে আল্লাহর দুশমন নিবারিত হয় এবং ক্ষুদ্র হয়ে যায়। ছোট পাখী বা মাছির মতো ছোট হয়ে যায়। এই জন্য তাকে ‘আল-অসওয়াসুল খান্নাস’ (আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতা) বলা হয়েছে। যেহেতু সে মানুষের বুকে কুমন্ত্রণা দেয়। অতঃপর আল্লাহর যিক্র করা হলে সরে পড়ে আত্মগোপন করে।
ইবনে আব্বাস বলেছেন, ‘শয়তান আদম-সন্তানের হৃদয়ে অবিচ্ছিন্নভাবে লেগে থাকে। অতঃপর একটু বিস্মৃত ও উদাস হলে, সে কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করে। অতঃপর সে আল্লাহ তাআলার যিক্র করলে সরে পড়ে।’৩৬৩
স্বগৃহে বসবাসরত অবস্থায় আল্লাহর যিক্র বান্দার জন্য দুর্ভেদ্য কেল্লা। বাইরে গেলে আল্লাহর যিক্র তার জন্য মাথার ছাতা, দেহরক্ষক ঢাল। রসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَنْ قَالَ - يَعْنِي إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ - : بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ ، وَلَا حَولَ وَلا قُوَّةَ إلا باللهِ ، يُقالُ لَهُ : هُدِيتَ وَكُفِيتَ وَوُقِيتَ ، وَتَنَقَّى عَنْهُ الشَّيْطَانُ
“যে ব্যক্তি স্বীয় গৃহ থেকে বের হওয়ার সময় বলে, 'বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, অলা হাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।' (অর্থাৎ, আল্লাহর উপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পাপ থেকে ফিরা এবং পুণ্য করা সম্ভব নয়।) তাকে বলা হয়, 'তোমাকে সঠিক পথ দেওয়া হল, তোমাকে যথেষ্টতা দান করা হল এবং তোমাকে বাঁচিয়ে নেওয়া হল।' আর শয়তান তার নিকট থেকে দূরে সরে যায়।"৩৬৪ আবূ দাউদ এই শব্দগুলি বাড়তি বর্ণনা করেছেন, "ফলে শয়তান অন্য শয়তানকে বলে যে, 'ঐ ব্যক্তির উপর তোমার কীরূপে কর্তৃত্ব চলবে, যাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করা হয়েছে, যাকে যথেষ্টতা দান করা হয়েছে এবং যাকে (সকল অমঙ্গল) থেকে বাঁচানো হয়েছে?”
আবু হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, রসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَريكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ؛ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، فِي يَوْمٍ مِئَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابِ وَكُتِبَتْ لَهُ مِئَةٌ حَسَنَةٍ ، وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِئَةُ سَيِّئَةٍ ، وَكَانَتْ لَهُ حِرْزاً مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِي ، وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلَّا رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ
'লা- ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু অলা-হুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।' অর্থাৎ, এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। (বিশাল) রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই যাবতীয় স্তুতিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান।
যে ব্যক্তি এই দু'আটি দিনে একশবার পড়বে, তার দশটি গোলাম আযাদ করার সমান নেকী অর্জিত হবে, একশ'টি নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে, তার একশ'টি গুনাহ মোচন করা হবে, উক্ত দিনের সন্ধ্যা অবধি তা তার জন্য শয়তান থেকে বাঁচার রক্ষামন্ত্র হবে এবং তার চেয়ে সেদিন কেউ উত্তম কাজ করতে পারবে না। কিন্তু যদি কেউ তার চেয়ে বেশী আমল করে তবে আলাদা কথা। "৩৬৫
আবূ খাল্লাদ মিসরী বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ইসলামে প্রবেশ করে, সে একটি দুর্গে প্রবেশ করে, যে মসজিদে প্রবেশ করে, সে দুটি দুর্গে প্রবেশ করে এবং যে ব্যক্তি এমন হালকায় বসে, যেখানে মহান আল্লাহর যিক্র করা হয়, সে তিনটি দুর্গে প্রবেশ করে।'
সূরা বাক্বারার তিলাওয়াত দ্বারা যিক্র হলে শয়তান বাড়ি ছেড়ে পলায়ন করে। নবী বলেন,
لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
"তোমাদের ঘরকে কবর বানিয়ে নিয়ো না (অর্থাৎ কবরে যেমন নামায বা তেলাঅত হয় না তেমনি বিনা নামায ও তেলাঅতে ঘরকেও তার মতো করো না; বরং তাতে নামায ও তেলাঅত করতে থাক।) অবশ্যই শয়তান সেই ঘর হতে পলায়ন করে, যে ঘরে সূরা বাক্বারাহ পাঠ করা হয়।"৩৬৬
তিনি আরো বলেন, “তোমরা তোমাদের গৃহে সূরা বাক্বারাহ পাঠ কর। কারণ, যে ঘরে ঐ সূরা পাঠ করা হয়, সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না।”৩৬৭ "তিন দিন প্রবেশ করতে পারে না।"৩৬৮
আয়াতুল কুরসী দ্বারা আল্লাহর যিক্র করলে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
আবু হুরাইরা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) রসূলুল্লাহ আমাকে রমযানের যাকাত (ফিত্রার মাল-ধন) দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেন। বস্তুতঃ (আমি পাহারা দিচ্ছিলাম ইত্যবসরে) একজন আগমনকারী এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরলাম এবং বললাম, 'তোকে অবশ্যই রসূলুল্লাহ এর কাছে পেশ করব।' সে আবেদন করল, 'আমি একজন সত্যিকারের অভাবী। পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমার উপর, আমার দারুণ অভাব।' কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে (রসূলুল্লাহ এর নিকট হাযির হলাম।) রসূলুল্লাহ বললেন, "হে আবূ হুরাইরা! গত রাতে তোমার বন্দী কী আচরণ করেছে?” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! সে তার অভাব ও (অসহায়) পরিবার-সন্তানের অভিযোগ জানাল। সুতরাং তার প্রতি আমার দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।' তিনি বললেন, "সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।"
আমি রসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুরূপ উক্তি শুনে সুনিশ্চিত হলাম যে, সে আবার আসবে। কাজেই আমি তার প্রতীক্ষায় থাকলাম। সে (পূর্ববৎ) এসে আঁজলা ভরে খাদ্যসামগ্রী নিতে লাগল। আমি তাকে বললাম, 'অবশ্যই তোকে রসূলুল্লাহ ﷺ এর দরবারে পেশ করব।' সে বলল, 'আমি অভাবী, পরিবারের দায়িত্ব আমার উপর, (আমাকে ছেড়ে দাও) আমি আর আসব না।' সুতরাং আমার মনে দয়া হল। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে উঠে (যখন রসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে গেলাম তখন) রসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, "আবূ হুরাইরা! গত রাত্রে তোমার বন্দী কিরূপ আচরণ করেছে?” আমি বললাম, 'ইয়া রসূলাল্লাহ! সে তার অভাব ও অসহায় সন্তান-পরিবারের অভিযোগ জানাল। সুতরাং আমার মনে দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।' তিনি বললেন, "সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।"
সুতরাং তৃতীয়বার তার প্রতীক্ষায় রইলাম। সে (এসে) আঁজলা ভরে খাদ্যসামগ্রী নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম, "এবারে তোকে নবী ﷺ এর দরবারে হাযির করবই। এটা তিনবারের মধ্যে শেষবার। 'ফিরে আসবো না' বলে তুই আবার ফিরে এসেছিস।" সে বলল, 'তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কতকগুলি শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন।' আমি বললাম, 'সেগুলি কী?' সে বলল, 'যখন তুমি (ঘুমাবার জন্য) বিছানায় যাবে, তখন আয়াতুল কুর্সী পাঠ করে (ঘুমাবে)। তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।'
সুতরাং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আবার সকালে (রসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে গেলাম।) তিনি আমাকে বললেন, "তোমার বন্দী কী আচরণ করেছে?” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! সে বলল, “আমি তোমাকে এমন কতিপয় শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ আমার কল্যাণ করবেন।" বিধায় আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।' তিনি বললেন, “সে শব্দগুলি কী?” আমি বললাম, 'সে আমাকে বলল, “যখন তুমি বিছানায় (শোয়ার জন্য) যাবে, তখন আয়াতুল কুর্সী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত 'আল্লাহু লা- ইলাহা ইল্লা- হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম' পড়ে নেবে।" সে আমাকে আরো বলল, "তার কারণে আল্লাহর তরফ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসবে না।” (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, “শোনো! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে। হে আবূ হুরাইরা! তুমি জান, তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?” আমি বললাম, 'জী না।' তিনি বললেন, "সে শয়তান ছিল।”৩৬৯
সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত দ্বারা যিক্র করলেও শয়তান থেকে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া যায় এবং বাড়ি শয়তানমুক্ত হয়। নবী বলেন,
إِن الله كتب كتابا قبل أن يخلق السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بألفي عام ، أنزل مِنْهُ آيَتَيْنِ ختم بهما سُورَة الْبَقَرَة وَلَا يقرآن في دار ثَلَاثَ لَيَال فيقربها شَيْطَان
“আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী ও ধরণী সৃষ্টির দুই সহস্রবৎসর পূর্বে এক গ্রন্থ (লওহে মাহফুয) লিপিবদ্ধ করেন, যা আরশের নিকট অবস্থিত। তিনি ঐ (গ্রন্থ) হতে দুটি আয়াত অবতীর্ণ করেন, যার দ্বারায় সূরা বাক্বারার সমাপ্তি ঘটান। যে গৃহে ঐ আয়াত দুটি তিন দিন পঠিত হবে, শয়তান সে গৃহের নিকটবর্তী হবে না। ৩৭০
অন্য এক বর্ণনায় আছে, উক্ত আয়াত দুটি কোন বাড়িতে পাঠ করা হলে তিন দিন পর্যন্ত শয়তান সে বাড়ির নিকটবর্তী হয় না।৩৭১
যথাসময়ে আল্লাহর যিক্র করা হলে, শয়তান সন্তানের কোন ক্ষতি করতে পারে না। নবী বলেছেন,
لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرُ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا
অর্থাৎ, তোমাদের কেউ যখন স্ত্রী-সহবাস করার ইচ্ছা করে, তখন বলে, 'বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! তুমি শয়তানকে আমাদের নিকট থেকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে যে (সন্তান) দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ।' তাহলে উক্ত সহবাসে সন্তান জন্ম নিলে ঐ সন্তানকে শয়তান কখনো ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। ৩৭২
শয়তান জিন মানুষকে ভয় দেখায়। ভয় পেয়ে আযান দিলে জিন বা শয়তান বা ভূত সব পালিয়ে যায়।
সুহাইল বলেন, একদা আমার আব্বা আমাকে বানী হারেষায় পাঠান। আমার সঙ্গে ছিল এক সঙ্গী। এক বাগান হতে কে যেন নাম ধরে আমার সঙ্গীকে ডাক দিল। আমার সঙ্গী বাগানে খুঁজে দেখল; কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না। ফিরে এলে আব্বার নিকট সে কথা উল্লেখ করলাম। আব্বা বললেন, যদি জানতাম যে, তুমি এই দেখতে পাবে, তাহলে তোমাকে পাঠাতাম না। তবে শোন! যখন (এই ধরনের) কোন শব্দ শুনবে, তখন স্বলাতের মত আযান দিয়ো। কারণ, আমি আবু হুরাইরা (কে আল্লাহর রসূল হতে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন,
إِنَّ الشَّيْطَانَ إِذَا نُودِيَ بِالصَّلَاةِ وَلَّى وَلَهُ حُصَاصٌ
"স্বলাতের আযান দেওয়া হলে শয়তান পাদতে পাদতে পালিয়ে যায়!"৩৭৩
কোন বিপদের সময় শয়তানকে গালি দিলে শয়তান গর্বিত হয়। পক্ষান্তরে আল্লাহর নাম নিলে সে ছোট হয়ে যায়। একটি গাধার পিঠে নবী এর পিছনে এক সাহাবী সওয়ার-সঙ্গী ছিলেন। চলতে চলতে গাধাটি হোঁচট খেলে সাহাবী বললেন, 'শয়তান ধ্বংস হোক।' তিনি বললেন,
لَا تَقُلْ تَعِسَ الشَّيْطَانُ فَإِنَّهُ يَعْظُمُ حَتَّى يَصِيرَ مِثْلَ الْبَيْتِ وَيَقُولُ بِقُوَّتِي صَرَعْتُهُ وَلَكِنْ قُلْ بِسْمِ الله فَإِنَّكَ إِذَا قُلْتَ ذلِكَ تَصَاغَرَ حَتَّى يَصِيرَ مِثْلَ الذُّبَابِ
'শয়তান ধ্বংস হোক' বলো না। যেহেতু এতে সে স্ফীত হয়ে ঘরের সমান হয় এবং বলে, 'আমি নিজ শক্তিতে ওকে বিপদগ্রস্ত করেছি।' বরং তুমি বলো, 'বিসমিল্লাহ।' এ কথা বললে, সে মাছির মত ছোট হয়ে যায়।
এই জন্য যে, সে তার কাজে কৃতকার্য ও সফল হয়েছে জেনে গর্বিত হয়। গালিও তার পায়ে ফুল হয়ে বর্ষিত হয় সাফল্যের উপহার। শুনেছি, এক যাত্রা-মঞ্চে সংসার ভাঙ্গার প্ররোচনামূলক অভিনয় করছিল এক অভিনেতা। কান-ভাঙ্গানির কথা সে এমন দক্ষতার সাথে বলছিল যে, এক দর্শক বাস্তব মনে করে নিজের পায়ের জুতা খুলে তার মুখে ছুড়ে মেরেছিল। অভিনেতা রাগ না করে মিষ্টি হেসে সেই জুতা তুলে নিয়ে বারবার চুম্বন করেছিল এবং অনেক অনেক আনন্দ প্রকাশ করেছিল। কেন?
যেহেতু তা ছিল তার অভিনয়ের মহা সাফল্যের দলীল ও উপহার। শয়তানও অনুরূপ গালি শুনে নিজের কাজে সাফল্য লাভের জন্য আনন্দিত ও গর্বিত হয়।
টিকাঃ
৩৬২. আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ, সহীহুল জামে' লিল আলবানী, মাশা. হা/১৭২৪
৩৬৩. আল-ওয়াবিলুস স্বাইয়িব ৬০পৃ.
৩৬৪. আবু দাউদ আলএ. হা/৫০৯৭, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/৩৪২৬, নাসাঈ প্রমুখ
৩৬৫. বুখারী ইফা, হা/৩০৬০, আপ্র, হা/৩০৫১, তাও, হা/৩২৯৩, ৬৪০৩, মুসলিম মাশা, হা/৭০১৮
৩৬৬. মুসলিম মাশা. হা/১৮৬০
৩৬৭. সহীহুল জামে' লিল আলবানী, মাশা. হা/১১৭০
৩৬৮. ইবনে হিব্বান, সহীহ আত-তারগীব লিল আলবানী মাশা. হা/১৪৬২
৩৬৯. বুখারী ইফা, অনুচ্ছেদ, ১৪৩৮, তাও, হা/২৩১১
৩৭০. মুসনাদে আহমাদ মাশা, হা/৪/২৭৪
৩৭১. হাকেম, সহীহ তারগীব, মাশা. হা/১৪৬৭
৩৭২. বুখারী ইফা, হা/৪৭৮৭, আপ্র. হা/৪৭৮৪, তাও. হা/৫১৬৫, মুসলিম মাশা. হা/৩৬০৬
৩৭৩. মুসলিম মাশা. হা/৮৮৩
📄 পঞ্চমতঃ মুসলিমদের জামাআতে একতাবদ্ধ থাকা
যে সকল কর্ম মুসলিমকে শয়তান ও তার ফাঁদ থেকে দূরে রাখে, তার মধ্যে একটি হল মুসলিম দেশে বসবাস করা এবং সেখানে কোন বিদ্রোহী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের সাথে সম্পর্ক না রাখা। যেহেতু এক মুসলিম রাষ্ট্রনেতার নেতৃত্বে জামাআতবদ্ধভাবে বসবাস করাতে শয়তান অশান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ পায় না। ইবনে উমার বলেন, একদা উমার জাবিয়াতে আমাদের মাঝে খুতবা দিলেন। তাতে তিনি বললেন, 'হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে দন্ডায়মান হয়েছি, যেমন রসূলুল্লাহ আমাদের মাঝে দন্ডায়মান হতেন। তিনি যা বলতেন, তার মধ্যে কিছু অংশ এই যে,
عَلَيْكُم بِالْجَمَاعَة ، وَإِيَّاكُم والفرقة ؛ فَإِن الشَّيْطَانِ مَعَ الْوَاحِد ، وهُوَ من الاثنين أبعد
"তোমরা জামাআতবদ্ধভাবে বসবাস কর। বিচ্ছিন্নতা থেকে দূরে থাকো। কারণ শয়তান থাকে একলা মানুষের সাথে। দুজন থেকে থাকে বেশি দূরে।"³⁷⁴ এমনকি সফরেও জামাআতবদ্ধভাবে যাওয়া ও থাকা উচিত। যেহেতু নবী বলেছেন,
الرَّاكِبُ شَيْطَانٌ، وَالرَّاكِبَانِ شَيْطَانَانِ ، وَالثَّلَاثَةُ رَكْبٌ
"একজন (সফরকারী) আরোহী একটি শয়তান এবং দু'জন আরোহী দু'টি শয়তান। আর তিনজন আরোহী একটি কাফেলা।"³⁷⁵ আবূ সা'লাবা খুশানী বলেন, সাহাবাগণ সফরে যখন কোন স্থানে অবতরণ করতেন, তখন তাঁরা গিরিপথ ও উপত্যকায় ছড়িয়ে যেতেন। রসূলুল্লাহ বললেন,
إِنَّ تَفَرُّقَكُمْ فِي هَذِهِ الشَّعَابِ وَالْأَوْدِيَةِ إِنَّمَا ذَلِكُمْ مِنَ الشَّيْطَانِ
"তোমাদের এ সকল গিরিপথে ও উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত হওয়া আসলে শয়তানের কাজ।" এরপর তাঁরা যখনই কোন মঞ্জিলে অবতরণ করতেন, তখন একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে থাকতেন।³⁷⁶
জামাআত হল মুসলিমদের জামাআত। আর সে জামাআতের কোন মূল্য নেই, যে জামাআত হকপন্থী নয়। যে জামাআত কিতাব ও সহীহ সুন্নাহর অনুসারী নয়। যে জামাআত জামাআত-সহকারে স্বলাতের অভ্যাসী নয়। সে জামাআতে শয়তানের আধিপত্য থাকে। নবী বলেছেন,
مَا مِنْ ثَلَاثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلَا بَدْرٍ لاَ تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلَاةُ إِلَّا قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَعَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذَّئْبُ الْقَاصِيَةَ
“যে কোন গ্রাম বা মরু-অঞ্চলে তিনজন লোক বাস করলে এবং সেখানে (জামাআতে) নামায কায়েম না করা হলে শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে ফেলে। সুতরাং তোমরা জামাআতবদ্ধ হও। অন্যথা ছাগ পালের মধ্য হতে নেকড়ে সেই ছাগলটিকে ধরে খায়, যে (পাল থেকে) দূরে দূরে থাকে।”³⁷⁷
টিকাঃ
৩৭৪. সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/২১৬৫
৩৭৫. আবু দাউদ আলএ. হা/২৬০৯, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/১৬৭৪, নাসাঈ
৩৭৬. আবু দাউদ আলএ. হা/২৬৩০
৩৭৭. আবু দাউদ আলএ. হা/৫৪৭, নাসাঈ মাথ, হা/৮৪৭, মিশকাত হাএ. হা/১০৬৭
যে সকল কর্ম মুসলিমকে শয়তান ও তার ফাঁদ থেকে দূরে রাখে, তার মধ্যে একটি হল মুসলিম দেশে বসবাস করা এবং সেখানে কোন বিদ্রোহী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের সাথে সম্পর্ক না রাখা। যেহেতু এক মুসলিম রাষ্ট্রনেতার নেতৃত্বে জামাআতবদ্ধভাবে বসবাস করাতে শয়তান অশান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ পায় না। ইবনে উমার বলেন, একদা উমার জাবিয়াতে আমাদের মাঝে খুতবা দিলেন। তাতে তিনি বললেন, 'হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে দন্ডায়মান হয়েছি, যেমন রসূলুল্লাহ আমাদের মাঝে দন্ডায়মান হতেন। তিনি যা বলতেন, তার মধ্যে কিছু অংশ এই যে,
عَلَيْكُم بِالْجَمَاعَة ، وَإِيَّاكُم والفرقة ؛ فَإِن الشَّيْطَانِ مَعَ الْوَاحِد ، وهُوَ من الاثنين أبعد
"তোমরা জামাআতবদ্ধভাবে বসবাস কর। বিচ্ছিন্নতা থেকে দূরে থাকো। কারণ শয়তান থাকে একলা মানুষের সাথে। দুজন থেকে থাকে বেশি দূরে।"৩৭৪ এমনকি সফরেও জামাআতবদ্ধভাবে যাওয়া ও থাকা উচিত। যেহেতু নবী বলেছেন,
الرَّاكِبُ شَيْطَانٌ، وَالرَّاكِبَانِ شَيْطَانَانِ ، وَالثَّلَاثَةُ رَكْبٌ
"একজন (সফরকারী) আরোহী একটি শয়তান এবং দু'জন আরোহী দু'টি শয়তান। আর তিনজন আরোহী একটি কাফেলা।"৩৭৫
আবূ সা'লাবা খুশানী বলেন, সাহাবাগণ সফরে যখন কোন স্থানে অবতরণ করতেন, তখন তাঁরা গিরিপথ ও উপত্যকায় ছড়িয়ে যেতেন। রসূলুল্লাহ বললেন,
إِنَّ تَفَرُّقَكُمْ فِي هَذِهِ الشَّعَابِ وَالْأَوْدِيَةِ إِنَّمَا ذَلِكُمْ مِنَ الشَّيْطَانِ
"তোমাদের এ সকল গিরিপথে ও উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত হওয়া আসলে শয়তানের কাজ।" এরপর তাঁরা যখনই কোন মঞ্জিলে অবতরণ করতেন, তখন একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে থাকতেন।৩৭৬
জামাআত হল মুসলিমদের জামাআত। আর সে জামাআতের কোন মূল্য নেই, যে জামাআত হকপন্থী নয়। যে জামাআত কিতাব ও সহীহ সুন্নাহর অনুসারী নয়। যে জামাআত জামাআত-সহকারে স্বলাতের অভ্যাসী নয়। সে জামাআতে শয়তানের আধিপত্য থাকে। নবী বলেছেন,
مَا مِنْ ثَلَاثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلَا بَدْرٍ لاَ تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلَاةُ إِلَّا قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَعَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذَّئْبُ الْقَاصِيَةَ
“যে কোন গ্রাম বা মরু-অঞ্চলে তিনজন লোক বাস করলে এবং সেখানে (জামাআতে) নামায কায়েম না করা হলে শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে ফেলে। সুতরাং তোমরা জামাআতবদ্ধ হও। অন্যথা ছাগ পালের মধ্য হতে নেকড়ে সেই ছাগলটিকে ধরে খায়, যে (পাল থেকে) দূরে দূরে থাকে।”৩৭৭
টিকাঃ
৩৭৪. সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/২১৬৫
৩৭৫. আবু দাউদ আলএ. হা/২৬০৯, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/১৬৭৪, নাসাঈ
৩৭৬. আবু দাউদ আলএ. হা/২৬৩০
৩৭৭. আবু দাউদ আলএ. হা/৫৪৭, নাসাঈ মাথ, হা/৮৪৭, মিশকাত হাএ. হা/১০৬৭