📄 শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্ররোচনা
শয়তান অনায়াসে মানুষের মনে প্রবেশ করে কীভাবে মানুষের চিন্তা ও মর্মমূলে পৌঁছতে সক্ষম হয় এবং নানা কথা প্রক্ষিপ্ত করে, তা আমরা বুঝতে পারি না। এ ব্যাপারে শয়তানের সৃষ্টিগত প্রকৃতিই তার সহযোগী। একেই আমরা 'অসঅসাহ' বা কুমন্ত্রণা বলি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন। তিনি তাকে বলেছেন, 'আল-অসওয়া-সুল খান্নাস', অর্থাৎ, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতা।
শয়তান মানুষের পিছনে লেগে থাকে, আদম-সন্তানের মর্মমূলে বাসা বেঁধে থাকে। অতঃপর সে যখন ভুলে যায় অথবা উদাস হয়, তখন শয়তান কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করে। তারপর যখন সে আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন শয়তান সরে পড়ে, আত্মগোপন করে। নবী বলেছেন,
إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الْإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ
অর্থাৎ, শয়তান আদম সন্তানের রক্তশিরায় প্রবাহিত হয়।”²⁹² এই কুমন্ত্রণা দ্বারাই হিংসুটে শয়তান আদমকে ভ্রষ্ট করেছিল এবং বেহেস্তের বৃক্ষ ভক্ষণ করতে প্ররোচিত করেছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন,
فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ قَالَ يَا آدَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَى شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَّا يَبْلَى
"অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল। সে বলল, 'হে আদম! আমি কি তোমাকে বলে দেব অনন্ত জীবনপ্রদ বৃক্ষ ও অক্ষয় রাজ্যের কথা?’”²⁹³
فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِن سَوْءَاتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَا كُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا أَن تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ
"অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান যা গোপন রাখা হয়েছিল, তা প্রকাশ করার জন্য শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিল এবং বলল, 'পাছে তোমরা উভয়ে ফিরিশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা (জান্নাতে) চিরস্থায়ী হও, এ জন্যই তোমাদের প্রতিপালক এ বৃক্ষ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।”²⁹⁴
শয়তান ইচ্ছারূপ ধারণ করার ক্ষমতা রাখে। সুতরাং সে কোন মানুষের রূপ ধারণ করে মানুষের সাথে কথা বলতে পারে, কথা শুনাতে পারে, কোন আদেশ করতে পারে, কোন নিষেধ করতে পারে---যেমন তার ইচ্ছা।
টিকাঃ
২৯২. বুখারী ইফা. হা/১৯০৭, আথ, হা/১৮৯৫, তাও. হা/২০৩৮, মুসলিম মাশা. হা/৫৮০৭
২৯৩. সূরা ত্বহা-২০:১২০
২৯৪. সূরা আল আ'রাফ-৭:২০
📄 শয়তানের আকুশিয়ান
অনেক সময় মানুষের কাছে শয়তান আসে গোপনে মনে কুমন্ত্রণা দেওয়ার ছলে নয়, বরং তাকে মানুষের আকারে দেখা যায়, কখনো নেপথ্যে তার আওয়াজ শোনা যায় এবং তার দেহ দেখা যায় না। কখনো অদ্ভুত আকারে দেখা যায়। কখনো এমন আকারে আসে, দেখলেই মনে হয় তা জ্বিন।
অনেক সময় সে মিথ্যা বলে এবং ধারণা দেয় যে সে ফিরিস্তা অথবা সে কোন গায়বী ব্যক্তি অথবা কোন মৃত মানুষের আত্মা। আর এ সকল ক্ষেত্রে সরাসরি মানুষের সাথে কথা বলে অথবা কোন আধিদৈবিক বা ভৌতিক ওঝার মাধ্যমে অথবা কোন জ্বিন-আকৃষ্ট রোগীর জিভের মাধ্যমে অথবা লেখার মাধ্যমে মত-বিনিময় হতে পারে।
এর চাইতে আরো বেশি কিছু ঘটতে পারে, কোন মানুষকে উড়িয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে পারে। অনেক সময় চাইলে শয়তান অনেক কিছু এনে দিতে পারে। অবশ্য এ কাজ সাধারণতঃ ভ্রষ্ট মানুষদের আদেশেই করে, যারা আল্লাহর প্রতি কুফরী করে অথবা এমন কিছু করে যা শির্ক বা গর্হিত ও ঘৃণ্য।
এমন লোকেরা হয়তো-বা বাহ্যতঃ পরহেযগারী দেখিয়ে থাকে। কিন্তু অভ্যন্তরে তারা বেশ ভ্রষ্ট ও নোংরা হয়।
এ ব্যাপারে আমাদের প্রাচীন উলামা ও মুহাদ্দিসগণ অনেক খবর উল্লেখ করেছেন, যা মিথ্যাজ্ঞান বা যার সমালোচনা করার উপায় নেই, যেহেতু তা বহুসূত্রে প্রমাণিত। ²⁹⁵
টিকাঃ
২৯৫. এ ব্যাপারে ভৌতিক কাহিনী দ্রঃ জামেউর রাসাইল, ইবনে তাইমিয়্যাহ ১৯০-১৯৪পৃ.