📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 ভাগ্য-নির্ণায়ক শর

📄 ভাগ্য-নির্ণায়ক শর


ভাগ্যনির্ণায়ক শর ব্যবহার দ্বারা শয়তান মানুষকে শির্কে আপতিত করে। কারণ অদৃশ্য ও ভাগ্য বিষয়ক জ্ঞান কেবল মহান প্রতিপালকের নিকটেই। কোন সংশয়যুক্ত কাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শরীয়তে আমাদের জন্য 'ইস্তিখারাহ' বিধেয় আছে। কিন্তু তা ছেড়ে মানুষ শর বা তীর দ্বারা, ফালকাঠি ও ফালনামা দ্বারা, লিখিত বর্ণমালা বা পাখি ব্যবহার দ্বারা নিজের ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ জানতে চায়। অথচ তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানে না, জানতে পারে না। আগামীর সফর মঙ্গল হবে, না অমঙ্গল, অমুক জায়গায় বিয়ে শুভ হবে, না অশুভ, অমুক ব্যবসায় লাভ হবে, নাকি ক্ষতি হবে এবং আরো অনেক ভাগ্য-ভবিষ্যতের খবর জানতে মানুষ আগ্রহী ও উদ্‌গ্রীব হয়, তাএই সুযোগ গ্রহণ করে শয়তান মানুষকে শির্কে লিপ্ত করে।

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 মানুষের দুর্বলতা

📄 মানুষের দুর্বলতা


শয়তানের এটি একটি মাধ্যম। মানব-মনে বহু দুর্বলতা আছে। আসলে সেগুলি এক-একটি রোগ। এই রোগসমূহকে মানব-মনে বৃদ্ধি করে এবং তার মাঝে তাকে ভ্রষ্ট করার উন্মুক্ত দরজা লাভ করে। এমন রোগ যেমন: অক্ষমতা, নিরাশা, হতাশা, গর্ব, গর্বযুক্ত আনন্দ, আত্মমুগ্ধতা, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মাৎসর্য, অহংকার, অত্যাচার, বিদ্রোহ, অস্বীকার, অকৃতজ্ঞতা, শীঘ্রতা, আবেগ, কার্পণ্য, বিতর্ক-প্রিয়তা, সন্দেহ, সংশয়, অজ্ঞতা, উদাসীনতা, প্রতারণা, মিথ্যা দাবী, ভীরুতা, ত্রাস, ধৈর্যহীনতা, সীমা লংঘন, বিষয়াসক্তি, অর্থলোলুপতা ইত্যাদি।

ইসলাম মানুষকে আত্মার সংশুদ্ধির প্রতি আহবান করে, মন পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং তার সকল রোগকে নির্মূল করতে উৎসাহিত করে। আর এ কাজে প্রয়োজন আছে শ্রম ও চেষ্টা ব্যয়ের। যেমন প্রয়োজন আছে সে পথের কষ্টের উপর ধৈর্য ধারণ করা।

পক্ষান্তরে কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ এবং মন্দপ্রবণ মনের আনুগত্য বাধাহীন পথের দুর্বার গতি।

প্রথম কাজটি হল ভারী পাথর মাথায় উঁচু পাহাড়ে চড়ার মতো কঠিন এবং দ্বিতীয় কাজটি হল উঁচু পাহাড় থেকে নিচের দিকে নামার মতো সহজ। এই জন্য শয়তানের আহবানে সাড়া পড়ে বেশি। পক্ষান্তরে হকের দাওয়াতে সাড়া দেওয়ার লোক অতি নগণ্য, তাতে সাড়া দেওয়া বড় কঠিন।

এ অবসরে আমরা পাঠকের খিদমতে সলফদের কতিপয় উক্তি উদ্ধৃত করব, যার মাধ্যমে আমাদের বুঝতে সুবিধা হবে যে, শয়তান কীভাবে মানুষের দুর্বলতাসমূহের সুযোগ নিয়ে তাকে পথভ্রষ্ট করে।

মু'তামির বিন সুলাইমান বলেন, তাঁর পিতা বলেছেন, 'আমাকে বর্ণিত করা হয়েছে যে, কুমন্ত্রণাদাতা শয়তান আদম সন্তানের দুঃখ ও আনন্দের সময় তার হৃদয়ে কুমন্ত্রণা দেয়। অতঃপর আল্লাহর যিক্র করা হলে আত্মগোপন করে। ²⁷⁷

ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ বলেছেন, 'এক পাদরীর নিকট শয়তান প্রকাশ পেলে সে তাকে জিজ্ঞাসা করল, "আদম সন্তানের কোন্ কোন্ চরিত্র তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য বেশি সহায়ক?" সে বলল, "উগ্রতা। বান্দা উগ্র হলে আমরা তাকে উলট-পালট করি, যেমন শিশুরা বলকে উলট-পালট করে।”²⁷⁸

ইবনে উমার কর্তৃক বর্ণিত, একদা নূহ (আঃ) শয়তানকে সেই চরিত্রাবলী সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন, যার দ্বারা সে মানুষকে সর্বনাশগ্রস্ত করতে পারে। শয়তান বলল, 'হিংসা ও লোভ।'

কুরআনের সে ইতিহাস কারো অজানা নয়, যাতে শয়তান হিংসার দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের মাঝে কেমন শত্রুতা সৃষ্টি করেছিল এবং তারা তাঁকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। পরিশেষে এক সময় তিনি মহান প্রতিপালকের প্রশংসা করে বলেছিলেন,

وَقَدْ أَحْسَنَ بَي إِذْ أَخْرَجَنِي مِنَ السِّجْنِ وَجَاء بِكُم مِّنَ الْبَدْوِ مِن بَعْدِ أَن نَّزِغَ الشَّيْطَانُ بَيْنِي وَبَيْنَ إِخْوَتِي إِنَّ رَبِّي لَطِيفٌ لَّمَا يَشَاء إِنَّهُ هُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ

"তিনি আমাকে কারাগার হতে মুক্ত করে এবং শয়তানের আমার ও আমার ভাইদের মাঝে সম্পর্ক নষ্ট করার পরও আপনাদেরকে মরু অঞ্চল হতে এখানে এনে দিয়ে আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা তা নিপুণতার সাথে করে থাকেন, তিনি তো সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।”²⁷⁹

টিকাঃ
২৭৭. তাফসীর ইবনে কাষীর ৮/৪৫০
২৭৮. তালবীসু ইবলীস ৪২পৃ.
২৭৯. সূরা ইউসুফ-১২:১০০

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 নারী

📄 নারী


ভালো মানুষকে খারাপ ও সৎকে পথভ্রষ্ট করার শয়তানের একটি অসীলা হল নষ্ট-ভ্রষ্ট নারী। এ ব্যাপারে নবী আমাদেরকে জানিয়েছেন,

مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ

"আমি আমার পর পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বেশী ক্ষতিকারক অন্য কোন ফিত্না ছাড়লাম না।”²⁸⁰

ললনার ছলনার চাইতে বেশি বড় ফিতনার কারণ হল তার দেহ-সৌন্দর্য। এই জন্য ইসলাম পর পুরুষের কাছে তাকে পর্দার নির্দেশ দিয়েছে এবং তার দেহ-সৌন্দর্যকে গোপন করতে আদেশ করেছে। পুরুষকে নির্দেশ দিয়েছে চক্ষু অবনত করতে এবং নিষেধ করেছে চোখ তুলে নারী-সৌন্দর্যের দিকে তাকাতে। কারণ শয়তান তাকে অসীলা বানিয়ে পুরুষকে বিপথগামী করে। নবী বলেছেন,

الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ

"মেয়ে মানুষের সবটাই লজ্জাস্থান (গোপনীয়)। আর সে যখন বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে সুশোভন করে তোলে।”²⁸¹

ইসলাম নিষেধ করেছে নারী-পুরুষের একাকিত্ব বা নির্জনতা অবলম্বন করতে। কারণ শয়তান তাতে সুযোগ গ্রহণ করে। নবী বলেছেন,

لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ ثَالِثُهُمَا

"যখনই কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বন করে, তখনই শয়তান তাদের তৃতীয় সাথী হয়।”²⁸² "তোমরা এমন মহিলাদের নিকট গমন করো না, যাদের স্বামী বর্তমানে উপস্থিত নেই। কারণ শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের রক্ত-শিরায় প্রবাহিত হয়।" আমরা বললাম, 'আর আপনারও রক্ত-শিরায়?' তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আমারও রক্ত-শিরায়। তবে আল্লাহ তার বিরুদ্ধে আমাকে সহায়তা করেন বলেই আমি নিরাপদে থাকি।"²⁸³

আধুনিক যুগে নারীদেহ বড় সুলভ ও সহজলভ্য। না চাইলেও দেখা যায়। আর ছবিতে ও প্রচার মাধ্যমে তো নারীকে নিয়ে পুরুষের সর্বশেষ কামনা চরিতার্থ করতেও দেখা যায়! প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের শয়তানের ভাই-বন্ধুরা নগ্ন নারীদেহ দ্বারা ভালো মানুষকে যেভাবে ভ্রষ্ট করছে, তাদের কাছে খোদ শয়তানও হার মানবে।

টিকাঃ
২৮০. বুখারী ইফা, হা/৪৭২৫, আপ্র. হা/৪৭২৩, তাও, হা/৫০৯৬, মুসলিম মাশা, হা/৭১২১
২৮১. সহীহ আত-তিরমিযী মাখ, হা/১১৭৩, মিশকাত হাএ. হা/৩১০৯
২৮২. সহীহ আত-তিরমিযী মাখ, হা/৯৩৪
২৮৩. ইবনে মাজাহ তাউ. হা/১৭৭৯, সহীহ আত-তিরমিযী মাখ, হা/৯৩৫

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 বিষয়াসক্তি

📄 বিষয়াসক্তি


বিষয়াসক্তি, দুনিয়া-প্রীতি, গদির লোভ ও ধনলোভ শয়তানের একটি হাতিয়ার। এটি প্রত্যেক পাপের মূল। এর কারণে কত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, কত নারী বিধবা হচ্ছে, কত শিশু অনাথ হচ্ছে, কত ধন-সম্পত্তি লুণ্ঠিত হচ্ছে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00